ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

অগ্নিকাণ্ড নিবারণে সচেতনতা জরুরি

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৪, ১০:৫২ এএম
অগ্নিকাণ্ড নিবারণে সচেতনতা জরুরি

দেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এতে ঝরে পড়ছে অসংখ্য প্রাণ। রাজধানী ঢাকা যেন অগ্নিকুণ্ডের ওপর অবস্থান করছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার প্রাণচঞ্চল ও ব্যস্ততম বেইলি রোডের বহুতল ভবনে আগুন লাগে। এতে প্রাণ হারান প্রায় ৪৬ জন। রাতেই ঢাকা শহরে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারি ও বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে ঢাকার বাতাস। দেশের মানুষ কি এভাবেই পুড়ে অঙ্গার হবে? এর কি কোনো প্রতিকার নেই? 

বেইলি রোডে আগুন লাগার অব্যবহিত পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন খবরের কাগজকে বলেন, অগ্নিদগ্ধ যাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হয়েছে তাদের মধ্যে ৩৩ জন এবং শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ১০ জন মারা গেছেন। গতকাল আরেকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে চট্টগ্রামে বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ রোডের একটি বহুতল ভবনে।

এর আগে ২০২৩ সালে ভোররাতে আগুনে ভস্মীভূত হয় বঙ্গবাজার মার্কেট। তখনকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান জানিয়েছিলেন, আগুনে প্রায় ৫ হাজার দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ব্যবসায়িক ক্ষতির অঙ্ক হিসাবের বাইরেই থেকে যায়।

২০২২ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্তত চার বর্গকিলোমিটার এলাকা। ভয়াবহ ওই আগুন ৮৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এলেও এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৯ জন সদস্যসহ পুড়ে মারা যান প্রায় অর্ধশত মানুষ। এ ছাড়া ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ বনানীতে এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। এসব দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ রকম বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের পেছনে মানুষের অসাবধানতা ও অজ্ঞতাকে দায়ী করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিসকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা ভবনমালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। আবার তারা যেসব ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা দেন, সেসব ভবনের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও দেখা যায়নি। 

অগ্নিনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার (অব.) আলী আহমেদ খান বলছেন, ‘সরকারিভাবে ফায়ার সার্ভিসকে তেমন ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা, জরিমানা করা বা আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। সেই সুযোগটাই অনেকে নিয়ে থাকে।’ 

প্রত্যেক মানুষকে দেশের অগ্নিকাণ্ড রোধে সচেতন হতে হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। যেকোনো ভবন নিরাপদ করতে ভবন নির্মাণ বিধিমালা বা বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি শিল্প-কারখানায়, সরকারি ও বেসরকারি ভবনে অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন ও বিধি অনুযায়ী অগ্নি প্রতিরোধব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হবে। অটো ফায়ার অ্যালার্মিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে যেন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গেই সবাই সতর্ক হতে পারে। মূলত যেসব কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, সেসব কারণ সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে। ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে নির্গমন পথপ্রদর্শক চিহ্ন থাকতে হবে যেন তা অন্ধকারেও দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তাদের জনবল এবং উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া ভবনের বাসিন্দাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাও জরুরি। সরকারকে আধুনিক সরঞ্জামসহ ফায়ার সার্ভিসকে সুসংগঠিত করতে হবে। অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করুন

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ১১:২৫ এএম
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করুন

আসছে ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের মধ্যে রয়েছে এক ধরনের উৎসাহ ও উদ্দীপনা। প্রতিবছর ঈদকে ঘিরে ঘরমুখী মানুষকে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হয়। বিশেষ করে যানজটের কারণে ঘরমুখী মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে দেখা যায়। এবারও এমন আশঙ্কা অনেকের মধ্যে। কারণ যানজট এখন নিত্যব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। সরকার নীতি-নির্ধারণীদের নিয়ে প্রতিবছর দুর্ভোগ কমানোর জন্য নানারকম পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। কিন্তু খুব একটা লাভ হয় না। এবার দীর্ঘ ছুটি পেয়ে ঘরমুখী মানুষ আগেভাগেই গ্রামে চলে গেছেন। ফলে দুর্ভোগ কিছুটা কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সমীক্ষা অনুযায়ী, এবারের ছুটিতে রাজধানী ছাড়তে পারেন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। এ হিসাবে প্রতিদিন ঢাকা ছাড়বেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। এর বিপরীতে বর্তমান পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বড়জোড় ২২ লাখ। বাস, রেল, লঞ্চ ও বিমানে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডিব্লিউটিএ) কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সড়কে বিআরটিএর সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বিভিন্ন বেসরকারি এয়ারলাইনসও সক্রিয় রয়েছে। যাত্রীকল্যাণ সমিতি বলছে, গণপরিবহন অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বাসের ছাদে, ট্রেনের ছাদে এবং খোলা ট্রাক ও পণ্যবাহী পরিবহনে ১৮ লাখ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে।

