ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

কক্সবাজারে বেড়ানোর নামে ইয়াবার চালান, গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৮:০৭ পিএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৪, ০৮:০৭ পিএম
কক্সবাজারে বেড়ানোর নামে ইয়াবার চালান, গ্রেপ্তার ৪
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারে বেড়ানোর নাম করে ইয়াবার চালান আনতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন গোপালগঞ্জের চার পরিবহন শ্রমিক। তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার ৪৩৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২১ মে) ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের উত্তর পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন শওকত আলী শিকদার (৫৪), আল-আমিন কাজী (৩৫), হাচান চৌধুরী ওরফে কামরুজ্জামান হাসান (৩৬) ও শ্যামল দত্ত (৪৫)। চারজনের বাড়িই গোপালগঞ্জে, পেশায় সবাই পরিবহন শ্রমিক।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, সহকারী পরিচালক সুব্রত সরকার শুভর তত্ত্বাবধানে সূত্রাপুর সার্কেলের উপপরিদর্শক আবদুল মতিন মিঞার নেতৃত্বে সূত্রাপুর সার্কেলের একটি টিম মঙ্গলবার ভোরে যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের উত্তর পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয়। সে সময় এনা ট্রান্সপোর্টের একটি যাত্রীবাহী বাস আটকে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় যাত্রীবেশে কক্সবাজার থেকে আসা চারজনকে ৫ হাজার ৪৩৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার শওকত আলী একজন গাড়িচালক হিসেবে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে কাজ করার সময় কক্সবাজারের টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ী ইউনুছের সঙ্গে পরিচয় হয়। শওকত আলীর সহযোগী হিসেবে গোপালগঞ্জের আল-আমিন কাজী, হাচান চৌধুরী ও শ্যামল দত্ত কাজ করত। শওকত আলী ইয়াবা ব্যবসায়ী ইউনুছের থেকে ইয়াবা ক্রয় করে গোপালগঞ্জ শহরে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। তাদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মাদক মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ইয়াবা পাচারকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান চলমান রয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথে এবং বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি অব্যাহত আছে।

৬৮ মামলার ওয়ারেন্ট নিয়ে দম্পতির আত্মগোপন, ৪ বছর পর গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১০:০৯ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ১০:০৯ পিএম
৬৮ মামলার ওয়ারেন্ট নিয়ে দম্পতির আত্মগোপন, ৪ বছর পর গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়ে ৬৮টি মামলার ওয়ারেন্ট ও ২৭টি মামলার সাজা মাথায় নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন এক দম্পতি। দীর্ঘ চার বছর পর তাদের গ্রেপ্তার  করেছে ধানমন্ডি থানার পুলিশ। 

রবিবার (২৩ জুন) রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার জমজম টাওয়ারে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। চেক জালিয়াতিসহ এই দম্পতির বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগে বিভিন্ন থানায় প্রতারণা মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন আতিকুর রহমান ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা।

এ তথ্য নিশ্চিত করে ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাসেল বলেন, ‘আমাদের কাছে সোর্স মারফত তথ্য আসে যে, অর্ধশত মামলা ও ২৭টি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছে। রবিবার তাদের জমজম টাওয়ারে দেখা গেছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারসহ (ডিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। পরে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

পরিদর্শক রাসেল বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ মামলাই উত্তরা পশ্চিম থানায়। এই দম্পতির নামে ৬৮টি ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানতে পেরেছি। এসব মামলায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ব্যাংকের চেক জালিয়াতির অভিযোগ বেশি রয়েছে। তারা গ্রেপ্তার এড়াতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে থাকে। দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে প্রতারণা করে আসছিল এই দম্পতি।’

আসামিদের গ্রেপ্তারের পর উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গরুর ব্যাপারীদের জিম্মি করে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ১০

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০৮:১৫ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৮:১৫ পিএম
গরুর ব্যাপারীদের জিম্মি করে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ১০
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে গরুর ব্যাপারীদের বাসে তুলে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ জানায়, চক্রটি ডাকাতির টাকায় কোরবানি দিত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে চক্রটি। এবারের ঈদুল আজহায় তারা অন্তত সাতটি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল।

রবিবার (২৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

গত ১৬ জুন জামালপুরগামী গরুর ব্যাপারীর একটি দল বিমানবন্দর থেকে বাসে ওঠে। পরে তারা আব্দুল্লাহপুর গিয়ে ডাকাত দলের কবলে পড়ে। তারা বিষয়টি বুঝতে পারেনি, কারণ সেই ডাকাত দলের সদস্যদের একজন ছিল বাসের হেলপার। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি।

গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের নাবিস্কো এলাকা ও ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানাধীন চরপাড়া মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. ফয়সাল আহাম্মেদ রিগান (৩০), মো. তারেক মিয়া (৩৫), তানভীর আহম্মেদ অন্তর (২৬), মো. মিলন (২২), মো. জাবেদ ইকবাল ওরফে বাদল (৩২), আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৭), মো. রতন মিয়া (৩৮), মো. সেলিম মিয়া (৩০), মো. রুবেল মিয়া (৩৪) ও মো. সুমন মিয়া (৩৫)।

