আল্লাহর দরবারে নবিজির দোয়া-বদদোয়া উভয়ই গ্রহণীয়। নবিজি (সা.) যার জন্য দোয়া করেছেন সে ইহকাল ও পরকালে সফল। আর যার জন্য বদদোয়া করেছেন তার উভয় জাহান ধ্বংস। আল্লাহর রহমত ও বরকত থেকেও সে বরখাস্ত। তাই আমাদের উচিত নবিজির বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকা।
সুদখোর, সুদদাতা, লেখক ও সাক্ষী: ইসলামে সুদ সম্পর্কিত সব কাজ কর্ম হারাম। আল্লাহর নবি (সা.) সুদের সঙ্গে সম্পর্কিত সবাইকে লানত করেছেন। হাদিসে এসেছে, হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং এর দুই সাক্ষীর ওপর লানত করেছেন।’ (মুসলিম, ১৫৯৮)
ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা: ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া উভয়টিই হারাম। যারা ঘুষ দেবে আর গ্রহণ করবে নবিজি তাদের সবাইকে লানত করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতার ওপর লানত করেছেন।’ (আবু দাউদ, ৩৫৮০)
নারী-পুরুষের সাদৃশ্য ধারণকারী: ইসলামে নারী-পুরুষের আলাদা পোশাক পরিচ্ছেদ ও সাজসজ্জা রয়েছে। নারী-পুরুষের কেউ যদি একে অন্যের বেশ ধারণ করে তাহলে আল্লাহর নবি তাদের লানত করেছেন।
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণকারী পুরুষদের এবং পুরুষদের সাদৃশ্য গ্রহণকারী নারীদের ওপর লানত করেছেন।’ (বুখারি, ৫৮৮৫)
শরীরে উল্কি (ট্যাটু) আঁকা ও অঙ্কনকারী: মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক শরীর মহান আল্লাহর দান। নিজ ইচ্ছায় কোনো অঙ্গের ক্ষতি করা বা কোনো কিছু অঙ্কন করা মহাপাপ। নবিজি এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে লানত করেছেন। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) উল্কি আঁকে এবং আঁকায় এমন ব্যক্তির ওপর লানত করেছেন। (বুখারি, ৫৯৩১)
হিল্লার সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি: তালাকপ্রাপ্ত নারীকে কৌশল অবলম্বন করে বিয়ে করা হারাম। আর ইসলামে এই পদ্ধতিকে হিল্লা বলা হয়। নবিজি হিল্লাকারী ও যার জন্য হিল্লা করা হবে উভয়কেই লানত করেছেন। হাদিসে এসেছে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, নবিজি (সা.) বলেছেন, ‘হিল্লাকারী ও যার জন্য হিল্লা করা হবে উভয়ের ওপরই লানত।’ (বুখারি, ২৬৩৯)
লেখক: খতিব, ভবানীপুর জামে মসজিদ, গাজীপুর