আশঙ্কা রয়েছে, সিটি পরিবহনের লক্কড়-ঝক্কড় যান নিয়ে। এগুলোর ফিটনেস থাকে না। দূরযাত্রায় বাসগুলো রাস্তায় কোথাও আটকে থাকলে তখন দীর্ঘ যানজট তৈরি হবে। জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়কগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে রেকার রাখার অনুরোধ করেছেন অনেকে। ট্রাফিক বিভাগ এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারে। বিকল হয়ে পড়া বাসগুলো যেন দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যায়।

১০টি জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ২১৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্পটের বিষয়ে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সরকারকে সতর্ক করেছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এসব স্পটের ৬০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। ঈদে দেশে ৭১৪টি স্পটে যানজট হতে পারে- এমন খবর গণমাধ্যমে এসেছে। যার মধ্যে ১৪০টি স্পটে প্রখর নজরদারি থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবার ঈদযাত্রায় যানজট নিরসনে নজরদারি করবে ড্রোন। এটি প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া বাতিল করা হয়েছে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের ছুটি। ঈদের ছুটির মধ্যে ঝড়বৃষ্টি হলে যাত্রী ভোগান্তি বাডড়বে। ঈদের আগে-পরে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে এই সময় চালকদের সতর্ক থেকে গাড়ি চালাতে হবে। বিনা টিকিটে যাতে কেউ রেল ভ্রমণ না করতে পারে সেজন্য সতর্ক ব্যবস্থা নিতে হবে। যাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হোক সেটাই প্রত্যাশা। 

পৃথিবী থেকে সব ধরনের হিংসা-বিদ্বেষ ও সন্ত্রাসের বিভীষিকা দূর হোক। আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দের বন্ধন দৃঢ় হোক। পরিশেষে, খবরের কাগজের সুপ্রিয় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, হকার ও শুভানুধ্যায়ী সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও গভীর ভালোবাসা। 

যৌন নিপীড়নে নিরোধ সেল কার্যকর করুন

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ১১:১৭ এএম
যৌন নিপীড়নে নিরোধ সেল কার্যকর করুন

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিদ্যাপীঠ হলো জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের জন্য তীর্থস্থান। কিন্তু কিছু কিছু বিদ্যাপীঠে ঘটে ইভ টিজিংসহ নানা ধরনের হয়রানির ঘটনা। সম্প্রতি কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘটেছে এমনই কিছু ঘটনা। 

আমরা জানি, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যৌন নিপীড়ন নিরোধ সেল বা কমিটি রয়েছে। কিন্তু সেসব সেল বা কমিটি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না। 

২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত এসব নিয়ে কোনো আইন ছিল না। ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির বিচার চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। ২০০৯ সালের ১৪ মে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য লিখিত নির্দেশনা দেন।

এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌন হয়রানির বিচার ৬০ কর্মদিবসের ভেতর নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। ২০০৯ সালের এই আইনের পর থেকে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় যৌন নিপীড়ন নিরোধ সেল নামে কমিটি গঠন করা হয়েছে। যৌন হয়রানির শিকার হলে এখানে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করতে পারবেন। 

