ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

হালাল-হারামের বিধান জানার অনন্য বই ‘হালাল-হারামের বিধান’

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৩ এএম
হালাল-হারামের বিধান জানার অনন্য বই ‘হালাল-হারামের বিধান’
হালাল-হারামের বিধান বইয়ের ছবি। সংগৃহীত

আপনি কি হালাল-হারামের মূলনীতিগুলো জানেন? কোন পানীয় ও কোন খাবার হারাম—তা কি আপনার জানা আছে? কোন ধরনের পোশাক পরতে পারবেন, সাজসজ্জার ক্ষেত্রে ইসলামের নীতিমালা, উপার্জন ও পেশাতে বৈধ-অবৈধতার সীমারেখা এবং পরিবার ও সমাজজীবনে হালাল-হারামের কি বিধান রয়েছে—সে সম্পর্কে কি আপনার জানা আছে? জীবনের সবকিছুর ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিধান জানতে সংগ্রহ করুন ড. ইউসুফ আল-কারযাবি (রহ.)-এর বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো গ্রন্থ হালাল-হারামের বিধান। 

মুসলিম হিসেবে হালাল-হারামের ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা আবশ্যক। অবশ্য কিছু বিষয়ের হালাল-হারাম হওয়া নিয়ে কখনো কখনো বেশ দ্বন্দ্বে পড়ে যাই আমরা। এটা হালাল হলে ওটা হারাম কেন, এভাবে হারাম হলে ওভাবে হালাল কেন—এ জাতীয় নানা প্রশ্ন আমাদের মাথায় ঘুরতে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়ি আমরা। অথচ কোনো কিছুর হালাল কিংবা হারাম সাব্যস্ত হওয়ার যে সামান্য কিছু মূলনীতি রয়েছে, সেগুলো জানা থাকলে এ অবস্থা থেকে অনেকাংশেই বেঁচে থাকা সম্ভব।

একজন মুসলিমের জন্য কোন কাজটি হালাল আর কোনটি হারাম, কোন কাজ এক জায়গায় জায়েজ হলেও অন্য জায়গায় বা অন্য সময়ে নাজায়েজ, কোনো কাজ জায়েজ এবং নাজায়েজ হওয়ার কারণগুলোই বা কী? ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক-জীবনঘনিষ্ঠ এমন অসংখ্য বিষয়ের বাস্তবধর্মী আলোচনা নিয়ে রচিত এ বই। 

ড. ইউসুফ কারযাবি (রহ.)-এর নাম শোনেনি এমন মুসলিম খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তার কাজ তাকে এনে দিয়েছে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি। হালাল-হারাম তার সবচেয়ে বিখ্যাত বই। জীবন থেকে নেওয়া উপমা, উপস্থাপনের সারল্য, সর্বাধুনিক বিষয়াবলির সন্নিবেশ আর জনসাধারণের উপযোগী বিশ্লেষণ এই বইয়ের স্বাতন্ত্র্য। এই বইয়ের পাঠকপ্রিয়তার মূল রহস্য—বইটি সহজ এবং সবার জন্য উপযোগী। তাই প্রকাশের পর থেকে অদ্যাবধি চলমান রয়েছে এর পঠন-পাঠন ও বিশ্লেষণ। বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এ বই; ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে।

এ বইয়ে চারটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে হালাল-হারামের ক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি, দ্বিতীয় অধ্যায়ে দৈনন্দিন জীবনে হালাল-হারাম, তৃতীয় অধ্যায়ে পারিবারিক ও দাম্পত্যজীবনে হালাল-হারাম ও চতুর্থ অধ্যায়ে সামাজিক জীবনে হালাল-হারামের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। প্রতিটি আলোচনা ও মাসয়ালার সঙ্গে কোরআন-হাদিস ও নির্ভরযোগ্য কিতাবের রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে। 

