ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

কোয়ারেন্টাইন

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ০৩:১৩ পিএম
আপডেট: ১৮ মে ২০২৪, ০৩:১৫ পিএম
কোয়ারেন্টাইন
ছবি: খবরের কাগজ

২১৩০ সাল। পৃথিবী একটি নির্জন বর্জ্যভূমি। শতাব্দীর দূষণে পৃথিবীর আবহাওয়া দূষিত। শত বছরের চলমান যুদ্ধে মানুষ বেঁচে নেই বললেই চলে। বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় কিছু মানুষ বেঁচে আছে। তবে তারা আইসোলেটেড। কোয়ারেন্টাইনে আছে। একে অপরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয় না। ভয়াবহ পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। হিরোশিমা-নাগাশাকির মতো পুরো পৃথিবী বিধ্বস্ত। অ্যাটোম বোমার বিষক্রিয়া পুরো গ্রহে ছড়িয়ে পড়েছে।

 এই বিষক্রিয়া এবং জীবাণু অস্ত্রের বিষক্রিয়া থেকে রক্ষার জন্য গ্রহের জীবিত মানুষ সাপ-ব্যাঙের শীতনিদ্রা যাপনের মতো কোয়ারেন্টাইনে আছে। পৃথিবী থমকে গেছে। অন্ধকারে ছেয়ে আছে একসময়কার আলোকোজ্জ্বল নগরীগুলো। যেখানে ছিল বিশাল বিশাল আকাশচুম্বী অট্টালিকা। সেখানে জমে আছে পাহাড়সমান উঁচু আবর্জনার স্তূপ। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে গেছে প্রশস্ত রাস্তাঘাট। অলিগলিতেও জীবিত প্রাণীদের চলাচল নেই। অর্ধভগ্ন যানবাহনগুলো কাত হয়ে পড়ে আছে এখানে সেখানে। মরীচিকারা তাদের শাসন করছে। ক্যানসারের জীবাণুরা মৃত্যুর হুলিয়া নিয়ে আকাশ-বাতাস কাঁপাচ্ছে। সবকিছু স্থবির। এই স্থবিরতা শত বছরের। জনমানবহীন ধ্বংসস্তূপের আড়ালে-আবডালে বিলুপ্তপ্রায় সভ্যতা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শত বছর বয়সী ডালাপালাবিহীন পুড়ে যাওয়া বৃক্ষরাজি।

বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগে মানবসভ্যতা পৌঁছেছিল উন্নতির চরম শিখরে। তারা গড়েছিল টাইপ-২ সভ্যতা। যে সভ্যতায় অধিবাসীরা গ্রহান্তরে আবাস গড়ে তোলে। তাদের নিজস্ব শক্তির আয়ত্তের পাশাপাশি টাইপ-২ সভ্যতার মানুষ যখন তখন মহাকাশ ভ্রমণে পারঙ্গম। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে তারা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম। তারা অন্যান্য গ্রহকে টেরাফর্ম করার ক্ষমতা রাখে। আণবিক স্তরে পদার্থকে ম্যানিপুলেট করতে সক্ষম। এমনকি তারা জীবনের নতুন রূপ তৈরি করতে পারে। যুদ্ধের ভয়াবহতায় পৃথিবী ধ্বংসের আগে মানুষ সভ্যতার শীর্ষ বিন্দুতে আরোহন করেছিল।

চাঁদে মানুষের কলোনি রয়েছে। মঙ্গল গ্রহেও মানুষ আবাস গেড়েছে। মানবতা পৃথিবীর বাইরে প্রসারিত হয়েছে। চাঁদে এবং মঙ্গলে উপনিবেশ রয়েছে। বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপায় মানুষ ফাঁড়ি তৈরি করেছে। কিন্তু মানুষের কৃতিত্বের প্রকৃত শিখর ছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, বা আইএসএস। যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

ভয়ংকর মারণাস্ত্র ব্যবহারের আগে জনসংখ্যার অধিকাংশই অন্য গ্রহের উপনিবেশে পালিয়ে গেছে। কিন্তু যারা পৃথিবীতে থেকে গিয়েছিল তারা ছিল অভাবগ্রস্ত অথবা দুঃসাহসী। একসময়ের সমৃদ্ধ শহরগুলোর ধ্বংসাবশেষে নিজেদের তুচ্ছ অস্তিত্ব হিসেবে খুঁজে পেয়েছিল।

