নড়াইলে দিনব্যাপী শিশুদের নিয়ে শিশু চিত্রকলা প্রদর্শনী, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সম্মাননা ও চিত্রকর্ম বিতরণ নিয়ে এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের রূপগঞ্জের বাঁধাঘাটে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে ‘চারুনীড়’ নামে স্থানীয় শিল্প সংগঠন। এ সময় চারুনীড়ের পরিচালক নাজমুল হাসান লিজা, আসাদুর রহমান, উজ্জ্বল রায়, সাগর সেন, আশীষ রায়, অর্পিতা পালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনীতে স্থান পায় অর্ধশতাধিক শিশুশিল্পীর চিত্রকর্ম। অস্থায়ীভাবে তৈরি গ্যালারিতে স্থান পায় শিশুদের আঁকা গ্রামীণ জীবনযাত্রার নানা চিত্র।
প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, নবান্ন উৎসব, ধান কাটা উৎসব, জেলেপল্লি, পালকিতে বর-কনে, গরুর গাড়ি, শীতের পিঠা তৈরি, রস সংগ্রহ, নানা প্রজাতির পশু-পাখি, পাতাবিহীন গাছে ফুটে থাকা শিমুল-পলাশ ফুলসহ শিশুদের কল্পনায় উঠে আসা গ্রামীণ জীবনের নানা চিত্র ফুটে উঠেছে।
এ সময় কথা হয় শিশুশিল্পী সাদিয়া মুন্নীর সঙ্গে। সে বলে, ‘ছবি আঁকতে আমার ভালো লাগে। মায়ের সঙ্গে আমি ছবি আঁকতে এসেছি। এখন আমি একটি ছবিতে রং করছি। ছবিটিতে পালকিতে বসে থাকা নববধূকে তার শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ ছবি আঁকতে আসা দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আকাশ বিশ্বাস বলে, ‘আমি এখানে ছবি আঁকতে এসেছি। আমার আঁকা একটি ছবি প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। ছবিটিতে আমি গ্রামীণ জনপদের কিছু চিত্র তুলে ধরেছি। আজকের আঁকা ছবিতে গাছ, ঘর এবং কৃষক ধান মাথায় করে বাড়ি আনছেন।’
প্রদর্শনী দেখতে আসা সুমি রানি মল্লিক বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়ক। তা ছাড়া শিশুদের আঁকা ছবি প্রদর্শনীতে দেখে শিশুসহ তাদের অভিভাবকরা অনেক উৎসাহিত হচ্ছেন। এসব কর্মসূচি ভবিষ্যতে অব্যাহত রাখার দাবি জানাই।’
চারুনীড়ের পরিচালক নাজমুল হাসান লিজা বলেন, ‘শিশুরা অনেক সময় ছবি আঁকে প্রতিযোগিতার জন্য। কিন্তু প্রথম তিনজন ছাড়া বাকিদের ছবি খুব একটা প্রদর্শন করা হয় না। আমরা চাই, সবাই নিজেদের আঁকা ছবি দেখে আনন্দ পাক।
সেই ভাবনা থেকেই আমাদের এই আয়োজন। এবার নবম বারের মতো প্রদর্শনী করলাম। আমরা এই চিত্রপ্রদর্শনী প্রতিবছর করে থাকি। শিশুদের আঁকা ছবি প্রদর্শনীতে দেখে তারা আরও উৎসাহিত হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, আজকের শিশু আগামী দিনে যখন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবে, তখন তাদের চিত্রাঙ্কন জানাটা প্রয়োজন হবে। সে জন্য আমরা শিশুদের চিত্রকলার বিষয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’