ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

খাবারের দোষ ধরা যাবে কি?

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪৪ এএম
খাবারের দোষ ধরা যাবে কি?
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত একটি মুসলিম পরিবারে খাবার গ্রহণের ছবি।

আল্লাহতায়ালা নানা স্বভাব ও বিচিত্র রুচি দিয়ে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। ফলে একজনের পছন্দ বা রুচি অন্যজনের সঙ্গে তেমন মেলে না। একজনের যেটা পছন্দ, সেটা অন্য কারও অপছন্দও হতে পারে। ব্যাপারটি দোষের কিছু নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ হলো, খাবার যদি হালাল হয়, তা হলে তাতে কোনোরকম ত্রুটি না ধরা। ভালো লাগলে খাওয়া, না লাগলে আদবের সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না। আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো খাবারের দোষ ধরেননি। ইচ্ছা হলে তিনি খেতেন, না হলে রেখে দিতেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৩৩৭০)
 
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে অপর বর্ণনায় আছে, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে কখনো খাবারে দোষ ধরতে দেখিনি, ভালো লাগলে খেতেন। ভালো না লাগলে চুপ থাকতেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ২০৬৪) 

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনীতে এর প্রায়োগিক উদাহরণ অনেক রয়েছে। যেমন খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ভুনা দব (সরীসৃপজাতীয় বুকে ভর দিয়ে চলা একটি প্রাণী। এর শরীরের চামড়া পুরু ও মসৃণ। লেজ চওড়া, রুক্ষ, খসখসে ও অতি গিঁটবিশিষ্ট) আনা হলে তিনি তা খাওয়ার উদ্দেশ্যে হাত বাড়ালেন। তখন তাকে বলা হলো, ‘এটা দব। তা শুনে তিনি হাত গুটিয়ে নিলেন।’ খালিদ (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এটা কি হারাম?’ তিনি বললেন, ‘না। যেহেতু এটা আমাদের এলাকায় নেই, তাই আমি এটা খাওয়া পছন্দ করি না।’ তারপর খালিদ (রা.) তা খেতে থাকেন, আর রাসুল (সা.) তা দেখছিলেন।” (বুখারি, হাদিস: ৫০৮৫) 

রাসুলুল্লাহ (সা.) কেন খাচ্ছেন না; তার একটি কারণ তুলে ধরেছেন, কিন্তু ওই অদ্ভুত খাদ্যের কোনো ত্রুটি বা দবের আকৃতি নিয়ে কোনো বাজে মন্তব্য করেননি তিনি। যাতে করে যারা এটা খেতে চায়, তাদের মধ্যে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি না হয়। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে রসুন অথবা পেঁয়াজ খায়, সে যেন আমাদের থেকে দূরে থাকে অথবা বলেছেন, সে যেন আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে।’ (উক্ত সনদে আরও বর্ণিত আছে যে,) ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে একটি পাত্র আনা হলো, যার মধ্যে শাকসবজি ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর গন্ধ পেলেন এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তাঁকে সে পাত্রে রাখা শাকসবজি সম্পর্কে অবহিত করা হলো, তখন একজন সাহাবি আবু আইয়ুব (রা.)-কে উদ্দেশ করে বললেন, ‘তাঁর কাছে এগুলো পৌঁছে দাও। কিন্তু তিনি তা খেতে অনীহা প্রকাশ করলেন।’ তা দেখে রাসুল (সা.) বললেন, ‘তুমি খাও। আমি যার সঙ্গে গোপন আলাপ করি তার সঙ্গে তুমি আলাপ করো না (ফেরেশতাদের সঙ্গে আমার আলাপ হয়। আর তারা দুর্গন্ধ অপছন্দ করেন)।” (বুখারি, হাদিস : ৮১৭) 

