ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

প্রিমিয়াম পরিশোধ করে ইনস্যুরেন্স সুবিধা নেওয়া যাবে?

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩০ পিএম
প্রিমিয়াম পরিশোধ করে ইনস্যুরেন্স সুবিধা নেওয়া যাবে?
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট

আমাদের কাছে প্রায়ই মানুষ জীবনঘনিষ্ঠ বিভিন্ন মাসয়ালার উত্তর জানতে চান। বিভিন্ন সমস্যার সমাধান চান। যেমন একজন জানতে চেয়েছেন, তিনি একটি গাড়ি কিনেছেন। ভবিষ্যতে গাড়ির সমস্যার কথা ভেবে কোম্পানির সঙ্গে ইনস্যুরেন্স করেছেন। তিনি এভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, যদি তার গাড়ি কোনো এক্সিডেন্ট বা ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তাহলে তার ক্ষতিপূরণ কোম্পানি বহন করবে এবং এজন্য তিনি নির্দিষ্টহারে প্রিমিয়াম পরিশোধ করবেন। তবে গাড়ির কোনো সমস্যা না হলে তিনি জমা করা টাকার বিনিময়ে কিছুই ফেরত পাবেন না। এমন ইনস্যুরেন্স সুবিধা গ্রহণের ব্যাপারে ইসলামের দিকনির্দেশনা কী? 

প্রচলিত ধারার ইনস্যুরেন্স শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। কেননা রিবা (সুদ), কিমার ও গরার (ধোঁকা)—এ তিনটিই ইনস্যুরেন্সে রয়েছে। যার প্রত্যেকটি ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং যা কিছু সুদ কারও কাছে বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও; যদি তোমরা মুমিন হও। যদি তা না করো তবে আল্লাহ ও তার রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৮-২৭৯)

জাবের (রা.) বলেন, “নবি (সা.) ‘রিবা’ তথা সুদ গ্রহীতা, সুদদাতা, সুদি চুক্তির লেখক এবং সুদি লেনদেনের সাক্ষী সবাইকে অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন, তারা সবাই সমান।” (মুসলিম, হাদিস: ১৫৯৮)

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, পূজার বস্তু ও জুয়ার তির এসবই অপবিত্র, শয়তানের কাজ। অতএব, এসব থেকে দূরে থাকো। যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৯০)

সুতরাং মুসলমানদের ইনস্যুরেন্স করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। তবে যদি কোনো ক্ষেত্রে ইনস্যুরেন্স করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে, তাহলে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতিকে বিস্তারিত জানিয়ে মাসয়ালা গ্রহণ করবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে। (ফিকহুন নাওয়াজেল, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২৬৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১৬১)

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

হালাল-হারামের বিধান জানার অনন্য বই ‘হালাল-হারামের বিধান’

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৩ এএম
হালাল-হারামের বিধান জানার অনন্য বই ‘হালাল-হারামের বিধান’
হালাল-হারামের বিধান বইয়ের ছবি। সংগৃহীত

আপনি কি হালাল-হারামের মূলনীতিগুলো জানেন? কোন পানীয় ও কোন খাবার হারাম—তা কি আপনার জানা আছে? কোন ধরনের পোশাক পরতে পারবেন, সাজসজ্জার ক্ষেত্রে ইসলামের নীতিমালা, উপার্জন ও পেশাতে বৈধ-অবৈধতার সীমারেখা এবং পরিবার ও সমাজজীবনে হালাল-হারামের কি বিধান রয়েছে—সে সম্পর্কে কি আপনার জানা আছে? জীবনের সবকিছুর ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিধান জানতে সংগ্রহ করুন ড. ইউসুফ আল-কারযাবি (রহ.)-এর বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো গ্রন্থ হালাল-হারামের বিধান। 

মুসলিম হিসেবে হালাল-হারামের ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা আবশ্যক। অবশ্য কিছু বিষয়ের হালাল-হারাম হওয়া নিয়ে কখনো কখনো বেশ দ্বন্দ্বে পড়ে যাই আমরা। এটা হালাল হলে ওটা হারাম কেন, এভাবে হারাম হলে ওভাবে হালাল কেন—এ জাতীয় নানা প্রশ্ন আমাদের মাথায় ঘুরতে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়ি আমরা। অথচ কোনো কিছুর হালাল কিংবা হারাম সাব্যস্ত হওয়ার যে সামান্য কিছু মূলনীতি রয়েছে, সেগুলো জানা থাকলে এ অবস্থা থেকে অনেকাংশেই বেঁচে থাকা সম্ভব।

একজন মুসলিমের জন্য কোন কাজটি হালাল আর কোনটি হারাম, কোন কাজ এক জায়গায় জায়েজ হলেও অন্য জায়গায় বা অন্য সময়ে নাজায়েজ, কোনো কাজ জায়েজ এবং নাজায়েজ হওয়ার কারণগুলোই বা কী? ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক-জীবনঘনিষ্ঠ এমন অসংখ্য বিষয়ের বাস্তবধর্মী আলোচনা নিয়ে রচিত এ বই। 

ড. ইউসুফ কারযাবি (রহ.)-এর নাম শোনেনি এমন মুসলিম খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তার কাজ তাকে এনে দিয়েছে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি। হালাল-হারাম তার সবচেয়ে বিখ্যাত বই। জীবন থেকে নেওয়া উপমা, উপস্থাপনের সারল্য, সর্বাধুনিক বিষয়াবলির সন্নিবেশ আর জনসাধারণের উপযোগী বিশ্লেষণ এই বইয়ের স্বাতন্ত্র্য। এই বইয়ের পাঠকপ্রিয়তার মূল রহস্য—বইটি সহজ এবং সবার জন্য উপযোগী। তাই প্রকাশের পর থেকে অদ্যাবধি চলমান রয়েছে এর পঠন-পাঠন ও বিশ্লেষণ। বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এ বই; ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে।

এ বইয়ে চারটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে হালাল-হারামের ক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি, দ্বিতীয় অধ্যায়ে দৈনন্দিন জীবনে হালাল-হারাম, তৃতীয় অধ্যায়ে পারিবারিক ও দাম্পত্যজীবনে হালাল-হারাম ও চতুর্থ অধ্যায়ে সামাজিক জীবনে হালাল-হারামের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। প্রতিটি আলোচনা ও মাসয়ালার সঙ্গে কোরআন-হাদিস ও নির্ভরযোগ্য কিতাবের রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে। 

এ গ্রন্থ রচনায় ড. কারযাবি হালাল-হারামের বিধানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো মাজহাব অনুসরণ করেননি। এ ব্যাপারে তিনি প্রসিদ্ধ চার মাজহাবের মতগুলোর মধ্যে তার দৃষ্টিতে তুলনামূলক শক্তিশালী মত গ্রহণ করেছেন। হাতেগোনা কিছু মাসয়ালায় তিনি চার মাজহাবের বাইরে গিয়ে ভিন্নমত গ্রহণ করেছেন এবং কিছু মাসয়ালায় তিনি শিথিলতা দেখিয়েছেন। সেসব স্থানে সমকালীন প্রকাশন টীকার মাধ্যমে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতের কথা উল্লেখ করে দিয়েছে। 

৬৩২ পৃষ্ঠার হার্ডকভারের রুচিশীল বাধাই ও মানসম্মত মুদ্রণে বইটি প্রকাশ করেছে সমকালীন প্রকাশন। ভাষান্তর করেছেন আসাদুল্লাহ ফুয়াদ। দেশের অভিজাত সব লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন অনলাইন বুকশপে বইটি পাওয়া যায়। সরাসরি সমকালীন প্রকাশন থেকে বইটি কিনতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেইজে।   

বই: হালাল-হারামের বিধান
লেখক: ড. ইউসুফ কারযাবি
ভাষান্তর: আসাদুল্লাহ ফুয়াদ
প্রকাশক: সমকালীন প্রকাশন 
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩২
মুদ্রিত মূল্য: ৮৯০/- টাকা
মোবাইল: ০১৪০৯৮০০৯০০

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

 

অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট বিক্রি করা যাবে?

