দিনাজপুর ভারতের সঙ্গে অন্যতম বিস্তীর্ণ সীমান্তঘেরা একটি জেলা। যার ১৩টি উপজেলার মধ্যে আটটি উপজেলার সীমান্ত ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত। আর এসব এলাকার নদীপথ, অরক্ষিত সীমান্ত এবং স্থলবন্দরকে ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ মাদক দেশে ঢুকছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর সদর উপজেলার বনতারা-গিলাবাড়ী সীমান্ত, বিরল উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের কামদেবপুরসংলগ্ন পুনর্ভবা নদী এলাকা, বিরামপুরের কাটলা সীমান্ত এবং হিলি স্টেশন এলাকা দিয়ে বর্তমানে মাদক চোরাচালান বেশি হচ্ছে। ফলে এসব মাদকের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আত্রাই ও পুনর্ভবা নদীপথ ব্যবহার করে গভীর রাতে ভারত থেকে মাদক দেশে প্রবেশ করে। এটা নদীপথ হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে চোরাকারবারিরা নজর এড়িয়ে সহজেই পণ্য পারাপার করতে সক্ষম হয়। এ ছাড়া বিরামপুরের কাটলা সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় এসব এলাকা দিয়ে সহজেই দেশে মাদক প্রবেশ করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করে জানান, সীমান্তে দায়িত্বরত কিছু অসাধু ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধির সঙ্গে মাদক কারবারিদের যোগসাজশ রয়েছে। তারা সীমান্তে নজরদারির ঘাটতি সৃষ্টি করে মাদক পাচারের সুযোগ করে দেয়।
বিরলের কামদেবপুর এলাকার মাদক নিয়ন্ত্রণ গ্রাম কমিটির সভাপতি মানিক হোসেন বলেন, ‘কামদেবপুর এখন অনেকটাই মাদক কারবারিদের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও তা যথেষ্ট নয়। অনেক যুবক মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।’
কাটলা সীমান্তের বাসিন্দা নুর আলম বলেন, ‘কিছু অরক্ষিত পয়েন্টকে কাজে লাগিয়ে মাদক বাংলাদেশে ঢুকছে। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণরা সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে এসে মাদক সেবন করছে।’
দিনাজপুর বিজিবির সেক্টর সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে ফেনসিডিল, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কফ সিরাপ, ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, বিদেশি ও দেশি মদ, উত্তেজক সিরাপ, মদ তৈরির ট্যাবলেট, জর্দা ও অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে; যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১০ কোটি ৮২ লাখ ৯০ হাজার ৯২০ টাকা।
এ বিষয়ে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দিনাজপুর জেলার সঙ্গে ভারতের প্রায় ১৪২ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। তবে জনবল সীমিত হওয়ায় বিশাল এলাকায় নজরদারি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সীমান্তের প্রতি ৫ কিলোমিটার এলাকার জন্য মাত্র দুজন বিজিবি সদস্য নিযুক্ত রাখা হয়েছে।’
রংপুর অঞ্চলের রিজিওনাল কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এম নাছের বলেন, ‘সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বৃদ্ধি, জনবল বাড়ানো এবং সামাজিক সচেতনতা জোরদার করা না গেলে মাদকের এই বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। তাই সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোতে মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।’