ডিবিপ্রধান বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রটির সদস্যদের প্রতি হাটে লোক থাকে। তারাই মূলত খবর দেয় কোন এলাকার গরুর ব্যাপারীরা কোন সড়কে বাসে উঠবেন। চক্রটির সদস্যরা সেই অনুযায়ী বাস রেডি করে কেউ হেলপার ও কেউ যাত্রীবেশে ওঠেন। পরে তারা পথে গরুর ব্যাপারীদের তুলে একপর্যায়ে জিম্মি করে ফেলে।’

তিনি বলেন, ‘লুট করা টাকার মধ্যে থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে ডাকাত দলের অন্যতম নেতা মো. জাবেদ ইকবাল ওরফে বাদল এবার ঈদে গরু কোরবানি দিয়েছেন। লুটের টাকার মধ্যে থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে ডাকাত দলের আরেক নেতা মো. তারেক মিয়া একটি গরু কোরবানি দেন।’

পাবনায় যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ১২:৪৪ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৪, ০৯:২২ এএম
পাবনায় যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

পাবনার সুজানগর উপজেলায় পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২১ জুন) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার রানীনগর ইউনিয়নের রানীনগর ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহত আল-আমিন মিয়া (৩৮) রানীনগর ইউনিয়নের মৃত শহিদুর রহমান মিয়ার ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের যুবলীগের সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে যুবলীগ নেতা আল-আমিন আত্মীয়ের বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রানীনগর ক্লাবের সামনে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল থামিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আল-আমিনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। 

সুজানগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার রাজু আহমেদ বলেন, আল-আমিন রানীনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য ছিলেন। 

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মাসুদ আলম বলেন, ‘সুজানগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন ঘিরে আগে থেকে ওই এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর সূত্র ধরে শুক্রবার তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। মারা যাওয়া ব্যক্তির মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা গেছেন। আমরা ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত করছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

প্রথম ধাপে গত ৯ মে সুজানগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জয়লাভ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব। নির্বাচনের পর থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব ও সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীনের সমর্থকদের মধ্যে রানীনগরে বেশ কিছুদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর আগে কয়েকবার তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নিহত আল-আমিন নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী শাহীনুজ্জামান শাহীনের সমর্থক বলে জানা গেছে।

পার্থ হাসান/এমএ/ 

মতিউরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১১:০৭ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ০১:০৫ পিএম
মতিউরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
ড. মো. মতিউর রহমান

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালের সভাপতি ড. মো. মতিউর রহমানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ, আয় ও ব্যয়ের তথ্য খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। খোদ এনবিআরও তার আয়কর রিটার্নে দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যায়। 

মূলত মতিউর রহমান কাস্টমস কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দুদকসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে একাধিক আবেদন জমা পড়ে।   

যত অভিযোগ: সাধারণ একজন চাকরিজীবী হয়েও এ পর্যন্ত শতকোটি টাকা সাদা করেছেন। বসুন্ধরায় দুই কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট এবং  ধানমন্ডিতে ৫ কাঠায় আলিশান ৭ তলা বাড়ির মালিক। যার মূল্য ৪০ কোটি টাকা। ভালুকার সিডস্টোর এলাকার পাশেই প্রায় ৩০০ বিঘা জমির ওপর গ্লোবাল জুতার ফ্যাক্টরি। এ ছাড়া রয়েছে ৬০ শতাংশ জমি। জেসিক্স নামে একটি যৌথ ডেভেলপার কোম্পানি রয়েছে। বসুন্ধরার ১৪ তলা বাণিজ্যিক ভবন আছে। গাজীপুর সদরে ৮টি খতিয়ানে ৬০ শতাংশ জমি রয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা। তার স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে সাভার থানার বিলামালিয়া মৌজায় ১৪.০৩ শতাংশ, গাজীপুর থানার খিলগাঁও মৌজায় ৬২.১৬ শতাংশ জমি রয়েছে। ছেলে আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবের নামে ১৪.৫০ শতাংশ জমি আছে গাজীপুরে। যার মূল্য প্রায় ৯০ কোটি টাকা। তার নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে আছে একাধিক দামি গাড়ি। তার নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকার বেশি এফডিআর করা আছে। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন। বিভিন্ন নারীর সঙ্গেও তার অবৈধ সম্পর্ক আছে। 

মতিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলা জন্য মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সম্প্রতি সাদিক অ্যাগ্রোর ১৫ লাখ টাকার ছাগলকাণ্ড নিয়ে আলোচনায় আসেন মতিউর রহমান। ১৫ লাখ টাকার ছাগল ১২ লাখে কিনে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টিকারী ইফাতের পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাজন নানাভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। কেউ কেউ ট্রল করেন। ইফাতের জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবা হিসেবে মতিউর রহমানের নাম পাওয়া যায়।  

এ পরিস্থিতিতে ইফাতের বিষয়ে মুখ খোলেন  ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘মুশফিকুর রহমান ইফাত রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানেরই ছেলে। ইফাত আমার মামাতো বোনের সন্তান। মতিউর রহমানই তার বাবা।’

নিজাম উদ্দিন হাজারী আরও বলেন, ইফাত এনবিআর সদস্য মতিউর রহমানের দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে। ধারণা করছি, রাগ করে মতিউর রহমান ইফাতের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন। মতিউর রহমান নিয়মিত দ্বিতীয় স্ত্রীর নানা পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অন্যদিকে ইফাত তাকে বাবা বলে পরিচয় দিলেও তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। মতিউর ইফাতকে ছেলে বলে স্বীকার করেননি এবং এ ঘটনাকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলেছেন। 

এর আগে গণমাধ্যমে মতিউর রহমান বলেন, ছাগলকাণ্ডে ভাইরাল হওয়া ওই ছেলেকে আমি চিনি না। সে আমার সন্তান নয়। আমার নাম জড়ানোয় আমি এবং আমার পরিবার অনেক বিব্রত। ওই ছেলে আমার আত্মীয় বা পরিচিতও নয়। আমার এক ছেলে, নাম তৌফিকুর রহমান। আমি আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অপ্রচারের প্রতিবাদ করব।

সূত্র জানায়, ঢাকার আশপাশে এ বছর সাতটি খামার থেকে ৭০ লাখ টাকার গরু কিনেছেন ইফাত। তবে ফেসবুকে বিতর্কের মুখে সাদিক অ্যাগ্রো থেকে কেনা ওই ছাগল তিনি আর বাসায় নেননি। অন্য খামার ও হাট থেকে কেনা পশু তিনি ডেলিভারি নিয়েছেন।

ইফাত দামি গাড়ি আর দামি ঘড়ি কিনতেও পছন্দ করেন। ফেসবুকে লাখ টাকার ঘড়ি আর দামি গাড়ির অসংখ্য ভিডিও আপলোড করেছেন তিনি। ঢাকার রাস্তায় দামি গাড়ির রেসিংয়ের ভিডিও আপলোড করেছেন। চলতি বছরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলেন ইফাত। তখন সাধারণ মানুষ তাকে পিটুনি দেয়। রাজধানীর ধানমন্ডির ৮ নম্বর রোডের ইমপেরিয়াল সুলতানা ভবনের পঞ্চম তলায় থাকেন ইফাত।

ড. মতিউর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন্যান্স বিষয়ে সম্মান ডিগ্রি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রিস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ভ্যাট এবং কাস্টমস বিষয়ে দেশ-বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

ঢামেকে ভুয়া নারী চিকিৎসক আটক

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৩১ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৩১ এএম
ঢামেকে ভুয়া নারী চিকিৎসক আটক
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিপা আক্তার (২০) নামে এক ভুয়া নারী চিকিৎসককে আটক করেছে হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের গাইনি বিভাগ থেকে তাকে আটক করা হয়। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক (অর্থ ও স্টোর) ডা. মো. খালেকুজ্জামান খান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

অভিযুক্ত রিপা আক্তার পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বউলতলী গ্রামের মৃত কাজির সিকদারের মেয়ে। তিনি বর্তমানে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ভাড়া বাসায় থাকেন। 

ডা. মো. খালেকুজ্জামান খান বলেন, ‘অভিযুক্ত ওই নারী হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের গাইনি বিভাগে সন্দেহজনকভাবে অ্যাপ্রোন পরা অবস্থায় ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এক নারী আনসার সদস্য তাকে আটক করে প্রশাসনিক ভবনে নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে ওই নারী স্বীকার করেন তিনি ভুয়া চিকিৎসক। পরে আমরা ওই নারীকে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের আনসার সদস্যের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালে পুরাতন ভবনের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের গাইনি বিভাগে অভিযুক্ত ওই নারী অ্যাপ্রোন পরা অবস্থায় ঘোরাফেরা করছিলেন। প্রথমে তাকে দেখে বোঝাই যাচ্ছিল না তিনি চিকিৎসক না অন্য কেউ। পরে বিষয়টি আমাদের নারী আনসার সদস্য লুৎফা বেগম চ্যালেঞ্জ করলে ওই নারী একপর্যায়ে স্বীকার করেন তিনি কোনো চিকিৎসক নন।’

আনসার পিসি  আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত নারী ফাইজার নামে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। এক আত্মীয়কে দেখার জন্য ঢাকা মেডিকেল এসেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। কিন্তু সেই আত্মীয় বা রোগীর নাম তিনি নিজেই জানেন না। একপর্যায় তিনি স্বীকার করেছেন রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে এই অ্যাপ্রোন তিনি কিনেছিলেন। পরে অভিযুক্ত ওই নারীকে আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করেছি। 

হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ভুয়া নারী চিকিৎসককে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আল-আমিন/এমএ/