জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এক নতুন ধরনের সুপারনোভার সন্ধান পেয়েছেন। গবেষকদের মতে, একটি বিশালাকার নক্ষত্রের সঙ্গে কৃষ্ণগহ্বরের (ব্ল্যাক হোল) সংঘর্ষের ফলে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে পৃথিবী থেকে প্রায় ৭০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। এই আবিষ্কার মহাবিশ্বে নক্ষত্রের মৃত্যু কীভাবে হয়, সে সম্পর্কে নতুন ধারণা দেবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
সম্প্রতি অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, আমাদের সূর্যের চেয়ে অন্তত ১০ গুণ ভরযুক্ত নক্ষত্র ও কৃষ্ণগহ্বরটি একটি বাইনারি সিস্টেমে আবদ্ধ থেকে একে অপরকে প্রদক্ষিণ করছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের দূরত্ব কমতে থাকে। কৃষ্ণগহ্বরের প্রচণ্ড মহাকর্ষীয় টানে নক্ষত্রটি বিকৃত হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্রটির উপাদান শুষে নেয়। শেষ পর্যন্ত নক্ষত্রটি একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যায়।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষক ও এই গবেষণার প্রধান লেখক আলেকজান্ডার গাগলিয়ানো বলেন, ‘এই বিস্ফোরণে এক সেকেন্ডে যে পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়েছে, তা আমাদের সূর্যের পুরো জীবদ্দশায় নিঃসৃত শক্তির চেয়েও বেশি ছিল।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনাটি প্রথম শনাক্ত করা হয়। এই অস্বাভাবিক বিস্ফোরণের সংকেত শনাক্ত করে একটি এআই অ্যালগরিদম, যা মহাকাশে অস্বাভাবিক বিস্ফোরণ খুঁজে বের করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এআইয়ের সতর্কবার্তার ফলে বিজ্ঞানীরা সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন টেলিস্কোপের মাধ্যমে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হন। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট অ্যাশলে ভিলার বলেন, ‘এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না ঠিক কীভাবে বিস্ফোরণটি ঘটল। নক্ষত্রটি বিকৃত হওয়ার ফলে ধ্বংস হয়েছে, নাকি কৃষ্ণগহ্বরটি একে পুরোপুরি ছিন্নভিন্ন করে ফেলার পর সুপারনোভা ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।’
পৃথিবী থেকে প্রায় ৭০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে এই ঘটনা ঘটেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি বাইনারি সিস্টেমের দুটি বিশালাকার নক্ষত্র হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। পরে একটি নক্ষত্রের মৃত্যু হলে সেটি কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে গবেষকরা বলছেন, কিছু সুপারনোভা আসলে কৃষ্ণগহ্বর-সহচরের প্রভাবে ঘটতে পারে। এর মাধ্যমে নক্ষত্র জীবনের শেষ অধ্যায় সম্পর্কে নতুন ধারণা মিলছে।
গবেষকরা আরও জানান, বিস্ফোরণের অন্তত চার বছর আগে থেকে কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্রের বাইরের হাইড্রোজেন স্তর টেনে নিচ্ছিল। এতে ভেতরের হিলিয়াম স্তর উন্মুক্ত হয়ে যায়। বিস্ফোরণের পর অবশিষ্ট উপাদানও কৃষ্ণগহ্বর গ্রাস করে, ফলে সেটি আরও ভরবাহী ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
গাগলিয়ানো বলেন, ‘এই ঘটনা প্রমাণ করে, নক্ষত্রের ভাগ্য তার সঙ্গীর উপস্থিতির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্রের মৃত্যু প্রক্রিয়াকে কতটা নাটকীয়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে, এটি তার একটি দৃষ্টান্ত।’ সূত্র: লাইভ সায়েন্স


