খবরটি আপনার বিশ্বাস না-ও হতে পারে। তবে তা সত্য। বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত। সেটি হলো পৃথিবীর গতিতে পরিবর্তন এসেছে। পৃথিবীর গতি কমে যাচ্ছে ০.০৬ মাইক্রোসেকেন্ড। আর এর জন্য দায়ী হচ্ছে চীনের একটি বাঁধ।
আমরা জানি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে প্রতিনিয়ত ঘুরছে। লাটিমের মতো পৃথিবী নিজ অক্ষে সদা ঘূর্ণায়মান। এটিই পৃথিবীর গতি। পৃথিবীর গতি দুই প্রকার। আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি। পৃথিবী তার নিজ অক্ষের চারদিকে দিনে একবার নির্দিষ্ট গতিতে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে। পৃথিবীর এই আবর্তন গতিকে আহ্নিক গতি বলা হয়। পৃথিবী একবার পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করতে সময় নেয় ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড। আর পরিবর্তনটা আসছে এখানেই।
পৃথিবীর গতি কমিয়ে দেওয়া ওই বাঁধটির নাম থ্রি জর্জেস। চীন সরকার দেশটির ইয়াংজি নদীর ওপর গড়ে তুলেছে বাঁধটি। নদীটি এশিয়ার দীর্ঘতম। আর বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম। চীনের ইলিং জেলার সান্ডৌপিং শহরে এটি অবস্থিত। পানি ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে এই বাঁধ পৃথিবীর বৃহত্তম শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।
নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, কেবল শক্তি নয়, থ্রি জর্জেস বাঁধ পৃথিবীর আহ্নিক গতির পরিবর্তন থেকে শুরু করে পৃথিবীর আকৃতিতেও বদল এনেছে। ২০০৫ সালে নাসার বিজ্ঞানীরা জানান যে, থ্রি জর্জেস বাঁধের বিপুল জলরাশির চাপে পৃথিবী আগের চেয়ে কিছুটা ন্যুব্জ হয়ে (বেঁকে) গিয়েছে। এই বাঁধের ফলে পৃথিবীর মাঝের অংশ সামান্য স্ফীত এবং দুই মেরু অঞ্চল কিছুটা চেপে গিয়েছে। পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে বাঁধের বিপুল জলরাশির চাপে। আগের চেয়ে পৃথিবীর আহ্নিক গতি কমে গেছে। এর ফলে বেড়ে গেছে দিনের দৈর্ঘ্যও। বিজ্ঞানীরা বলছেন, থ্রি জর্জেস বাঁধের জন্য দিনের দৈর্ঘ্য ০.০৬ মাইক্রোসেকেন্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই সামান্য পরিবর্তন বিজ্ঞানীদের নজরে পড়লেও সাধারণ মানুষের নজরে পড়ে না। তাই আমরা টের পাই না।
চীন সরকার বাঁধটি নির্মাণের কাজ শুরু করে ১৯৯৪ সালে। ৪০ হাজার কর্মী এই বাঁধ তৈরির কাজ করেন। বাঁধ তৈরিতে প্রায় ৩ কোটি ঘনমিটার কংক্রিটের ব্যবহার করা হয়। ১৭ বছর ধরে তৈরি হয় বাঁধ। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। বাঁধের দৈর্ঘ্য ২.৩ কিলোমিটার। উচ্চতা ১৮০ মিটার। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বাঁধের ৩২টি টারবাইনের একেকটি মোট ৭০০ মেগাওয়াট শক্তি উৎপাদনে সক্ষম। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