এই সুন্নাহটি পালন করলে আমাদের ঘর ও পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত হবে। স্বামী যদি স্ত্রীর সঙ্গে, সন্তান যদি মায়ের সঙ্গে, বন্ধু যদি অপর বন্ধুর সঙ্গে আচরণের এই নিয়ম অনুসরণ করে, তা হলে সমাজের পরিবেশ আরও সুখের ও মধুর হয়ে উঠবে। মানুষের পারস্পরিক বন্ধন আরও সুখকর হবে। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

হাটে-বাজারে অবস্থানকালীন সুন্নত

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৯:০০ এএম
হাটে-বাজারে অবস্থানকালীন সুন্নত
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ঢাকার কারওয়ান বাজারের ছবি

একে অপরকে সালাম দেওয়া: সাহাবায়ে কেরামের কেউ কেউ শুধু সালামের সাওয়াব লাভের উদ্দেশ্যেই বাজারে যেতেন। তোফায়েল ইবনে উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর কাছে আসতেন এবং সকালে তার সঙ্গে বাজারে যেতেন। তিনি বলেন, ‘যখন আমরা সকালে বাজারে যেতাম, তখন তিনি প্রত্যেক খুচরা বিক্রেতা, স্থায়ী ব্যবসায়ী, মিসকিনসহ যেকোনো ব্যক্তির কাছ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাকে সালাম দিতেন। এরপর তোফায়েল বলেন, আমি একদিন (অভ্যাসমতো) আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর কাছে গেলাম। তিনি আমাকে তার সঙ্গে বাজারে যেতে বললেন। আমি বললাম, আপনি বাজারে গিয়ে কী করবেন? আপনি তো বেচাকেনার জন্য কোথাও থামেন না, কোনো পণ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেসও করেন না, দরদাম জানতে চান না এবং বাজারের কোনো মজলিসেও বসেন না। তিনি বললেন, ‘হে ভুঁড়িমোটা, (তোফায়েলের ভুঁড়ি মোটা ছিল) আমরা সকালবেলা বাজারে একমাত্র সালাম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাই। যার সঙ্গেই সাক্ষাৎ হয়, আমরা তাকেই সালাম দিই।’ (মুয়াত্তায়ে মালেক, ৮৫০)


ক্রয়-বিক্রয়ে সত্য কথা বলা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিক্রেতা ও ক্রেতা যদি ব্যবসার সময় সত্য কথা বলে, তা হলে আল্লাহতায়ালা তাদের ব্যবসায় বরকত দেবেন। আর যদি তাদের কোনো একজনও কিছু গোপন করে, তা হলে আল্লাহতায়ালা বরকত নষ্ট করে দেবেন।’ (বুখারি, ২০৮২)


বাজারে কঠোর, রূঢ় ও নির্দয় না হওয়া: আতা ইবনে ইয়াসার (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.)-কে বললাম, আপনি তাওরাতে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর গুণাবলি বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আচ্ছা। আল্লাহর কসম! কোরআনে বর্ণিত তাঁর কিছু গুণের কথা তাওরাতেও উল্লেখ করা হয়েছে, হে নবি, আমি আপনাকে সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করেছি এবং উম্মিদের রক্ষক হিসেবেও। আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসুল। আমি আপনার নাম মুতাওয়াক্কিল (আল্লাহর ওপর ভরসাকারী) রেখেছি। এরপর তিনি বললেন, তিনি বাজারে কঠোর, রূঢ় ও নির্দয় স্বভাবের ছিলেন না।’ (বুখারি, ২১২৫) 


প্রয়োজন শেষে দ্রুত বাজার ত্যাগ করা: অযথা অতিরিক্ত সময় বাজারে না কাটানো। কারণ বাজার হচ্ছে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দের জায়গা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দের জায়গা হলো মসজিদ আর সবচেয়ে অপছন্দের জায়গা হলো বাজার।’ (মুসলিম, ৬৭১)

লেখিকা: অনুবাদক ও গবেষক

মুসাফাহা ও মুয়ানাকা করবেন যেভাবে

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
মুসাফাহা ও মুয়ানাকা করবেন যেভাবে
মুসাফাহা ও মুয়ানাকা করার ছবি

মুসাফাহা আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো করমর্দন বা হাতে হাত মেলানো। কারও সঙ্গে সাক্ষাৎকালের প্রথম কাজ হলো সালাম আদান-প্রদান করা। এরপর দুই হাত মিলিয়ে মুসাফাহা করার মাধ্যমে সালামকে পরিপূর্ণ করা। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সালামের পরিপূর্ণতা হলো মুসাফাহা।’ (তিরমিজি, ২৭৩০) আতা ইবনে আবি মুসলিম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)  বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরে (একে অপরের সাথে) মুসাফাহা করো, এর দ্বারা তোমাদের প্রতিহিংসা দূর হয়ে যাবে।’ (মুয়াত্তা মালেক, ১৬১৭) 

মুসাফাহা করার দ্বারা গুনাহ মাফ হয়। বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)  বলেছেন, ‘পরস্পর সাক্ষাতে দুই মুসলমান যখন মুসাফাহা করে, পৃথক হওয়ার আগেই তাদের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (তিরমিজি, ২৭২৭)

মুসাফাহা করার সুন্নাহ পদ্ধতি: উভয় হাত দিয়ে মুসাফাহা করা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘(মুসাফাহার সময়) আমার হাতটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুই হাতের মধ্যে ছিল।’ (বুখারি, ৫/২৩১১)

অপর ব্যক্তি হাত না ছাড়া পর্যন্ত হাত না ছাড়া: ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)  যখন কাউকে বিদায় দিতেন, তখন তার হাত ধরে মুসাফাহা করতেন এবং ওই ব্যক্তি হাত সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত তিনি (নবিজি) নিজের হাত সরিয়ে নিতেন না।’ (তিরমিজি, ৩৪৪২)

আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদসহ মাগফিরাতের দোয়া পাঠ করা: বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)  বলেছেন, ‘যখন দুইজন মুসলিমের সাক্ষাৎ হয় এবং তারা একে অপরের সঙ্গে মুসাফাহা করার সময় আল্লাহতায়ালার প্রশংসা করে এবং আল্লাহর কাছে মাগফিরাত কামনা করে—আল্লাহতায়ালা উভয়কে মাগফিরাত দান করেন।’ (আবু দাউদ, ৫১৬৯) সুতরাং মুসাফাহা করার সময় প্রশংসা ও দরুদ পাঠের পাশাপাশি ক্ষমা দোয়া কামনা করা উচিত। এই দোয়াটি পাঠ করা যেতে পারে—বাংলা উচ্চারণ: ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম। বাংলা অর্থ: আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন।

মুসাফাহার সময় ক্ষমার দোয়া করার বিষয়টি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। উল্লিখিত যে দোয়াটি পাঠের প্রচলন রয়েছে, হুবহু সেটা রাসুলুল্লাহ (সা.)  পাঠ করতেন—এমনটা প্রমাণিত নয়। তবে এই দোয়াটি যেহেতু হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী ক্ষমা কামনায় প্রতিনিধিত্ব করে, সুতরাং এই দোয়াটি মুসাফাহা করার সময় পাঠ করায় কোনো অসুবিধা নেই। তবে মুসাফাহা করার সময় হাতে ঝাঁকি দেওয়া এবং মুসাফাহা শেষে বুকের সঙ্গে হাত মেলানোর প্রয়োজন নেই।

নারীদের সঙ্গে মুসাফাহা না করা: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাত কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি। তবে তিনি কথার মাধ্যমে নারীদের বাইয়াত গ্রহণ করতেন।’ (বুখারি, ৬৭৮৮; মুসলিম, ১৮৬৬)