বেঁচে যাওয়া মানুষের মধ্যে এলিজা নামে এক তরুণী ছিল। সে এই ধ্বংসাবশেষ এবং বিপর্যস্ত পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিল। কিন্তু সে আশা ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নয়। এক প্রাণচঞ্চল তরুণী। পজিটিভ ভাবনার মানুষ। দুঃসাহসিক এক নারী। খাবারহীন থাকলেও রাতগুলো উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখে কাটায়।

একদিন একটি পুরনো গবেষণাগারের ধ্বংসাবশেষে এলিজার চোখ পড়ে অসাধারণ একটি মেশিনের ওপর। টাইম মেশিন। সে সায়েন্স ফিকশনের বইগুলোতে এ ধরনের ডিভাইস সম্পর্কে পড়েছিল। তবে কখনই এগুলো বিশ্বাস করত না। এমন আজব যন্ত্রের অস্তিত্ব যে আসলে পৃথিবীতে বিদ্যমান ছিল; এটি এর আগে সে আমলে নেয়নি। কিন্তু এখন সে বিভ্রান্তির দোলাচলে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। একটি মসৃণ রুপালি বাক্স। আবছা আলোতে মৃদুভাবে গুনগুন করছিল।

লোভ সামলাতে পারল না এলিজা। সে টাইম মেশিনের ভিতরে বসল। ২০৩০ সালের পৃথিবীকে সে নিয়ন্ত্রণ সেট করল। এমন একটি সময় যখন পৃথিবী ছিল অক্ষত। ছিল সমৃদ্ধ। আধুনিকতার সর্বোচ্চ পর্যায়। তখনকার প্রযুক্তি কেমন ছিল? মানুষের জীবনযাপন কেমন উন্নত ছিল? সে আসলে দেখতে চেয়েছিল পৃথিবী থেকে কী হারিয়ে গেছে? যা দেখে ভবিষ্যতের জন্য কিছু আশা-ভরসা মনেপ্রাণে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করেছিল।

টাইম মেশিনটি শব্দ করল। এলিজার মনে আনন্দ উত্তেজনার ঢেউ খেলে গেল। সে চরম প্রশান্তি অনুভব করল। কারণ, তার সময় পরিভ্রমণ সঠিক ছিল। ১০০ বছর আগের পৃথিবীতে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু যখন সে এসেছিল তখন দেখতে পেল যে, পৃথিবী তার কল্পনার মতো নয়। হ্যাঁ, আকাশচুম্বী বিল্ডিংগুলো দাঁড়িয়ে ছিল। যেন সেই ইমারতগুলো আকাশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। পৃথিবীর বাতাস দূষণমুক্ত ছিল। পানি বিশুদ্ধ ছিল। আলো নির্মল ছিল। তবে লোকেরা এলিজার নিজের সময়ের চেয়ে সুখী ছিল না। প্রকৃতপক্ষে, মানুষ লোভ এবং স্বার্থপরতায় ভরা ছিল। প্রযুক্তি তাদের এমনভাবে গ্রাস করেছিল যে, তারা ভোগ-বিলাসে হারিয়ে গিয়েছিল।

এলিজা তার নিজের সময়ে ফিরে যেতে চাচ্ছিল। সে পুরোপুরি হতাশ এবং মোহগ্রস্ত। সে সময় অ্যালেক্স নামে একজন সুদর্শন যুবকের সঙ্গে তার দেখা হয় । সে পার্কের বেঞ্চে বসে একটি বই পড়ছিল। বইটির নাম- সাইবার যুদ্ধের পাগলা ঘোড়া। এলিজা বইয়ের নাম দেখে চমকে উঠেছিল। যে যুদ্ধের ভয়াবহতায় একটি গ্রহ বিপর্যস্ত হতে পারে। একটি প্রতিষ্ঠিত সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ছেলেটি সেই যুদ্ধ বিষয়ক বই পড়ছে। এলিজা তার সম্পর্কে না জেনেই ফিরে যেতে চাইল। কিন্তু তার মধ্যে এমন কিছু ছিল যা এলিজাকে আকৃষ্ট করেছিল। সে দয়ালু এবং নম্রভদ্র ছিল। সে এলিজার মতোই আশাবাদী চোখ দিয়ে পৃথিবীকে ভাবত।

তারা এমনভাবে কথোপকথন শুরু করেছিল যেন অনেক আগে থেকেই একে অপরকে চিনত। যেন তারা অবিচ্ছেদ্য ছিল। অ্যালেক্স এলিজাকে বলল, ‘আমি অ্যালেক্স। তোমার নাম কী?’
এলিজা খানিক হেসে প্রশ্নের উত্তর দিল, ‘আমি এলিজা।’
অ্যালেক্স এলিজাকে বসতে ইশারা করল। অ্যালেক্স বলল, ‘দেখো আমাদের পৃথিবীটা কি সুন্দর! তোমাকে খুব চেনাচেনা লাগছে। আমাদের মধ্যে কি এর আগে দেখা হয়েছিল? আমরা কি ফেসবুক বন্ধু?’

