ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩১, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১০:৩৯ এএম
আপডেট: ২৫ মে ২০২৪, ১০:৩৯ এএম
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

আমাদের দেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। প্রধান কারণটি হলো অপর্যাপ্ত খাদ্য মজুত। এর ফলে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়ে আর্থিক ফায়দা লুটছে ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট। এর প্রভাবে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং দাম বেড়ে যায়। এতে করে খাদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের পুষ্টিসম্মত খাদ্য গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণ তো রয়েছেই। দেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধানের ফলন ধারাবাহিকভাবে ভালো হলেও সরকার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যথাক্রমে সরকারের পরিকল্পনার ঘাটতি, অপর্যাপ্ত ধান-চাল সংগ্রহ, সাইলো বা গুদামের সংকট এবং বাজারজাতকরণে ব্যবসায়ী-মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের প্রভাব। এ ছাড়া খরা ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা। 

একটি দেশের সব নাগরিক নিজ নিজ সাধ্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণকারী খাদ্য গ্রহণ করতে পারাকে খাদ্যনিরাপত্তা বলা হয়। এ নিরাপত্তা তখনই নিশ্চিত হয় যখন সংশ্লিষ্ট দেশটির জনসংখ্যার চাহিদা অনুপাতে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুত থাকে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য কিনে মজুত করতে হবে। এর বিকল্প নেই। 

ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যমাত্রার বেশি ধানের ফলন একটি শক্তি। এ শক্তির যথাযথ ব্যবহার করলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। সরকার এবারের বোরো ফসল থেকে কমপক্ষে ২০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করলে সারা বছর বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বোরো আবাদের ফলন ২ কোটি ২২ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। যা আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন। ধারাবাহিকভাবে বোরো আবাদের জমির পরিমাণ বছর বছর বাড়ছে। গত অর্থবছরে ৪৮ লাখ ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে আবাদি জমির পরিমাণ বেড়ে হয় ৫০ লাখ ৫৮ হাজার হেক্টর। 

দেশে উৎপাদিত খাদ্যশসের তুলনায় সরকারের সংগ্রহের পরিমাণকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। স্বল্প পরিমাণে খাদ্যশস্য সংগ্রহের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় গুদাম বা সাইলোর অভাব। এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুদাম অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। তথ্য বলছে, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাওরাঞ্চল, চর ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোয় ৪ লাখ পরিবারকে পারিবারিক খাদ্যশস্য মজুতের জন্য ফুড গ্রেডেড প্লাস্টিকের তৈরি পাত্র বিতরণ করা হয়েছে। এটিকে পারিবারিক সাইলো নাম দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে, আপৎকালীন এক মাসের খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে রাখা সম্ভব হবে। 

সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটির পরিচালক রেজাউল করিম শেখ খবরের কাগজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ভেঙে বা বন্যায় ভেসে গেলেও ওই পাত্রটি বা প্লাস্টিকের সাইলোতে সংরক্ষিত খাদ্যশস্যের মান খাবার উপযোগী থাকবে। খাদ্যগুণ নষ্ট হবে না। এটিও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একধরনের প্রচেষ্টা। 

দেশে যে পরিমাণ খাদ্যশস্য রয়েছে, সে অনুযায়ী সরকারের সংগ্রহের পরিমাণটা খুবই অপর্যাপ্ত। তাই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের খাদ্যশস্য সংগ্রহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। সেচের আওতা বৃদ্ধি করতে হবে। ভর্তুকি মূল্যে সার বিতরণ এবং কৃষিঋণের সুবিধা বাড়াতে হবে। প্রতিবছর খাদ্যশস্য উৎপাদনে আবাদি জমির পরিমাণ বাড়াতে হবে। সরকারের মজুতে ঘাটতি দূর হলে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। 

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ০২:০৭ পিএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৪, ০২:০৭ পিএম
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

আসছে ঈদুল আজহা। এ সময় রাজধানী ছাড়েন এক কোটিরও বেশি মানুষ। ট্রেন-লঞ্চ অপর্যাপ্ত হওয়ার কারণে গণপরিবহনে ঝুঁকি নিয়ে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা সড়কপথে করতে হয় বেশি। প্রতিবছরই ঘরমুখো মানুষকে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হয়। বিশেষ করে যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে মানুষকে আটকে থাকতে  দেখা যায়। এবারও ঈদযাত্রার শুরুতেই চরম দুর্ভোগের শিকার হয় ঘরমুখো মানুষ। প্রথম, দ্বিতীয় দিন ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীদের বিপাকে পড়তে হয়। যানজট এখন নিত্যব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও হাইওয়ে পুলিশ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তারা নানারকম পদক্ষেপ নিলেও খুব একটা সুফল পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়েই থাকতে হয়। 