যৌন হয়রানির পেছনে আরেকটি কারণ হচ্ছে কমিটির অকার্যকারিতা। সারা বিশ্বেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়েই জানিয়ে দেওয়া হয়, কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে হবে। এমনকি সেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমিটির মাধ্যমে যৌন হয়রানির শিকার নারীদের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হয়। তারা ছোট-বড় প্রতিটি যৌন হয়রানির ঘটনাকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়ে থাকে। আর আমাদের দেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি তো নেই-ই, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি আছে তাও নামমাত্র। বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরির পেছনে এসব কমিটিই সবচেয়ে বেশি দায়ী। কমিটির দায়িত্বে যারা নিয়োজিত থাকেন তাদের না আছে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ, না আছে মেরুদণ্ড। তাদের ভেতর যেমন সচেতনতার অভাব, তেমনি সততা, সাহস ও দায়িত্বশীলতারও অভাব। তারা শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো জানান না যে, তাদের ক্যাম্পাসে যৌন নিপীড়ন নিরোধ সেল আছে, যেখানে তারা অভিযোগ জানাতে পারবেন। কমিটির এই অকার্যকারিতা ও দায়িত্বহীনতার জন্য দিন দিন এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বেড়েই চলছে। 

আমাদের দেশে যখন কোনো নারী অভিযোগ জানাতে চান, তখন তাকে দোষারোপ ও কটু কথা বলে অপদস্থ করার নোংরা সংস্কৃতি সমাজে দেখা যায়। হয়রানি বা নির্যাতিত হয়ে যে নারী অভিযোগ জানাতে আসেন তাকেই উল্টো দোষারোপ করা হয়। এতে যৌন নির্যাতনকারীরা আরও সুযোগ পেয়ে যায়। হয়রানির পেছনে যারা জড়িত খোঁজ নিলে জানা যায় বেশির ভাগই তারা রাজনৈতিক দলের কেউ। কিংবা রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় বেড়ে ওঠে। ক্যাম্পাসের এই অসুস্থ রাজনীতি এসব নির্যাতনের অন্যতম কারণ। শিক্ষকদের অসহযোগিতা, চক্ষুলজ্জা ও পারিবারিক চাপ সবকিছু মিলিয়ে একজন যৌন হয়রানির শিকার হওয়া শিক্ষার্থী মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েন। অনেকে বেছে নেন আত্মহননের পথ। অথচ যৌন নিপীড়করা ঘুরে বেড়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে, তাদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় খুব কম বিভাগেই নারী-পুরুষের সমতাবিষয়ক কোর্স রয়েছে। সবাইকে এ বিষয়ে ছোটবেলা থেকেই সচেতন করতে হবে। তা না হলে লিঙ্গবৈষম্য যেমন প্রকট হবে, তেমনি এসব নির্যাতনের হার কমানো কঠিন হয়ে যাবে।

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সরকারকে জোরাল ভূমিকা নিতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। পারিবারিকভাবে নীতি-নৈতিকতা শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কমিটির কার্যকারিতা শক্তিশালী করতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে জানাতে হবে, যৌন নিপীড়ন ও নিরোধ সেলের ব্যাপারে। তাদের সাহস দিতে হবে যেন তারা নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। প্রতিটি অভিযোগের পর প্রমাণের ভিত্তিতে যত দ্রুত সম্ভব বিচারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। যৌন হয়রানি সমূলে উৎপাটন করতে হলে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এ ধরনের ব্যাধি দূর করা সম্ভব হবে।

প্রবৃদ্ধি বাড়াতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করুন

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৫২ এএম
প্রবৃদ্ধি বাড়াতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করুন

করোনা মহামারি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ চাপে পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে তিন কারণে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি হচ্ছে। এগুলো হলো টাকার অবমূল্যায়ন, ডলারসংকটে আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানিসংকট ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি। চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কম হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ওয়াশিংটনভিত্তিক ঋণদানকারী সংস্থাটি বলেছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫.৬ শতাংশ। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে বলে মনে করে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্টের প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস এক সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। সরকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত জিডিপির যে লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করেছে, তার চেয়ে আরও কম হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। চলতি অর্থবছরে সরকার সংশোধিত জিডিপির লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে সাড়ে ৬ শতাংশ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুল্লায়ে সেক।

আব্দুল্লায়ে সেক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আছে। তবে কোনো সন্দেহ নেই এ দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। কিন্তু মজুরি অনেকটা এক জায়গায় আটকে আছে। এতে অনেক নিম্ন আয়ের পরিবার চাপের মুখে আছে। এ ছাড়া আর্থিক খাতেও নানা ধরনের ঝুঁকি আছে। 