ফেসবুকের কথা সে এই প্রথম শুনল। মনে মনে সে ভাবল ১০০ বছর আগে পৃথিবীতে নিশ্চয়ই এমন বন্ধুত্ব ছিল। 
এলিজা জানত যে, টাইম মেশিনের শক্তি ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই তার নিজের সময়ে ফিরে আসতে হবে। এলিজা তার নিজের সময়ে ফিরে এসেছে। 
তারপর, একদিন অলৌকিক কিছু ঘটেছিল। একদল বিজ্ঞানী কেবল মনের শক্তি ব্যবহার করে কোনো যন্ত্র ছাড়াই সময়ের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করার কৌশল আবিষ্কার করেছিলেন। এলিজা ছিল বিজ্ঞানীদের পরীক্ষার জন্য প্রথম স্বেচ্ছাসেবকদের একজন।

কিন্তু এর মধ্যে পৃথিবীতে বিশ্বযুদ্ধ শুরু গিয়েছিল। একটি বড় বিপর্যয় ঘটেছিল। যুদ্ধ বেশির ভাগ মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। টিকে থাকা মানুষদের দূষিত এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রামী করে রেখেছিল। এলিজা মরিয়া হয়ে অ্যালেক্সের খোঁজ করল, কিন্তু সে তাকে কোথাও খুঁজে পেল না।

তারপর, দূরে সে একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেল। এটা অ্যালেক্স ছিল। সে এলিজাকে ডাকছিল। এলিজা তার দিকে ছুটে গেল। অ্যালেক্সকে দেখতে পেয়ে তার হৃদয় আনন্দে ভরে গেল। কিন্তু যখন সে কাছে এলো, সে দেখতে পেল যে, সে একা নয়। অ্যালেক্স একটি ছোট শিশুর হাত ধরেছিল। একটি মেয়ে। মেয়েটি দেখতে ঠিক তারই মতো।

/আবরার জহিন

গাছেদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৪৭ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৪৭ পিএম
গাছেদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স

অ্যাম্বুলেন্স তো থাকে মানুষের জন্য। বড়জোর পোষা প্রাণীদের জন্যও পৃথিবীর কোনো কোনো এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স আছে। এমনকি বুনো প্রাণীদের সেবার জন্যও অ্যাম্বুলেন্স থাকতে পারে। তাই বলে গাছেদের জন্যও অ্যাম্বুলেন্স!

গাছেরেও তো প্রাণ আছে। আর প্রাণ যার আছে সে-ই তো প্রাণী। তাছাড়া গাছ আমাদের যে কী উপকার করে, সেটা তো বলে বোঝানো যাবে না। এই যে তীব্র গরম পড়ছে, তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে কিছু দিন পর পর, প্রবল ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে- এতসব কিছু থেকে আমাদের কিছুটা হলেও রক্ষা করে কে? অবশ্যই গাছ। গাছ না থাকলে পৃথিবী স্থবির হয়ে যেত। পৃথিবীর কোনো প্রাণী বেঁচে থাকত না। তো সেই গাছের জন্য অ্যাম্বুলেন্স থাকতেই পারে। বরং না থাকাটাই অস্বাভাবিক।

পরিবেশবিদরা তো পৃথিবী নিয়ে ভীষণ শঙ্কার মধ্যে আছেন। সেই আশঙ্কা আমাদেরও আছে। পৃথিবী থেকে যে হারে গাছ উচ্ছেদ হচ্ছে, তাতে পৃথিবীতে মানুষের বসবাস বেশ কঠিনই হয়ে উঠেছে। তবে এই কঠিন অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কিন্তু গাছ লাগানো। এই যে এখন বর্ষাকাল, এটাই বাংলাদেশের আবহাওয়ায় গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছেদের যত্নআত্তিও তো দরকার। আর গাছেদের যত্নআত্তির কথা যখন এলই, তখন গাছেদের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের কথাও চলে এসেছে। আর গাছেদের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা দেশটির নাম ভারত। ভারতে বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে চালু হয়েছে গাছেদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা!