আনাজা গোত্রের এক ব্যক্তি আবু জর (রা.)-এর কাছে জানতে চাইলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে আপনাদের দেখা হলে তিনি কি আপনাদের সঙ্গে মুসাফাহা করতেন? তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, যখনই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে আমার দেখা হতো; তিনি আমার সঙ্গে মুসাফাহা করতেন। একদিন তিনি আমার কাছে লোক পাঠালেন। আমি তখন বাড়িতে ছিলাম না। আমি ফিরে এলে জানানো হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.)  আমার কাছে লোক পাঠিয়েছেন। এরপর আমি যখন তাঁর কাছে হাজির হলাম। তখন তিনি গদির ওপর ছিলেন। তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। তা ছিল খুবই উত্তম ও মনোরম।’ (আবু দাউদ, ৫২১৪) 
মুয়ানাকাও আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো কোলাকুলি করা। অপরের গর্দানের সঙ্গে গর্দান লাগিয়ে জড়িয়ে ধরা। গর্দানের সঙ্গে গর্দান লাগিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরাকে ইসলামি পরিভাষায় মুয়ানাকা বলা হয়। (লিসানুল আরাব, ১০/২৭২)
দীর্ঘদিন পর একে অন্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে পরস্পরে মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করা সুন্নত। দীর্ঘদিন পর কেউ সফর থেকে এলে দেখা-সাক্ষাতে সাহাবারা মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জায়েদ ইবনে হারিসা (রা.) যখন মদিনায় এলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)  তখন আমার ঘরে ছিলেন। জায়েদ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আমার ঘরে এলেন এবং দরজায় টোকা দিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)  তার পরিধেয় কাপড় ঠিক করতে করতে উঠে গিয়ে জায়েদের সঙ্গে কোলাকুলি করলেন এবং আদর করে চুমু খেলেন। (তিরমিজি, ২৭৩২)

মুয়ানাকা করার সুন্নাহ পদ্ধতি: একবার মুয়ানাকা করা; তিনবার নয়। মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করার সুন্নত পদ্ধতি হলো, একে অপরের ডান দিকের ঘাড়ের সঙ্গে ঘাড় মেলানো এবং বুকের সঙ্গে বুক মিলানো। মুয়ানাকা শুধু একবার করতে হয়। তিনবার করার কোনো বর্ণনা হাদিস বা ফিকহের কোনো কিতাবে উল্লেখ নেই। (আহসানুল ফাতাওয়া, ৯/৭৭) 

মুয়ানাকার দোয়া পড়া: মুয়ানাকা করার সময় নিচের দোয়াটি পড়া সুন্নত। বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা জিদ মুহাব্বাতি লিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি।  বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আল্লাহ এবং রাসুলের খাতিরে আমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি করে দিন। (জামেউস সুনান, ১৫৯)
মুয়ানাকা বা কোলাকুলি শেষে আদর বা স্নেহ করে চুমু খাওয়া: কপালে চুমু খাওয়ার কথা এসেছে। যেমনটা জায়েদ ইবনে হারিসা (রা.) কথা আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন। তবে  এক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো, কপালে বা গালে অথবা হাতে চুমু খাওয়া ওই ব্যক্তির জন্য জায়েজ, যিনি মনের কামনা-বাসনার আশঙ্কা থেকে পবিত্র। যাকে চুমু খাবেন বা আদর করবেন, তিনিও এমন আশঙ্কা না থাকবেন। (রদ্দুল মুহতার, ৯/৫৪৬; মাবসুত, ১০/ ১৪৯)

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

কবুল হজে মেলে জান্নাত

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৯:০০ এএম
কবুল হজে মেলে জান্নাত
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত কাবা শরিফের ছবি

হজ অর্থ ইচ্ছা করা। নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় নির্ধারিত কিছু বিধান পালন করা হলো হজ। ইসলামের মৌলিক পাঁচটি ভিত্তির অন্যতম হজ। এটি আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত। এর জন্য প্রয়োজন সক্ষমতা; বিশেষ করে আর্থিক সক্ষমতা। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহর জন্য এই ঘরের হজ করা লোকদের ওপর আবশ্যক, যার সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য আছে। যে অস্বীকার করবে, (সে জেনে রাখুক) নিঃসন্দেহে আল্লাহ বিশ্ব জাহানের মুখাপেক্ষী নন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭) 