এ গ্রন্থ রচনায় ড. কারযাবি হালাল-হারামের বিধানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো মাজহাব অনুসরণ করেননি। এ ব্যাপারে তিনি প্রসিদ্ধ চার মাজহাবের মতগুলোর মধ্যে তার দৃষ্টিতে তুলনামূলক শক্তিশালী মত গ্রহণ করেছেন। হাতেগোনা কিছু মাসয়ালায় তিনি চার মাজহাবের বাইরে গিয়ে ভিন্নমত গ্রহণ করেছেন এবং কিছু মাসয়ালায় তিনি শিথিলতা দেখিয়েছেন। সেসব স্থানে সমকালীন প্রকাশন টীকার মাধ্যমে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতের কথা উল্লেখ করে দিয়েছে। 

৬৩২ পৃষ্ঠার হার্ডকভারের রুচিশীল বাধাই ও মানসম্মত মুদ্রণে বইটি প্রকাশ করেছে সমকালীন প্রকাশন। ভাষান্তর করেছেন আসাদুল্লাহ ফুয়াদ। দেশের অভিজাত সব লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন অনলাইন বুকশপে বইটি পাওয়া যায়। সরাসরি সমকালীন প্রকাশন থেকে বইটি কিনতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেইজে।   

বই: হালাল-হারামের বিধান
লেখক: ড. ইউসুফ কারযাবি
ভাষান্তর: আসাদুল্লাহ ফুয়াদ
প্রকাশক: সমকালীন প্রকাশন 
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩২
মুদ্রিত মূল্য: ৮৯০/- টাকা
মোবাইল: ০১৪০৯৮০০৯০০

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

 

খাবারের দোষ ধরা যাবে কি?

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪৪ এএম
খাবারের দোষ ধরা যাবে কি?
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত একটি মুসলিম পরিবারে খাবার গ্রহণের ছবি।

আল্লাহতায়ালা নানা স্বভাব ও বিচিত্র রুচি দিয়ে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। ফলে একজনের পছন্দ বা রুচি অন্যজনের সঙ্গে তেমন মেলে না। একজনের যেটা পছন্দ, সেটা অন্য কারও অপছন্দও হতে পারে। ব্যাপারটি দোষের কিছু নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ হলো, খাবার যদি হালাল হয়, তা হলে তাতে কোনোরকম ত্রুটি না ধরা। ভালো লাগলে খাওয়া, না লাগলে আদবের সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না। আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো খাবারের দোষ ধরেননি। ইচ্ছা হলে তিনি খেতেন, না হলে রেখে দিতেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৩৩৭০)
 
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে অপর বর্ণনায় আছে, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে কখনো খাবারে দোষ ধরতে দেখিনি, ভালো লাগলে খেতেন। ভালো না লাগলে চুপ থাকতেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ২০৬৪) 

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনীতে এর প্রায়োগিক উদাহরণ অনেক রয়েছে। যেমন খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ভুনা দব (সরীসৃপজাতীয় বুকে ভর দিয়ে চলা একটি প্রাণী। এর শরীরের চামড়া পুরু ও মসৃণ। লেজ চওড়া, রুক্ষ, খসখসে ও অতি গিঁটবিশিষ্ট) আনা হলে তিনি তা খাওয়ার উদ্দেশ্যে হাত বাড়ালেন। তখন তাকে বলা হলো, ‘এটা দব। তা শুনে তিনি হাত গুটিয়ে নিলেন।’ খালিদ (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এটা কি হারাম?’ তিনি বললেন, ‘না। যেহেতু এটা আমাদের এলাকায় নেই, তাই আমি এটা খাওয়া পছন্দ করি না।’ তারপর খালিদ (রা.) তা খেতে থাকেন, আর রাসুল (সা.) তা দেখছিলেন।” (বুখারি, হাদিস: ৫০৮৫) 

রাসুলুল্লাহ (সা.) কেন খাচ্ছেন না; তার একটি কারণ তুলে ধরেছেন, কিন্তু ওই অদ্ভুত খাদ্যের কোনো ত্রুটি বা দবের আকৃতি নিয়ে কোনো বাজে মন্তব্য করেননি তিনি। যাতে করে যারা এটা খেতে চায়, তাদের মধ্যে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি না হয়। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে রসুন অথবা পেঁয়াজ খায়, সে যেন আমাদের থেকে দূরে থাকে অথবা বলেছেন, সে যেন আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে।’ (উক্ত সনদে আরও বর্ণিত আছে যে,) ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে একটি পাত্র আনা হলো, যার মধ্যে শাকসবজি ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর গন্ধ পেলেন এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তাঁকে সে পাত্রে রাখা শাকসবজি সম্পর্কে অবহিত করা হলো, তখন একজন সাহাবি আবু আইয়ুব (রা.)-কে উদ্দেশ করে বললেন, ‘তাঁর কাছে এগুলো পৌঁছে দাও। কিন্তু তিনি তা খেতে অনীহা প্রকাশ করলেন।’ তা দেখে রাসুল (সা.) বললেন, ‘তুমি খাও। আমি যার সঙ্গে গোপন আলাপ করি তার সঙ্গে তুমি আলাপ করো না (ফেরেশতাদের সঙ্গে আমার আলাপ হয়। আর তারা দুর্গন্ধ অপছন্দ করেন)।” (বুখারি, হাদিস : ৮১৭) 

এই সুন্নাহটি পালন করলে আমাদের ঘর ও পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত হবে। স্বামী যদি স্ত্রীর সঙ্গে, সন্তান যদি মায়ের সঙ্গে, বন্ধু যদি অপর বন্ধুর সঙ্গে আচরণের এই নিয়ম অনুসরণ করে, তা হলে সমাজের পরিবেশ আরও সুখের ও মধুর হয়ে উঠবে। মানুষের পারস্পরিক বন্ধন আরও সুখকর হবে। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

এলো খুশির ঈদ

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩০ এএম
এলো খুশির ঈদ
কোলাকুলির ছবি। ইন্টারনেট

সারা মাস রোজা রাখার পর মুমিন বান্দার জীবনে পুরস্কার হিসেবে আসে ঈদের দিন। ঈদ আরবি শব্দ, যার অর্থ ফিরে আসা। হাদিসে আছে, “রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় গেলেন, তখন মদিনাবাসীরা দুটি দিবসে আনন্দ করত। খেলাধুলা করত। নবিজি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘এ দুটি দিনের কোনো তাৎপর্য আছে?’ তারা বলল, ‘আমরা জাহেলি যুগে এ দুটি দিনে খেলা করতাম।’ নবিজি (সা.) তখন বললেন, ‘আল্লাহ এ দুদিনের পরিবর্তে এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ দুটি দিন দিয়েছেন। তা হলো ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর।” (আবু দাউদ, ১১৩৪)

শুধু খেলাধুলা ও আমোদ-ফুর্তির যে দুটি দিবস ছিল, তা আল্লাহ নেয়ামতের মাধ্যমে পরিবর্তন করেছেন। নেয়ামত হলো—আল্লাহর কাছ থেকে কিছু অর্জন করা। তার নেয়ামত ও দানে সিক্ত হওয়া। তাই এ দিবসটিতে বান্দা তার স্রষ্টার শুকরিয়া, তাঁর জিকির, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সঙ্গে সঙ্গে শালীন আমোদ-ফুর্তি, সাজসজ্জা, খাওয়া-দাওয়া করবে। তবেই আল্লাহর দেওয়া ঈদ সার্থক হবে। 

ঈদকে কেউ নেয়ামত হিসেবে নিয়েছেন। কেউবা নিছক আমোদ-ফুর্তি হিসেবে নিয়েছেন। যারা তাকে নেয়ামত হিসেবে নিয়েছেন, তারা কত ভাগ্যবান। হাদিসে এসেছে, ‘এ ঈদের রাতে কেউ যদি জাগ্রত থাকে অর্থাৎ রাত জেগে আল্লাহর ইবাদত করে, ওই দিন তার অন্তর জীবিত থাকবে, যেদিন সব অন্তর মারা যাবে।’ (ইবনে মাজাহ, ১৭৮২)

ঈদের রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ মানুষ এ রাতে নানা পাপাচারে লিপ্ত হয়। কেউ যদি রাত জেগে না থাকতে পারে, তাহলে এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করলেই সারা রাত জেগে থেকে ইবাদত করার সওয়াব পাবে। ফজরের নামাজ পড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে ঈদের নামাজের প্রস্তুতি নিতে হবে। এ দিনের সুন্নতগুলো আদায় করা উচিত। এর মধ্যে মিসওয়াক ও গোসল অন্যতম। আলি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিনে ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। নতুন জামা বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জামা পরতেন। সুগন্ধি লাগাতেন। মিষ্টি জাতীয় কিছু খেতেন।’ (তিরমিজি, ৫৪৩)

ঈদুল ফিতরে মিষ্টি জাতীয় কিছু খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত। বুরাইদা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন না খেয়ে বের হতেন না, আর ঈদুল আজহারের দিনে ঈদের নামাজের আগে খেতেন না।’ (তিরমিজি, ৫৪২)

তাকবির বলে ঈদগাহের দিকে যাত্রা করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন ঘর থেকে বের হয়ে ঈদগাহে পৌঁছা পর্যন্ত তাকবির পাঠ করতেন।’ (মুসতাদরাক, ১১০৬)

হেঁটে যাওয়া উত্তম। এক পথ দিয়ে গিয়ে অন্য পথ ধরে আসা ভালো। হাদিসে আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিনে পথ বিপরীত করতেন।’ (বুখারি, ৯৮৬) রাসুলুল্লাহ (সা.) হেঁটে ঈদগাহে যেতেন। 

ঈদের নামাজের আগে কোনো নফল নামাজ নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিনে বের হয়ে দুই রাকাত ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। এর আগে ও পরে অন্য কোনো নামাজ আদায় করেননি। (বুখারি, ৯৮৯)। তবে নামাজের আগে ফিতরা দিতে হবে। অভাবীদের খোঁজখবর নিতে হবে। তাদের খাবার খাওয়াতে হবে। সম্ভব হলে তাদের নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করতে হবে। এটাই ঈমানদারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এটাই হলো ঈদের আনন্দ। ঈদগাহে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে। খুতবা শোনা ওয়াজিব। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিনে সাক্ষাৎকালে একে অপরকে বলতেন, ‘আল্লাহতায়ালা আমাদের ও আপনাদের ভালো কাজগুলো কবুল করুন।’ নামাজ শেষে দোয়া ও ইস্তেগফার পড়া ভালো। 

ঈদের দিনে বর্জনীয় কিছু কাজ রয়েছে। যথা—ঈদের দিনে রোজা রাখা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। (বুখারি, ১৯৯০) 

ঈদের দিনে শালীন পোশাক পরিধান করতে হবে। অপসংস্কৃতি বহন করে এমন পোশাক পরা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সঙ্গে সাদৃশ্যতা রাখবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।’ (আবু দাউদ, ৪০৩১)

ঈদ একটি ইবাদত। আনন্দ ও ফুর্তির মাঝেই এ ইবাদত করা যায়। এ ব্যাপারে কোরআনে এসেছে, ‘বলো, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত। সুতরাং এ নিয়ে যেন তারা খুশি হয়। এটি যা তারা জমা করে তা থেকে উত্তম।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫৮) 

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

চাঁদ দেখে ঈদ পালনের বিধান

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:০০ পিএম
চাঁদ দেখে ঈদ পালনের বিধান
চাঁদের ছবি। ইন্টারনেট

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রমজান পালন করবে এবং চাঁদ দেখে ঈদুল ফিতর পালন করবে।’ (বুখারি, ১০৮১)

হাদিসের আলোকে সচেতন মুমিন-মুসলমানরা রমজানের চাঁদ দেখে রোজা পালন শুরু করেন এবং শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলেই ঈদুল ফিতর পালন করেন। কোরআন ও হাদিসের নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আচরিত সুন্নতকে সামনে রাখা আমাদের প্রয়োজন। সুন্নতের আলোকে আমরা দেখি, তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে চাঁদ দেখার সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়া রমজান পালনের অনুমতি দেননি। ‘চাঁদ দেখে রমজান বা ঈদ পালনের’অর্থ এ নয়—যে কেউ যেখানে ইচ্ছা চাঁদ দেখলেই ঈদ করা যাবে। এ হাদিসের অর্থ হলো, চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলে তোমরা রোজা পালন করো এবং চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলে ঈদুল ফিতর পালন করো। চাঁদ দেখা প্রমাণিত হওয়ার সুন্নাহ নির্দেশিত পদ্ধতি হলো—শাসক বা প্রশাসকের কাছে সাক্ষ্য গৃহীত হওয়া। 

রাষ্ট্রীয়ভাবে তার সাক্ষ্য গৃহীত হলে বা চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলেই শুধু ঈদ করা যাবে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও সমাজের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ঈদ পালন করতে নির্দেশ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যেদিন সব মানুষ ঈদুল ফিতর পালন করবে সে দিনই ঈদুল ফিতরের দিন এবং যেদিন সব মানুষ ঈদুল আজহা পালন করবে, সে দিনই ঈদুল আজহার দিন।’(তিরমিজি, ৩/১৬৫)

আলেমরা এ বিষয়ে একমত—রমজানের রোজা ও ঈদ  চাঁদ দেখেই পালন করতে হবে। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ইফতার করো। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়, তবে তোমরা ৩০ দিন পূর্ণ করো।’ (মুসলিম, ১০৮১)

এখন প্রশ্ন হলো, কতজন মানুষকে চাঁদ দেখতে হবে? তার উত্তর আছে হাদিসে, ‘আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে এমন এক ব্যক্তির চাঁদ দেখাই যথেষ্ট, যার দ্বীনদার হওয়া প্রমাণিত অথবা বাহ্যিকভাবে দ্বীনদার হিসেবে পরিচিত।’ (আবু দাউদ, ২৩৪০)। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

ঈদুল ফিতরে যা করবেন এবং যা করবেন না

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০০ এএম
ঈদুল ফিতরে যা করবেন এবং যা করবেন না
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট

করণীয়: ঈদের দিন ভোরবেলা ফজর নামাজ জামাতে আদায় করার মাধ্যমে দিনটি শুরু করা উচিত। এ দিন গোসল করার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন ও সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘তিনি দুই ঈদের দিনে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন।’ (সুনানে কুবরা, বাইহাকি, ৬১৪৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) যে পথে ঈদগাহে যেতেন সে পথে ফিরে না এসে অন্য পথে ফিরতেন। যাতে উভয় পথের লোকদের সালাম দেওয়া ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। (জাদুল মায়াদ, ১/৪৩২-৪৩৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন ঘর থেকে বের হয়ে ঈদগাহে পৌঁছা পর্যন্ত তাকবির পাঠ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, ৫৬৬৭)

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা উত্তম। ঈদের নামাজের আগে খাবার গ্রহণ করা সুন্নত। (বুখারি, ৯৫৩)

ঈদের নামাজ আদায় ও খুতবা শোনা ওয়াজিব। আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া ও ফিতরা আদায় করাও ইবাদত। 

বর্জনীয়: বিজাতীয় সংস্কৃতি উদযাপন না করা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সঙ্গে সাদৃশ্য রাখবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।’(আবু দাউদ, ৪০৩১)

জুয়া, মদ, জিনা-ব্যভিচার ও মাদকদ্রব্য সেবন না করা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে এমন একটা দল পাওয়া যাবে, যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল (বৈধ) মনে করবে।’(বুখারি, ৫৫৯০)

অশালীন পোশাকে রাস্তায় বের না হওয়া: রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একদল নারী যারা পোশাক পরিধান করেও উলঙ্গ মানুষের মতো হবে, অন্যদের আকর্ষণ করবে এবং অন্যরা তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথার চুলের অবস্থা হবে উটের হেলে পড়া কুঁজের মতো। ওরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তার সুগন্ধিও পাবে না, যদিও তার সুগন্ধি বহুদূর থেকে পাওয়া যায়।’ (মুসলিম, ২১২৮)

লেখক: খতিব, বনানী আত-তাকওয়া জামে মসজিদ

ঈদের নামাজ আদায় করবেন যেভাবে

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
ঈদের নামাজ আদায় করবেন যেভাবে
ঈদের নামাজ আদায়ের পুরোনো ছবি। ইন্টারনেট

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিনে বিশেষভাবে নামাজ আদায়ের জন্য আদেশ করেছেন। যেহেতু বছরে মাত্র দুইবার ঈদের নামাজ পড়তে হয়, তাই এই নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যেই জটিলতা ও দ্বিধা-সংশয় সৃষ্টি হয়। তাই ঈদের নামাজের আগে কিছু নিয়মকানুন ও আদায় পদ্ধতি ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত।

যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব, তাদের ওপর ঈদের নামাজ ওয়াজিব। আল-জামিউস সগির গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘একই দিনে দুটি ঈদ একত্র হয়েছে। প্রথমটি হলো সুন্নত আর দ্বিতীয়টি হলো ফরজ। তবে দুটির কোনো একটিকেও ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) সূর্য এক বা দুই বর্শা পরিমাণ ওপরে উঠলে ঈদের নামাজ আদায় করতেন। (আবু দাউদ, ২/৩৬১)

ঈদের নামাজের জন্য কোনো আজান ও ইকামত নেই। তবে জুমার নামাজের মতোই উচ্চ আওয়াজে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়। প্রথম রাকাতে এক তাকবির বলা হয় তাহরিমার (নামাজ শুরুর তাকবির) জন্য। তার পর তিনবার তাকবির বলতে হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেবে এবং তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত বেঁধে নিতে হবে। এর পর সুরা ফাতেহা ও অন্য একটি সুরা পড়বে এবং তাকবির বলে রুকুতে যাবে। এর পর দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতেহার সঙ্গে অন্য একটি সুরা মিলিয়ে শুরু করবে। তার পরে তিনবার তাকবির বলবে। প্রথম রাকাতের মতো দুই তাকবিরে উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠিয়ে ছেড়ে দেবে; অতঃপর তৃতীয় তাকবির দিয়ে হাত বাঁধতে হবে এবং চতুর্থ তাকবির বলে রুকুতে যেতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, ৫৭৪৬-৫৭৪৭) 

ঈদের তাকবিরসমূহ দ্বীনের প্রতীক। তাই তা উচ্চৈঃস্বরে আদায় করা হয়। সুতরাং এর প্রকৃত চাহিদা হলো মিলিতভাবে পাঠ করা। প্রথম রাকাতে এই তাকবিরগুলো তাকবির তাহরিমার সঙ্গে যুক্ত করা ওয়াজিব। যেহেতু এ তাকবির ফরজ এবং প্রথমে হওয়ার প্রেক্ষিতে এটার শক্তি বেশি। আর দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর তাকবির ছাড়া অন্য কোনো তাকবির নেই। সুতরাং (ঈদের তাকবিরগুলো) তার সঙ্গে যুক্ত করাই ওয়াজিব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাতটি স্থান ছাড়া অন্য কোথাও হাত তোলা হবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, ১৫৯৯৬)। এর মধ্যে ঈদের তাকবিরসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে। 

নামাজের পর (ইমাম) দুটি খুতবা দেবেন। (বুখারি, ৯৫৮)। যে ব্যক্তির ইমামের সঙ্গে ঈদের নামাজ ছুটে গেছে, সে তা কাজা পড়বে না। কেননা এই প্রকৃতির নামাজ এমন কিছু শর্তসাপেক্ষেই ইবাদতরূপে স্বীকৃত হয়েছে, যা একাকী ব্যক্তির দ্বারা সম্পন্ন হতে পারে না। (শরহু মুখতাসারিত তহাবি লিল জাসসাস, ২/১৬১ )

যদি কোনো কারণে ঈদের দিন নামাজ আদায় সম্ভব না হয়, তা হলে এর পরে আর তা পড়বে না। কারণ জুমার মতো এক্ষেত্রেও মূলনীতি হলো, কাজা না করা। 

লেখক: খতিব, বঙ্গভবন জামে মসজিদ