আসলে নানা সময়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অনেক গাছ উপড়ে যায়। আবার কখনো বাড়ি, রাস্তা কিংবা কোনো স্থাপনা নির্মাণের সময় নির্বিচারে গাছ কেটেও ফেলা হয়। তখন এই অসহায় ও নির্যাতিত গাছদের ওই স্থান থেকে তুলে নিয়ে সুবিধাজনক কোনো জায়গায় রোপণ করতে পারলে গাছও প্রাণে বেঁচে যায়, আবার আমাদের পরিবেশও সুন্দর ও শীতল থাকে। গাছদের তুলে নেওয়ার কাজটা করবে অ্যাম্বুলেন্স।

গাছেদের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজনীয়তা প্রথম অনুভব করেছিলেন এক পরিবেশ আন্দোলনকারী। নাম তার আবদুল ঘানি। ভারতের সবুজ মানুষ বা ‘গ্রিন ম্যান অব ইন্ডিয়া’ হিসেবে পরিচিত আবদুল ঘানি ৪০ লাখ গাছ রোপণ করেছেন।

গাছেদের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের কাজটা হবে উপড়ে যাওয়া গাছকে নিয়ে গিয়ে অন্য জায়গায় লাগানোর পাশাপাশি এই অ্যাম্বুলেন্স বিভিন্ন জায়গায় বয়ে নিয়ে বেড়াবে নানা গাছের বীজও। শহরের মানুষদের মধ্যে গাছ লাগানো বিষয়ে নানান সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সাহায্যও করবে এই অ্যাম্বুলেন্স। কোনো গাছ মারা গেলে তার অংশগুলো ঠিক জায়গায় পৌঁছেও দেবে।

অ্যাম্বুলেন্সেই থাকবেন দক্ষ মালি ও গাছকর্মী। তাদের সঙ্গে থাকবে বাগান করার নানা জিনিসপত্র, সার, পানি, ঝুড়ি, খুরপি ইত্যাদি।

পৃথিবীতে দূষণ বেড়েই চলেছে। দূষণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে গাছের সংখ্যা। কোনো গাছ যাতে প্রাকৃতিক বা মানুষের কারণে মরে না যায়, সেগুলোকে রক্ষা করার উদ্যোগেরই একটা অংশ গাছেদের অ্যাম্বুলেন্স। গাছের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা ওষুধপত্র সবই অ্যাম্বুলেন্সে রাখা আছে। আর কোথাও থেকে গাছ তুলে এনে অন্য জায়গায় লাগানোর জন্যও অত্যাধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

গাছের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের প্রবক্তা আবদুল ঘানি, ‘কত গাছ ঝড়ে উপড়ে যায়। পড়ে পড়ে মারা যায় সেগুলো। নতুন করে লাগানোর ব্যবস্থা করাই হয় না। এই অ্যাম্বুলেন্স আর তা হতে দেবে না। হেল্পলাইনে ফোন করা মাত্র আমরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে পৌঁছে যাব, বিনামূল্যে গাছটিকে সরিয়ে আনব।’

অনেক সময় দেখা যায় ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ পড়ে গেছে, কিংবা গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে। সেই ভাঙা ডালের কারণে কিংবা গাছ পড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ আহত কিংবা নিহতও হচ্ছেন। তখন সেই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। কিন্তু ঘানি জানান, ‘শুধু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উপড়ে যাওয়াই নয়। অনেক সময়েই দেখা যায়, গাছের কারণে সমস্যায় পড়ছেন পথচারী বা শহরবাসী। সেগুলো কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। আমাদের জানালে আর এভাবে মরতে হবে না গাছগুলোকে। যত্ন করে তাদের সরিয়ে অন্যত্র বসাব আমরা।’

ভারতের চেন্নাই, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যে গাছেদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু হয়েছে।

বাংলাদেশের গাছেরাও বড় বিপদে আছে। বাড়ি, বড় বড় স্থাপনা, কিংবা মহাসড়ক করার জন্য অকাতরে প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য গাছ। প্রাণ হারানো এসব গাছের হাহাকার কি আমরা কেউ শুনতে পাই? যেমনটা শুনতে পেয়েছিলেন ভারতের আবদুল ঘানি।

