ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ভয়াবহতা রুখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত চীন: ইয়াও ওয়েন তরুণীদের স্তনের সাধারণ সমস্যা ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা টানা দুই দফা কমার পর ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম নোয়াখালীতে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী পড়ে পাওয়া গল্পের ৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ল্যামিনের আত্মবিশ্বাসে মুগ্ধ স্পেন কোচ চুয়েটে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আজ ফুটবল আসলেই এক নির্মম খেলা: সেনেগাল কোচ আইফোনে কাস্টম অ্যালার্ম টোন মাদারীপুরে কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ অনলাইন জুয়া-বেটিং দমনে নতুন আইন রাশিয়ায় তীব্র জ্বালানিসংকট ঢাকার যানজট কমাতে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মনোনীত হলেন আজিজ আল কায়সার জেলেনস্কির সতর্কবার্তার পর কিয়েভে হামলা, নিহত ৮ মংডুতে জান্তা সরকারের বিমান হামলা, কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত দেশের বাজারে আসছে অনারের ম্যাজিক ভি৬ ফোন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিইউবি ন্যাশনাল মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ সম্পন্ন ইউল্যাবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভরসা অধিনায়ক হ্যারি সাউটার রোনালদো–মদ্রিচ নয়, মিডফিল্ডের লড়াইয়েই চোখ ক্রোয়েশিয়া কোচের পেকুয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির চারা ঢাকা পড়েছে বর্জ্যে মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে রাজবাড়ীতে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের লম্বা ছুটির সুযোগ ২২ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উত্তরা ইউনিভার্সিটির সমঝোতা তালতলীতে সরকারি রাস্তা কেটে জমি তৈরির প্রতিবাদে মানববন্ধন পদ্মার চরে রক্তাক্ত আধিপত্যের লড়াই: আট মাসে ৮ খুন, আতঙ্কে চরবাসী আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে স্পিকার

নির্বাচনের সময় এখনও ঠিক করা হয়নি: সিইসি

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:১০ পিএম
আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:৪০ পিএম
নির্বাচনের সময় এখনও ঠিক করা হয়নি: সিইসি
ছবি: খবরের কাগজ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন কমিশন থেকে এখনো পর্যন্ত নির্বাচনের সময় ঠিক করা হয়নি। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের সময় অনুযায়ী নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।  তবে নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট হাতে পেলেই ধারনা করা যাবে নির্বাচন কবে হবে। 

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পূর্বে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। 

তিনি বলেন, বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রথম থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন দাবি করে আসছে। তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলেনি। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয় বরং জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। আশা করছি মার্চ মাসের দুই তারিখ ভোটার তালিকা সম্পন্ন হবে। এরপর বিভিন্ন সংশোধনের মাধ্যমে হালনাগাদ করে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।  আমরা একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

সভায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, কুমিল্লা অঞ্চলের সব নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. দুলাল তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একান্ত সচিব মো. আশরাফুল আলম,  নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপপ্রকল্প পরিচালক (ডাটাবেজ) মেজর মো. মামুনুর রশিদসহ কমিল্লা অঞ্চলের কর্মরত জেলা এবং উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তারা।

মেহেদী

তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত চীন: ইয়াও ওয়েন

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত চীন: ইয়াও ওয়েন
ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন সব ধরনের কারিগরিসহ অন্যান্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ঢাকায় দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মলনে এ কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্করে নতুন মাইলফলক রচিত করছে। আস্থার নতুন ধাপে পৌঁছেছে দুই দেশ।

ইয়াও ওয়েন বলেন, সহযোগিতা ক্ষেত্রে বিস্তৃত এ সফর উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রাখবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীন তার আগের অবস্থানেই রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সব ধরনের কারিগরিসহ অন্যান্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বেইজিং।

আগে তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে কোম্পানি, এখন দুই দেশের বিশেষজ্ঞ এই কাজ করবে বলেও জানান চীনা রাষ্ট্রদূত।

বাংলাদেশ-মায়ানমার-চীন করিডর এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

অমিয়/

টানা দুই দফা কমার পর ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
টানা দুই দফা কমার পর ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ৩০ জুন সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

চলতি বছর এ নিয়ে দেশের বাজারে ৮৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৪২ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪২ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

অন্তরা/

নোয়াখালীতে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
নোয়াখালীতে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
তেজগাঁওস্থ কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সারাদেশের ন্যায় নোয়াখালীতেও নজরুল বর্ষের উদ্বোধন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একযোগে দেশের ৬৪ জেলা ও বাছাইকৃত ৭৪ উপজেলায় নজরুল বর্ষের উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।

উদ্বোধন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিটি কবিতা, গান আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন সাংস্কৃতিক জাগরণের সূচনা হয়েছে এবং নজরুলের চেতনা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নতুন প্রেরণা জোগাচ্ছে। এই প্রেরণা নতুন প্রজন্মের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে হবে। নজরুলবর্ষে সারা বছরব্যাপী সরকার ঘোষিত নানা কর্মসূচি পালন করবে জেলা প্রশাসন।

এ সময় নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শান্তনু কুমার দাশ, পুলিশ সুপার এন.এম নাসিরুদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমুন নেছা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবীব, জেলা কালচারাল অফিসার মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

আজহার/

অনলাইন জুয়া-বেটিং দমনে নতুন আইন

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
অনলাইন জুয়া-বেটিং দমনে নতুন আইন
ছবি: সংগৃহীত

দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচালিত জুয়ার বিস্তার রোধে যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়ন করেছে সরকার। 

প্রায় ১৫৯ বছর আগে প্রণীত (পাবলিক গামবলিংগ এ্যাকট ১৮৬৭) রহিত করে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ নামে নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে। 

বুধবার (১ জুলাই) রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর আইনটি জারি করে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আইনটি কার্যকর হয়েছে।

নতুন আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল বেটিং, ফ্যান্টাসি বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংয়ের মতো ডিজিটাল অপরাধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে এসব কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামো, ভিপিএন বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত মাধ্যম ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, বেটিং পরিচালনা, অ্যাকাউন্ট খোলা বা ব্যবহার, জুয়ার অর্থ জমা, উত্তোলন কিংবা স্থানান্তর করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি, এজেন্ট বা সহযোগী হিসেবেও কাজ করা যাবে না।

আইনে সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা ১ কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে।

অনলাইন বেটিং, বুকমেকার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, ভিপিএন বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা কিংবা ডিজিটাল অবকাঠামোর মাধ্যমে জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে অযোগ্যও ঘোষণা করতে পারবেন।

জুয়ার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জুয়ার প্রসারে অংশ নিলে গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট অথবা অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে সংঘবদ্ধভাবে অথবা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

আইনে জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে স্থানান্তর, গোপন বা বৈধ করার চেষ্টাকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সম্পৃক্ত অপরাধ( পেডিকেট ওফেন্স) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফলে এ ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনও বিচার করা হবে।

নতুন আইনে আদালতকে অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধলব্ধ ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ডিভাইসসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত ভবন, অফিস, কল সেন্টার, সার্ভার অবকাঠামো বা অন্য কোনো সম্পত্তিও আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

কোনো কোম্পানি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার বা পেমেন্ট গেটওয়ে এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, ব্যবস্থাপক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়ী করা যাবে। পাশাপাশি আদালত ওই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত কিংবা বাতিলের নির্দেশ দিতে পারবেন।

আইনে বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়া ও সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে। অন্যান্য অপরাধের বিচার হবে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী।

এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন, এমন পুলিশ কর্মকর্তা এসব অপরাধ তদন্ত করবেন।

আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করতে পারবেন।

আইনে সরকারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপ প্যাকেট ইনস্পেকশন (ডিপিআই), ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং সিস্টেম, ডেটা অ্যানালিটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া শনাক্ত ও প্রতিরোধের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ, এনআইডি-সিম-এমএফএস লিংকিং সিস্টেম, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন এবং ফেসিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে।

আইন বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), নির্বাচন কমিশন, সিআইডি, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি, আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণা, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনারও বিধান রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত পাবলিক গ্যামলিং এ্যাক্ট, ১৮৬৭ আনুষ্ঠানিকভাবে রহিত হলো। তবে পূর্ববর্তী আইনের অধীনে চলমান মামলা ও কার্যক্রম নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।

আজহার/

ঢাকার যানজট কমাতে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ঢাকার যানজট কমাতে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকার যানজট কমাতে কিলোমিটারপ্রতি ৬ দশমিক ২৭ টাকা হারে যানজট শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও ট্রাক থেকে এ শুল্ক আদায়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তবে সব সড়কে নয়; মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) অথবা উন্নত বাসসেবা চালু থাকা নির্দিষ্ট করিডোরে শুল্ক কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

বৃহত্তর ঢাকাকে ঘিরে ২০২৫ থেকে ২০৪৫ মেয়াদের জন্য প্রণয়নাধীন হালনাগাদকৃত সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা বা ইউআরএসটিপির খসড়ায় এ প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনায় বলা হয়, যানজট শুল্ক কার্যকরের আগে বিকল্প হিসেবে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল করিডোরকে যানজট শুল্ক আরোপের উপযোগী রুট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন বিআরটি করিডোর এবং ভবিষ্যতে উন্নত বাসসেবা চালু হওয়া রুটগুলোও এ ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে।

যানজট শুল্ক আদায়ে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন বা আরএফআইডি প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত সড়কে আরএফআইডি রিডার বসিয়ে যানবাহন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুল্কের অর্থ কেটে নেওয়া হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ ব্যবস্থাপনা তদারক করবে।

বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে ঢাকার সড়কে যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২১ কিলোমিটার। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারে। বিশ্বব্যাংকের আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, যানজটের কারণে রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সামছুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে নির্ভুল ডিজিটাল ডেটাবেজ, সব যানবাহনের নিবন্ধন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শনাক্তকরণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি সময় ও যানজটের মাত্রা অনুযায়ী ভিন্ন হারে শুল্ক নির্ধারণের পরামর্শ দেন।

সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (ইউআরএসটিপি) যানজট-শুল্ক আরোপকে স্বল্পমেয়াদি অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।