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছে, কোভিড-১৯ মহামারি থেকে প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতি, লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে মহামারি-পরবর্তী কার্যক্রম পুনরুদ্ধার ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশে কিছু নীতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যেমন- জ্বালানি খাতে সংস্কার। রপ্তানিতে ভর্তুকি কমানো এবং মুদ্রানীতি কঠোর করা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি। কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার বেগবান করার কথা বলেছে। এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার শিথিল করা, মুদ্রা ও রাজস্বনীতি আরও কার্যকর করা। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুসারে গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃত্তি হয়েছে ৫.৮%, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবৃত্তি হয়েছে ৭.১%। 

অর্থাৎ তাদের হিসাবে ২০২১-২২ অর্থবছরের পর টানা দুই অর্থবছর দেশের প্রবৃদ্ধির হার কমে ৬ শতাংশের নিচে নামতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূতকরণের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা দরকার। সম্পদের মান ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে ব্যাংক একীভূত করা উচিত বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতির হ্রাস আরও টেনে ধরা দরকার বলেও তারা অভিমত দেয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমাতে আর্থিক সংস্কার ও মুদ্রার একক বিনিময় হার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা জরুরি। অর্থনীতির বৈচিত্র্য এবং অর্থনীতির মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে কাঠামোগত সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ। 

জিডিপির প্রবৃত্তি বাড়াতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জোর দিতে হবে। বিশ্বব্যাংকের পরামর্শগুলো মেনে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ এবং বিশ্বব্যাংকের আগাম পূর্বাভাসকে মাথায় নিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সরকারকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলে দেশে অর্থনীতির গতিশীলতা ফিরে আসবে। প্রবৃত্তি বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। 

বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করুন

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৫৯ এএম
বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করুন

নগরে দুর্ঘটনা ঘটে, বিষয়টি নিয়ে কিছুদিন আলোচনা হয়। তারপর সব থেমে যায়। ঢাকাসহ দেশের নগর এলাকাগুলোয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না করেই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অকুপেন্সি সার্টিফিকেট ছাড়াই ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোট (বিএনবিসি) আইন করা হয় ১৯৯৩ সালে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০০৬ সালে আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এই আইনটি বাস্তবায়নে একটি আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠন করার কথা বলা হয়। তারপরও দীর্ঘ দেড় যুগেও আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠন করা সম্ভব হয়নি। আইনও সেভাবে কার্যকর হয়নি। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, এখন পর্যন্ত বহুতল  ভবনের সংজ্ঞাই নির্ধারণ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৬ সালে গেজেট হলেও ২০১১ সালের বিএনবিসি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী কিছু অগ্রগতির পর সংশোধিত বিএনবিসি আবার স্থবির হয়ে পড়ে। আলাদা কর্তৃপক্ষ না থাকায় এখন যে বিএনবিসি কার্যকর আছে সেটা কেউ মানছে, আবার কেউ মানছে না। কর্তৃপক্ষ থাকলে এমন হতো না বলে মনে করেন তারা।

অপরিকল্পিত নগরী এবং অগ্নিদুর্ঘটনায় সব সময়ের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হচ্ছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। বেশির ভাগ ভবন নির্মাণ ইমারত বিধিমালা না মেনেই করা হয়েছে। বিধি লঙ্ঘন করা বেশির ভাগ ভবনের বিরুদ্ধেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
 
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে বিএনবিসি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। এজন্য দ্রুত বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি গঠন করতে হবে। রাজউকের এলাকায় ৬৯ ইউনিয়ন পরিষদ, চারটি করপোরেশন ও সাতটি পৌরসভা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়। এসব সংস্থা বিএনবিসি মানে না। এ ছাড়া ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী সাত তলার বেশি উচ্চতার ভবন নির্মাণের আগে ভবনটির সামনে কমপক্ষে ২৫ ফুট ও সাত তলার উচ্চতার ক্ষেত্রে ভবনটির সামনে কমপক্ষে ২০ ফুট চওড়া রাস্তা থাকতে হবে। এই রাস্তার সীমানা থেকে ১.৫ মিটার দূরে ভবন নির্মাণ করতে হবে।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুতল ভবনের সংগ্রাম সুস্পষ্ট করতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি অনতিবিলম্বে গঠন করতে হবে। রাজধানীতে ভবন নির্মাণের অনুমতি এবং নজরদারির জন্য সরকারের অনেকগুলো বিভাগ রয়েছে। তাদের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা জরুরি।

ভবনগুলোতে রিখটার স্কেলে কমপক্ষে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পন প্রতিরোধক হতে হবে। সাত তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের আগে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, গ্যাস, ওয়াসা ও বিদ্যুৎ বিভাগের ছাড়পত্র নিতে হবে। বিএনবিসিতে ভবন নির্মাণকৌশল মেনে চলতে হবে। বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি বাড়াতে হবে। নিয়ম না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

পাহাড়ে ব্যাংক ডাকাতি: দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৫৭ এএম
পাহাড়ে ব্যাংক ডাকাতি: দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

বান্দরবানের রুমায় পরিকল্পিতভাবে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ করে ব্যাংক ডাকাতির মিশনে নামে সন্ত্রাসী বাহিনী। কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) দুর্ধর্ষ কায়দায় প্রায় ১০০ জনের সন্ত্রাসী দল সোনালী ব্যাংক ঘেরাও করে হামলা চালায়। পরে টাকা লুটসহ ম্যানেজারকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। গত মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া বান্দরবানের ঘটনায় সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করে পর পর দুই দিন ব্যাংক ডাকাতিকে নিছক ডাকাতি হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন এর মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট সরকারকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এর পেছনে বিদেশি ইন্ধন থাকার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। 

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা খবরের কাগজকে বলেন, কেএনএফ-এর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। এখন তারা সেই চুক্তি ভঙ্গ করে সরকারি ব্যাংকের টাকা লুট করেছে, ম্যানেজারকে তুলে নিয়ে গেছে। তাদের এই কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে তারা সরকারের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। 

২০১৭ সালে নাথান বম এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠা করলেও ২০২২ সালে এটি আলোচনায় আসে। রাঙামাটির সাজেকের বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি, লামা ও আলীকদম- এই নয়টি উপজেলা নিয়ে স্বায়ত্তশাসিত একটি পৃথক রাজ্য দাবি করে আলোচনায় এলেও তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম এখনো বান্দরবানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পাহাড়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণে মদদ, ব্যাংক লুট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাধিক সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ খবরের কাগজকে বলেন, ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে বড় আকারে দুটি ব্যাংকে হামলা ও অস্ত্রশস্ত্র লুট নিঃসন্দেহে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ঘটনাটিকে ব্যাংক ডাকাতি আখ্যা দেওয়া হলেও তা নিছক চোর-ডাকাতের অপরাধকর্ম নয়। এসব আক্রমণের পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শগত প্রণোদনা ও লক্ষ্য, যার ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এসব সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড করছে। এসব কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় তাদের বিশ্বাস নেই । তাদের উদ্দেশ্য আরও বড়। স্বায়ত্তশাসন কিংবা বাংলাদেশের সীমান্তের পাশের ভারত ও মায়ানমার অংশের কুকি চিন জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে বড় আকারের ঐক্য গড়া ও বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করা। 

উন্নয়নের ছোঁয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। সংযোগ সড়ক হচ্ছে। পাহাড়ি জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। কৃষিতে এক ধরনের বিপ্লব সাধিত হয়েছে। পর্যটনের এক অপার সম্ভাবনার দ্বার রচিত হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এখানে বিদেশি কালো ছায়া থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। 

ব্যাংক হলো আর্থিক সুরক্ষার এক নির্ভরতার জায়গা। সেখানে সহজেই যদি এমন কার্যক্রম সন্ত্রাসীরা চালায়, তাহলে সাধারণ মানুষের নির্ভরতার জায়গা চরম হুমকির মধ্যে পড়ে। এসব ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা নিছক অপরাধ নয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পাহাড়ের শান্তি, নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। পাহাড়ে অস্ত্রের সরবরাহ বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে এবং সহজেই পাওয়া যায়। এ কারণে অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে অবাধে সেই অস্ত্রের বিচরণ সহিংসতার মাত্রাকে ছড়িয়ে দেয়। ব্যাংক ডাকাতিতে জড়িত সবার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে যেসব সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রয়েছে, তাদের তৎপরতা বন্ধে রাষ্ট্রীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সরকারকে আন্তরিকতার সঙ্গে পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে হবে- সেটিই প্রত্যাশা।