উল্লিখিত আয়াতে ‘যার সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য আছে’ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, বাইতুল্লাহ যাতায়াতে অর্থ ও পাথেয় যার কাছে আছে। একইভাবে রাস্তা ও জীবন-সম্পদের নিরাপত্তা এবং শারীরিক সুস্থতা ইত্যাদিও সামর্থ্যের অন্তর্ভুক্ত। নারীদের জন্য মাহরাম (স্বামী অথবা যার সঙ্গে তার বিয়ে চিরতরে হারাম এমন কোনো পুরুষ) থাকা জরুরি। (ফাতহুল কাদির)


কোরআনের আরেক আয়াতে আল্লাহতায়ালা ইবরাহিম (আ.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আর মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দিন। তারা আপনার কাছে আসবে হেঁটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটসমূহের পিঠে (আরোহণ করে), তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২৭)
মক্কা নগরীর পাহাড়ের চূড়া থেকে উচ্চারিত সেই আহ্বান আজ পৃথিবীর কোণায় কোণায় পৌঁছে গেছে। প্রত্যেক হজ ও উমরা সম্পাদনকারী হজ ও উমরার সময় সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে আল্লাহর কাছে ‘লাব্বাইক’ (আমি উপস্থিত) বলেন। 


ইসলামে অনেক আমল আছে সর্বোত্তম। এর মধ্যে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হজ অন্যতম। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞাসা করা হলো, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে (শত্রুর মোকাবিলায়) জিহাদ করা। জিজ্ঞাসা করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, কবুল হজ।’ (বুখারি, ১৫১৯)


গ্রহণযোগ্য হজের প্রতিদানে মেলে জান্নাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক উমরার পর আরেকটি উমরা পালন করা, উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের (গুনাহের) জন্য কাফফারা স্বরূপ। কবুল হজের প্রতিদান হলো জান্নাত।’ (বুখারি, ১৭৭৩) 


আরবি জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ মোট ৫ দিনে হজ সম্পন্ন করতে হয়। এ বছর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৬ জুন হজ অনুষ্ঠিত হবে। 

লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর

 

ঘুম আসার দোয়া

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
ঘুম আসার দোয়া
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ঘুমন্ত বালকের ছবি। এআই

মহান আল্লাহ মানুষকে শারীরিক আরাম ও বিশ্রামের জন্য ঘুম দিয়েছেন। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য অনন্য এক নেয়ামত। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই নিজ রহমতে তোমাদের জন্য রাত ও দিন বানিয়েছেন, যাতে তোমরা বিশ্রাম নিতে পারো ও আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো।’ (সুরা কাসাস, আয়াত: ৭৩)

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের ঘুমকে ক্লান্তি নিবারণের উপায় বানিয়েছি এবং রাতকে বানিয়েছি আবরণস্বরূপ।’ (সুরা নাবা, আয়াত: ৯-১০) 

এসব আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহতায়ালা মানুষের সারা দিনের কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি ও বিষণ্নতা দূর করার জন্য অনন্য এক নেয়ামত দান করেছেন, আর তা হলো ঘুম। কিন্তু সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে যাদের ঠিকমতো ঘুম হয় না; কিংবা ঘুম আসতে চায় না, তাদের জন্য এখানে কয়েকটি আমল দেওয়া হলো—

ঘুমের দোয়া পড়া

বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।’ 

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আপনারই নামে মরে যাই আবার আপনারই নামে জীবন লাভ করি।

ঘুম না আসলে যে দোয়া পড়বেন

বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতিস সাবয়ি, ওয়া মা আজাল্লাত ওয়া রাব্বাল আরদিনা, ওয়া মা আকাল্লাত ওয়া রাব্বাশ শায়াতিনি, ওয়া মা আদাল্লাত কুনলি জারাম মিন শাররি খালকিকা কুল্লিহিম জামিআ। আই ইয়াফরুতা আলাইয়া আহাদুম মিনহুম, আও আই ইয়াবগিয়া আলাইয়া আজ্জা ও জাল্লা সানাউকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা ও লা ইলাহা ইল্লা আংতা।’ 