যানজটমুক্ত ঈদযাত্রা সবাই প্রত্যাশা করেন। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা করা দরকার। কিন্তু বাস্তবে পরিকল্পনা হয় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে, যা খুব একটা কাজে আসে না। বাংলাদেশের রেল ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করতে হবে, যাতে মানুষ রেলমুখী হয়। জনবান্ধব করতে হবে নৌ-পরিবহন ব্যবস্থাকে। সড়কপথে গণপরিবহনের ওপর থেকে বাড়তি চাপ কমিয়ে আনতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনাও কমে আসবে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের অবাধ যাতায়াত বন্ধ করতে হবে। ঈদ-পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী যাত্রা দুটো ক্ষেত্রেই বাড়তি নজর দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে। কারণ ঈদপরবর্তী ফিরতি যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে এ সময় চালকদের আরও সতর্ক থেকে গাড়ি চালাতে হবে। সব যানবাহন তার নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলবে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। গতিসীমা না মানলে প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে তাদের জরিমানা নিশ্চিত করতে হবে। বিনা টিকিটে যাতে কেউ রেলভ্রমণ না করতে পারে, সেজন্য সতর্ক ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়কে চাঁদাবাজি একটা বড় সমস্যা। এ সময় পরিবহন খাতে এক ধরনের নৈরাজ্য বা অস্থিরতা তৈরি হয়। কারণ এ সময় পুলিশের কিছু অসাধু ব্যক্তি এবং কিছু রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী  চাঁদাবাজিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এটা শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে পারলে এ ধরনের নৈরাজ্য দূর হবে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু বহনকারী যানবাহন রাজধানী এবং শহরগুলোতে প্রবেশ করবে। পশু বহনকারী যানবাহনগুলো যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে এবং দালালদের দৌরাত্ম্যের শিকার না হয়, সে বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতের  কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হোক সেটি প্রত্যাশা। 

কোরবানিপরবর্তী পশুর পয়োনিষ্কাশন যাতে দ্রুত এবং সহজে করা যায় সে জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ এখন ঝড়বৃষ্টির সময়। এ সময় এসব ময়লা-আবর্জনা পরিবেশকে দূষিত করে তুলতে পারে। 

ঈদুল আজহা হলো ত্যাগের উৎসব। মুসলমানরা তাদের নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর নামে পশু কোরবানি করে থাকেন, যা আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হওয়া উচিত। কোরবানির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি মানবমনের পশুর কোরবানি হোক সেটিই প্রত্যাশা। পৃথিবী থেকে সব ধরনের হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভীষিকা দূর হোক। আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দের বন্ধন অটুট হোক। 

পরিশেষে খবরের কাগজের সুপ্রিয় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, অ্যাজেন্ট,  হকার ও শুভানুধ্যায়ী সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

চামড়া খাতে নৈরাজ্য দূর করুন

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ১০:৪৭ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ১০:৪৭ এএম
চামড়া খাতে নৈরাজ্য দূর করুন

ডলারসংকটের প্রভাব চামড়া খাতেও পড়ছে। এ কারণে চামড়া খাতে রপ্তানি কমেছে। বাংলাদেশের ট্যানারিগুলোর কাঁচা চামড়া সংগ্রহের সবচেয়ে বড় মৌসুম ঈদুল আজহা। এ সময় বাংলাদেশ থেকে ভারতে পশুর চামড়া পাচার হয় বেশি। 

এ খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতে পাচার হয়ে গেলে বাংলাদেশের ট্যানারির মালিকরা কাঁচামালসংকটে পড়বেন। আর এতে দেশে চামড়াশিল্পের বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে। এমনিতেই পুঁজিসংকটে আছেন ট্যানারির মালিকরা। আসন্ন ঈদুল আজহায় সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা নিয়ে দেখা দিয়েছে একধরনের অনিশ্চয়তা। 

