সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিম ও মুরগি। প্রতি ডজন ১৪১ টাকা দাম বেঁধে দেওয়া হলেও কিনতে হচ্ছে ১৬৫ টাকায়। আর প্যাকেটজাত ডিম ১৯০ টাকা ডজন। ১৮০ টাকার ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং ২৭০ টাকার সোনালি ২৯০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এক সপ্তাহে সোনালি মুরগিতে ২০ টাকা বেড়েছে। ইলিশ মাছের কেজিতে বেড়েছে ২০০ টাকা। তবে আগের মতোই পেঁয়াজ, আলু, চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর টাউন হল বাজার, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুলসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ভারত থেকে সম্প্রতি ডিম আমদানি হয়েছে। তার পরও দাম কমছে না। মুরগির দামও লাগাম ছাড়া। বাধ্য হয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর গত রবিবার খুচরা পর্যায়ে ডিম, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম নির্ধারণ করে দেয়।
সরকারের নির্দেশনার পরও বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ১৪১ টাকার ডিম কাজী ফার্মসের প্যাকেটে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দামের ব্যাপারে মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের ব্রয়লার হাউসের মো. বিল্লাল হোসেন, মুন ট্রেডার্সের জনিসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারা খবরের কাগজকে জানান, কাজী ফার্মসের প্যাকেটজাত ডিমের ডজন ১৯০ টাকা। ক্যারেটের ডিম ১৬০ টাকা ডজন। হাতিরপুল বাজারের খুচরা ডিম বিক্রেতা মোহিন বলেন, দাম বেঁধে লাভ নেই। কারণ আড়তে বেশি। তাই দাম বেড়ে গেছে। ১৬০-১৬৫ টাকা ডজন। কারওয়ান বাজারেও দেখা গেছে ১৬০-১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন পাড়া-মহাল্লাতেও একই অবস্থা। বেশি দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে।
সোনালিতে ২০ টাকা বেড়ে ২৯০ টাকা
সরকার ব্রয়লারের দর ১৮০ টাকা কেজি বেঁধে দিয়েছে। আগের সপ্তাহে ১৭০-১৯০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। গতকালও খুচরা বিক্রেতাদের এসব দরে ব্রয়লার বিক্রি করতে দেখা যায়। গত সপ্তাহে সোনালি মুরগি ২৬০-২৭০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু সরকার সোনালির দাম ২৭০ টাকা বেঁধে দেওয়ার পরও বাজারে ২৮০-২৯০ টাকা ছুঁয়ে গেছে। হাতিরপুল বাজারের মায়ের দোয়া পোলট্রি হাউসের দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘চাহিদার ওপর দাম কমবেশি হচ্ছে। ব্রয়লার ১৯০ ও সোনালি ২৯০ টাকা কেজি। এর কমে বিক্রি করা সম্ভব নয়। কারণ বেশি দরে কেনা। তবে দেশি মুরগি আগের মতোই ৫০০-৫৫০ টাকা কেজি। ডিম ও মুরগির দাম বাড়লেও আগের মতোই বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস ৭৫০-৭৮০ টাকা ও খাসির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে।
কমেনি চালের দাম
সরকার পরিবর্তনের পর অনেকেই মনে করেছিলেন সিন্ডিকেট ভাঙবে, কমবে চালের দাম। তবে বাজারে দেখা গেছে আগের মতোই বেশি দামে চাল বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট ৭০-৭৬ টাকা, আটাশ চাল ৫৮-৬০ টাকা ও মোটা চাল ৫২-৫৫ টাকা। কারওয়ান বাজারের আল্লাহর দান স্টোরের বিক্রমকর্মী খালিদ বলেন, আগের মতোই চালের দাম। এ ছাড়া ছোলার দাম ১১০-১২০ টাকা কেজি, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১০০-১৩০, খোলা আটা ৪০ টাকা কেজি। এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৬৫, পাঁচ লিটার ৭৯০-৮০০ টাকা। চিনির কেজি ১৩০-১৩৫ ও দেশি লাল চিনি ১৬০-১৭০ টাকা কেজি বিক্রি করা হয়। কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল বাজারেও একই চিত্র। আগের দামেই এসব পণ্য বিক্রি করতে দেখা গেছে।
কমেনি সবজির দাম
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আলু ও পেঁয়াজে শুল্ক কমালেও বাজারে তার প্রভাব দেখা যায়নি। বিক্রেতারা জানান, আগের মতোই দেশি পেঁয়াজের কেজি ১১০-১২০, আমদানি করা পেঁয়াজ ১১৫ টাকা। আলু ৫৫-৬০ ও রসুন ২০০-২৪০, আদা ২৩০-২৬০ টাকা কেজি।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, এ সপ্তাহে ভারী বৃষ্টি না হলেও বন্যার ক্ষত দূর হয়নি। আগের মতো সারা দেশের সবজি আসছে না। হাতিরপুল বাজারের সবজি বিক্রেতা জিহাদ ও টাউন হল বাজারের কালু বেপারি বলেন, ‘সবজির দাম কমেনি। আগের সপ্তাহের মতো সবজির দাম।
বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজি, বেগুন ৮০-১২০ টাকা, ঝিঙ্গা ৭০-৯০, পটোল, ঢ্যাঁড়স, ধুন্দুল, ৬০-৮০ টাকা। মুলা, পেঁপে ৩০-৪০, শসা ৬০-৮০, বরবটি, কচুরলতি ৮০-১০০ টাকা কেজি। টমেটো, গাজর ১২০-১৬০ টাকা, শিম ২৫০, লাউ, চালকুমড়া ও কপির পিস ৬০-৭০ টাকা। লাউ, পুঁইশাকের আঁটি ৩০-৪০ টাকা, কলমি শাক, লাল শাক, পালং এবং পাট শাক ১৫-২০ টাকা আঁটি।
বেড়েছে ইলিশ মাছের দাম
সবজির মতো মাছের দামও কমেনি। বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলেন, কোনো মাছের দাম কমেনি। বরং ইলিশের দাম কেজিতে ২০০ টাকা বাড়তি। আগের মতোই রুই, কাতলা আকারভেদে ৩০০-৬৫০, চিংড়ি ৫০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি। ট্যাংরা ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, কাচকি, মলা মাছ ৫০০-৭০০, পাঙাশ, তেলাপিয়া ১৮০-২৫০, শিং মাছ ৫০০-৭০০, মাগুর ৬০০ ও কই মাছ ৪০০-৬০০ টাকা ও পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা কেজি। বেশি দামেই ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। মাছ বিক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহের চেয়ে ইলিশের দাম বেড়েছে ২০০ টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা বিক্রি হলেও গতকাল ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হয়।