নিলামে উঠতে যাচ্ছে ইতালীয় অভিযাত্রিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার করার ঘোষণার চিঠির একটি ল্যাটিন সংস্করণ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টি এটি নিলামে তুলতে যাচ্ছে। চলতি মাসেই নিলামের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এখনও দিনক্ষণ জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠিটি গত এক শতাব্দী ধরে একজন সুইস ব্যক্তির কাছে সংগ্রহে রয়েছে। যেটিকে এই চিঠির প্রথম প্রাপ্ত সংস্করণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ক্রিস্টি। তারা আশা করছে, নিলামে এর দাম ১২ লাখ পাউন্ড ছাড়িয়ে যাবে।
চিঠির ল্যাটিন এই সংস্করণটি তৎকালীন ইউরোপীয় সম্ভ্রান্তদের কলম্বাসের সাফল্যের বিষয়ে জানাতে ছাপাখানায় মুদ্রিত করে বিলি করা হয়েছিল।
কলম্বাস তার বহর নিয়ে আমেরিকা আবিষ্কারের পর তিনি যখন ইউরোপে ফেরত আসেন - তখন তিনি এই চিঠিটি স্প্যানিশ সম্রাজ্যের রাজকীয় কোষাধ্যক্ষ লুইস দ্য সেনটানগেলকে উদ্দেশ্য করে লিখেন। তিনি ইতালীয় হলেও তার সামুদ্রিক অভিযানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন স্পেনের তৎকালীন রানী ইসাবেলা।
ইতিহাস গবেষকরা বলে থাকেন, ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ১৪৯৩ সালের লেখা চিঠিটি আধুনিক পৃথিবীর চিত্রই বদলে দিয়েছিল। কারণ, এর মাধ্যমেই আমেরিকার সম্পদের খোঁজ পায় ইউরোপীয়রা এবং এর প্রায় সব এলাকাতেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। যদিও স্থানীয়দের জন্য কলম্বাসের এই আবিষ্কার বিপর্যয় নিয়ে এসেছিল।
চিঠিতে কলম্বাস লিখেন, ‘আমাদের মহান রাজা ও রানী (স্পেনের রাজপরিবার), আমাদের রাজনীতিকদের দেওয়া জাহাজ বহর নিয়ে আমি ইন্ডিজের (ভারতের) উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলাম, যেখানে আমি অসংখ্য মানুষ বসবাস করছে এমন অনেকগুলো দ্বীপ আবিষ্কার করেছি।’
চিঠিতে তিনি দ্বীপগুলোর সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদের প্রশংসা করেছিলেন। সেখানকার মানুষদের বিষয়ে তিনি লিখেছিলেন, তারা খুবই ভীতু ও বোকা।
যদিও চিঠিটি লেখার সময় কলম্বাসের কোনো ধারণাই ছিল না যে তিনি ভাইকিংসদের পর প্রথম ইউরোপীয় যিনি আমেরিকার সন্ধান পেয়েছিলেন। তার প্রথম সমুদ্রযাত্রায় তিনি ভেবেছিলেন, জাপানের নিকটবর্তী দ্বীপগুলোতে তিনি ভ্রমণ করেছেন।
কলম্বাসের জীবনীকার অধ্যাপক ফেলিপ ফার্নান্দেজ-আর্মেস্টোর বলেন, ‘এটিই ছিল কলম্বাসের সমুদ্র যাত্রার প্রথম প্রতিবেদন, যা সত্যিই বিশ্বকে বদলে দিয়েছিল।’
তবে বর্তমান পৃথিবীতে কলম্বাস যতটা নায়ক হিসেবে বিবেচিত তার থেকেও বেশি তাকে লুণ্ঠনকারী হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, দাসপ্রথার উদ্ভাবন হয়ত তিনি করেননি, তিনি খুব নৃশংসভাবে তার অনুশীলন করেছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কলম্বাস তার মর্যাদা হারালেও চিঠির দামে তা প্রভাব ফেলবে না। ফেলিপ ফার্নান্দেজের মতে, কুখ্যাতি খুব কমই একজনের বাজার মূল্যে আঘাত করে।