জাহ্নবী

বানরের মজার কাণ্ড

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৪৬ পিএম
বানরের মজার কাণ্ড

কুমিল্লা রেলস্টেশনটির পাশেই বরাইপুর গ্রাম। মাঝখানে ছোটখাটো একটা জঙ্গল। বরাইপুর গ্রাম থেকে মেঠোপথ দিয়ে জঙ্গল পেরিয়ে কুমিল্লা শহরে যাতায়াত করত এক বেলুনওয়ালা। সে ঘুরে ঘুরে বাচ্চাদের কাছে বেলুন ফেরি করে বেচত। তার কাঁধে সবসময় বসে থাকত একটা বানর।

বেলুনওয়ালা অনেক দিন আগে বনের পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বানরটিকে বাচ্চা অবস্থায় কুড়িয়ে পেয়েছিল। সেই থেকে বানরের বাচ্চাটি তার সঙ্গে থেকে থেকেই বড় হয়েছে। বেলুনওয়ালা এক সময় বেলুন বিক্রি করে প্রচুর আয় করত। সে বানরটিকে ভালোমানের বিভিন্ন ধরনের কলাসহ আরও নানারকম  সুস্বাদু খাবার খাওয়াত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার দিন বদলাল। এখন বাজারে বাচ্চাদের জন্য  নানা ধরনের মজার মজার অত্যাধুনিক খেলনা বেরিয়েছে। ফলে বাচ্চাদের কাছে বেলুনের চাহিদা আর আগের মতো নেই। বেলুনওয়ালার  আয় কমে গেছে। সে ঠিকমতো নিজের ও পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করতে পারছিল না। আর তাই বানরের খাবারেও ঘাটতি পড়ল। বানরটি সবসময় ক্ষুধার্ত থাকত। একদিন এক কলা বিক্রেতার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল বেলুনওয়ালা। বানরটি বেলুনওয়ালার কাঁধ থেকে লাফ দিয়ে নেমে কলা বিক্রেতার এক ফানা কলা নিয়ে দিল দৌড়। কলা বিক্রেতা, বেলুনওয়ালা এবং উপস্থিত লোকজন সবাই বানরটির পেছন পেছন দৌড়াতে লাগল। বানরটি দৌড়ে একটা উঁচু তালগাছে উঠে পড়ল। লোকজন বানরটিকে বড় বড় মাটির ঢেলা দিয়ে ঢিল মারতে শুরু করল। বানরটি সার্কাসের মতো নানা কৌশলে এদিক ওদিক সড়ে গিয়ে সেগুলো থেকে নিজেকে বাঁচাল। মাঝে মাঝে দু-একটা ঢিল ধরতে পারলে, সে ঢিলগুলো গাছের নিচে জড়ো হওয়া লোকজনের দিকে ছুড়ে মারতে লাগল। তখন জ্যৈষ্ঠ মাস। গাছে ছোট ছোট কচি তাল। বানরটির মাথায় এক বুদ্ধি এল। সে সেই তালগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে নিচের লোকজনের দিকে ছুড়ে মারতে লাগল। ফলে বানরে আর মানুষে ঢিলাঢিলি জমে উঠল। কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেল। ফলে বানরটি আর পেরে উঠছিল না। সে লাফ দিয়ে পাশের ছাতিম গাছে উঠল। এভাবে এক গাছ থেকে আরেক গাছে লাফিয়ে লাফিয়ে চড়ে সে পালিয়ে যেতে লাগল। মানুষজন ছুটল তার পিছু পিছু। তারা বানরটিকে ক্রমাগত ঢিল ছুড়ছিল। শেষে আর কিছু না থাকায় হাতে থাকা কলার ফানা থেকে বড় বড় কলা ছিঁড়ে সে মানুষের দিকে ছুড়ে মারতে লাগল।  এভাবে সবাই রেললাইনের সামনে চলে এল। এমন সময় একটি মালবাহী ট্রেন এসে পড়ল। বানরটি গাছ থেকে লাফ দিয়ে মালবাহী ট্রেনে উঠে পড়ল। অবশেষে হাতের শেষ কলাটি খেতে খেতে মানুষজনকে অনেকটা কলা দেখিয়ে দুষ্ট বানরটি সেই মালবাহী ট্রেনে চড়ে পালিয়ে গেল। এতক্ষণ পণ্ডশ্রম করে বানরটিকে ধরতে না পেরে, মানুষগুলো সেখানে বোকার মতো হা করে দাঁড়িয়ে রইল।

জাহ্নবী

বর্ষার ছড়া

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৪৪ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৪৪ পিএম
বর্ষার ছড়া

