সাহারা মরুভূমির তাকারকোরি শিলাশ্রয় থেকে উদ্ধার হলো ৭ হাজার বছরের পুরনো দুই নারী মমি। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো— তাদের জিনে আধুনিক মানুষের কোনো ছাপ নেই। গবেষকদের মতে, এরা উত্তর আফ্রিকার এক অজানা বংশধারার মানুষ, যাদের ডিএনএ উপ-সাহারার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে একেবারেই মেলে না।
প্রত্ন-জেনেটিসিস্ট নাদা সালেমের নেতৃত্বে জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের একদল গবেষক এই মমির ডিএনএ বিশ্লেষণ করেন।
তারা জানান, নবপলীয় যুগে সাহারা তখন ছিল সবুজ ও উর্বর— যাকে বলা হয় গ্রিন সাহারা। সে সময় পশুপালন ও চাষাবাদে অভ্যস্ত মানুষরা এখানে বসবাস করতেন। তবে তাকারকোরি জনগোষ্ঠী আশপাশের কারও সঙ্গে মিশ্রিত হয়নি। বরং তারা ছিল দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই জনগোষ্ঠীর ডিএনএ মরক্কোর তাফোরাল্ট গুহায় পাওয়া ১৫ হাজার বছরের পুরনো শিকারি-সংগ্রাহকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। নিয়ান্ডারথালদের কিছু জিন তাদের মধ্যে পাওয়া গেলেও তা খুবই সামান্য। তবু আশ্চর্যের বিষয়, অন্যান্য উপ-সাহারান জনগোষ্ঠীর তুলনায় তাদের জিনে নিয়ান্ডারথালদের প্রভাব কিছুটা বেশি।
গবেষক দল জানায়, কৃষি ও পশুপালনের বিস্তার সাহারায় ঘটেছিল সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে, অভিবাসনের ফলে নয়। অর্থাৎ বাইরের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশ্রণ না ঘটিয়ে, তারা শুধু নতুন কৌশল ও জীবনধারা শিখে নিয়েছিল।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, গ্রিন সাহারার বৈচিত্র্যময় পরিবেশ— হ্রদ, জলাভূমি, বনভূমি ও পাহাড় জনগোষ্ঠীগুলোর চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছিল। ফলে তাকারকোরিরা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে এক ভিন্ন জেনেটিক পরিচয় ধরে রেখেছিল।
আজ মরুভূমির বুকে সেই হারানো সভ্যতার চিহ্নই শোনাচ্ছে রহস্যময় গল্প— যেখানে আধুনিক মানবজাতির বাইরে আরেক বংশধারার অস্তিত্ব টিকে ছিল হাজার হাজার বছর আগে।