ট্যানারির মালিকরা জানিয়েছেন, ডলারসংকটের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে চামড়া খাতে বিক্রি কমেছে। এলসি খুলতে না পারায় প্রয়োজনমতো রাসায়নিক আমদানি করা সম্ভব হয়নি। আর এতে অনেক ট্যানারিতে সংগৃহীত কাঁচা চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। কাঁচা চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং বিক্রি কমায় পুঁজিসংকটে আছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। তাই গত বছরের চেয়ে এবারে কোরবানির পশুর চামড়া কম কিনতে পারবেন তারা। কোরবানির পশুর চামড়া নষ্ট হলে তার দায় তারা নেবেন না।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মের প্রথম ১১ মাসে ৯৬ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪.১৭ শতাংশ কম। অন্যদিকে গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২২ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় পৌনে ২ শতাংশ কম। 

বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের অন্যতম ক্রেতা ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। এ ছাড়া চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশেও রপ্তানি হয়। ডলারসংকটের প্রভাব পড়েছে এসব দেশের অর্থনীতিতেও। ওই সব দেশের বায়াররা বাংলাদেশ থেকে চামড়াজাত পণ্য কেনা কমিয়েছেন। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান কতটা কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করতে পারবে তা বলা যাচ্ছে না। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের সংকট বেশি। ব্যবসায় এমন পরিস্থিতির মধ্যেও ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশুর চামড়া চোরাই পথে প্রতিবেশী দেশে বিক্রির আশঙ্কা করছেন। 

তারা মন্ত্রণালয়ে চোরাই পথে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়ে আবেদন করেছেন। ট্যানারির মালিকদের এ সংকটে ব্যাংকঋণ দ্বিগুণ করার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। তথ্যমতে, এবারে সরকারিভাবে ১ কোটি ১০ লাখ কোরবানির পশুর চামড়া পাওয়ার কথা।

অর্থনীতির বিশ্লেষক সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা এ বি  আজিজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, চামড়া খাতে ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। পুঁজিসংকটে আছেন অনেক ট্যানারি মালিক। 

তাই আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া ট্যানারির মালিকরা কতটা কিনতে পারবেন, তা এখনই হিসাব করে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। না হলে চামড়া খাতে গতবারের মতো নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে।

ট্যানারি মালিকরা অনেকে এলসি খুলতে না পারার কারণে রাসায়নিক আমদানি করতে পারেননি। ফলে অনেক কাঁচা চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। এতে চামড়াশিল্পে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। চামড়াশিল্পের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে সরকারকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে করণীয় ঠিক করতে হবে। 

কোরবানির পশুর চামড়া চোরাচালান বন্ধে সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে হবে। ছোট ও মাঝারি ট্যানারির মালিকদের ব্যাংকঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। চামড়া খাতে নৈরাজ্য রোধ করতে পারলে এ শিল্পের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি দূর করুন

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ১১:১৮ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ১১:১৮ এএম
ঈদযাত্রায় ভোগান্তি দূর করুন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। কিন্তু শুরুতেই ঘরমুখী মানুষকে হয়রানি ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে রেল। মহাসড়কে উত্তরের পথে দীর্ঘ যানজট লক্ষ করা গেছে। ঢাকার বিভিন্ন সড়কে যানজট লেগেই থাকছে দিনভর। কোনো কোনো এলাকায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সড়কের যানজট কমাতে গত বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ ২২ দফা নির্দেশনা দিয়েছে।

এবার ঈদুল আজহায় ঢাকার সদরঘাট নৌবন্দর থেকে যাত্রী পরিবহনের জন্য ২০০টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা নৌবন্দরের পরিচালক আলমগীর হোসেন। এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে রেলব্যবস্থায় শিডিউল বিপর্যয়ে মানুষের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। গত বুধবার ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যেসব ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে; সবগুলোই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে ছেড়েছে। সড়কপথে ঈদযাত্রায় অব্যবস্থাপনায় যানজটে ঘরমুখী মানুষের তীব্র দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মহাসড়কে দায়িত্বে থাকবে। ঈদযাত্রায় শুরুর দিন থেকে মহাসড়ক মনিটরিংয়ের জন্য ওড়ানো হবে ড্রোন ক্যামেরা। রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে কোনো যানজট যেন তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে প্রতিটি স্থানে হাইওয়ে পুলিশ ও ডিএমপি যৌথভাবে সক্রিয় থাকবে। পশুবাহী গাড়িগুলোকে অবশ্যই সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত হাটের ভেতর লোড-আনলোড করতে হবে। 

তবে কোরবানির পশুবাহী যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হয়। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো পরিবহন বাড়তি ভাড়া আদায় করলে সেই বাসের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার। 

ঈদযাত্রার প্রথম দিনে শুরুর দিকে দুটি ট্রেনে কোচ সংযোজন ভুল হওয়ায় সেগুলো সংশোধন করতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এতে এ ট্রেনগুলোর বিলম্বের প্রভাব পড়ে অন্য ট্রেনেও। এতে যাত্রীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। 

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা করছেন এই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা। মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। এ ছাড়া ওভারপাসের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ঈদের আগে ও পরের দিনগুলোতে ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মহাসড়কের পাশে বেশি হাট বসেছে কুমিল্লা এলাকায়। হাটের কারণে ওই সড়কের গাড়ির গতি কমে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে লাখো মানুষ পড়ে ভোগান্তিতে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সড়কে কিছুটা অব্যবস্থাপনা ও পশুর হাটের কারণে যানজট বাড়তে পারে। 

মহাসড়কের পাশে এবার ২১৭টি পশুর হাট বসেছে এবং ১৫৫টি যানজটপ্রবণ স্পট রয়েছে। এসবের কার্যকর ব্যবস্থা না নিতে পারলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে গ্রামে যাওয়া প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের ঈদে আসা-যাওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে। তথ্যমতে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশের সড়ক ও মহাসড়কে প্রায় ৫০ হাজার বাস-মিনিবাস চলাচল করবে। পাশাপাশি কোরবানির পশুবাহী বিপুলসংখ্যক ট্রাক চলবে। এবার ঈদের ছুটি তিন দিন হওয়ায় আসা-যাওয়া মিলিয়ে এ কয়দিন যানজটের কবলে পড়তে হতে পারে। 

ঈদুল আজহার সময়ে সড়ক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ করে যানজট স্পট, কোরবানির পশুর হাট ও কোরবানির পশুবাহী গাড়ির কারণে যাতে ঘরমুখী মানুষকে অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থেকে কাজ করতে হবে। সড়কের সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে। যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে ডিএমপি ঘোষিত ২২ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে যানজটের তীব্র দুর্ভোগ থেকে ঘরমুখী মানুষকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।

স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ভোগান্তি দূর করুন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১১:২৬ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ১১:২৬ এএম
স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ভোগান্তি দূর করুন

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সনাতন ধারার ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরিবর্তে আধুনিক ও স্মার্ট লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৬ সাল থেকে। হাতে লেখা ও সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে এই স্মার্ট পদ্ধতিটি চালু করা হয়। 

এরপর থেকে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের নজরদারিও বাড়তে থাকে। সড়ক আইন ও দেশের বিভিন্ন সড়কের ট্রাফিক পুলিশের অব্যাহত নজরদারির কারণে দিন দিন বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন বাড়তে থাকে। ড্রাইভিং লাইসেন্সপ্রত্যাশীদের ভিড় বিআরটিএতে চোখে পড়ার মতো। এদিকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গাড়ি চালানোর সনদপ্রত্যাশীরা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকেই লাইসেন্স পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে ধরনা দিচ্ছেন।

 সেখানে গিয়ে জানতে পারছেন কার্ডগুলো প্রিন্টের অপেক্ষায় রয়েছে। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করে বলছেন, এক সপ্তাহ পরে যোগাযোগ করুন। জানা গেছে, ঢাকাসহ সারা দেশে প্রায় ৩ লাখ ৭৮ হাজার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টের অপেক্ষায় রয়েছে। ঢাকার বাইরেও এই জট বেড়েছে। এতে দুর্ভোগও কম হচ্ছে না। এ ছাড়া জনবলের অভাব, প্রিন্ট মেশিনের স্বল্পতা ও ডেলিভারি কর্মকর্তা কম থাকার কারণে লাইসেন্স দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। 

ড্রাইভিং লাইসেন্স না পাওয়ার কারণে চালকরা বিআরটিএর স্লিপ নিয়ে সড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন। এতে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। উভয় পক্ষের মধ্যে বাকযুদ্ধও কম হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সড়কে একধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। 

এ ছাড়া অফিসগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্যও থেমে নেই। তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দ্রুত লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষ দালালদের দ্বারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন নিয়মিত। 

বিআরটিএর পরিচালক (অপারেশন) লোকমান হোসেন মোল্লা খবরের কাগজকে বলেন, ‘গ্রাহকদের কীভাবে আরও দ্রুত লাইসেন্স ডেলিভারি দেওয়া যায় তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। দ্রুতই এ সংকট কেটে যাবে।’

ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা বিআরটিএর স্লিপের ব্যাপারে অবগত রয়েছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, স্মার্ট কার্ডের জন্য তারা আবেদন করেছেন। এখনো তারা কার্ড পাননি। আবার কেউ বলছেন, নম্বর ভুল হওয়ার কারণে স্মার্ট কার্ড আটকে গেছে।

এ নিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করে সংশোধনী দেওয়ার জন্য আরেকটি ফর্মে আবেদন করতে হবে। ওই আবেদন করলে লাইসেন্স দ্রুত পাওয়া যাবে। অফিসে বুথের সংখ্যাও কম, যে কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তিও বাড়ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তাদের ডেলিভারি কার্ডের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। 

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে সরকারকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে জনগণকে যাতে ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, সে জন্য অফিসগুলোতে বুথের সংখ্যা ও জনবল বাড়াতে হবে। 

প্রিন্ট মেশিনের স্বল্পতা দূর করতে হবে। বিআরটিএর স্লিপ যাদের সঙ্গে রয়েছে ট্রাফিক পুলিশ তাদের কোনো হয়রানি করতে পারবে না। অফিসগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য বড় রকমের সমস্যা, এটা দূর করতে না পারলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হবে। দালালদের আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করুন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৪, ১১:৩৫ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৪, ১১:৩৫ এএম
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করুন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর তার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা উভয়েই আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী দিনে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক ও বোঝাপড়া আরও দৃঢ় হবে। 

বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও গভীর হবে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া ভালো থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে সকল পর্যায়ে। শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের মধ্য দিয়ে তারই বার্তা পাওয়া গেল। ভারতের সরকারপ্রধান ছাড়াও বিরোধীদলীয় নেতাদের সঙ্গেও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি সেই সম্পর্কও ঝালাই করে নিয়েছেন। নয়াদিল্লির আইটিসি মৌর্য শেরাটন হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেসের পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী, বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তারাও দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক- এক কথায় বহুমুখী সম্পর্ক রয়েছে। এই দুই দেশের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্যের বন্ধন দৃঢ়। স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলাদেশের পাশে থেকে ঘনিষ্ঠ মিত্ররূপে কাজ করেছে দেশটি। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশ-ভারত। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনায় অভাবনীয় অগ্রগতি লক্ষ করা গেছে। 

বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতা যেমন বিস্তৃত, তেমনি বহুমাত্রিক। করোনা-পরবর্তীকালে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বেড়েছে। দুই দেশের বিভিন্ন দ্রব্য আমদানি-রপ্তানিও হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদির টানা ১০ বছরের রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা এবং শেখ হাসিনার ১৫ বছর ধরে রাষ্ট্র পরিচালনার দূরদর্শিতা দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্কের ভিত মজবুত করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দুটি ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ইতোমধ্যে দুই দেশের উন্নয়নের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। 

এ প্রসঙ্গে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর দুই দেশের সরকারেরই নতুন মেয়াদে প্রবেশ উপলক্ষে একটা সৌজন্য সফর। আমার মনে হয়, বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে তেমন কোনো  প্রভাব পড়বে না। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে মোদি এবং বিজেপির অবস্থান যেমন ছিল, সেটা তারা ধরে রাখতে পারবেন বলেই প্রতীয়মান হয়।

বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সম্পর্কের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান করতে হবে। সীমান্তে হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ-ভারত দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ। এখানে এমন কোনো বিরোধপূর্ণ ইস্যু নেই যাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। অথচ প্রায়শই দেখা যায় সীমান্তে রক্তপাতের ঘটনা ঘটছে। এটা বন্ধের ব্যাপারে দুই দেশকেই আন্তরিক হতে হবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। 

ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সীমান্ত হাট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সীমান্ত হাট ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। তবে এগুলো আরও সক্রিয় করতে হবে। দুই দেশের মানুষের যাতায়াত বাড়ানোর জন্য ভিসাব্যবস্থা আরও সহজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বড় দেশ হিসেবে ভারতকেই উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে। বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হোক, সেটিই প্রত্যাশা।