আষাঢ়ে বৃষ্টি 
বেণীমাধব সরকার 

আষাঢ়ে  আসার নামে টিপ টিপ করে,
নতুন জোয়ার জলে নদী নালা ভরে। 
জলতলে ঝাঁকে চলে ছোটবড় মাছ
জেলেগণ জালে ধরে করে উচ্ছ্বাস। 

নাও চলে পাল তুলে মাঝি ধরে হাল
উজানী নগর পানে ছুটে বেসামাল।
পালে বায়ু লেগে নাও হয় বেগবান,
মাঝির কণ্ঠে থাকে ভাটিয়ালি গান।

আশু ধান মাঠে মাঠে জুল জুল ভাসে
চাষিগণ হাসি মুখে কেটে নিয়ে আসে। 

গুড়- গুড়- ডাকে মেঘ আকাশের ’পরে
বিদ্যুৎ চমকায় থর থর করে।
আচমকা আসমান হতে নামে ধারা
উঠোনের ধানপাট ভিজে হয় সারা।
ক্ষণিকেই নামে ধারা ক্ষণিকেই শেষ
আলো আন্ধারি খেলা জমে ওঠে বেশ!

 

কোলার বন্ধু কুনো
অজিতা মিত্র

বৃষ্টি এলো, কোলা-কুনো
করছে নাচানাচি।
নাচের সময় হ্যাচ্চো হ্যাচ্চো...
কুনোর সে কী হাঁচি!

ছুটল কোলা বদ্যিবাড়ি
বৃষ্টি মাথায় নিয়ে,
বদ্যি দিল রসুনপড়া
সর্ষে তেলে দিয়ে!

দাওয়াই দিল গরম চায়ে
তুলসী পাতা, আদা,
তাবিজ দুটো থাকতে হবে
কুনোর হাতে বাঁধা

রসুনপড়া মেখে কুনো
জোরসে দিল হাঁচি,
এক হাঁচিতে বেরিয়ে এলো
মস্ত কালো মাছি!
বাদলের দিন
মুজাহিদ আল কারিম 

টাপুরটুপুর সকাল-দুপুর 
ঝুমুর ঝুমুর বাজে নূপুর 
গাছের পাতায়
ব্যাঙের ছাতায়
মনের খাতায়,
দারুণ ছন্দ-তাল!
যায় ভরে যায় নদীনালা
গাঁয়ের ছোট খাল।

বৃষ্টি এলে দস্যিছেলে 
বৈঠা হাতে গাঁয়ের জেলে 
আলাভোলা মন
মেঘের আচ্ছাদন 
খুশির নিমন্ত্রণ,
পাখির মতো স্বাধীন 
মনের গহিন বাজনা বাজে
তা-ধিন তা-ধিন তা-ধিন। 

গাঁয়ের বড়ো বাগানটাতে
যেতাম সবাই আম কুড়াতে 
দারুণ সুখের ভোর
কাটে না তো ঘোর
দুরন্ত কৈশোর
মিষ্টি অলস ঘুম,
মনেও সুখের বৃষ্টি ঝরে
ঝুমঝুমাঝুম ঝুম। 

 

আষাঢ়ের বৃষ্টিতে
এম. আব্দুল হালীম বাচ্চু

আষাঢ়ের বৃষ্টিতে, মাটি সুখ পায়,
গাছপালা ভিজে ভিজে, মোটা হতে চায়।
কুনোব্যাঙ গেছো ব্যাঙ, অস্থির থাকে
ঝিঁঝিঁপোকা রাত এলে, অবিরাম ডাকে!

মুরগির দিকে থাকে, শেয়ালের চোখ
খালবিলে নেচে নেচে, বড় হয় জোঁক!
বিড়ালের বিচরণ, ঘর থেকে ঘরে
কুকুরের ডাক শুনি, মৃদু মৃদুস্বরে!

কাকগুলো ভুলে যায়, কা-কা ডাক
পেঁচাগুলো খুঁজে ফেরে, সুযোগের ফাঁক!
শহরের চিরিতন, আলোকিত থাকে
গ্রামগুলো ঘুম পাড়ে, আঁধারের বাঁকে!

চুপচাপ ভিজে যায়, দালানের ছাদ,
ঘাসগুলো ভিজে ভিজে, করে আহ্লাদ!
কী চমৎকার! দেখা যায় কদমের রূপ
এত ঘ্রাণ দেহে তার, থাকে তবু চুপ!

 

বর্ষার পানি এলো 
ওলি মুন্সী 

আম জাম পেকে গেছে 
কাঁঠাল আর লিচু 
বর্ষার পানি এলো 
বেয়ে উঁচুনিচু।

ভরে গেছে ডোবা নালা 
নদী আর খাল
বাবুইয়ের সাথে দেখি 
কাঁচা কাঁচা তাল।

ঘুমন্ত নৌকা মেখে গায়ে তেল 
দুপুরের রোদে কাকে খায় পাকা বেল
বিকেলের মেঘ দেখি 
ফের এলো ঢল 
বর্ষার পানি এসে করে কলকল।

 

ব্যাঙের ছানা
মো.আলমামুন হোসেন 

দুষ্ট একটা ব্যাঙের ছানা
ভিজে সারা রাতি,
সর্দি কাশি জ্বর বাঁধালে
শাসন করে হাতি। 

বোদ্ধা হাতি এনে দিল
তেঁতুল পাতার রস, 
সুস্থ হয়ে ব্যাঙের ছানা
হলো হাতির বশ। 

ব্যাঙ ছানাটি ভাব জমিয়ে
হাতির পিঠে চড়ে, 
বন বাদাড়ে মনের সুখে
সওয়ার হয়ে ঘোরে।

 

মেঘের মেয়ে বিষ্টি
রাফিয়া নাওয়ার

মেঘের রানির একটা মেয়ে 
দেখতে কী যে 
                  মিষ্টি 
রেগে গেলে কান্না করে
নাম হলো তার
                  বিষ্টি। 
তার কাঁদনে আকাশ থেকে
বিজলী মেয়ে 
                  চমকায়
গুড়ুম গুড়ুম বিজলী মেয়ে 
জোরে জোরে
                  ধমকায়।


বৃষ্টি এলো
যাকারিয়া মাহমুদ

রোদের গায়ে মেঘ জমেছে
কমে গেছে উষ্ণতাপ,
বৃষ্টি এলো বৃষ্টি এলো
দেবো সবে জলে ঝাপ।

চারদিকে আজ শীতল হাওয়া
পশুপাখির কলরব,
বৃষ্টি এলেই ছোটাছুটি
জবুথবু ভিজে সব।

ধমকা হাওয়ায় ধুলোবালি
এলোমেলো উড়ছে দেখ,
গাছের ডালে ভূত চেপেছে
মড়মড়িয়ে ভাঙছে দেখ।

ছোট্ট খোকা ভয় পেয়েছে
মেঘের বুকে বজ্রডাক,
উদাস মনে ফিরছে নীড়ে
শত শত পাখির ঝাঁক।

জাহ্নবী

যত শান্তি গোসলে

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৫১ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৫১ পিএম
যত শান্তি গোসলে

জুনের ১৪ তারিখ পালন করা হয় বিশ্ব গোসল দিবস। তুমি হয়তো অবাক হচ্ছ যে, গোসলেরও দিবস আছে! অবাক হওয়ার কিছু নেই। ২০১৬ সাল থেকে জাতিসংঘ দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়। যাতে মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। আর গোসল মানেই হচ্ছে সারা দিনের যত ক্লান্তি, যত ব্যস্ততা- সবকিছুকে দূরে সরিয়ে নিজেকে নিজে যত্ন করা এবং গোসলকে উপভোগ করা। তো বিশ্ব গোসল দিবসে গোসল সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ তথ্য জানাচ্ছেন আহমেদ রিয়াজ


গোসল মানেই আরাম
এই যে এত গরম পড়েছে, তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, সারা দিন বাইরে কাটিয়ে, ঘেমে একাকার হয়ে ঘরে ফেরার পর গোসলের চেয়ে আরাম আর কিছু কি হতে পারে? চর্মরোগ এবং ত্বক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গোসলের মাধ্যমে ‘ভালো অনুভূতি’ সৃষ্টির হরমোন যাকে এন্ডোরফিনস বলা হয়, সেটা নিঃসৃত হয়। কাজেই ভালো অনুভূতি চাইলে ঝাঁপ দাও পানিতে কিংবা মাথা পেতে দাও ঝরনাতলায়।

গোসল মানেও জিম করা
গোসলকে যদিও অনেকে কাজ হিসেবে দেখতে রাজি নন, তবু গোসল করাও কিন্তু একটা কাজ। আর কাজ মানেই শরীরের ক্যালরি ক্ষয় করা। ৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় এক ঘণ্টা ধরে গোসল করলে গড়ে ১৩০ ক্যালরি ক্ষয় হয়। তার মানে গোসল মানেও জিম করা। 

আয় ঘুম আয়
অনেকের আবার ঘুম না আসার রোগ আছে। রাতে বিছানায় ছটফট করেন, এ পাশ-ও পাশ করেন। তারা যদি হালকা গরম পানিতে গোসল করতে পারেন তাহলে তাদের মাংসপেশি শিথিল হবে। শরীর শিথিল হওয়া মানেই ঘুমের জন্য শরীর উপযুক্ত হওয়া। 

শুষ্ক ত্বকের মহৌষধ
অনেকে শীতের সময় গোসল করতে চান না। গোসল করলে নাকি শীত আরও বেশি অনুভূত হয়। আসলে তা নয়। বরং যত কড়া শীতই পড়ুক, গোসল করলে শীতটা কমই অনুভূত হয়। আর যাদের ত্বক শুষ্ক, তাদের জন্য গোসল তো মহৌষধ। এমনিতেই আমাদের ত্বক শীতের সময়ে আর্দ্রতা হারায়। তার ওপর শুষ্ক ত্বক যাদের, তাদের এই আর্দ্রতা হারানোর মাত্রা তখন আরও বেড়ে যায়। ফলে একজিমা, সোরিয়াসিসসহ নানা ধরনের চর্মরোগ হয়। নিয়মিত গোসল এসব চর্মরোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

গোসল মানেই সুস্থতা
গোসল যে আমাদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয় এটা কি আমরা জানি? হৃদয় বা হার্ট আমাদের শরীরকে ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করে যায় প্রতিনিয়ত। গরম পানিতে গোসল করলে হৃদয়ের জন্য কাজটা একটু কঠিন হয়ে যায়। সে কারণে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করাই উত্তম। আর গোসলের কারণে হৃদযন্ত্রেরও ব্যায়াম হয়ে যায়। সে কারণে শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। গোসল আমাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে এতটাই প্রশান্তি এনে দেয় যে, একটা সুন্দর গোসলের পর আমাদের মন বলে ওঠে- আহ্! কাজেই গোসল মানেই সুস্থতা।

মেজাজও ঠিক রাখে গোসল
বাবা বকা দিয়েছে? শিক্ষকের ঝারি খেয়েছ? বন্ধুদের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে? নানান কারণে আামদের মেজাজ খারাপ হতেই পারে। কিন্তু কোনোভাবেই যদি মেজাজ ঠিক রাখতে না পার, তবে সোজা চলে যাও গোসলে। গোসল আমাদের মেজাজমর্জির হালও ধরে রাখতে পারে।

জাহ্নবী

 

অন্যরকম স্নান

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৫০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৫০ পিএম
অন্যরকম স্নান

পানি ছাড়া কি গোসল বা স্নান হয়? হয় তো। পানি ছাড়াও আছে হরেকরম স্নান।

বালিস্নান

বালিগোসলের আরেক নাম ধুলোস্নান। সাধারণত পাখিদের এ ধরনের গোসল করতে দেখা যায়। চড়ুই, মালাবারের ধনেশ, ভরত, টার্কি ইত্যাদি পাখির বালিতে গোসল করা খুবই সাধারণ ব্যাপার। অনেক পাখি জাপানিজ আগ্নেয়গিরির বালুতে শরীর ঢেকে গোসল সারে।

কাদাস্নান

হাতি, গণ্ডারসহ নানান স্তন্যপায়ী প্রাণী কাদাস্নান করে। আর মানুষের মধ্যে এই কাদাস্নানের প্রচলন কিন্তু কয়েক শ বছর ধরে চলে আসছে। তবে বেশির ভাগ মানুষ শখে নয়, চিকিৎসার অংশ হিসেবে কাদাস্নান করে থাকেন।

টমেটোস্নান

স্পেনের লা টমাটিনো উৎসবের কথা তো অনেকেই জানেন। ওটা একটা খেলা। এ-ওর গায়ে টমেটো ছুড়ে মারে। মানে টমেটো ছোড়াছুড়ি। গায়ে টমেটো লেগে থেঁতলে যায়। পুরো শরীর টমেটোয় মাখামাখি হয়ে যায়। অনেকটা টমেটো দিয়ে স্নানের মতোই বিষয়টা। তবে সত্যিকারের টমেটো স্নান হয় দক্ষিণ কোরিয়ায়। ওখানে শিশুদের ত্বক সুন্দর রাখার জন্য কিছু সুইমিংপুলে টমেটো স্নানের ব্যবস্থা আছে।

জাহ্নবী