বেনাপোল বন্দরে কাগজ পত্র বিহীন একটি খোলবাহী পণ্য চালানের ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার(২৫ জুন) রাত ১০টার দিকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের ৩১ নাম্বার শেড ইয়ার্ড থেকে কাস্টমস এ পণ্যবাহী ট্রাকটি জব্দ করে।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ভারতের একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানিকারক মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী ভারতীয় ট্রাকটি (নম্বর: ডব্লিউবি-২৫কে-৮৪১৫) মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে কার্গো টার্মিনাল থেকে ট্রাকটি ৩৫ নম্বর শেডে পণ্য খালাসের তথ্য দেখিয়ে বের হয়।
অভিযোগ উঠেছে, ট্রাকটিতে থাকা পণ্য ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে ঢোকার আগেই অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ফলের মাঠ এলাকায় প্রবেশ করলে সন্দেহ হয়। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ কাস্টমসকে অবহিত করলে সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশিকালে ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। পরিমাপে পণ্যের মোট ওজন ৭ হাজার ১৫৭ কেজি এবং খৈলের নিট ওজন ৬ হাজার ৯১৩ কেজি পাওয়া যায়।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী বলেন, ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি পণ্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু, বাস্তবে পাওয়া গেছে ৬ হাজার ৯১৩ কেজি। ফলে ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি খৈলের ঘাটতি রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রটি কৌশল করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে ‘মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল’-এর নাম ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। তবে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাদের নাম ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিতভাবে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি লিখিত আবেদনে দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ট্রাকটি কিংবা পণ্যচালান গ্রহণে তাদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত ছিলেন না। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠানকে যেন হয়রানি করা না হয় সেই অনুরোধও জানান তিনি।
বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্য চালানটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমসকে অবহিত করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চালানটি জব্দ করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি এ পাচারের সঙ্গে বড় কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নজরুল ইসলাম/অন্তরা/