চাঁদকে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের হাত থেকে বাঁচাতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ‘2024 YR4’ নামের একটি গ্রহাণুকে ধ্বংস করতে পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। গ্রহাণুটি চাঁদের দিকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসছে। এর সম্ভাব্য সংঘর্ষ মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
গত বছরের ডিসেম্বরে আবিষ্কৃত হওয়ার পর গ্রহাণুটি বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, ২০৩২ সালে পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাবনা প্রায় ৩ শতাংশ রয়েছে। যদিও পরবর্তী গবেষণায় পৃথিবীতে সরাসরি আঘাত হানার ঝুঁকি নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে চাঁদকে নিয়েও।
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৫৩-৬৭ মিটার ব্যাসের এই গ্রহাণু যদি চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ে, তবে ‘লুনার ইজেক্টা’ নামের একটি ঘটনা ঘটতে পারে। এর ফলে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে বিপুল পরিমাণে ধুলোবালি ও ছোট পাথর উৎক্ষিপ্ত হয়ে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ছড়িয়ে পড়বে। এই ভাসমান ধ্বংসাবশেষ বা মাইক্রোমেটিওরয়েড মহাকাশযানগুলোর জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে।
গবেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই ক্ষুদ্র কণাগুলো তীব্র গতিতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা মহাকাশযানগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষ করে সেগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এমনকি নভোচারীদের স্পেস স্যুটে ছিদ্র করে দিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে।
এই ঝুঁকি এড়াতে নাসা দুটি পদ্ধতির কথা বিবেচনা করছে: গ্রহাণুটির পথ পরিবর্তন করা অথবা সেটিকে প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া। বিজ্ঞানীরা প্রথমে নাসার সফল ‘ডার্ট’ (DART) মিশনের মতো কোনো মহাকাশযান দিয়ে ধাক্কা দিয়ে গ্রহাণুটির গতিপথ পাল্টে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। তবে এই পরিকল্পনাকে অবাস্তব বলে বাতিল করা হয়েছে। কারণ গ্রহাণুটির সঠিক ভর সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন। ফলে এর গতিপথ পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টা হিতে বিপরীত হতে পারে এবং নভোচারীদের জন্য আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে। নাসা দুটি ১০০ কিলোটন ক্ষমতার পারমাণবিক বোমা পাঠানোর কথা ভাবছে। জানা গেছে, এই বোমার শক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ফেলা বোমার চেয়ে পাঁচ থেকে আটগুণ বেশি হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বোমাটি যদি কোনো কারণে ব্যর্থ হয়, তবে দ্বিতীয়টি ব্যবহার করা হবে।
এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্রহাণুটি পুরোপুরি ধ্বংস করতে এক মেগাটন ক্ষমতার বোমা যথেষ্ট হবে। এটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রাগারে রয়েছে। মানব ইতিহাসে এর আগে কখনো কোনো গ্রহাণু ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে মহাকাশে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়নি। তবে ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র একবার মহাকাশে পরীক্ষামূলকভাবে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল।


