ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

ভালোবাসার পরামর্শ

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:১৬ পিএম
ভালোবাসার পরামর্শ

নামকরা জাঁদরেল এক জ্যোতিষী। ভালোবাসা দিবসের আগে তার কাছে এল এক যুবক।

‘আমার বান্ধবীকে কী উপহার দিলে সে খুশি হবে?’

‘ব্যাগ। সুন্দর দেখে একটা ব্যাগ দাও।’ 

এক সুন্দরী এল।

‘আমার প্রেমিক এবার আমাকে কী উপহার দেবে বলে আপনার মনে হয়?’ 

‘ব্যাগ।’ জলদগম্ভীর স্বর জ্যোতিষীর।

জল থেকে উঠে এক কুমির এল।

‘এই ভালোবাসা দিবসে কারও সঙ্গে আমার প্রেম হবে বলে মনে হয় আপনার?’

‘খুব শিগগিরই এক সুন্দরীর সঙ্গে দেখা হবে তোমার।’

খুশিতে জ্বলে উঠে জলে নেমে পড়ল কুমির। দুদিন পর এক শিকারি এল। সেই কুমিরটাকে মেরে নিয়ে চলে গেল। কুমিরের চামড়া থেকে তৈরি হলো আকর্ষণীয় এক ব্যাগ। সেই ছেলে ভালোবাসা দিবসে সেই ব্যাগ কিনে দিল সেই তরুণীকে।

সব কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলল। ব্যাগ উপহার পেল মেয়েটা, কুমির দেখা পেল এক সুন্দরীর।

জাঁদরেল জ্যোতিষী! আগেই বলেছিলাম।

রিকশাওয়ালার সঙ্গে এক দিন

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫২ এএম
রিকশাওয়ালার সঙ্গে এক দিন

যাত্রী: ওই খালি, পুরানা পল্টন যাইবা?

রিকশাওয়ালা: যামু।

যাত্রী: ভাড়া কত?

রিকশাওয়ালা: আগে কন কোন ক্লাসে যাইবেন?

যাত্রী: মানে? রিকশার আবার ক্লাস কী?

রিকশাওয়ালা: মানে বুঝলেন না। ৩০ টাকায় ফার্স্ট ক্লাস, এমুন রাস্তা দিয়া নিয়া যামু, গায়ে একটা ফুলের টোকাও লাগব না। ২০ টাকায় সেকেন্ড ক্লাস, এমুন ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়া যামু যে ঝাক্কি খাইতে খাইতে শইলের হাড্ডিগুড্ডির বারোটা বাইজা যাইব। আর ১০ টাকায় হইলো আপনের থার্ড ক্লাস। রিকশা আপনেই চালাইবেন আর আমি সিটে বইয়া রেস্ট লমু!

কলি

 

একটি তেলাপোকার আত্মকথা

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫০ এএম
একটি তেলাপোকার আত্মকথা

আমি একটি বাদামি তেলাপোকা। জন্মের পর বাবা-মায়ের দেওয়া একটা নাম অবশ্য আছে, কিন্তু সে নামে আমাকে কেউ চেনে না। চেনে তেলাপোকা নামে। শুধু এখানেই আমার পরিচয়ের সমাপ্তি নয়, মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতেও আমার অবস্থান ভিন্ন। কেউ চেনে আমাকে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বাহক হিসেবে, আবার কারও চোখে আমি সাক্ষাৎ যম।

মায়ের কাছ থেকে শুনেছি, রহিম সাহেবের বাসভবনের দোতলার আলমারির এক অন্ধকার কোণে আমার জন্ম। বয়স যখন ১৭ দিন, তখন মা আমাদের পাঁচ ভাইয়ের জন্য খাবার আনতে গিয়ে আর ফেরেনি। সমগোত্রীয়দের কাছ শুনেছি, রহিম সাহেবের বিশালবপু দারোয়ানের পদতলে পিষ্ট হয়ে মা পটল তুলেছিলেন। মায়ের দুঃখে বাবা তেলাপোকার ওষুধ খেয়ে নেন। ভেজাল ওষুধ বলে তিনি মরেননি। তবে কঠিন ডায়রিয়ায় ভুগেছিলেন।

সেদিনের কথা, আমি খাবার আনতে গিয়েছিলাম রহিম সাহেবের বাড়ির দক্ষিণ দিকের কিচেনে। সেখানে গিয়ে মাত্র দাঁড়িয়েছি, অমনি কোথা থেকে রহিম সাহেবের কাজের বুয়া এসে শলার ঝাড়ু দিয়ে দিল এক বাড়ি। ভাগ্য ভালো ছিল তাই ফসকে বাড়িটা গায়ে লাগেনি। তবে মুখের একটা গোঁফ ছিঁড়ে গিয়েছিল। তা দেখে আমার সমগোত্রীয় তেলাপোকাদের সে কী হাসাহাসি! একজন তো বলেই ফেলল, ‘রহিম সাহেবের বুয়াটার বোধহয় তোমার গোঁফটা পছন্দ হয়েছিল, তাই নিয়ে নিয়েছে।’ সেদিন কান্নায় আমার বুকটা ভেঙে যাচ্ছিল। ইচ্ছা করছিল নিজের পাখনা নিজে ছিঁড়ি! কিন্তু হাত না থাকায় পারিনি।

মাঝে মাঝে আমার মনে হতো, আমার এ দুর্ভাগ্যের কথা কোন মানুষকে গিয়ে বলি! শুনে তারা আমাকে ভালোবাসতেও পারে! এক দিন বিকেলে রহিম সাহেবের ছেলের বান্ধবী এসেছিল। তারা যখন গল্প করছিল তখন আমি উড়ে গিয়ে মেয়েটার কাঁধের ওপর বসি। রহিম সাহেবের ছেলে ভূত দেখার মতো চমকে ছিটকে সরে গেল। মেয়েটা এমন চিৎকার দিল যে, আমার কানের পর্দা গেল ফেটে। সেই থেকে কানে কম শুনি। সরকারি নাক, কান ও গলা হাসপাতালে গিয়েছিলাম কিন্তু গিয়ে শুনলাম, তেলাপোকাদের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা সেখানে নেই। হায়রে আমার তেলাপোকা জনম। খুব কান্না পাচ্ছিল। সেই গানটির কথা মনে পড়ছিল, ‘তেল গেলে ফুরাইয়া বাত্তি যায় নিভিয়া, কী হবে আর কান্দিয়া...’।

আজ সকালে বিছানায় শুয়ে আছি। হঠাৎ ‘ফস’ ‘ফস’ করে শব্দ হলো। আমার সিক্সথ সেন্স বলল, ‘বিপদ’। বুদ্ধি করে শব্দের উল্টোদিকে দৌড় দিলাম। কিছুক্ষণ পর সেখানেও একই শব্দ হলো। বুঝলাম তেলাপোকার স্প্রে দিচ্ছে। মাথাটা কেমন যেন ‘ভোঁ’ ‘ভোঁ’ করে উঠল। আমি আলমারির অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতেই ‘সপাং’ ‘সপাং’ করে দুটো ঝাড়ুর বাড়ি আমার ক্ষুদ্র দেহের ওপর এসে পড়ল। তারপর আর কিছু মনে নেই।

আমি এখন পা উপর দিকে দিয়ে, উল্টো হয়ে দিব্যি শুয়ে আছি। কিছুক্ষণ পর হয়তো রহিম সাহেবের বুয়া আমাকে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে আসবে। হোমলেস হয়ে যাব এক নিমিষেই। তেলাপোকাদের জীবনটাই বোধহয় এরকম। তোমরা ভালো থেকো। বিদায়।

কলি

সিঙ্গেল থাকার কারণ

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪৭ এএম
সিঙ্গেল থাকার কারণ

প্রেম-ভালোবাসার এই যুগেও কিছু কিছু পোলাপান কেন সিঙ্গেল থাকে, তা জানানোর চেষ্টা করেছেন ফখরুল ইসলাম।

উন্নত কনফিগারেশনের কারও জন্য অপেক্ষা করা

ডিজিটাল যুগের পোলাপান কিছুদিন পরপরই আগের চেয়ে অ্যাডভান্স মডেলের মোবাইল কম্পিউটার পেয়ে থাকে। এ কারণেই এরা অপেক্ষা করে এই আশায় যে, আরও কিছুদিন অপেক্ষা করলে হয়তো আরও সুন্দর বা হ্যান্ডসাম গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ড পাওয়া যাবে।

ডেটিংয়ের লোকেশনের অভাব

‘প্রেম করলে করা যায় কিন্তু ডেটিংয়ে যাব কই?’ এই কনফিউশনে ভোগা সিঙ্গেল তরুণ-তরুণীর অভাব নেই। পার্কের পরিবেশ ভালো না, চাইনিজের বাজেট নাই, রিকশায় ঘোরার উপায় নাই (জ্যাম) ইত্যাকার নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত তরুণ-তরুণীর শেষ পর্যন্ত আর প্রেমে জড়ায় না।

ছ্যাঁকার বাজে অভিজ্ঞতা

বিগত জীবনে প্রেম করে ছ্যাঁকা খাওয়া লাখ লাখ তরুণ-তরুণী নতুন করে আর ছ্যাঁকা খেতে চায় না। তাদের মোটো হচ্ছে, ‘ন্যাড়া একবারই বেল তলায় যায়। আমরা অলরেডি গিয়ে এসেছি। আমাদের আর সেখানে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।’

সাহসের অভাব

ভালোবাসে কিন্তু মুখ ফুটে সাহস করে এই কথাটা বলতে পারে না- এরকম তরুণ-তরুণী আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরা বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয় কিন্তু সেই পরামর্শ বাস্তবায়ন করতে পারে না।

অলস
প্রেম করব কিন্তু কার সঙ্গে করব, সেটা খুঁজে বের করতে পারব না, প্রপোজ করতে পারব না, কোনো ধরনের এফোর্ট দিতে পারব না-যেকোনো ধরনের পরিশ্রম করা ছাড়া ভালোবাসার মানুষ খুঁজে পাওয়ার আশা করা এসব অলসরাও সাধারণত সিঙ্গেলদের দলেই পড়ে থাকে।

ওভার রিয়েলিস্টিক অথবা ওভার ইমোশনাল

অতি বাস্তববাদী অথবা অতি আবেগী... এই দুই দল মানুষের কোনো দলই রিলেশনে স্ট্যাবল থাকতে পারে না। অতএব সিঙ্গেল থাকাটাই যেন তাদের দিনশেষের চূড়ান্ত পরিণতি।

ভাল্লাগেনা রোগী

এদের তো কোনো কিছুই ভাল্লাগেনা। অতএব, প্রেম করতেও যে এদের ভালো লাগবে না, এটাই তো স্বাভাবিক।

কিপ্টা কুনহানকার

প্রেমে হাজার রকম গিফটের হ্যাপা, দুদিন পর পর ডেটিংয়ের ঝেপা- এতসব খরচের কথা চিন্তা করে কিপ্টা শ্রেণির তরুণ-তরুণী একাই থেকে যায়।

কলি

একটি সাংঘাতিক প্রেমের গল্প

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪২ এএম
একটি সাংঘাতিক প্রেমের গল্প

সাংবাদিক হওয়ার ইচ্ছা কীভাবে হয়েছিল জানি না। তেমন কোনো যোগ্যতা না থাকার পরও একসময় আমিও সাংবাদিক হয়ে গেলাম। দায়িত্ব পড়ল বইমেলা কাভার করা। গলায় ক্যামেরা ঝুলিয়ে হাতে কলম আর নোটবুক নিয়ে বুকের ছাতি কয়েক ইঞ্চি ফুলিয়ে বইমেলায় প্রবেশ করা শুরু করলাম।

বাংলা একাডেমির ভেতর ছিল মিডিয়া ভবন। নতুন নতুন সাংবাদিক হলে যা হয়, আমারও তা-ই হলো। কোনো কাজ নেই তবুও বিকেল করে মেলায় গিয়ে মিডিয়া ভবনে ভাব নিয়ে বসে থাকতাম, নোটবুকে কিছু লেখার চেষ্টা করতাম। মিডিয়া ভবনের প্রতি মানুষ কোনো আগ্রহ দেখাত না তবে তাতে আমার আগ্রহ কিছুটা কমত না।

এরকম এক ফাগুনের বিকেলে ভাব নেওয়া শেষ করে মাত্র মিডিয়া ভবন থেকে বের হয়েছি ঠিক তখনই দুর্ঘটনাটা ঘটল! মিডিয়া ভবনের সামনেই একটা লিটল ম্যাগের স্টলে একটা মেয়ে বসেছিল, তার দিকে তাকানোটাই ছিল দুর্ঘটনা! মেয়েটাও আগ্রহ করে মিডিয়া ভবনের দিকে তাকিয়েছিল। চোখাচোখি হতেই আমি এই পৃথিবী থেকে ‘নাই’ হয়ে গেলাম। আমার বুকের মধ্যে হুহু করে ফাগুনের বাতাস বইতে লাগল, হাত-পা-চোখ-মুখ কাঁপতে লাগল।

মনে হলো এই মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে না পারলে মরেই যাব! একজন তরুণ সাংবাদিকের এত তাড়াতাড়ি মরে যাওয়াটা ঠিক হবে না ভেবে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেললাম। কথা বলার জন্য প্রয়োজনীয় সাহস সঞ্চয় করে স্টলের দিকে এগিয়ে গেলাম।

স্টলের সামনে অনেকগুলো বই-পত্রিকা সাজানো। মেয়েটা স্টলের দায়িত্বে। গিয়ে বই নাড়াচাড়া করতে লাগলাম আর কীভাবে কথা বলা যায় তাই ভাবতে লাগলাম। একবার সাহস করে তার মুখের দিকে তাকালাম সঙ্গে সঙ্গেই আবার বুকটা হুহু করে উঠল। ওই চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা তো দূরের কথা জীবনে কোনো দিন কথা বলেছিলাম কি না, সেটাই মনে করতে পারলাম না। চলে যে আসব সেটাও পারছিলাম না।

এরকম একজন মেয়ের কাছ থেকে বই না কিনে চলে এলে মেয়েটা যদি কিছু ভাবে! তাই ১৫০ টাকা খরচ করে হাতের কাছে যে বই পেলাম সেটাই কিনে সেদিনের মতো চলে এলাম।

সাংবাদিকতা মাথায় উঠল! প্রতিদিন তার সামনে যেতাম, কিছু না বলে হাতে যে বইটা উঠত সেটাই কিনে চলে আসতাম। এভাবেই ২২ তারিখ পর্যন্ত গেল, মেলার আর ছয় দিন বাকি। এরই মধ্যে কথা বলতে না পারলে জীবনেও আর বলা হবে না। বাংলা সিনেমার গরিব নায়ক জসিমের কপালেও ৪০ লাখ টাকার লটারি ‘লাইগ্যা’ যায়, বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেড়ে, আমার ভাগ্যেও কিছু একটা ছিঁড়ল। সেদিন তার স্টলের সামনে যেতেই তিনি নিজ থেকেই কথা বলে উঠলেন।

-ভালো আছেন? আমার নাম সাথী, আপনার সঙ্গে কিছু কথা ছিল। আপনার হাতে সময় হবে?

সময় হবে মানে! আমি আকাশ থেকে পড়লাম। বলে কী এই মেয়ে! যেদিন প্রথম দেখেছি সেদিন থেকে সময় বলতে আমি শুধু এই মুখটাকেই বুঝি। ঘণ্টা-দিন-মাস তার চোখে আটকে আছে, আর তিনি কিনা জানতে চাইছেন আমার সময় হবে কি না!

বললাম, ‘আপনি চাইলে বিগ ব্যাং থেকে শুরু করে আগামী কয়েক লাখ বর্ষ সময় আমি বের করতে পারি। আর আপনি চাচ্ছেন মাত্র ১০ মিনিট।’ আমার কথা শুনে মেয়েটা হেসে ফেলল।

আমরা মেলার ক্যান্টিনে বসে দুই কাপ কফি অর্ডার করলাম। কফি আসার আগে তিনি মুখ খুললেন, আপনি কি আমার প্রেমে পড়েছেন?

ভীষণ লজ্জা করছিল, লজ্জার ঠেলায় হ্যাঁ বলতে গিয়ে বললাম, ‘আরে নাহ। প্রেমে পড়ব কেন? আজব তো।’

-না, মানে কেন যেন মনে হলো আপনি আমার প্রেমে পড়েছেন। গত ১৫ দিন ধরে আপনি আমার স্টলে আসছেন। তারপর প্রতিদিন ১৫০ টাকা দিয়ে বই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এক দিনও বইয়ের দিকে তাকাননি। বাসায় গিয়েও মনে হয় প্যাকেটও খোলেননি। খুললে বুঝতেন আপনি প্রতিদিন আসলে একটি বই-ই কিনেছেন। বইয়ের নাম ‘পেটের সমস্যায় ঔষধি গাছ’। একই বই ১৫ দিন এসে কেনার পেছনে আমি আর কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।

তার কথা শুনে মাথা নিচু হয়ে গেল। মনে হলো ধরণি দ্বিধা হোক বা না হোক, আমার এখনই মাটির তলে ঢুকে যাওয়া উচিত। তবে পিকচার তখনো কিছুটা বাকি ছিল। তিনি বললেন, ‘আসলে আমার প্রেমে পড়ে লাভ নেই। আমি বিবাহিত। আমার একটা বাচ্চা আছে। ক্লাস ওয়ানে পড়ে..’ এটুকু বলতেই ধপাস করে শব্দ হলো। আমি চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারালাম নাকি জ্ঞান আমাকে হারাল ঠিক পরিষ্কার না। তবে ক্যান্টিনে ছোটাছুটি শুরু হয়ে গেল।

একসময় চোখ মেলে আবিষ্কার করলাম, আমি মাটিতে শুয়ে আছি। সাথী উপুড় হয়ে আমার মুখে পানির ছিটা মারছে। আগ্রহী লোকজন চিড়িয়াখানায় বাঁদর দেখার মতো করে আমাকে দেখছে। একসময় মানুষের বাঁদর দেখা শেষ হলো, যে যার মতো চলে গেল। আমি স্বাভাবিক হয়ে বসে আছি। সাথী বলল, ‘আমি খুবই দুঃখিত। আসলে আমার বিয়ে টিয়ে হয়নি। আপনার সঙ্গে একটু মজা করছিলাম। আপনি এরকম করে ফিট খাবেন জানলে কখনোই এমন করতাম না। সরি...’

অধিক শোকে মানুষ পাথর হয়, অধিক সুখে  কী হয় জানি না। সম্ভবত পাগল হয়ে যায়। আমিও পাগল হয়ে গেলাম। কিছু না বুঝেই সাথীর হাত আমার হাতে নিয়ে বললাম, ‘সাথী প্লিজ, প্লিজ... আমাকে তুমি ভুল বোঝো না। আমি তোমার প্রেমে পাগল হয়ে গিয়েছি। তোমাকে ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারি না, ভীষণ ভীষণ ভালোবাসি তোমাকে..’

কোথাও বোম ফুটল না, শঙ্খচিল উড়ল না, আকাশে বিজলি চমকালো না, পাখি গান গাইল না, কৃষ্ণচূড়া লাল হলো না.. শুধু মুচকি হেসে সাথী বলল, ‘সে তো আমি প্রথম দিন থেকেই জানি।’

মহাকাল আরও কিছু কাল অতিক্রম করল, পৃথিবী তার অক্ষের চারপাশে আরেকটু ঘুরে এল, বিভিন্ন স্টলে বেশ কিছু বই বিক্রি হলো, শাহবাগ মোড়ে তিনটি সিগন্যাল ছাড়ল, টিএসসিতে কয়েক শ কাপ চা বিক্রি হলো। সাথী তার হাত সরিয়ে নিল না।

কলি

 

 

কবি জব্বর জসিমের বইয়ের মার্কেটিং

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০৫ পিএম
কবি জব্বর জসিমের বইয়ের মার্কেটিং

আমরা যারা পেটের দায়ে চাকরি করি, তাদের মাসের শুরুটা কাটে বারবার অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স চেক করতে করতে। অ্যাকাউন্টে বেতন ঢোকার মেসেজ টোন যখন কানে বাজে, তখন ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খাঁর সরোদও বেসুরো মনে হয়। আর এমন একটা শুভ দিনে বউ যদি বইমেলায় যেতে চায়, তখন ‘না’ বলাটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

তো বউয়ের আবদারে এবং বাঙালিয়ানা রক্ষার স্বপ্রণোদিত উদ্যোগে সেদিন অফিস শেষে দুজন বইমেলায় গেলাম। বেশ কিছু স্টল ঘুরে ঘুরে বই পছন্দ করতে না পারলেও আমরা সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছবি তুলে ফোনের মেমোরি কার্ড টইটম্বুর করে ফেললাম।

বউকে ভুজুংভাজুং বুঝিয়ে বইমেলার বাউন্ডারি পার হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঝোপের আড়ালে গেলাম জল বিয়োগ করতে। কাজ সেরে ঘুরতেই দেখি মাথায় জট পাকানো এক লোক, মুখে আকর্ণ হাসি।

হেসে বলল, ভাই এদিকে কী মনে করে?

আমি রেগে বললাম, তা দিয়ে আপনার কাজ কী? নিজের কাজে যান।

সে হাসিটা আরও চওড়া করে বলল, দাদো কি বইমেলায় নতুন নাকি?

এতক্ষণে তার কাঁধে চটের ব্যাগ আর অন্য হাতে ধরা ছোরার চকচকে ফলা আমার নজরে এলো। রাগে ফেটে পড়তে গিয়েও মিইয়ে গেলাম।

আমার নরম ভাব দেখে সে ছুরির ফলাটা আরেকটু বের করে ধরল। বিনয় যেন গলে পড়তে লাগল তার চেহারা মোবারক থেকে। বলল, দাদো, আমি কবি জব্বর জসিম। একখানা পাতলা মলাটের বই তার ঝোলা থেকে বের করে বলল, এটা আমার প্রথম বই।

পাশ থেকে একজনকে ডেকে বলল, এই মফিজ কই গেলি? দাদোকে একটা নতুন ব্যাগে বই দে।

অন্ধকারের ভেতর থেকে কবি জব্বর জসিমের সাগরেদ মফিজ একটা চকচকে শপিং ব্যাগে কবিতার বই ধরিয়ে দিল।

এবার কবি আরও বিনীতভাবে হাতের তালু কচলে বলল, ইয়ে মানে দাদো, ৪০০ টাকা হাদিয়া আমার বইয়ের।

বলতে বলতে হাতের তালু কচলানোর ভঙিমায় ছুরিটা শক্ত করে বাগিয়ে ধরল। আমি নিজের অজান্তেই হাত পকেটে ঢুকিয়ে দিলাম। বেতনের নতুন ৫০০ টাকার একটা নোট সুড়সুড় করে বেরিয়ে এলো। সে আমার হাত থেকে নোটটা টান দিয়ে নিয়ে বলল, দাদো আপনার তুলনা হয় না। আমার মতো নতুন আনকোরা একজন কবিকে সম্মান দেখিয়ে আপনি বাড়তি ১০০ টাকা বকশিশ দিলেন। এবার দ্রুত এখান থেকে চলে যান দাদো, আমার আরও কাস্টমার আসছে।

আমার পুরো শরীর ঘামে ভিজে গেছে। ফিরে আসার পর বউ অবাক হয়ে বলল, কী ব্যাপার? ওদিকে বৃষ্টি হচ্ছে নাকি?

কলি