ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক

উপবৃত্তির নামে ক্রেডিট-ডেবিট কার্ডে অর্থ লুট, গ্রেপ্তার ৮

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৪৪ পিএম
আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৫৯ পিএম
উপবৃত্তির নামে ক্রেডিট-ডেবিট কার্ডে অর্থ লুট, গ্রেপ্তার ৮
গ্রেপ্তার আটজন। ছবি: খবরের কাগজ

শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এ চক্রের লাগাম টানতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ছয়টি দল যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় চক্রের মূল হোতাসহ আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মুনীম ফেরদৌস।

এর আগে গত রবিবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, কুমিল্লা ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪, ৫, ৮, ১০, ১১ ও ১৪ ব্যাটালিয়ন আভিযানিক দল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চক্রের মূল হোতা জাকির হোসেন হাওলাদার (৪৭), অন্যতম মূল সহযোগী মো. বাপ্পি মোল্লা (২০), মো. উসমান গনি মোল্লা (৩৩), শামীম হোসেন (২৯), মোহাম্মদ জিহাদ (৩৪), কাজী সাদ্দাম হোসেন ওরফে আমির হামজা (২৬), মো. আহাদ গাজী (২৪), মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে জয় (২৬)। এ চক্রের সঙ্গে একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সিম কার্ড বিক্রেতারাও রয়েছে। তারা অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহার করে থাকে।

র‌্যাব বলছে, সারা দেশে এই চক্রের দুই হাজারের বেশি সক্রিয় এজেন্ট রয়েছে। শেয়ার বাজারের মতো এক রকম দর-কষাকষি করে তাদের হাজারে ৩০-৪০ টাকা কমিশনে প্রতারণার কাজ দেওয়া হয়। চক্রের এজেন্ট হতে হলে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়।

মুনীম ফেরদৌস বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট-ডেবিট কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রতারক চক্র শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। গত ২৪ মার্চ রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন শালবাগানে বিএনসিসি অফিসে অবস্থানকালে এক ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে অজ্ঞাতনামা মোবাইল নম্বর থেকে কল আসে। মেয়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টস শাখায় কর্মরত মিজানুর রহমান বলে নিজের পরিচয় দেয় এক ব্যক্তি। তার মেয়ের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন-এ প্লাস পাওয়ায় শিক্ষা উপবৃত্তির ২২ হাজার ৫০০ টাকা এসেছে বলে জানায় সে।

ওই টাকা বাদীর অ্যাকাউন্টে চলে যাবে উল্লেখ করে একটি ব্যাংকের এটিএম কার্ডের ১৬ ডিজিটের নম্বর দিতে বললে তিনি সেটা দিয়ে দেন। এরপর ওটিপিও ওদের জানান। পরে বাদী মোবাইল মেসেজ অপশনে দেখতে পান, তার অ্যাকাউন্ট থেকে চারবারে ১ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। 

এই ঘটনায় তিনি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা করেন। রাজশাহীর র‌্যাব-৫ জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। পরে র‌্যাব-৫-এর একটি দল প্রতারণার কাজে জড়িত শামীম হোসেনকে রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে।

শামীম জানায়, সে শুধু মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা দিত। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানা এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির সিম কার্ডসহ বেশ কয়েকটি মোবাইল উদ্ধার করে। এরপর একে একে চক্রের মূল হোতা জাকিরসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২৩টি মোবাইল সেট, ৩১০টি সিম কার্ড, নগদ ৩ লাখ ১ হাজার ২৭০ টাকা ও ৯টি ব্যাংক লেনদেন স্লিপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত প্রত্যেকটি সিম কার্ডে বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

‘ওয়েলকাম’ ও ‘হ্যালো’ গ্রুপ
তারা এলাকায় পরিচিতি ‘ওয়েলকাম’ ও ‘হ্যালো’ গ্রুপের সদস্য হিসেবে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সরকারি অফিস থেকে শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার তথ্য সংগ্রহ করে তারা। এরপর ওয়েলকাম/হ্যালো গ্রুপের কল সেন্টারে শেয়ার করে। পরের পর্যায়ে মূল হোতা জাকির হোসেনের দুই ছেলে মানিক ও হিরা ফোন দেয়। নম্বর নেয়। কথা বলে বিশ্বস্ততা অর্জন করে ওটিপি নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে।

সারা দেশে এজেন্ট ২ হাজার
এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-৫-এর অধিনায়ক বলেন, সারা দেশে ওয়েলকাম/হ্যালো গ্রুপের রয়েছে দুই হাজারের বেশি এজেন্ট। এজেন্ট হতে হলে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এন্ট্রি করাতে হয়। এরপর মোবাইলে তাদের নামে একটা অ্যাকাউন্ট হয়। ইতোমধ্যে তদন্তে ১৮৬টি মোবাইল নম্বর শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলোতে টাকা লেনদেন ও যোগাযোগ হয়েছে।
হাজারে ৩০ বা ৪০ টাকা কমিশন পাওয়ার চুক্তিতে প্রতারণার কাজে এজেন্ট নিয়োগ করা হয়। এজেন্টের এন্ট্রি করা মোবাইল অ্যাকাউন্টে টাকা যায়। তবে ক্রেডিট কার্ড থাকে মূল চক্রের হাতে। টাকা ঢোকা মাত্র তারা তুলে নেয়।

শহর থেকে দূরে অবস্থান করে চক্রের সদস্যরা
এই চক্রের সদস্যরা এক জায়গায় বেশি দিন থাকে না। মূল শহর থেকে সাধারণত ১৫-১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে। টাকা আসা মাত্র কাছের কোনো এজেন্ট মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেমে টাকা উঠিয়ে নেয় তারা। শুধু মোটরসাইকেলে চলাচল করে। বাড়িতেও থাকে না, নির্জনে থাকে।

এই প্রতারণাকে তারা ব্যবসা হিসেবে দেখে, খারাপ কিছু ভাবে না। তারা শুধু নিজেরাই নয়, নিজ নিজ পরিবারের সদস্যরাও এ ‘কাজে’ জড়িত। প্রতারক চক্রের সদস্যদের বাড়িতে বেড়াতে আসা আত্মীয়স্বজনরাও প্রভাবিত হয়ে অনেকে এই অভিনব প্রতারণার বলয়ে জড়িয়ে পড়েছে বলে র‌্যাব তথ্য পেয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম বলেন, ‘খোকন মোল্লা নামে এক ব্যক্তি এই প্রতারণায় জড়িত। পলাতক খোকন মোল্লার ছেলে বাপ্পি মোল্লাকে আমরা গ্রেপ্তার করি। খোকন মোল্লার মোবাইলে এক দিনে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা এসেছে ৮ লাখ ৮৫ হাজার। মূল হোতা জাকির হোসেন হাওলাদারকে গ্রেপ্তারের পর তার মোবাইলে দেখা গেছে দুই লক্ষাধিক টাকা আদান-প্রদান হয়েছে।’

চক্রের যারা সদস্য তাদের মধ্যে দর-কষাকষি হয়। এক রকম শেয়ারবাজারের লেনদেনের মতো দর ওঠানামা করে। কেউ হাজার টাকায় ৪০ টাকা, কেউ হাজার টাকায় ৩০ টাকা কমিশন পেতে কাজটি নেয়। 

তাদের মধ্যে যারা পারদর্শী ও বিশ্বস্ত, তাদের কাজটি দেওয়া হয়। অর্থ আত্মসাতের ‘কাজ’টি সম্পন্ন হওয়ার পর সেই এজেন্ট নিজের প্রাপ্য অংশ রেখে বাকি টাকা পাঠিয়ে দেয়। এরপর প্রচার চক্রের মূল হোতা বাকি টাকা ভাগ বণ্টন করে দেয়।

চক্রটির সঙ্গে জড়িত রয়েছে একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সিম কার্ড বিক্রেতারাও। তারা অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম বা বিক্রি করা সিম সংগ্রহ করে প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহার করে এবং মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলে।

মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা
ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরায় নিজের সদ্যোজাত মেয়েকে স্ত্রীর অজান্তে বিক্রি করে দেওয়ার মতো এক  চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ নাটকীয়তা ও প্রতারণার পর, অবশেষে জেলা পুলিশের তৎপরতায় শিশু টুকটুকিকে (১ মাস ২৫ দিন) উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৮টায় এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা।

প্রেস ব্রিফিংয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা সদর থানাধীন বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী এলাকার বাসিন্দা মো. সাগর হোসেন (৩৪) গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখে তার স্ত্রী তানজিলা খাতুনের অজান্তে তাদের নবজাতক সন্তানকে অবৈধভাবে বিক্রি করে দেন। তিনি মাত্র ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকার বিনিময়ে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সন্তানটিকে মঘী ইউনিয়নের দক্ষিণ বীরপুর এলাকার দম্পতি মো. শাহাবুর (২৮) ও মনিরা খাতুন (২৫)-এর নিকট হস্তান্তর করেন।  

সন্তানকে না পেয়ে মা তানজিলা খাতুন ব্যাকুল হয়ে খোঁজ করতে থাকলে, অভিযুক্ত পিতা সাগর হোসেন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এক অবিশ্বাস্য নাটকের আশ্রয় নেন। তিনি স্ত্রীকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা তথ্য ছড়ান যে, শিশুটিকে 'জ্বীনে' নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, জ্বীনের মাধ্যমেই সন্তানকে ফিরিয়ে আনা হবে—এমন ভুঁয়া আশ্বাস দিয়ে তিনি দীর্ঘ প্রায় দুই মাস অতিবাহিত করেন।  

পরবর্তীতে এ ঘটনাটি মাগুরা জেলা পুলিশের নজরে আসলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শুভংকর রায় তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামেন। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রকাশ্যে ও গোপনে নিবিড় তদন্ত শুরু করে। 

ধারাবাহিক তদন্ত, উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় আজ দুপুরে পুলিশ শিশুটির ক্রেতা শাহাবুর ও মনিরা খাতুনের বাড়ি থেকে শিশু টুকটুকিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অবুঝ শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, এ জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

কাসেমুর রহমান/নাঈম

টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার হওয়া হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্য। ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রেমের প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে আটকে রেখে যুবকদের মারধর এবং টাকা আদায়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন টঙ্গীর মুদাফা এলাকার কনসেপ্ট গার্মেন্টস সংলগ্ন একটি ছয়তলা ভবনের চতুর্থ তলায় ভুক্তভোগী সালেহীন মিয়া (২৮) ও তার বন্ধু টিটু মিয়াকে এক নারী সদস্যের মাধ্যমে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ৭৬ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয় হানি ট্রাপ চক্র।

এর আগে টঙ্গী পশ্চিম থানায় পেনাল কোডে মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে এসআই এসএম মেহেদী হাসান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সঙ্গীয় ফোর্সের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচ সদস্যের হানি ট্র্যাপ চক্রের মধ্যে দুই নারী ও এক পুরুষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য এবং এর আগেও তারা একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। হানি ট্র্যাপসহ যেকোনো ধরনের প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণামূলক ফাঁদ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কোনো সন্দেহজনক ঘটনার শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করছি।

পলাশ প্রধান/নাঈম

নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি
ছবি: খবরের কাগজ

নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মিন্টু গাজীকে (৪৫) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। তাকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১২টার দিকে পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক মিন্টু গাজী দুর্গাপুর এলাকার খালেক গাজীর ছেলে ও সম্পর্কে শিশুটির সৎবাবা।

পুলিশ ও ​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকার মিন্টু গাজী বুধবার রাত ১২টার দিকে সৎমেয়েকে (১২) নিয়ে মাছ ধরার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দুর্গাপুর রেলষ্টেশনের পাশে নিয়ে তাকে যৌন হয়রানি করে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে আটক করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে হাসপাতালের বারান্দায় পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সদর থানার ভরাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ’এ ঘটনায় সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

​শরিফুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহত জায়হান স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র ছেলে। সে এলাকার একটি নূরানি মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা একই পরিবারের সদস্য এবং তাদের বসতঘরের পেছনের অংশ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনের সড়কে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় জায়হান। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, হয়তো সে পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি পটিয়া থানাকে অবহিত করে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শাহজাহানের ঘরে একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। সেখানে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ চিঠিটি জব্দ করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

স্বজনদের দাবি, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়। তাদের অভিযোগ, সন্দেহভাজনরা পুরো সময়জুড়ে পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভান করে গেছে।

পটিয়া থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িত থাকার সন্দেহে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাফিউল আলভী/খাদিজা রুমি/

লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে সোহেল মুন্সী (৩৯) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে উপজেলার গাওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত সোহেল বুধবার রাতে রাতে খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। সন্তান নিয়ে পাশের ঘরে শ্বাশুড়ির সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন তার স্ত্রী নুপুর। গভীর রাতে বাড়ির ওঠানে আগুন দেখতে পেয়ে সোহেলের স্ত্রী ও মা ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে দেখেন ওঠানে সোহেলের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন জলছে। কে বা কারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর হত্যা করে।

বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে ভোরে পুলিশ গিয়ে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর-সিরাজদিখান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান জানান, গভীর রাতে ঘর থেকে বের করে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মঈনুদ্দীন সুমন/খাদিজা রুমি/