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, সাত আকাশের প্রভু এবং যার ওপর তা ছায়া বিস্তার করেছে, সাত জমিনের প্রভু এবং যা কিছু তা উত্থাপন করেছেন, আর শয়তানদের প্রতিপালক এবং এরা যাদের বিপথগামী করেছে! তুমি আমাকে তোমার সব সৃষ্টিকুলের অনিষ্টতা থেকে রক্ষার জন্য আমার প্রতিবেশী হয়ে যাও, যাতে সেগুলোর কোনোটি আমার ওপর বাড়াবাড়ি করতে না পারে অথবা আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে না পারে। সম্মানিত তোমার প্রতিবেশী, সুমহান তোমার প্রশংসা। তুমি ছাড়া কোনো উপাসক নেই, তুমি ছাড়া আর কোনো উপাসক নেই।’(ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৯৬৬) 

আয়াতুল কুরসি পাঠ করা 
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।’ (নাসায়ি, হাদিস: ৯৪৪৮)

আয়াতুল কুরসির বাংলা উচ্চারণ
আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম। লা তা খুজুহু সিনাতু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস সামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান জাল্লাজি ইয়াশ ফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইজনিহি, ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম মিন ইল মিহি ইল্লা বিমা শা আ, ওয়াসিয়া কুরসি ইউহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলি ইয়ুল আজিম।

আয়াতুল কুরসির বাংলা অর্থ
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসি (সিংহাসন) সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।


লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া কাশেফুল উলুম মাদরাসা, মধুপুর

মাগরিবের নামাজের শেষ সময় কখন?

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ০৯:০০ এএম
মাগরিবের নামাজের শেষ সময় কখন?
মসজিদে যাচ্ছেন কয়েকজন মুসল্লি। ইন্টারনেট

আরবি মাগরিব অর্থ সূর্যের অস্তস্থল বা পশ্চিম দিক। সন্ধ্যারাতের নামাজকে মাগরিব বলা হয়। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে,  ‘আপনি অধিকহারে আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন। আর সকাল-সন্ধ্যায় তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৪১)

তাফসিরবিদরা বলেন, এই আয়াতে পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে নামাজ আদায় করা। আয়াতে সকাল-সন্ধ্যার কথা বলে ফজর ও মাগরিবের নামাজকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

মাগরিবের নামাজের গুরুত্ব
মুমিনের সব ইবাদতের লক্ষ্যবস্তু জান্নাত লাভ করা। জান্নাত লাভ করার অনেক আমল কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো ফজর ও মাগরিবের নামাজ মসজিদে আদায় করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল এবং সন্ধ্যায় নামাজ আদায় করতে মসজিদে যায় এবং যতবার যায় আল্লাহতায়ালা ততবারই তার জন্য জান্নাতের মধ্যে মেহমানদারির উপকরণ প্রস্তুত করেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৬২২)

মাগরিবের নামাজের শেষ সময়

আমাদের দেশের অনেকেই মনে করেন মাগরিবের নামাজের সময় খুবই অল্প। তাদের জেনে নেওয়া জরুরি, সূর্যাস্ত যাওয়া থেকে নিয়ে পরবর্তী এক বা দেড় ঘণ্টা মাগরিব নামাজের সময় বাকি থাকে। অর্থাৎ মাগরিবের নামাজের শেষ সময় আহমার বা লালিমা দূরীভূত হয়ে শাফাক বা সাদা বর্ণ আকাশ থেকে দূর হওয়ার পর মাগরিবের নামাজের সময় শেষ হয়ে যায়। (জীবন জিজ্ঞাসা, শায়খ মাহমুদুল হাসান আল-আজহারি, নামাজ অধ্যায়; পৃষ্ঠা: ১৮৩)

মাগরিবের নামাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাড়াতাড়ি পড়া উত্তম। অর্থাৎ সূর্য ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়। তাই তখনই যত তাড়াতাড়ি পড়া সম্ভব হয়, নামাজ আদায় করে নেবে।

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক