প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করতে কাজ করছে বিশ্বখ্যাত অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান টয়োটা। এরই ধারাবাহিকতায় ‘জাপান মোবিলিটি শো ২০২৫’-এ প্রতিষ্ঠানটি উন্মোচন করেছে এক অভিনব রোবট চেয়ার। চার পা-বিশিষ্ট এই চেয়ারটি দেখতে অনেকটা কাঁকড়ার মতো হলেও এর কাজ বেশ চমকপ্রদ।
টয়োটার তৈরি এই প্রোটোটাইপ মডেলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়াক মি’। এটি মূলত চলাফেরায় অক্ষম ব্যক্তিদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ হুইলচেয়ার যেখানে সিঁড়ি বা উঁচুনিচু পথে চলতে পারে না, সেখানে ‘ওয়াক মি’ তার যান্ত্রিক পা ব্যবহার করে অনায়াসে যেকোনো বাধা পেরিয়ে যেতে পারে। এমনকি ব্যবহারকারীকে উঁচু কোনো স্থানে বসাতে এটি নিজেকে নিচ থেকে উঁচুতে তুলে ধরতে সক্ষম।
রোবটটির চারটি পা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করতে পারে। যন্ত্রাংশ সুরক্ষার জন্য পাগুলো নরম ও রঙিন আবরণে ঢাকা। প্রয়োজনে পাগুলো ভাঁজ করে চেয়ারের নিচে রাখা যায়। ফলে এটি সাধারণ গাড়িতে বা লাগেজে বহন করা খুব সহজ। এমনকি কোনো মানুষের সাহায্য ছাড়া এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেকে ভাঁজ করতে ও খুলতে পারে।
প্রযুক্তিগতভাবে একে বলা হচ্ছে ‘স্বয়ংক্রিয় হুইলচেয়ার’। চার পায়ের প্রাণীর হাঁটার ভঙ্গি অনুকরণ করে এটি তৈরি করা হয়েছে। এতে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক ‘লিডার’ প্রযুক্তি। লেজার রশ্মির মাধ্যমে এটি চারপাশের পরিবেশের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে যেকোনো সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতে পারে। সিঁড়িতে ওঠার সময় এটি প্রথমে সামনের পা দিয়ে উচ্চতা যাচাই করে, এর পর পেছনের পা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ওপরে ওঠে। সংঘর্ষ এড়াতে এতে বিল্ট-ইন রাডার ব্যবস্থাও রয়েছে।
যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এতে রয়েছে সংবেদনশীল ওজন মাপার সেন্সর। যদি সেন্সর বুঝতে পারে যে রোবটটির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, তবে এটি তাৎক্ষণিকভাবে নিজের পা এবং সিটের অবস্থান পরিবর্তন করে ব্যবহারকারীকে নিরাপদ রাখে।
এটি নিয়ন্ত্রণ করাও বেশ সহজ। সিটে থাকা হ্যান্ডেল, বাটন ও ডিজিটাল ইন্টারফেসের পাশাপাশি ‘ভয়েস কমান্ড’-এর মাধ্যমেও একে পরিচালনা করা সম্ভব। ‘ধীরে চলো’ বা ‘দ্রুত চলো’ এমন সাধারণ নির্দশনায় এটি সাড়া দেয়। এর ব্যাটারি একবার চার্জ দিলে সারা দিন ব্যবহার করা যায় এবং সাধারণ প্লাগ পয়েন্টে চার্জ দেওয়া সম্ভব।
টয়োটার চেয়ারম্যান আকিও টয়োডার স্বপ্ন থেকে এই চেয়ারের ধারণা এসেছে। ৬৯ বছর বয়সী আকিও ব্যক্তিগতভাবে এমন একটি বাহন চেয়েছিলেন, যা অবসর জীবনেও তাকে বাধাহীনভাবে চলাফেরায় সাহায্য করবে। এই প্রদর্শনীতে টয়োটা শিশুদের জন্য স্বয়ংক্রিয় গাড়ি ও দুর্গম পথের উপযোগী বিশেষ কিছু হুইলচেয়ারও প্রদর্শন করেছে।


