স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি–সবকিছুর চার্জিং সমস্যা সমাধানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন বিজ্ঞানীরা। অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক বিশ্বের প্রথম ‘কোয়ান্টাম ব্যাটারি’ তৈরি ও পরীক্ষা করেছেন। ব্যাটারি যত বড় হবে, তত দ্রুত চার্জ হবে, যা এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব। ফলে ভবিষ্যতে মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র চার্জ দেওয়া সম্ভব হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি গবেষণা সংস্থা সিএসআইআরও, মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং আরএমআইটির গবেষকরা যৌথভাবে এ প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন। তাদের এ গবেষণাপত্র সম্প্রতি বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার লাইট: সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশনস’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জেমস হাচিসন ও অধ্যাপক ট্রেভর স্মিথ।
গবেষক জেমস হাচিসন জানান, সাধারণ ব্যাটারি রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে। কিন্তু কোয়ান্টাম ব্যাটারি কাজ করে কোয়ান্টাম মেকানিক্স বা কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের নীতি মেনে। এ পদ্ধতিতে ব্যাটারিটি একটি একক এবং বিশাল ‘সুপার অ্যাবসরপশন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলো শোষণ করে। এর ফলে এটি সাধারণ ব্যাটারির চেয়ে দ্রুত চার্জ হতে পারে।
এ প্রোটোটাইপ ব্যাটারিটির কার্যকারিতা যাচাই করতে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আল্ট্রাফাস্ট লেজার ল্যাবরেটরি ব্যবহার করা হয়েছে। অত্যাধুনিক স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, ব্যাটারিটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চার্জ গ্রহণ করতে সক্ষম। অধ্যাপক ট্রেভর স্মিথ জানান, তাদের লেজার ল্যাবের বিশেষ সক্ষমতা এই অতিদ্রুত সংকেতগুলো রেকর্ড করতে সাহায্য করেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই উদ্ভাবন শক্তি সঞ্চয় ও সরবরাহের প্রচলিত ধারণা বদলে দিতে পারে। যদিও এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে প্রযুক্তির দুনিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে বড় আকারের ব্যাটারির ক্ষেত্রে এটি হবে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।


