নামাজের কাতার সোজা রাখতে হয় কেন? । খবরের কাগজ
ঢাকা ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

নামাজের কাতার সোজা রাখতে হয় কেন?

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১০:০০ এএম
নামাজের কাতার সোজা রাখতে হয় কেন?
নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। ইন্টারনেট

ইসলাম সুন্দরের ধর্ম। পবিত্র ধর্ম। ইসলাম মুসলমানের জীবনকে সামগ্রিকভাবে সুন্দর-সুশৃঙ্খল করে। প্রতিটি মুসলমানকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ ও অনুকরণে ইবাদত করার তাগিদ করেছে ইসলাম। নবিজির অনুসরণ ও অনুকরণে মুসলমানদের ইবাদত হয়ে উঠবে সুগঠিত, প্রাণবন্ত ও দৃষ্টিনন্দন। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো নামাজে মুসলমানদের কাতার সোজা করা। এ কারণেই নামাজ শুরু করার আগে সারিগুলো সোজা করে নেওয়া ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যতম সুন্নাহ। এ দায়িত্ব ইমাম ও মুক্তাদি উভয়ের। সবাইকে নিজ দায়িত্বে কাতার সোজা করে নিতে হবে। এ কাজে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের বারবার উদ্বুদ্ধ করেছেন। কখনো উৎসাহ দিয়েছেন, আবার কখনো এর ক্ষতি ও ভয়াবহতা বর্ণনা করে সাবধান করেছেন। নুমান ইবনে বশির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই কাতার সোজা করে নেবে, তা না হলে আল্লাহতায়ালা তোমাদের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি করে দেবেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৮৫)  

আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, “নামাজের ইকামত হচ্ছে এমন সময় রাসুল (সা.) আমাদের দিকে মুখ করে তাকিয়ে বললেন, ‘তোমরা কাতারগুলো সোজা করে নাও আর মিলে দাঁড়াও। কেননা, আমি আমার পেছন দিক থেকেও তোমাদের দেখতে পাই।” (বুখারি, হাদিস: ৬৮৭)

নামাজের কাতারে মুসল্লিদের সমান্তরালভাবে দাঁড়াতে হবে। আগেপিছে হওয়া যাবে না। আবু মাসউদ (রা.) বলেন, “রাসুল (সা.) নামাজের সময় আমাদের কাঁধ স্পর্শ করে বলতেন, ‘তোমরা সমান্তরালভাবে দাঁড়াও এবং আগেপিছে হয়ো না। অন্যথায় তোমাদের অন্তরেও বিভেদ সৃষ্টি হবে। আর তোমাদের মধ্যে যারা অধিক প্রজ্ঞাবান ও জ্ঞানী, তারা আমার কাছাকাছি দাঁড়াবে। এরপর দাঁড়াবে যারা তাদের নিকটবর্তী। এরপর দাঁড়াবে যারা তাদের নিকটবর্তী। হাদিসটি বলার পর আবু সাইদ (রা.) বলেন, তাই তো আজকাল তোমাদের মধ্যে চরম বিভেদ বিরাজ করছে।” (মুসলিম, হাদিস: ৪৩২) 

জাবের ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের কাছে যেভাবে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়, তোমরা সেভাবে দাঁড়াবে না। আমরা জিজ্ঞাসা করি, ‘ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের কাছে কীভাবে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়?’ তিনি বলেন, ‘তারা সবার আগে প্রথম কাতার পূরণ করে, এরপর পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় কাতার ইত্যাদি পূর্ণ করবে এবং তারা কাতারে দাঁড়ানোর সময় পরস্পর মিলে দাঁড়ায়।” (আবু দাউদ, হাদিস: ৬৬১) 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর আমল

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর আমল
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট

ব্রেন বা মুখস্থ শক্তি মানুষের অমূল্য সম্পদ। মুখস্থ করার যোগ্যতা আল্লাহতায়ালার দেওয়া বিশেষ নেয়ামত। নেয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য জরুরি হলো, প্রাপ্ত নেয়ামতের শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা আদায় করা। শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা আলহামদুলিল্লাহ বলে করা যায়, আবার আমল বা কাজের মাধ্যমেও শুকরিয়া আদায় করতে হয়। ব্রেনের আমলি শুকরিয়া হলো, ব্রেনের সঠিক ব্যবহার করা। ব্রেনের সঠিক ব্যবহারে মানুষের স্মৃতিশক্তি অটুট থাকে এবং ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। আবার  কারও কারও ব্রেন সব সময় এক রকম থাকে না। একেক বয়সে একেক রকম হয়। ছোটবেলায় হয়তো স্মরণশক্তি ভালো থাকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। 

আল্লাহতায়ালা মানুষকে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে দোয়া, জিকির ও বেশকিছু কাজের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে এখানে কয়েকটি দোয়া ও আমল উল্লেখ করা হলো—

মুখস্থশক্তি বৃদ্ধির দোয়া
স্মরণশক্তি বা মুখস্থশক্তি বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। মুখস্থশক্তি আল্লাহতায়ালার দেওয়া অনন্য নেয়ামত। তাই তো দেখা যায়, কেউ চাইলেই যেমন কোনো কিছু স্মরণ রাখতে পারে না, আবার চাইলেই কেউ মুখস্থ করতে পারে না। তাই স্মরণশক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ১১ বার এই দোয়াটি পড়া—

বাংলা উচ্চারণ: রাব্বি জিদনি ইলমা।

বাংলা অর্থ: হে আমার প্রতিপালক, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন। (সুরা তহা, আয়াত: ১১৪) 

হজরত কাশ্মীরি (রহ.) লিখেছেন, উপরোক্ত দোয়াটির সঙ্গে নিম্নোক্ত দোয়াটি নয়বার পড়লে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়—

বাংলা উচ্চারণ: রব্বিশ রাহলি সাদরি, ওয়াসসিরলি আমরি, ওয়াহলুল উকদাতাম মিন লিসানি ইয়াফকাহু কওলি।

বাংলা অর্থ: (মুসা বলল,) হে আমার প্রতিপালক, আমার বুক খুলে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। এবং আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন। যাতে মানুষ আমার কথা বুঝতে পারে।’ (সুরা তহা, আয়াত:২৫-২৮)

এই দোয়া নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহতায়ালা বিশেষ জ্ঞানদান করবেন।

ব্রেন ভালোর জন্য জিকির করা

স্মরণশক্তি বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি আমল হলো, অধিক পরিমাণে জিকির-আজকার করা। যেমন- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার পড়া। আল্লাহ বলেন, ‘যখন ভুলে যান, তখন আল্লাহর জিকির করুন।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত:২৪) 

গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা
স্মরণশক্তি বৃদ্ধির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো, সব ধরনের গুনাহ থেকে পরিপূর্ণ বেঁচে থাকা। কারণ, গুনাহের কারণে মুখস্থশক্তিতে দুর্বলতা আসে। বিশেষ করে চোখের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা খুবই জরুরি। 

কয়েকটি খাবার খাওয়া
কোনো কোনো আলেম এমন কিছু খাবারের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলো মুখস্থশক্তি বৃদ্ধি করে। যেমন- মধু ও কিশমিশ খাওয়া। ইমাম জুহরি (রহ.) বলেন, ‘তুমি মধু খাবে; কারণ এটি স্মৃতিশক্তির জন্য ভালো। যে হাদিস মুখস্থ করতে চায়, সে যেন কিশমিশ খায়।’ (আল-জামি, খতিব আল-বাগদাদি, ২/৩৯৪)

নেক আমল করা
নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহকে খুশি করা যায়। নিজের মনে প্রশান্তি অনুভব করা যায়। তাই বেশি বেশি আমল করতে হবে।  ইসতেগফার, দরুদ পাঠ করতে হবে। কথা-বার্তা কম বলতে হবে। পাশাপাশি জ্ঞান অনুযায়ী আমল করতে হবে। 

লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া কাশেফুল উলুম মাদরাসা, মধুপুর

 

 

‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহু’ কেন পড়া হয়?

