ঢাকা ১১ বৈশাখ ১৪৩১, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গলদ দূর করুন

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৩৬ এএম
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গলদ দূর করুন

পত্রিকা খুললেই চোখ আটকে যায় স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের খবরে। চিকিৎসা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হননি এমন কম লোকই আছেন সমাজে। একদিকে অসুস্থ রোগীকে নিয়ে আত্মীয়-পরিজন থাকেন চিন্তিত, অপরদিকে কিছু হাসপাতালের সেবাদানকারীর দুর্ব্যবহার রোগী ও তার আত্মীয়স্বজনদের মন বিষিয়ে তোলে। এমনই হাজারও অভিযোগ এখন হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে। কয়েক দিন আগে সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু। ভুলভাল চিকিৎসাসেবা এবং ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে সমালোচনার ঝড় বইছে। ওষুধের যে ফর্দ তা নিয়ে ফার্মেসি থেকে ফার্মেসি ঘুরতে ঘুরতে হয়রান হতে হয়। এর ওপর ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি। একসময় বয়স হলে মুরব্বিদের হাতে শোভা পেত পানের বাটা। এখন ওই বয়সী মানুষের হাতে দেখা যায় ওষুধের বাক্স। খাদ্যচক্রেও ঢুকে পড়েছে বিষ। যার প্রভাবে মানুষ দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। জটিল রোগ এখন মানুষের দেহে বাসা বাঁধছে। খবরের কাগজ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ‘নির্দেশনার আড়ালে চাপা পড়ে আছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গলদ’!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোনো নির্দেশনা নতুন করে দিলেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না; বরং গলদ দূর করতে হবে। নয়তো এর আড়ালে চাপা পড়ে থাকবে সব অপকর্ম। কেন শর্ত মানা হচ্ছে না কিংবা মানানো যাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখে সেই অনুসারে পদক্ষেপ নিতে হবে। যখনই ঘটনা ঘটে তখনই বলা হয়, জনবলসংকটে মনিটরিং করা যায় না। বছরের পর বছর এমনটাই চলছে। জনবল বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না কেন, সেটাও খুঁজে দেখা দরকার।

বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ ১০ দফা নির্দেশনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই নির্দেশনার সবই পুরোনো। অর্থাৎ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নেওয়ার সময়ই এসব শর্ত দেওয়া থাকে। কোন ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানে কী করা যাবে, কী করা যাবে না তা উল্লেখ থাকে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিয়মের তোয়াক্কা না করে শুধু ব্যবসায়িক স্বার্থের জন্য যত্রতত্র নামমাত্র হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে প্রতারণা করছে। এখনো ১ হাজার ২০০টির ওপর প্রাইভেট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিবন্ধন নেই। প্রাইভেট চিকিৎসা সেক্টর এখন ‘সোনার ডিম’। যার ফল ভোগ করে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বেসরকারি উদ্যোক্তা চক্র। যদি আইন মেনে কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা কার্যকর করা যায়, তবে এই সোনার ডিম ভেঙে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখনই কোনো অঘটন ঘটে, তখনই এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে আর সেটি কার্যকর হয় কি না, তা দেখার কেউ নেই।

তথ্য বলছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনিস্টিক সেন্টার ব্যবস্থাপনা শাখার জনবল মাত্র ২০ জন। যারা সারা দেশের নানা ধরনের সমন্বয়ে কাজ করেন। নতুন নিবন্ধন দেওয়া, নবায়ন করা, যাচাই-বাছাই, পরিদর্শন, তদন্ত সবকিছুই করেন। সেই সঙ্গে ঢাকা মহানগরীর সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনাও দেখভাল করার মূল দায়িত্ব তাদের। শুধু ঢাকায়ই বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি। 

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল আমিন গত কয়েক দিনে দেশে স্বাস্থ্য খাতের অস্থিরতা প্রসঙ্গে খবরের কাগজকে বলেন, দেশের প্রাইভেট চিকিৎসাসেবা খাত এখন সরকারি চিকিৎসাসেবা খাতের চেয়ে অনেক বড় ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় সবাই ব্যস্ত সরকারি সেবা খাতে। বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের মনিটরিং করার মতো সামর্থ্য নেই অধিদপ্তরের। সেই সঙ্গে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নানা ধরনের কারণে আইন-বিধি উপযুক্ত মাত্রায় কার্যকর হয় না। ফলে শুধু নির্দেশনা জারি করলেই লাভ হবে না। সরকারের উচিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করা। সে জন্য প্রয়োজন এ খাতে ব্যবস্থাপনাগত সংস্কার। এই অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ যেসব গলদ রয়েছে সবার আগে তা চিহ্নিত করে দূর করতে হবে। আইন, বিধি, নির্দেশনা কার্যকর করার আগে দরকার কাজের স্বচ্ছতা। এটি করতে পারলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও বেশি গতিশীল হবে।

প্রবাসী আয় বাড়াতে উদ্যোগ নিন

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫২ পিএম
প্রবাসী আয় বাড়াতে উদ্যোগ নিন

অর্থনীতিতে আশঙ্কা ও স্বস্তি উভয়ই আছে। সম্প্রতি ডলারের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। ফলে লেনদেনের ভারসাম্যে ইঙ্গিতপূর্ণ ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতির ওপর। দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎসংকট বেড়েছে। গ্যাসের অভাবে শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দামের লাগাম টেনে ধরা মুশকিল হয়ে পড়ছে। সরকারি আয়ের অন্যতম বড় উৎস রাজস্ব আহরণে ঘাটতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোগ নেওয়ার পরও নিয়ন্ত্রণে আসেনি মূল্যস্ফীতি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও স্বস্তি মিলছে না। কমেনি ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। নতুন বিনিয়োগ নেই। কমে গেছে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ। এই কঠিন সময়ে স্বস্তির জায়গাটা হচ্ছে, মন্দার কবলে পড়েনি অর্থনীতি। জিডিপির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়নি। তবে সুখবর হচ্ছে, রপ্তানি এবং রেমিট্যান্স আয় খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি।

রিজার্ভ কিছুটা সহজলভ্য হয়েছে। ফলে লেনদেন ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয় ৭.৫ শতাংশ। অবশ্য সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় সাড়ে ৬ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী এবার বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের বেশি হবে না।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ৮ মাসের রপ্তানি আয় ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৭০৮ কোটি ডলার। 

সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক ঊর্ধ্বতন পরিচালক ড. জায়েদ বখত বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসায় বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের দেশে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এটি। কারণ প্রায় ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এটাকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। টাকার বিনিময় হার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। কিন্তু রিজার্ভ সংকট পুরোপুরি কাটেনি বলে জানান তিনি। 

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে, করোনাকালীন অর্থনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল এই রেমিট্যান্স।  দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আশু পদক্ষেপ হিসেবে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে আমদানির ক্ষেত্রে ডলার সমস্যা যাতে অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য প্রবাসী আয় আকর্ষণে মনোযোগী হতে হবে। বৈধ পথে অধিক পরিমাণে যাতে রেমিট্যান্স আসে সে জন্য নতুন প্রণোদনা, সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। 

রেমিট্যান্স বাড়াতে নতুন নতুন বাজারের সন্ধান করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতা বাড়াতে হবে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা সীমিত রেখে, সরকারি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে পারলে অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে উঠবে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স যাতে আরও বেশি আসে, সে ব্যাপারে  উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে রপ্তানি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।

ধরিত্রী রক্ষায় এগিয়ে আসুন

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৫৪ এএম
ধরিত্রী রক্ষায় এগিয়ে আসুন

বিশ্ব ধরিত্রী দিবস আজ। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করে এই পৃথিবীকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে তোলার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিবছর ২২ এপ্রিল বিশ্বের ১৯৩টি দেশ দিবসটি পালন করে থাকে। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর পালিত হয় ধরিত্রী দিবস বা আর্থ ডে। পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার মাধ্যমে পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখাই হলো দিনটির মূল লক্ষ্য। পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য রাখতে দিনটিকে ঘিরে চলে নানান আয়োজন। জলবায়ুর পরিবর্তন সম্পর্কে বিশ্বের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য দিবসটি পালন করা হয়।

এই ধরিত্রীতে এসেছে করোনা। ধরিত্রীকুলের মানবজাতি এক বিপন্ন সময়ের মুখোমুখি হলেও তা থেকে কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে এ দেশের আবহাওয়া ব্যাপক বৈরিতার মুখোমুখি  হচ্ছে। সম্প্রতি দুবাইয়ে বন্যার পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে আবহাওয়া ও জলবায়ুর বৈরী প্রভাবের এক ভয়াবহ দৃশ্য। বাংলাদেশেও কিছু কিছু অঞ্চলের মানুষ পুড়ছে তীব্র তাপপ্রবাহে। ধরিত্রী যেন এক অদ্ভুত খেলায় মেতেছে। কোথাও খরা, কোথাও  বন্যা। জলবায়ুর এ বিরূপ প্রভাব যেন বৈরিতারই বহিঃপ্রকাশ। ধরিত্রী শব্দটি এসেছে ধরণী বা ধরা থেকে। যার সুন্দর একটি অর্থ হলো পৃথিবী। পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য সর্বসমেত ধার্য করা একটি দিবস হলো ধরিত্রী দিবস। ১৯৭০ সালে জলবায়ু সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে রাস্তায় নেমে এসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই কোটি মানুষ। সেই থেকেই দিবসটি সামনে এসেছে। তথ্য বলছে, বিশ্বজুড়ে এক বিলিয়নেরও বেশি মানুষ এখন প্রতিবছর ধরিত্রী দিবস পালন করে।   

ধরিত্রীকে ক্ষয় করা হচ্ছে অনেকাংশে মানবসৃষ্ট কার্যকলাপ দিয়ে। ঊর্ধ্বমুখী জনসংখ্যা মাটি, পানি, বায়ুদূষণ, উজাড় করা হচ্ছে বৃক্ষ, নদনদীর প্রবাহ থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে- কী ক্ষয় নেই ধরিত্রীর বুকে। এসবই আজ ধরিত্রীকে টিকিয়ে  রাখার এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। প্লানেট বনাম প্লাস্টিক- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এবং সবুজ পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে ধরিত্রী দিবস ২০২৪ পালন করছে বিশ্ববাসী। সবুজ পৃথিবী ভেঙে মানুষ যখন ইট-পাথরের কলোনি তৈরিতে ব্যস্ত, তখন ধরিত্রীর বৈরিতাও থেমে নেই। ধরিত্রীও দেখিয়ে দিচ্ছে পৃথিবীকে জীবের বাসযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারলে প্রাণিকুলও চরম সংকটের মুখোমুখি হবে। পাহাড় ধ্বংস করা হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগও তেমনটা চোখে পড়ছে না, উজাড় করা হচ্ছে বনভূমি। এমনই পরিস্থিতিতে বারবার বলা হচ্ছে, ধরিত্রীকে বাঁচানোর জন্য উদ্যোগ নিন। পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠা করা হয় বিভিন্ন আইন। তার পরও সংকট থেমে নেই আজকের এই পৃথিবীতে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেহারে বেড়েছে, সে অনুপাতে প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা কম। বেশি বেশি গাছ লাগিয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন এক বাসযোগ্য পৃথিবী আমরা সবাই প্রত্যাশা করছি।

বিদ্যুতের ঘাটতি কমিয়ে আনুন

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৩৯ এএম
বিদ্যুতের ঘাটতি কমিয়ে আনুন

তীব্র গরমে রাজধানীসহ দেশের মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রতিদিনই বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় পুড়ছে চুয়াডাঙ্গার ফসলি খেত। গরমে বোরো ধানের ক্ষতির শঙ্কা আছে। তীব্র গরমে পর্যটক-খরায় ভুগছে পর্যটনকেন্দ্রগুলো। মৌসুমি রোগে বেড়েছে তিন গুণ রোগী। ক্ষতির মুখে পড়তে পারে চিংড়ি চাষ। তাপমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে আগের দিনের রেকর্ড। টানা তাপপ্রবাহের কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাতাস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় অতিরিক্ত ঘেমে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের রোজগারে ব্যাপক টান পড়েছে। তাদের আয় নেমে এসেছে অর্ধেকে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক যানবাহন না থাকায় অফিসগামী মানুষকেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাপপ্রবাহ থেকে সতর্ক থাকতে আবহাওয়া অধিদপ্তর সারা দেশে হিট অ্যালার্ট জারি করেছে। বছরের উষ্ণ মাস হওয়ায় এপ্রিল-মেজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াসংশ্লিষ্টরা।

অতিরিক্ত গরমে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিং। তবে শহরের তুলনায় এই দুর্ভোগ গ্রামে বেশি। অনেক এলাকায় ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী দুই সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকো জানিয়েছে, ঢাকায় সরবরাহ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং হচ্ছে না। কারিগরি ত্রুটির কারণে কিছু এলাকায় বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ সূত্র বলছে, দেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৬ হাজার মেগাওয়াট। গত বুধবার দিনের বেলায় সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল সাড়ে ১৫ হাজার  মেগাওয়াট। ওই সময়ে সরবরাহ ঘাটতি ছিল ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি, যা লোডশেডিং দিয়ে পূরণ করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ বছর চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে। বিদ্যুৎ বিভাগের এক হিসাবে দেখা গেছে, সারা দেশে এক ঘণ্টা লোডশেডিং করা হলে ৯৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। এ হিসাবে ২ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতির জন্য ২ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং করতে হয়। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই বছর ধরেই গ্রীষ্ম মৌসুমে লোডশেডিংয়ে ভুগছেন দেশবাসী। এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। গরমে চাহিদা বাড়লেও জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। পাওয়ার সেলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৩০ হাজার ৬৭ মেগাওয়াট। গত বছর ১৯ এপ্রিল সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১৫ হাজার ৬৪৮ মেগাওয়াট। দেশে বর্তমানে গ্রাহকসংখ্যা ৪ কোটি ৬৬ লাখ। আর বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী শতভাগ। 

ঢাকার বাইরে শহর এলাকায় লোডশেডিং তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা। ঢাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকায় লোডশেডিং নেই বলে জানিয়েছে ডেসকো ও ডিপিডিসি। 

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম খবরের কাগজকে বলেন, গরমে যখন মানুষের বেশি বিদ্যুৎ দরকার, তখন বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। 

দেশের বিভিন্ন জেলায় যেভাবে তাপপ্রবাহ বাড়ছে, সেই সঙ্গে লোডশেডিংও যদি বাড়ে, তা হলে মানুষের সমস্যার অন্ত থাকবে না। দেশে প্রতিবছর এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। সে কারণে প্রতিবছর এ সময়টিকে মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লোডশেডিং কমিয়ে আনার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তা হলে প্রতিবছর চাহিদা বাড়লেও এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে না।

ভারতের লোকসভায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই কাম্য

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩৯ এএম
ভারতের লোকসভায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই কাম্য

ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতে চলছে ভোটের লড়াই। এ লড়াই শেষ হবে ১ জুন। সাত ধাপের এই নির্বাচনের ফল বলে দেবে কার হাতে যাচ্ছে দিল্লির মসনদ। প্রায় ১০০ কোটি ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট দেবেন। আর নির্বাচনও হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সময় নিয়ে।  ফলে এ নির্বাচন হতে চলেছে বিশ্বের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় নির্বাচন। এই ভোট ভারতের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গণতান্ত্রিক কাঠামো ও বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক ধারার জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এমনটাই মনে করছেন। 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হওয়ার আশা করছেন। তিনি ৪০০-এর বেশি আসন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। সাম্প্রতিক  জরিপও বলছে, মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও এর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে জয়ী হবে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে এনডিএ জোট। আর প্রধানমন্ত্রী হন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে গুজরাট দাঙ্গায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদি দেশ ও বিদেশে ব্যাপক  সমালোচিত হন। জাতিসংঘ, আমেরিকা এবং ইউরোপ নরেন্দ্র মোদিকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। একপ্রকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু এই প্রতিকূলতা কাটানোর জন্য মোদি নজর দেন গুজরাটের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ওপর এবং সেই উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে একাধিকবার তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সেই সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অত্যাবশ্যকীয়তা প্রমাণ করেন। এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের এক বছর আগে অনুষ্ঠিত হয় তিন রাজ্য রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ে বিধানসভা নির্বাচন। ওই সব রাজ্য বিধানসভায় বিজেপি পরাজিত হয়। কিন্তু তার এক বছর পর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ওই সব রাজ্যে ব্যাপক ব্যবধানে জয়লাভ করে। তখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মোদির জন্যই লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একচেটিয়াভাবে জয়লাভ করে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার মোদি বিজেপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে সক্ষম হন। একসময় ভারতের উচ্চবর্ণের হিন্দুরা ব্যাপক হারে বিজেপিকে ভোট দিত। কিন্তু মোদি উচ্চবর্গ, নিম্নবর্গ, দলিত সব সম্প্রদায়ের বৃহৎ অংশের সমর্থন নিজের দিকে নিতে পেরেছেন। এটাকে মোদির অন্যতম বড় রাজনৈতিক সফলতা বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। 

সর্বশেষ লোকসভায় বিজেপি ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৩০৩টিতে জিতেছিল, যার অধিকাংশই উত্তর ভারতে। দেশের এই অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবেই বিজেপির অনুকূলে। কিন্তু লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের যে আকাঙ্ক্ষা তা বিজেপি পায়নি কেবল দক্ষিণের রাজ্যগুলোর কারণেই। মোদি তামিলনাড়ুতে অন্তত ছয়বার সফর করেছেন ভোটের আগে। এমনকি নিজের তামিল ভাষার অজ্ঞতা ঢাকতে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে সমাবেশে হিন্দি ভাষণ তামিল ভাষায় শুনিয়েছেন। চেষ্টা করেছেন তামিল ভোটারদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে ভোটার টানতে। তার সরকারের দাবি, তৎকালীন ভারত সরকার ইচ্ছা করে ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার দূরের দ্বীপটি শ্রীলঙ্কাকে উপহার দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি মূলত তামিলদের মধ্যে সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী আবেগ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। এমতাবস্থায় দিল্লিভিত্তিক কিছু জরিপ সংস্থা বলছে, বিজেপি হয়তো সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ভোট পেতে পারে। তবে আসনসংখ্যা খুব বেশি হবে বলে মনে হয় না। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপির জন্য বিষয়টি বলা সহজ করা কঠিন প্রবাদের মতোই। বিগত দুই দশকে দক্ষিণ ভারতে বিজেপির জন্য অনেক বেশি উর্বর ভূমি ছিল রাজ্যটি। ২০০৮ থেকে ২০১৩ এবং ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাজ্যটি বিজেপিশাসিত ছিল। এমনকি ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যটির ২৮ আসনের মধ্যে ২৫টি জিতেছিল বিজেপি। সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরেছে। ফিরেই নির্বাচন সামনে রেখে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অন্যায় ও বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কংগ্রেসের এই কৌশল কাজে দেবে। সর্বভারতীয় দল হিসেবে কংগ্রেস যদি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে এবং সেক্যুলার ধারার সব রাজনৈতিক দল ও আঞ্চলিক দলগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিপরীতে আদর্শিক লড়াইয়ে শামিল হতে পারে এবং গান্ধী পরিবার যদি নেতৃত্বের দক্ষতা দেখাতে পারে, তবেই কেবল ব্র্যান্ড মোদিকে আটকানো যেতে পারে। এবারে নির্বাচনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ বৃহত্তম বিরোধী দল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে। মোদির বিজেপিকে ঠেকাতে এবার বিরোধী ২৬টি দল জোট গঠন করেছে। প্রায় এক বছর আগে গড়া হয়েছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স নামের এই জোট। এটি গঠনের পর ভারতের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মোদিবিরোধীদের মধ্যে এটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভোটের ফলাফল বিশ্ববাসী জানতে পারবে ৪ জুন। সবাই এখন তাকিয়ে আছে দিল্লির মসনদের দিকে। আমরা সবাই প্রত্যাশা করছি, একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ লোকসভা নির্বাচনে ফলে সফল নেতৃত্বের মাধ্যমে দিল্লির মসনদ আলোকিত হোক।

তীব্র তাপপ্রবাহ: রোগের প্রকোপ থেকে সতর্ক হোন

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৪৬ এএম
তীব্র তাপপ্রবাহ: রোগের প্রকোপ থেকে সতর্ক হোন

দেশে তীব্র তাপপ্রবাহের বিস্তৃতি ঘটছে। তাপপ্রবাহে পুড়ছে মানুষ। তীব্র গরমে হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। একদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অন্যদিকে দেশজুড়ে এডিস মশার বিস্তারে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এবার দেশে মশা ও পানিবাহিত রোগ আগের চেয়ে ভয়ানকভাবে বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ববিদরা। এ ছাড়া মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং ডায়রিয়া ও কলেরায় মহামারির শঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। ইতোমধ্যে জ্বর-সর্দি-কাশি দেখা দিয়েছে ঘরে ঘরে। কলেরা ও ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তাপপ্রবাহের কারণে দেশজুড়ে ডেঙ্গু, কলেরা, ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসের পাশাপাশি নিউমোনিয়ার বিস্তার ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে সারা বছরই কলেরার প্রকোপ থাকলেও সরকারি পর্যায় থেকে এটিকে গোপন রাখা হয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতির বড় অবনতি ঘটতে পারে। ফলে এসব রোগের বিষয়ে দেরি না করে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা জরুরি। অন্যদিকে পাহাড়ি অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবার পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। একদিকে গরমে মানুষের শরীর থেকে বেশি ঘাম বের হয়ে পানিশূন্যতা তৈরি হবে, অন্যদিকে মানুষ পর্যাপ্ত নিরাপদ পানির অভাবে দূষিত পানি পান করে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, জন্ডিস, হেপাটাইটিস-এ ও সি-সহ আরও কিছু রোগের জীবাণু ও ভাইরাসে আক্রান্ত হবে। তাপমাত্রার প্রভাবে এডিস মশার বিস্তারের কারণে ডেঙ্গু আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বায়ুদূষণের প্রভাবে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও তীব্র হতে পারে। কয়েক দিন ধরে দেশে যে তাপপ্রবাহ চলছে তা যদি আরও বেড়ে যায়, তাহলে তাপজনিত বিভিন্ন রোগ ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়বে। ফলে ঘর থেকে খোলা আকাশের নিচে বের হতে হলে সবাইকে সতর্ক থাকা দরকার। যতটা সম্ভব ছায়া দেখে চলাচল করা, ছাতা ব্যবহার করা, নিরাপদ পানি সঙ্গে রাখা জরুরি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা যত বেশি থাকবে, মৌসুমি রোগব্যাধির ব্যাপ্তিও ততই বাড়বে। বাংলাদেশে সারা বছরই ফ্লু শনাক্ত হয়ে থাকে। প্রতিবছর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরে ফ্লু শনাক্তের হার বৃদ্ধি পায় এবং জুন থেকে জুলাই মাসে এর প্রকোপ সর্বোচ্চ হয়। এ কারণে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কে বাংলাদেশে ইনফ্লুয়েঞ্জা মৌসুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মৌসুম শুরুর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নিয়ে সুরক্ষিত রাখা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুমে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন বিশেষজ্ঞরা।

ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ খবরের কাগজকে বলেন, মৌসুমি রোগব্যাধি থেকে সুরক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশুদ্ধ পানি পান ও সুষম খাবার গ্রহণ করা, ছাতা নিয়ে বের হওয়া, রোদ এড়িয়ে  চলা, লবণযুক্ত পানি পান করা জরুরি। বয়স্ক ও শিশুদের ব্যাপারে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। 

তীব্র তাপপ্রবাহ ও রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনমতো চিকিৎসাসামগ্রী রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিদদের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তদারকির  ব্যবস্থা রাখতে হবে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা জোরদার ও জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার মতো সংস্থাগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।