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩০ পিএম
অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট বিক্রি করা যাবে?
প্রতীকী ছবি

আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন, সুদ হারাম করেছেন। ব্যবসায় জীবনের বরকত রয়েছে। রিজিকের স্বচ্ছতা ও সচ্ছলতা রয়েছে। তবে ব্যবসা করতে গিয়ে হারামে জড়ানো যাবে না। অন্যায়ভাবে কারও সম্পদ গ্রাস করা যাবে না। 

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকের কাছে পেশ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য কারও ক্ষতিসাধন করে, আল্লাহতায়ালা তা দিয়েই তার ক্ষতিসাধন করেন। যে ব্যক্তি অন্যকে কষ্ট দেয়, আল্লাহতায়ালা তাকে কষ্টের মধ্যে ফেলেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১৯৪০)

ক্রয় করা মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট বিক্রি করা জায়েজ নয়। কেউ অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করলে ক্রেতার ঠিকানা জানা থাকলে তাকে অতিরিক্ত টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে। আর মালিক জানা না থাকলে কোনো গরিবকে সদকা করে দিতে হবে। সে টাকা বিক্রেতার ব্যবহার করা কোনো অবস্থায়ই বৈধ নয়। (বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৭৬; আলবাহরুর রায়েক, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ৩০৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ অন্যের ক্ষতি করলে আল্লাহ তার ক্ষতিসাধন করবেন। কেউ অযৌক্তিকভাবে কারও বিরোধিতা করলে আল্লাহ তার বিরোধী হবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৬৩৫)

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

মৃত্যুর পরের জীবন জানতে পড়ুন ‘মরণের পরে কী হবে’ বইটি

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:০০ এএম
মৃত্যুর পরের জীবন জানতে পড়ুন ‘মরণের পরে কী হবে’ বইটি
মরণের পরে কী হবে বইয়ের ছবি। সংগৃহীত

যে জন্মেছে, সে মরবেই। মৃত্যুকে ভুলে থাকা যায়, কিন্তু এর থেকে পালিয়ে বেড়ানো যায় না। মৃত্যুর পরই শুরু হবে মানুষের চিরস্থায়ী জীবন। যে জীবনের শুরু আছে, শেষ নেই। মৃত্যুর পর কী হবে, কেমন কাটবে মানুষের জীবন, মানুষ কোথায়, কীভাবে, কত দিন থাকবে—এসবের কতটুকু আমরা জানি। হাশর-নাশর, হিসাব-নিকাশের দিনের অবস্থাই-বা কতটা ভয়াবহ হবে—কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক এসব বিষয়ে জানতে সংগ্রহ করুন মাওলানা মুহাম্মাদ আশেক এলাহী বুলন্দশহরী (রহ.) রচিত মরণের পরে কী হবে বইটি।

মানুষ পৃথিবীতে স্বল্প সময় অবস্থান করলেও তার যাত্রা সীমাহীন। ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষই পার্থিব জীবনের বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। কিন্তু চিরস্থায়ী জীবন তথা পরকালীন জীবন ও তার বিষয়াদি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই অজ্ঞ। তাই বলে পরজগতের ব্যাপারে এবং আত্মার যাত্রা সম্পর্কে তার জানার আগ্রহ শেষ হয়ে যায়নি। আখেরাত সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতার কারণেই মানুষ আল্লাহর পথ থেকে অনেক দূরে। দুনিয়ার কোনো সম্পদ দেখতে পেলে সেদিকেই দ্রুত অগ্রসর হয় এবং পরকালের নেয়ামত ও আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর একে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এসব মানুষের কথা চিন্তা করে এ বইয়ে এমন বিষয়সমূহের অনুসন্ধান ও আলোচনা করা হলো—যা অন্তরে ভয়ের সঞ্চার ও চোখে অশ্রু প্রবাহিত করবে এবং পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। 

এ বইয়ে কোরআন-সুন্নাহ এবং অতীত জাতির অবস্থা এবং তাদের উপদেশসমূহের ওপর গভীরভাবে দৃষ্টি দিয়ে কিছু শিক্ষণীয় বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এ বই প্রত্যেকের জন্য জীবন চলার পাথেয় হয়ে থাকবে এবং পরকালে সবার জন্য আমলে বা সৎকর্ম হিসেবে পরিগণিত হবে। 

এ বইয়ে চারটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে কবর সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা, দ্বিতীয় অধ্যায়ে জাহান্নামের আদ্যোপান্তের বিবরণ, তৃতীয় অধ্যায়ে হাশর ও কিয়ামতের অবস্থার বর্ণনা এবং চতুর্থ অধ্যায়ে জান্নাতের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। 

বইটি অনুবাদ করেছেন মাওলানা শহীদুল্লাহ আড়াইহাজারী। বইটি প্রকাশ করেছে রুচিশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আনোয়ার লাইব্রেরি। বইয়ের মোট পৃষ্ঠা ২৬৩। বাংলাবাজার ইসলামী টাওয়ারে অবস্থিত আনোয়ার লাইব্রেরির আউটলেট এবং অনলাইন থেকে সরাসরি বইটি কিনতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেইজ

বই: মরণের পরে কী হবে
লেখক: মাওলানা মুহাম্মাদ আশেক এলাহী বুলন্দশহরী (রহ.)
অনুবাদ: মাওলানা শহীদুল্লাহ আড়াইহাজারী
প্রকাশক: আনোয়ার লাইব্রেরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৩
মুদ্রিত মূল্য: ৩৬০/- টাকা
মোবাইল: ০১৯১৩৬৮০০১০

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সফরের কাজা নামাজ মুকিম অবস্থায় কীভাবে পড়ব?

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩০ পিএম
সফরের কাজা নামাজ মুকিম অবস্থায় কীভাবে পড়ব?
প্রার্থনারত এক মুসল্লির ছবি। ইন্টারনেট

নামাজ দ্বীনের খুঁটি। তাঁবুর জন্য যেমন খুঁটি প্রয়োজন, ইসলামের জন্য তেমন নামাজ প্রয়োজন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামের বুনিয়াদ পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এক. আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা। দুই. নামাজ কায়েম করা। তিন. জাকাত আদায় করা। চার. রমজানের রোজা পালন করা। পাঁচ. হজ করা।’ (বুখারি, হাদিস: ৮) 

আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দাদের বলো, যারা ঈমান এনেছে তারা যেন নামাজ প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপন ও প্রকাশ্য ব্যয় করে, ওই দিন আসার আগে; যে দিন কোনো বেচাকেনা থাকবে না এবং থাকবে না বন্ধুত্বও।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৩১)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া প্রাপ্তবয়স্ক মুমিন-মুসলমানের ওপর ফরজ। নামাজ ত্যাগের কোনো সুযোগ নেই ইসলামে। তবে সফর অবস্থায় নামাজের রাকাত কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সফরে শরিয়ত নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করলে চার রাকাত ফরজ নামাজের স্থানে দুই রাকাত পড়তে হয়। 
সফর অবস্থায় চার রাকাত নামাজ ছুটে গেলে মুকিম (বাড়িতে অবস্থানকালে) অবস্থায় দুই রাকাতই পড়তে হবে; চার রাকাত নয়। কারণ সফর অবস্থায় চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজ কাজা হয়ে গেলে মুকিম অবস্থায় তা আদায় করলেও দুই রাকাতই আদায় করতে হয়। 

সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুকিম অবস্থায় নামাজ আদায় করতে ভুলে গেছে, অতপর সফর অবস্থায় স্মরণ হলে এই নামাজ চার রাকাতই আদায় করবে। আর যে সফর অবস্থায় নামাজ আদায় করতে ভুলে গেছে, মুকিম অবস্থায় হলে সে দুই রাকাতই আদায় করবে।’ (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, বর্ণনা: ৪৩৮৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫২৩)

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

 

কেয়ামতের আলামত জানতে পড়ুন ‘কেয়ামত’ বইটি

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৪৮ এএম
কেয়ামতের আলামত জানতে পড়ুন ‘কেয়ামত’ বইটি
কেয়ামত বইয়ের ছবি। ইন্টারনেট

হাদিসে কিয়ামতের প্রাথমিক যেসব আলামতের কথা বলা হয়েছে তার প্রায় সবই বর্তমান যুগে স্পষ্টরূপে দৃশ্যমান। অথচ মানুষ দিন দিন আরও অধিকহারে আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত হচ্ছে। সমাজে গুনাহের প্লাবন বয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে কিছু লোক কেয়ামতের বড় কিছু আলামতকে অস্বীকার করে বসেছে। দাজ্জাল ও ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব এবং ইসা (আ.)-এর পুনরাগমনকে অস্বীকার করা হচ্ছে। অনেকে দাজ্জাল ও ইয়াজুজ-মাজুজের মনগড়া ব্যাখ্যাও দিচ্ছে। বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে এ সংক্রান্ত দলিলভিত্তিক ও গ্রহণযোগ্য একটি অনন্য বই কেয়ামত। 

এ বই পাঠে পাপাচারের আঁধারে ঢেকে-যাওয়া পৃথিবীর অধিবাসীরা কেয়ামতের ভয়াবহতা অনুধাবন করতে পারবে। তারা সচেতন ও আখেরাতমুখী হতে পারবে। এ বই পাঠে জানতে পারবে কেয়ামতের আলামত ও ঘটনাপ্রবাহ, ইমাম মাহদি ও দাজ্জাল সম্পর্কে, কেয়ামতের আগে কী হবে ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর এবং ইসা (আ.)-এর পুনরাগমনের ব্যাপারে। 

কেয়ামত বইটি কেয়ামত সে পহলে কিয়া হুগার বাংলা অনুবাদ। এটি বিখ্যাত কয়েকজন মনীষীর ৯টি পুস্তিকা নিয়ে গ্রন্থিত একটি সমৃদ্ধ সংকলন। এতে স্থান পেয়েছে শায়খ শাহ রফিউদ্দিন, শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানি, শায়খ সাইয়েদ বদরে আলম, শায়খ মুফতি মুহাম্মাদ শফি, শায়খ ইউসুফ লুধয়ানবি, শায়খ মুহাম্মাদ ওয়ালি রাজি (রহ.) ও শায়খ আবদুল্লাহ (দা.বা.)-এর লেখা। 

এ বইয়ে সাতটি সিরিজ রয়েছে। প্রথম সিরিজে কেয়ামতের আলামত ও ঘটনাপ্রবাহ, দ্বিতীয় সিরিজে হাদিসের আলোকে কেয়ামতের আগে কী হবে, তৃতীয় সিরিজে সহিহ হাদিসের আলোকে ইমাম মাহদি, চতুর্থ সিরিজে ইয়াজুজ-মাজুজ ও জুলকারনাইনের প্রাচীর, পঞ্চম সিরিজে ইসা (আ.)-এর পুনরাগমনের আকিদা ভূমিকা, ষষ্ঠ সিরিজে হাদিসের আলোকে দাজ্জালি ফেতনা ও সপ্তম সিরিজে হাদিসের দর্পণে বর্তমান যুগের বিবরণ রয়েছে। 

মোটকথা, এটি কেয়ামতের ছোট-বড় নিদর্শন, জান্নাত-জাহান্নাম-আখেরাত, হজরত ইসা (আ.)-এর পুনরাগমন, ইমাম মাহদি, দাজ্জাল এবং ইয়াজুজ-মাজুজ ইত্যাদি বিষয়ক বিস্তারিত ও প্রামাণ্য প্রন্থ।  

৩৯৬ পৃষ্ঠার বইটি প্রকাশ করছে মাকতাবাতুল ইসলাম। অনুবাদ করেছেন মুহাম্মাদ রাইহান খায়রুল্লাহ। দেশের অভিজাত সব লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন অনলাইন বুকশপে বইটি পাওয়া যায়। সরাসরি মাকতাবাতুল ইসলাম থেকে বইটি কিনতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেইজে

বই: কেয়ামত
লেখক: সাত বিশিষ্ট লেখক
অনুবাদক: মুহাম্মাদ রাইহান খায়রুল্লাহ
প্রকাশক: মাকতাবাতুল ইসলাম 
পৃষ্ঠা: ৩৯৬
মুদ্রিত মূল্য: ৬৯০/- টাকা
মোবাইল: ০১৯১১৬২০৪৪৭

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক