ঢাকা ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

মুসলিম দেশ ও ব্যক্তিত্বদের অজানা ইতিহাস জানার বই ‌‘দেশ দেশান্তর’

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৭ এএম
মুসলিম দেশ ও ব্যক্তিত্বদের অজানা ইতিহাস জানার বই ‌‘দেশ দেশান্তর’
দেশ দেশান্তর বইয়ের ছবি। সংগৃহীত

আল্লাহর সৃষ্টি এই জগৎ কল্পনাতীত বিশাল। পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ, দিক-দিগান্তজুড়ে কত দেশ, নগর, সভ্যতা ও কত রঙ-বেরঙের মানুষ আছে—তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভ্রমণ মানুষকে অনেক কিছু শেখায়। জ্ঞানের দুয়ার খোলে। ভ্রমণের মাধ্যমে ভিন্ন ভাষার ভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কের সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে। ভ্রমণ মানুষের মন উদার করে, চোখ খুলে দেয়। চেনা জগতের ছোট পরিসর থেকে নিয়ে যায় বিশাল ময়দানে। ইসলামে ভ্রমণের গুরুত্ব অপরিসীম। কোরআনে তেরো বারের বেশি ভ্রমণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণ না করলে মানুষ আল্লাহর সুন্দর সৃষ্টি, তাঁর নিদর্শন, ভাষা ও মানুষের বৈচিত্র্য জানতে পারবে না। কিন্তু অনেকে নানাবিধ কারণে ভ্রমণ করতে পারে না। কিন্তু তাদেরও তো এসব জানার প্রয়োজন। তাদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও উপযোগী বই হলো কিংবদন্তি আলেম শায়খুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মাদ তকি উসমানির দেশ দেশান্তর

শায়খুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মাদ তকি উসমানি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব। বিশ্বের নানা প্রান্তে মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন প্রয়োজনে তাকে নিরন্তর দেশ-দেশান্তে ভ্রমণ-পরিভ্রমণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এসব ভ্রমণে তার অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তিনি সযত্নে লিখে রাখেন। তার লিখিত এ রচনাসম্ভারের প্রথম সংকলনটি প্রকাশিত হয় জাহানে দিদা নামে। এর পর তিনি দুনিয়া মেরে আগেসফর দর সফর নামে আরও দুটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এ তিনটি গ্রন্থে তিনি পৃথিবীর নানা স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট জায়গার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও বিশেষ ব্যক্তিবর্গের জীবনকথা তুলে ধরেছেন। তাঁর এ সফরনামা বাংলা ভাষায় চারটি কলেবরে প্রকাশিত হয়েছে। 

এ ভ্রমণকাহিনি সম্পর্কে তকি উসমানি বলেন, ‘আমার ভ্রমণকাহিনিতে ভ্রমণবৃত্তান্ত কম ছিল এবং ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বিষয়ে আলোচনাই ছিল বেশি। এই গ্রন্থে আমার এ পর্যন্ত লিখিত গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণকাহিনিগুলো সন্নিবেশিত হলো। ভ্রমণকাহিনিগুলো সফরের ধারাক্রমে বিন্যস্ত হয়নি; বরং আগে ইসলামি বিশ্বের এবং পরে অমুসলিম দেশগুলোর ভ্রমণকাহিনি পরিবেশিত হয়েছে।’

প্রথম খণ্ডে দজলা-ফোরাতের তীরে, মিসর ও আলজেরিয়ায় কয়েক দিন, সুলতান সালাহুদ্দিনের কেল্লা, উহুদ থেকে কাসিয়ুন, রোম স্টেডিয়াম, আসহাবে কাহাফের গুহা এবং দামেস্ক নগরীর বিবরণ রয়েছে। 

দ্বিতীয় খণ্ডে তুর্কিস্তান ভ্রমণ, দ্বীপের দেশে, বাংলাদেশে কয়েক দিন, কাতার সিরাত সম্মেলন, চীন ভ্রমণ, আমেরিকা ও ইউরোপ, ভারত সফর, দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি সফর ও পাশ্চাত্য জগতে তিন সপ্তাহের আলোচনা রয়েছে। 

তৃতীয় খণ্ডে স্পেনে কয়েক দিন, ব্রুনাই সফর, তুরস্কে কয়েক দিন, পাশ্চাত্যে দুই সপ্তাহ, রিইউনিয়ন দ্বীপে, দক্ষিণ আফ্রিকায়, দক্ষিণ আফ্রিকায় মুসলিম, সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহের শহরে, বিশ্ব-পরিভ্রমণ, অস্ট্রেলিয়ায় কয়েক দিন, মালয়েশিয়ায় কয়েক দিন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণ, এক সপ্তাহ : আয়ারল্যান্ড ও অক্সফোর্ডে, ইয়েমেনের সানআ নগরীতে, মধ্যরাতের সূর্য এবং জার্মানি ও ইতালিতে ভ্রমণ বিষয়ে বর্ণনা আছে।

চতুর্থ খণ্ডে সূর্যোদয়ের দেশ ফিজিতে একটি ভ্রমণ, ইরানে এক সপ্তাহ, নিউজিল্যান্ডে একটি ভ্রমণ, দ্বিতীয়বার সিরিয়ায় ভ্রমণ, কিরগিজিস্তান ভ্রমণ, আলবেনিয়ায় কয়েক দিন, রাশিয়ায় নয় দিন, জাপানে দশ দিন, ল্যাটিন আমেরিকায় ভ্রমণ, তাজিকিস্তান ভ্রমণ, ভারত ভ্রমণ এবং জর্দান ভ্রমণের কথা তুলে ধরা হয়েছে। 

বইটির প্রথম খণ্ডের অনুবাদ করেছেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক, দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ডের অনুবাদ করেছেন আবদুস সাত্তার আইনী এবং চতুর্থ খণ্ডের অনুবাদ করেছেন কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক। হার্ডকভারের রুচিশীল বাধাই ও মানসম্মত মুদ্রণে বইটি প্রকাশ করেছে মাকতাবাতুল ইসলাম। ৪ খণ্ডের এ বইয়ে মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪১৬। দেশের অভিজাত সব লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন অনলাইন বুকশপে বইটি পাওয়া যায়। সরাসরি মাকতাবাতুল ইসলাম থেকে বইটি কিনতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেইজে

বই: দেশ দেশান্তর
লেখক: শায়খুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মাদ তকি উসমানি
অনুবাদক: আব্দুল্লাহ আল ফারুক, আবদুস সাত্তার আইনী ও কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক
প্রকাশক: মাকতাবাতুল ইসলাম 
পৃষ্ঠা: ৩৬০ (১ খণ্ড), ৩২৮ (২ খণ্ড), ৩৮৪ (৩য় খণ্ড), ৩৪৪ (৪র্থ খণ্ড) 
মুদ্রিত মূল্য: ২৬৯০ টাকা (৪ খণ্ড) 
মোবাইল: ০১৯১১৬২০৪৪৭

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

কুকুর কেনাবেচা করা কি জায়েজ?

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩০ পিএম
কুকুর কেনাবেচা করা কি জায়েজ?
কুকুরের ছবি। ইন্টারনেট

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘(তাদের দেখলে) তুমি মনে করতে ওরা জাগ্রত, কিন্তু ওরা ছিল ঘুমন্ত। আমি ওদের পার্শ্ব পরিবর্তন করাতাম ডানে ও বামে। ওদের (পাহারাদার) কুকুর ছিল—সামনের পা দুটি গুহার প্রবেশমুখে প্রসারিত করে। তাদের দিকে তাকালে তুমি পেছন ফিরে পালিয়ে যেতে এবং তাদের ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়তে।’ (সুরা কাহফ, আয়াত: ১৮) 

এখানে কুকুর সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা বলা হয়েছে। কয়েকটি কারণে কুকুর পালন বৈধ। যথা—শিকারের উদ্দেশ্যে, ফসল হেফাজতের উদ্দেশ্যে, পাহারাদারির জন্য, ছাগল-ভেড়া ইত্যাদির হেফাজতের লক্ষ্যে, ঘরবাড়ি, দোকান ও অফিস পাহারার জন্য, অপরাধের উৎস সন্ধান ও অপরাধীকে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া, খণ্ড: ১৮, পৃষ্ঠা: ২৬৪)

পাহারার জন্য কুকুর রাখা এবং কেনাবেচা করা বৈধ। এর মূল্য বিক্রেতার জন্য ভোগ করতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে সখের বশবর্তী হয়ে কিংবা বিজাতীয় ফ্যাশন অবলম্বনে কুকুর রাখা বা লালনপালন করা জায়েজ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে কুকুর থাকে অথবা কোনো ধরনের (প্রাণীর) ছবি থাকে সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৯৪৯)

সুতরাং পাহারা বা শিকারের প্রয়োজন ছাড়া কুকুর লালন-পালন করা যাবে না। (ফাতহুল কাদির, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ২৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১১৪) 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