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৯:০০ এএম
‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহু’ কেন পড়া হয়?
আরবিতে 'আল্লাহুম্মা বারিক' লেখা ছবি। ইন্টারনেট

আমরা জীবন চলার পথে বিভিন্ন সময় নানা কিছু দেখতে পাই। এর মধ্যে কিছু হালাল আর কিছু হারাম। ইসলামে সব ধরনের হালাল বৈধ। আর সব ধরনের হারামই নিষিদ্ধ। কোরআন ও হাদিসে হালাল-হারামের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। হারাম থেকে দূরে থাকতে কোরআন ও হাদিসে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। হালালের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। হালাল জীবনযাপনে রয়েছে বিশেষ সওয়াবও। কোনো ব্যক্তি যদি চলতি পথে বা কোনো সংবাদের মাধ্যমে ভালো কিছু দেখে বা শোনে, তার উচিত কল্যাণ কামনা করা। বরকতের দোয়া করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের কিছু দেখে বিমুগ্ধ হয়, সে যেন তার জন্য বরকতের দোয়া করে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৫০৯)

বরকতের দোয়া করার সময় আমরা আরবিতে এভাবে বলতে পারি—বাংলা উচ্চারণ:‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহু বা লাহা’। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি তা বরকতময় করুন।

লাহু /লাহার ব্যবহার
ভাষার ব্যবহারে নারী ও পুরুষের আলাদা নিয়ম-নীতি রয়েছে। ‘লাহু’ শব্দটি সব সময় পুরুষের জন্য ব্যবহার করা হবে। আর ‘লাহা’ শব্দটি সব সময় নারীর জন্য ব্যবহার করা হবে। তথা পুরুষবাচক কল্যাণময় জিনিস দেখলে বলতে হবে ‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহু’ আর নারীবাচক কোনো কল্যাণময় জিনিস দেখলে বলতে হবে ‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহা’।

আল্লাহুম্মা বারিক লাহু বলার উপকারিতা

আল্লাহ প্রার্থনাকারী বান্দাকে পছন্দ করেন। কেউ কারও জন্য দোয়া করলে ফেরেশতারাও তার জন্য দোয়া করেন। ফেরেশতাদের দোয়া আল্লাহ অবশ্যই কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলিম অপর মুসলিমের জন্য বিশেষ মনে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়। সেখানে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন। যখনই ওই ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়া করে তখন ওই ফেরেশতা ‘আমিন, আমিন’ ও তোমার জন্যও অনুরূপ হোক বলেন।’ (মেশকাত, হাদিস: ২২২৮)

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক

 

আজওয়া খেজুর খাওয়ার ফজিলত

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আজওয়া খেজুর খাওয়ার ফজিলত
আজওয়া খেজুরের ছবি। ইন্টারনেট

খেজুর আল্লাহতায়ালার অনন্য নেয়ামত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় ফল ছিল খেজুর। পাকা-তাজা খেজুর নানা পুষ্টিগুণ-সমৃদ্ধ ও সুস্বাদু একটি ফল। পবিত্র কোরআনের নানা জায়গায় খেজুরের আলোচনা এসেছে। আল্লাহ বলেন, ‘তারপর আমি তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য, আঙুর, শাক-সবজি, জয়তুন, খেজুর।’ (সুরা আবাসা, আয়াত: ২৭-২৯) 

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘এবং খেজুরের ফল ও আঙুর থেকেও (আমি তোমাদের পানীয় দান করি), যা দিয়ে তোমরা মদ বানাও এবং উত্তম খাদ্যও। নিশ্চয়ই এর ভেতরেও সেইসব লোকের জন্য নিদর্শন আছে, যারা বুদ্ধিকে কাজে লাগায়।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৬৭)। তা ছাড়া খেজুরে আছে নানাবিধ রোগের প্রতিষেধকও।

আজওয়া জান্নাতি ফল

পবিত্র মদিনায় নানা জাত ও স্বাদের খেজুর উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে উৎকৃষ্টতম খেজুর আজওয়া। দেখতে জামের মতো কালো রঙের অসাধারণ এই খেজুর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় ফল। হাদিসে এটিকে জান্নাতের ফল বলা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, “রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কিছু সাহাবি বলেন, ‘মাশরুম হলো জমিনের বসন্ত রোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মাশরুম হলো মান্নের অন্তর্ভুক্ত এবং এর পানি চক্ষুরোগের প্রতিষেধক। আজওয়া বেহেশতের খেজুরের অন্তর্ভুক্ত এবং এটা বিষের প্রতিষেধক।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২০৬৮)

জাদুর কবল থেকে বাঁচায় আজওয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে প্রতিদিন সকালবেলা সাতটি আজওয়া (উৎকৃষ্ট) খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ ও জাদু তার ক্ষতি করবে না।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৪৪৫) 

হৃদরোগের ওষুধ
আরেকটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সাদ (রা.) বলেন, “একবার আমি অসুস্থ হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে দেখতে আসেন। এ সময় তিনি তাঁর হাত আমার বুকের ওপর রাখেন। তাঁর শীতলতা আমার হৃদয়ে অনুভব করি। তিনি বলেন, ‘তুমি হৃদরোগে আক্রান্ত। কাজেই তুমি সাকিফ গোত্রের অধিবাসী হারিসা ইবনে কালদার কাছে যাও। কেননা, সে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। আর সে যেন মদিনার আজওয়া খেজুরের সাতটা খেজুর নিয়ে বিচিসহ চূর্ণ করে তোমার জন্য তা দিয়ে সাতটি বড়ি তৈরি করে দেয়।” (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৩৫) 

খেজুর বেশ বরকতপূর্ণ খাবার। যার ঘরে খেজুর আছে সে অনাহারী নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে খেজুর নেই, সে ঘরের মানুষ যেন অনাহারী।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৭৭৬)

লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া কাশেফুল উলুম মাদরাসা, মধুপুর

 

দোয়া ইউনুস কি? পড়ার নিয়ম ও ফজিলত

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ০৯:০০ এএম
দোয়া ইউনুস কি? পড়ার নিয়ম ও ফজিলত
আরবিতে 'ইউনুস' লেখা ছবি। ইন্টারনেট

আল্লাহর নবি ইউনুস (আ.) দেশ ত্যাগ করে চলে যাওয়ার সময় নদীতে ঝাঁপ দিলে তিনি মাছের পেটে বন্দি হন। এই বিপদের সময় তিনি বারবার একটা দোয়া পড়েছিলেন। যা দোয়ায়ে ইউনুস নামে পরিচিত। আর সে দোয়ার বরকতেই আল্লাহ তাকে মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেন।

দোয়া ইউনুস

لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ، إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ 

দোয়া ইউনুসের বাংলা উচ্চারণ

লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। 

দোয়া ইউনুসের বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি পবিত্র মহান, আমি তো সীমা লঙ্ঘনকারী। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭ )

এই দোয়ার ফলে মাছের পেট থেকে আল্লাহ তাকে মুক্তি দেন। কোরআনে আছে, ‘সে যদি আল্লাহর মহিমা আবৃত্তি না করত, তা হলে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তাকে মাছের পেটে থাকতে হতো।’ (সুরা সাফফাত, আয়াত: ১৪৩-১৪৪)

দোয়া ইউনুস পড়ার ফজিলত
সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, এই দোয়ার গ্রহণযোগ্যতা কি শুধু ইউনুস (আ.)-এর জন্যই প্রযোজ্য, না সব মুসলিমের জন্য? জবাবে নবি (সা.) বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তার জন্য দোয়াটি বিশেষভাবে কবুল হলেও এটা সব মুসলিমের জন্য সব সময় কবুলের ব্যাপারে প্রযোজ্য। তুমি কি কোরআনে পাঠ করোনি, ‘ওয়া কাজালিকা নুনজিল মুমিনিন’ আর এভাবেই আমি আল্লাহ মুমিনদের উদ্ধার করে থাকি।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)

যেকোনো বিপদ-মসিবত, দুশ্চিন্তা-পেরেশানি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে দোয়া ইউনুস পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান এই দোয়া ইউনুসের সাহায্যে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে, আল্লাহ তা কবুল করেন।’ অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে এই দোয়া পড়ে, আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক

 

ক্ষমা করলে আল্লাহ যে পুরস্কার দেবেন

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
ক্ষমা করলে আল্লাহ যে পুরস্কার দেবেন
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট

আল্লাহতায়ালা ক্ষমাশীল। তিনি বান্দাদের ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। আল্লাহতায়ালা মুহাম্মাদ (সা.)-কে এই গুণ অর্জনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন এবং মানুষকে ভালো বিষয়ের আদেশ করুন। আর মূর্খদের উপেক্ষা করুন।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৯৯) 

কোরআনের অপর এক আয়াতে মানুষকে ক্ষমা ও ছাড়ের ব্যাপারটাকে আল্লাহতায়ালা খুবই আশাব্যঞ্জক ও পরকালীন সমৃদ্ধির উপকরণ বলে বর্ণনা দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে ধাবিত হও, যার প্রশস্ততা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর ন্যায়। যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য। যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল উভয় অবস্থায় ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সম্বরণকারী আর মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ নেককার লোকদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩-১৩৪)

মুসলিম সমাজ সব সময় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ থাকবে এমনটিই চাইতেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজের মূল উপাদান হলো ক্ষমা করা। ক্ষমা মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা তৈরি করে। আল্লাহ ক্ষমাকারীর সম্মান বাড়িয়ে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সদকা করলে অর্থসম্পদে ঘাটতি হয় না। যে ক্ষমা করবে আল্লাহ তার সম্মান বাড়িয়ে দেবেন। আর যে আল্লাহর জন্য নম্রতা অবলম্বন করবে, আল্লাহতায়ালা তার মর্যাদা উঁচু করে দেবেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৮)

বাস্তবে ঘটে যাওয়া দুর্নীতি, অনাচার ও ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করাই হলো ক্ষমা করা। ক্ষমা করার প্রবৃত্তি সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিধানের নিশ্চয়তা দেয়। অপরদিকে কেউ যদি নিজের শতভাগ অধিকার আদায় করতে উঠেপড়ে লেগে যায়, তা হলে তার মাধ্যমে সমাজে পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্ষমা করার ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহ দিতে গিয়ে বারবার কীভাবে ক্ষমা করতে হয়, তার কিছু উদাহরণ টেনেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, “এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, গোলামকে আমি কতবার ক্ষমা করব?’ রাসুল (সা.) চুপ রইলেন। এরপর সে আবার জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি কতবার ক্ষমা করব?’ এবার রাসুল (সা.) উত্তরে বললেন, ‘প্রতিদিন ৭০ বার।” (তিরমিজি, হাদিস: ১৯৪৯) 

একজন গোলাম তো প্রতিদিন আর ৭০ বার ভুল করতে পারে না। ৭০ বারের কথা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বারবার ক্ষমা করা বোঝানোর জন্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্ষমা করতে পছন্দ করতেন। এটি সুন্নত। ক্ষমায় সমাজে শান্তি ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায়। মানুষকে ক্ষমা করলে কী পুরস্কার পাওয়া যায়, আল্লাহ তা কোরআনে ঘোষণা করেছন, ‘এবং নিজ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে মাগফেরাত ও সেই জান্নাত লাভের জন্য একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হও, যার প্রশস্ততা আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতুল্য। তা সেই মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় (আল্লাহর জন্য অর্থ) ব্যয় করে এবং যারা নিজের ক্রোধ হজম করতে ও মানুষকে ক্ষমা করতে অভ্যস্ত। আল্লাহ এমন পুণ্যবানদের ভালোবাসেন।’

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক