আপনার ঘরের কোণে বা আসবাবের আড়ালে ঠিক কতটি মাকড়সা বাস করে? সাধারণ দৃষ্টিতে দু-একটি চোখে পড়লেও বিজ্ঞানের পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একটি সাধারণ বাড়ির প্রতিটি ঘরে গড়ে অন্তত ১০টি করে মাকড়সা থাকতে পারে।
পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত একটি বাড়িতে গড়ে ৪০টি মাকড়সার উপস্থিতির কথা বলে থাকে। তবে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার ৫০টি বাড়িতে চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬৫ শতাংশ ঘরে মাকড়সার জাল রয়েছে। যদিও ওই গবেষণায় মাকড়সার সঠিক সংখ্যা গণনা করা হয়নি, তবে ঘর ও বারান্দার আয়তন বিবেচনায় নিলে প্রতি ঘরে গড়ে ১০টি মাকড়সা থাকার বিষয়টি যৌক্তিক মনে হয়।
ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে অনেক সময় এত বেশি মাকড়সা নজরে আসে না। কিন্তু আমরা কেবল ঘরের দৃশ্যমান অংশগুলো পরীক্ষা করি। মেঝের তক্তা, ফ্রিজের পেছনে, চিলেকোঠা কিংবা গ্যারেজের মতো অন্ধকার ও নির্জন স্থানগুলো হিসাবে নিলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ২০১৭ সালের একটি গবেষণাপত্র অনুযায়ী, বাইরের পরিবেশে প্রতি বর্গমিটারে গড়ে ১৩১টি মাকড়সা থাকে। সেই হিসাবে বিশ্বে মোট মাকড়সার সংখ্যা প্রায় ১০ কোয়াড্রিলিয়ন, যা প্রতিটি মানুষের বিপরীতে প্রায় ১০ লাখ।
ঘরের ভেতর মাকড়সার খাবারের জোগান বাইরের তুলনায় কম থাকলেও এখানে তাদের পরম শত্রু পাখি ও কেন্নোর উপদ্রব নেই। ফলে ঘরের নিরাপদ পরিবেশে মাকড়সা দীর্ঘকাল বেঁচে থাকতে পারে। বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এরা বেশ এগিয়ে। একটি মাকড়সা একবারে ১০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত ডিম পাড়তে পারে এবং বছরে অন্তত পাঁচবার ডিম পাড়ে।
যদিও এই ডিম থেকে জন্ম নেওয়া মাকড়সাগুলোর মধ্যে মাত্র এক শতাংশ পূর্ণ বয়স্ক হতে পারে। তবুও যদি শিশু মাকড়সাগুলোকে গণনায় ধরা হয়, তবে যেকোনো নির্দিষ্ট সময়ে আপনার বাড়িতে কয়েক হাজার মাকড়সার বসবাস থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আপাতদৃষ্টিতে ঘর পরিষ্কার মনে হলেও বিজ্ঞানের এই পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষকে কিছুটা চমকে দেওয়ার মতোই।