হালাল-হারামের বিধান জানার অনন্য বই ‘হালাল-হারামের বিধান’

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৩ এএম
হালাল-হারামের বিধান জানার অনন্য বই ‘হালাল-হারামের বিধান’
হালাল-হারামের বিধান বইয়ের ছবি। সংগৃহীত

আপনি কি হালাল-হারামের মূলনীতিগুলো জানেন? কোন পানীয় ও কোন খাবার হারাম—তা কি আপনার জানা আছে? কোন ধরনের পোশাক পরতে পারবেন, সাজসজ্জার ক্ষেত্রে ইসলামের নীতিমালা, উপার্জন ও পেশাতে বৈধ-অবৈধতার সীমারেখা এবং পরিবার ও সমাজজীবনে হালাল-হারামের কি বিধান রয়েছে—সে সম্পর্কে কি আপনার জানা আছে? জীবনের সবকিছুর ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিধান জানতে সংগ্রহ করুন ড. ইউসুফ আল-কারযাবি (রহ.)-এর বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো গ্রন্থ হালাল-হারামের বিধান। 

মুসলিম হিসেবে হালাল-হারামের ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা আবশ্যক। অবশ্য কিছু বিষয়ের হালাল-হারাম হওয়া নিয়ে কখনো কখনো বেশ দ্বন্দ্বে পড়ে যাই আমরা। এটা হালাল হলে ওটা হারাম কেন, এভাবে হারাম হলে ওভাবে হালাল কেন—এ জাতীয় নানা প্রশ্ন আমাদের মাথায় ঘুরতে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়ি আমরা। অথচ কোনো কিছুর হালাল কিংবা হারাম সাব্যস্ত হওয়ার যে সামান্য কিছু মূলনীতি রয়েছে, সেগুলো জানা থাকলে এ অবস্থা থেকে অনেকাংশেই বেঁচে থাকা সম্ভব।

একজন মুসলিমের জন্য কোন কাজটি হালাল আর কোনটি হারাম, কোন কাজ এক জায়গায় জায়েজ হলেও অন্য জায়গায় বা অন্য সময়ে নাজায়েজ, কোনো কাজ জায়েজ এবং নাজায়েজ হওয়ার কারণগুলোই বা কী? ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক-জীবনঘনিষ্ঠ এমন অসংখ্য বিষয়ের বাস্তবধর্মী আলোচনা নিয়ে রচিত এ বই। 

ড. ইউসুফ কারযাবি (রহ.)-এর নাম শোনেনি এমন মুসলিম খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তার কাজ তাকে এনে দিয়েছে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি। হালাল-হারাম তার সবচেয়ে বিখ্যাত বই। জীবন থেকে নেওয়া উপমা, উপস্থাপনের সারল্য, সর্বাধুনিক বিষয়াবলির সন্নিবেশ আর জনসাধারণের উপযোগী বিশ্লেষণ এই বইয়ের স্বাতন্ত্র্য। এই বইয়ের পাঠকপ্রিয়তার মূল রহস্য—বইটি সহজ এবং সবার জন্য উপযোগী। তাই প্রকাশের পর থেকে অদ্যাবধি চলমান রয়েছে এর পঠন-পাঠন ও বিশ্লেষণ। বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এ বই; ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে।

এ বইয়ে চারটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে হালাল-হারামের ক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি, দ্বিতীয় অধ্যায়ে দৈনন্দিন জীবনে হালাল-হারাম, তৃতীয় অধ্যায়ে পারিবারিক ও দাম্পত্যজীবনে হালাল-হারাম ও চতুর্থ অধ্যায়ে সামাজিক জীবনে হালাল-হারামের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। প্রতিটি আলোচনা ও মাসয়ালার সঙ্গে কোরআন-হাদিস ও নির্ভরযোগ্য কিতাবের রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে। 

এ গ্রন্থ রচনায় ড. কারযাবি হালাল-হারামের বিধানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো মাজহাব অনুসরণ করেননি। এ ব্যাপারে তিনি প্রসিদ্ধ চার মাজহাবের মতগুলোর মধ্যে তার দৃষ্টিতে তুলনামূলক শক্তিশালী মত গ্রহণ করেছেন। হাতেগোনা কিছু মাসয়ালায় তিনি চার মাজহাবের বাইরে গিয়ে ভিন্নমত গ্রহণ করেছেন এবং কিছু মাসয়ালায় তিনি শিথিলতা দেখিয়েছেন। সেসব স্থানে সমকালীন প্রকাশন টীকার মাধ্যমে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতের কথা উল্লেখ করে দিয়েছে। 

৬৩২ পৃষ্ঠার হার্ডকভারের রুচিশীল বাধাই ও মানসম্মত মুদ্রণে বইটি প্রকাশ করেছে সমকালীন প্রকাশন। ভাষান্তর করেছেন আসাদুল্লাহ ফুয়াদ। দেশের অভিজাত সব লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন অনলাইন বুকশপে বইটি পাওয়া যায়। সরাসরি সমকালীন প্রকাশন থেকে বইটি কিনতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেইজে।   

বই: হালাল-হারামের বিধান
লেখক: ড. ইউসুফ কারযাবি
ভাষান্তর: আসাদুল্লাহ ফুয়াদ
প্রকাশক: সমকালীন প্রকাশন 
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩২
মুদ্রিত মূল্য: ৮৯০/- টাকা
মোবাইল: ০১৪০৯৮০০৯০০

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

 

অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট বিক্রি করা যাবে?

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩০ পিএম
অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট বিক্রি করা যাবে?
প্রতীকী ছবি

আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন, সুদ হারাম করেছেন। ব্যবসায় জীবনের বরকত রয়েছে। রিজিকের স্বচ্ছতা ও সচ্ছলতা রয়েছে। তবে ব্যবসা করতে গিয়ে হারামে জড়ানো যাবে না। অন্যায়ভাবে কারও সম্পদ গ্রাস করা যাবে না। 

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকের কাছে পেশ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য কারও ক্ষতিসাধন করে, আল্লাহতায়ালা তা দিয়েই তার ক্ষতিসাধন করেন। যে ব্যক্তি অন্যকে কষ্ট দেয়, আল্লাহতায়ালা তাকে কষ্টের মধ্যে ফেলেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১৯৪০)

ক্রয় করা মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট বিক্রি করা জায়েজ নয়। কেউ অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করলে ক্রেতার ঠিকানা জানা থাকলে তাকে অতিরিক্ত টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে। আর মালিক জানা না থাকলে কোনো গরিবকে সদকা করে দিতে হবে। সে টাকা বিক্রেতার ব্যবহার করা কোনো অবস্থায়ই বৈধ নয়। (বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৭৬; আলবাহরুর রায়েক, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ৩০৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ অন্যের ক্ষতি করলে আল্লাহ তার ক্ষতিসাধন করবেন। কেউ অযৌক্তিকভাবে কারও বিরোধিতা করলে আল্লাহ তার বিরোধী হবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৬৩৫)

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

মৃত্যুর পরের জীবন জানতে পড়ুন ‘মরণের পরে কী হবে’ বইটি

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:০০ এএম
মৃত্যুর পরের জীবন জানতে পড়ুন ‘মরণের পরে কী হবে’ বইটি
মরণের পরে কী হবে বইয়ের ছবি। সংগৃহীত

যে জন্মেছে, সে মরবেই। মৃত্যুকে ভুলে থাকা যায়, কিন্তু এর থেকে পালিয়ে বেড়ানো যায় না। মৃত্যুর পরই শুরু হবে মানুষের চিরস্থায়ী জীবন। যে জীবনের শুরু আছে, শেষ নেই। মৃত্যুর পর কী হবে, কেমন কাটবে মানুষের জীবন, মানুষ কোথায়, কীভাবে, কত দিন থাকবে—এসবের কতটুকু আমরা জানি। হাশর-নাশর, হিসাব-নিকাশের দিনের অবস্থাই-বা কতটা ভয়াবহ হবে—কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক এসব বিষয়ে জানতে সংগ্রহ করুন মাওলানা মুহাম্মাদ আশেক এলাহী বুলন্দশহরী (রহ.) রচিত মরণের পরে কী হবে বইটি।

মানুষ পৃথিবীতে স্বল্প সময় অবস্থান করলেও তার যাত্রা সীমাহীন। ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষই পার্থিব জীবনের বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। কিন্তু চিরস্থায়ী জীবন তথা পরকালীন জীবন ও তার বিষয়াদি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই অজ্ঞ। তাই বলে পরজগতের ব্যাপারে এবং আত্মার যাত্রা সম্পর্কে তার জানার আগ্রহ শেষ হয়ে যায়নি। আখেরাত সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতার কারণেই মানুষ আল্লাহর পথ থেকে অনেক দূরে। দুনিয়ার কোনো সম্পদ দেখতে পেলে সেদিকেই দ্রুত অগ্রসর হয় এবং পরকালের নেয়ামত ও আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর একে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এসব মানুষের কথা চিন্তা করে এ বইয়ে এমন বিষয়সমূহের অনুসন্ধান ও আলোচনা করা হলো—যা অন্তরে ভয়ের সঞ্চার ও চোখে অশ্রু প্রবাহিত করবে এবং পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। 

এ বইয়ে কোরআন-সুন্নাহ এবং অতীত জাতির অবস্থা এবং তাদের উপদেশসমূহের ওপর গভীরভাবে দৃষ্টি দিয়ে কিছু শিক্ষণীয় বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এ বই প্রত্যেকের জন্য জীবন চলার পাথেয় হয়ে থাকবে এবং পরকালে সবার জন্য আমলে বা সৎকর্ম হিসেবে পরিগণিত হবে। 

এ বইয়ে চারটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে কবর সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা, দ্বিতীয় অধ্যায়ে জাহান্নামের আদ্যোপান্তের বিবরণ, তৃতীয় অধ্যায়ে হাশর ও কিয়ামতের অবস্থার বর্ণনা এবং চতুর্থ অধ্যায়ে জান্নাতের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। 

বইটি অনুবাদ করেছেন মাওলানা শহীদুল্লাহ আড়াইহাজারী। বইটি প্রকাশ করেছে রুচিশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আনোয়ার লাইব্রেরি। বইয়ের মোট পৃষ্ঠা ২৬৩। বাংলাবাজার ইসলামী টাওয়ারে অবস্থিত আনোয়ার লাইব্রেরির আউটলেট এবং অনলাইন থেকে সরাসরি বইটি কিনতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেইজ

বই: মরণের পরে কী হবে
লেখক: মাওলানা মুহাম্মাদ আশেক এলাহী বুলন্দশহরী (রহ.)
অনুবাদ: মাওলানা শহীদুল্লাহ আড়াইহাজারী
প্রকাশক: আনোয়ার লাইব্রেরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৩
মুদ্রিত মূল্য: ৩৬০/- টাকা
মোবাইল: ০১৯১৩৬৮০০১০

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সফরের কাজা নামাজ মুকিম অবস্থায় কীভাবে পড়ব?

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩০ পিএম
সফরের কাজা নামাজ মুকিম অবস্থায় কীভাবে পড়ব?
প্রার্থনারত এক মুসল্লির ছবি। ইন্টারনেট

নামাজ দ্বীনের খুঁটি। তাঁবুর জন্য যেমন খুঁটি প্রয়োজন, ইসলামের জন্য তেমন নামাজ প্রয়োজন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামের বুনিয়াদ পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এক. আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা। দুই. নামাজ কায়েম করা। তিন. জাকাত আদায় করা। চার. রমজানের রোজা পালন করা। পাঁচ. হজ করা।’ (বুখারি, হাদিস: ৮) 

আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দাদের বলো, যারা ঈমান এনেছে তারা যেন নামাজ প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপন ও প্রকাশ্য ব্যয় করে, ওই দিন আসার আগে; যে দিন কোনো বেচাকেনা থাকবে না এবং থাকবে না বন্ধুত্বও।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৩১)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া প্রাপ্তবয়স্ক মুমিন-মুসলমানের ওপর ফরজ। নামাজ ত্যাগের কোনো সুযোগ নেই ইসলামে। তবে সফর অবস্থায় নামাজের রাকাত কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সফরে শরিয়ত নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করলে চার রাকাত ফরজ নামাজের স্থানে দুই রাকাত পড়তে হয়। 
সফর অবস্থায় চার রাকাত নামাজ ছুটে গেলে মুকিম (বাড়িতে অবস্থানকালে) অবস্থায় দুই রাকাতই পড়তে হবে; চার রাকাত নয়। কারণ সফর অবস্থায় চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজ কাজা হয়ে গেলে মুকিম অবস্থায় তা আদায় করলেও দুই রাকাতই আদায় করতে হয়। 

সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুকিম অবস্থায় নামাজ আদায় করতে ভুলে গেছে, অতপর সফর অবস্থায় স্মরণ হলে এই নামাজ চার রাকাতই আদায় করবে। আর যে সফর অবস্থায় নামাজ আদায় করতে ভুলে গেছে, মুকিম অবস্থায় হলে সে দুই রাকাতই আদায় করবে।’ (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, বর্ণনা: ৪৩৮৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫২৩)

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক