ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে কী কী কাজ করানো যায়

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৮ পিএম
কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে কী কী কাজ করানো যায়

নামকরণ: কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নিজেদের গ্রুপের ইউনিক নাম দিতে চায়, যা কেউ আগে কখনো দেয়নি। তাই আপনার ফেসবুক-মেসেঞ্জার গ্রুপের নাম, কালচারাল প্রোগ্রামের নাম কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে আপনার নবজাতক শিশুর নাম নিয়ে যদি কোনো সমস্যা হয় তাহলে তাদের দ্বারস্থ হতে পারেন।

পেইন্টিং: শহর কিংবা শহরতলি; সব জায়গায় দেয়ালে দেয়ালে নিজেদের গ্যাংয়ের নাম বা লোগো এঁকে নিজেদের জানান দিতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ভীষণ উৎসাহী। আপনার স্কুল-কলেজ কিংবা বাড়িঘরে সস্তায় পেইন্টিং করাতে চাইলে এদের ডাকতে পারেন, পরমানন্দে তারা এই কাজ করবে বলে আশা করা যায়।

মাছ কাটা: আপনার বাড়িতে হুট করে কোনো অনুষ্ঠান? খাবারের মেন্যুতে মাছের ব্যবস্থা আছে কিন্তু মাছ কাটাকুটির লোক এই শেষ মুহূর্তে খোঁজে পাচ্ছেন না? আপনার জন্য এক নিমিষেই হাজির হবে একঝাঁক কিশোর গ্যাং। ছুরি, চাকু ব্যবহার করে কাটাকুটিতে তারা সিদ্ধহস্ত। তবে তার আগে তাদের ফেসবুক গ্রুপে ইনবক্সে জানাতে হবে আপনার লোকেশন এবং অনুষ্ঠানের সময়। পারিশ্রমিকের ব্যাপারটাও সেরে ফেলতে পারেন তখন।

ফুটবল মাঠের রেফারি: অনেক দিন পর বন্ধুরা এলাকায় ঈদের ছুটিতে একত্রিত হয়েছেন। ভাবছেন ফুটবল খেলবেন। সবাই খেলতে আগ্রহী তাই রেফারি খুঁজে পাচ্ছেন না? সমস্যা নেই। কিশোর গ্যাংয়ের কোনো একজনকে ডাকুন, হুইসেল ছাড়াই বেশ জোড়ে শিস বাজাতে পারবে সে। স্কুল-কলেজের সামনে মেয়েদের দিকে তাক করে শিস বাজানোতে পটু এরা।

অভিনেতা এবং অন্যান্য কলাকুশলী: অনেক দিন ধরে ভাবছেন একটা শর্টফিল্ম বানাবেন কিন্তু আপনার বাজেট কম বলে পর্যাপ্ত কলাকুশলী খুঁজে পাচ্ছেন না? ডেকে আনুন একটা কিশোর গ্যাং, হাতে স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে দিন। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, নিজের সর্বোচ্চটা ঢেলে দেবে তারা। হিরোইজম দেখাতে গিয়ে অনেক ভিডিও আপলোড করে তাদের ফেসবুক পেজে। সেই ভিডিওগুলোর অভিনয় দেখে বেছে নিতে পারেন কম দরের অ্যাকশন হিরো, জোকার এবং অন্যান্য চরিত্র।

শোডাউন: আজ আপনার জন্মদিন অথচ এলাকার কেউই আপনাকে শুভেচ্ছা জানায়নি? এক কাজ করুন, স্বল্প টাকায় একটা কিশোর গ্যাং ভাড়া করে আনুন। টাকার জন্য করতে পারে না এমন কোনো কাজ নেই। আপনার ছবি এবং নামাঙ্কিত ফেস্টুন ছাড়াই এরা মোটরবাইকে করে গলা ফাটিয়ে আপনার নাম উচ্চারণ করে করে শোডাউন দেবে।

কলি

ফেসবুক যদি সরকারি প্রতিষ্ঠান হতো!

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৫৭ এএম
ফেসবুক যদি সরকারি প্রতিষ্ঠান হতো!

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক যদি সরকারি কোনো অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হতো তাহলে অবশ্যই যে ঘটনাগুলো ঘটত তা একটু কল্পনা করে নিই।

ডোমেইন নেম: ফেসবুকের বর্তমান ডোমেইন নেম www.facebook.com। ফেসবুক যদি সরকারের অধীনে থাকত তাহলে এর বর্তমান ডোমেইন নেমের পরিবর্তে আপনাকে ক্লিক করতে হতো www.facebook.gov.bd এই অ্যাড্রেসে।

পরিচালনা: ফেসবুক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ভার দেওয়া হতো যুব এবং কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী পদাধিকার বলে ফেসবুকের মহাপরিচালক (সিইও না) হিসেবে কাজ করতেন। ফেসবুক কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা শেখার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর দেশব্যাপী ডিপ্লোমা কোর্স চালু করত।

হেড অফিস: স্বাভাবিকভাবে ফেসবুকের হেড অফিস হতো সচিবালয়ে। সেখানে ফেসবুকের জন্য দুটি কামরা বরাদ্দ দেওয়া হতো। তবে সার্ভার রাখার জন্য কারওয়ান বাজার কিংবা চানখারপুলে জমি কিনে ভবন বানানো হতো। এই জমি কিনতে গিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করতেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দুর্নীতি তদন্তে নামত দুদক।

সার্ভার কেনা: ফেসবুক ব্যবহারকারীদের লাখ লাখ ছবি, ভিডিও, গান রাখার জন্য প্রয়োজন হাজার হাজার সার্ভার। ফেসবুক যদি সরকারের হাতে থাকত তাহলে তারা গুটি কয় মান্ধাতার আমলের পুরোনো সার্ভার দিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করত। ফলস্বরূপ ছবি কিংবা ভিডিও আপলোডে সমস্যায় পড়তেন ব্যবহারকারীরা। সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নিজে হস্তক্ষেপ করতেন। জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে কুইক রেন্টাল সার্ভার দিয়ে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করা হতো।

অ্যাকাউন্ট খোলা: ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজন হতো দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি (প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসার কর্তৃক সত্যায়িত), নমিনির ছবি (অ্যাকাউন্ট খুলতে আগ্রহী ব্যক্তি কর্তৃক সত্যায়িত), জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে পাসপোর্টের ফটোকপি, মহাপরিচালক-ফেসবুক বরাবর ২৫০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট এবং আয়কর শনাক্তকরণ নাম্বার। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার ১০ কর্মদিবস পর পাওয়া যেত ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড।

ফুটপাথে উৎপাত: ফেসবুকের হেড অফিসের সামনে দালাল থাকত। স্বাভাবিকভাবেই এদের প্রধান হতেন ফেসবুক মহাপরিচালকের শালা কিংবা ভায়রা। দালালরা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার বিনিময়ে দ্রুত নতুন ব্যবহারকারীকে ফেসবুক ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড বের করে দিত।

কঠোর আইন: ফেসবুকে ফেক আইডিধারীদের প্রতিরোধে কঠোর আইন করত সরকার। অপরাধীদের দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হতো। অপরাধ প্রমাণিত হলে ছয় মাস থেকে দশ বছর পর্যন্ত জেল, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারত।

নতুন ফিচার: সরকার ফেসবুকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফিচার যোগ করতেন। এ ব্যাপারে আর্থিক সাহায্য নেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংক, জাইকা এবং মালয়েশিয়ান কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। বরাবরের মতো বিশ্বব্যাংক এই খাতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অর্থ দেওয়া থেকে বিরত থাকত।

মামলা: ফেসবুক টাইম লাইন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে হাইকোর্টে রিট মামলা করা হতো। শুনানিকালে বিচারক কয়েকবার বিব্রত হতেন। ফলে মামলার ভাগ্য ঝুলে যেত। তবে ব্যাপারটায় খুশি হতেন উকিলরা। কারণ রায়ে যত দেরি, তত শুনানি, তত টাকা।

ভোগান্তি: ব্যান্ডউইথ কম থাকায় ফেসবুকের হোম পেজে ঢোকা হতো বিরাট কষ্টকর ব্যাপার। ইউআরএলে অ্যাড্রেস লিখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো হোম পেজের জন্য। যদিওবা কেউ ঢুকতে পারত তাহলে দেখত এর প্রোফাইলে ওর ছবি, ওর প্রোফাইলে তার ছবি বসিয়ে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি সংক্রান্ত এই জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন ফেসবুক দপ্তরে ঘোরাঘুরি করতে হতো।

টেন্ডারবাজি: ফেসবুকের যাবতীয় টেন্ডার পাওয়ার জন্য ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে চলত রেষারেষি। এরকম পরিস্থিতিতে ছাত্রশিবির কোনো টেন্ডার না পেয়ে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো ছটফট করত।

অর্থ সংগ্রহ: নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ফেসবুককে ব্যবহার করা হতো। প্রতিটি ছবি আপলোডের জন্য এক টাকা, প্রতিটি স্ট্যাটাসের জন্য ৫০ পয়সা এবং প্রতিটি কমেন্টসের জন্য ২৫ পয়সা হারে কর্তন করে ওই অর্থ দিয়ে সেতু বানানো হতো। বর্ণিত সব অর্থের সঙ্গে ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হতো।

সাইট হ্যাকিং: ভারতীয় হ্যাকাররা বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইটগুলো হ্যাক করে মজা পায়। ফেসবুক সরকারের অধীনে থাকলে অন্যান্য সরকারি সাইটের সঙ্গে সঙ্গে তারা ফেসবুকও হ্যাক করত।

নির্বাচন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বলেই হয়তো ফেসবুকের মহাপরিচালক সবার মধ্যে অচিরেই জনপ্রিয় হয়ে যেতেন। ফলস্বরূপ তার মধ্যে আবির্ভাব হতো দেশপ্রেম করার বাসনা। ইতোমধ্যে দুর্নীতি করে ভালো পয়সা কামিয়েছেন তিনি। তাই দেরি না করে মাদারীপুর-৪ আসন থেকে এমপি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যেতেন।

কলি 

২১২৪ সালের এক দিন

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪৭ এএম
২১২৪ সালের এক দিন

গাছপালা কাটার কারণে পরিবেশ যেভাবে চেঞ্জ হচ্ছে তাতে ১০০ বছর পর এমন ঘটনা ঘটতেও পারে। লিখেছেন মো. রাকিব

দর্শকমণ্ডলী, বার্তাকক্ষ থেকে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি মিস মর্জিনা। আপনারা এরই মধ্যে শুনেছেন, আজ বিকেলে বৃষ্টি আসবে। বৃষ্টি আসার দৃশ্য দেখানোর জন্য এখন আমরা সরাসরি চলে যাচ্ছি আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া অফিসে। সেখানে আছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি বক্কর।

মর্জিনা: আপনি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছেন?

বক্কর: সরি মর্জিনা, আমি আপনাকে শুনতে পাচ্ছি না। কিন্তু আপনার কথা শুনতে পাচ্ছি।

মর্জিনা: বৃষ্টি আসার সর্বশেষ খবর আমাদের জানান।

বক্কর: মর্জিনা আমি তো এখনো বৃষ্টির খবর জানতে পারিনি। ঠিক আছে। আমাকে বলতে দিন। আপনি জানেন যে আবহাওয়া অফিসের একজন কর্মকর্তা আজ সকালে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আজ বিকেলে বৃষ্টি আসবে।’ সে খবর শুনে দুপুরের পর থেকে গণমাধ্যমকর্মীরা আগারগাঁওয়ে জড়ো হতে শুরু করেছেন। এখানে এখন সাংবাদিকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।

মর্জিনা: আমি বৃষ্টি আসার খবর জানতে চেয়েছিলাম।

বক্কর: সেটাই বলছি। কবি বলেছেন, ‘তুমি এলে, অনেক দিন পরে আজ বৃষ্টি এলো।’ হ্যাঁ, আজ আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি, সেই বহুল প্রত্যাশিত বৃষ্টি। যার মুখের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে পুরো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আজ বৃষ্টিতে সিক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করবে।

মর্জিনা: কিন্তু বক্কর, বৃষ্টি আসার কোনো লক্ষণ কি আপনি দেখতে পাচ্ছেন? আকাশে কি কোনো মেঘ জমেছে?

বক্কর: আমি এই মুহূর্তে মাথার ওপরের আকাশ বাদে আর কোনো আকাশকে দেখতে পাচ্ছি না। চারদিকে শুধু উঁচু উঁচু দালান। তবে একটু উঁকি মেরে চেষ্টা করা যায়। আমি আমাদের ক্যামেরাম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ক্যামেরাটা একটু ওই কোনার দিকে ঘোরান। হ্যাঁ, ওই কোনে হালকা মেঘ দেখা যাচ্ছে। ওই কোনাটা কি ঈশান কোণ?

মর্জিনা: ঈশান কোণ আবার কী?

বক্কর: এই মুহূর্তে ঠিক বলতে পারছি না। আমরা এটা জানার জন্য এর পরে কোনো একজন ভাষাবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করব। 
মর্জিনা: এই মুহূর্তে আগারগাঁওয়ের পরিস্থিতি কী?

বক্কর: পরিস্থিতি ভয়াবহ। সব সংবাদকর্মী ভিজে গেছেন। না, বৃষ্টিতে নয়, ঘামে। তবু তারা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন কখন বৃষ্টি আসবে। বৃষ্টি এলে সেই দৃশ্য আমরা দর্শকদের দেখাব। খরায় কাতর লোকজনের অনুভূতি জানতে চাইব। অনুভূতি জানতে চাইব তপ্ত রাজপথের, শুকনো গাছপালার। মর্জিনা, আমরা দেখতে পাচ্ছি, আবহাওয়া অফিসের সেই কর্মকর্তা বের হয়ে আসছেন। তিনি আমাদের জানাবেন সর্বশেষ খবর।

কর্মকর্তা: নতুন কোনো খবর নেই। আরও দু-তিন দিন খরা অব্যাহত থাকবে। আপনারা সরে দাঁড়ান। আমাকে যেতে দেন। আমি এয়ারপোর্টে যাব। আমার মেয়ে বৃষ্টি আজ আসবে আমেরিকা থেকে।

কলি 

চিকন হওয়ার সুবিধা

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪২ এএম
চিকন হওয়ার সুবিধা

আপনার শরীর যদি পাটকাঠির মতো চিকন হয়, তবে টেনশন করবেন না। কারণ চিকন হওয়ার কিন্তু অনেক সুবিধা। জানাচ্ছেন হেলাল নিরব

আপনার জামাকাপড় অন্য কেউ গায়ে দিতে পারবে না। দেবে কীভাবে, তাদের গায়ে ফিট হলে তো!

ভূমিকম্প বা আগুন লাগলে আপনার পাখির মতো পোর্টেবল শরীর নিয়ে খুব সহজেই পৌঁছে যেতে পারবেন নিরাপদ স্থানে।

রবিউল মার্কা বডি কোনো মেয়েই পছন্দ করে না। সুতরাং আপনার জীবনে প্রেম আসবে না। থাকবে না ফালতু কোনো খরচ।

কোথাও বেড়াতে গেলে খাবার টেবিলে সবচেয়ে বেশি নজরে থাকবেন আপনি। ‘না খেয়ে খেয়ে শরীরের কী অবস্থা; নাও বাবা, আর একটু মাংস নাও’- এভাবে সবচেয়ে বেশি খাবার পাবেন।

মেট্রোরেলে মানুষের ভিড়ে দাঁড়ানো কষ্টকর একটা ব্যাপার। মোটা মানুষ হলে তো বিপদের শেষ নেই। সেখানে চিকন শরীর হলে যত লোক থাকুক না কেন, তাদের মাঝে আরামসে ফিট হয়ে যাবেন।

রাস্তায় মারামারির মধ্যে পড়লে হালকা-পাতলা শরীরের কারণে মুহূর্তেই সটকে পড়তে পারবেন। মোটা হলে এই সুবিধা কিন্তু পেতেন না।

শার্ট-প্যান্ট বানাতে কাপড় কম লাগবে। ধরুন একটা প্যান্টের পিস দিয়েই আরামসে দুটি প্যান্ট হয়ে গেল। ভেবে দেখুন সেটা কত ভালো!

কলি 

বসকে ম্যানেজ করার নিনজা টেকনিক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩৭ এএম
বসকে ম্যানেজ করার নিনজা টেকনিক

বস: কী ব্যাপার আরিফ সাহেব, ঈদের ছুটি সেই কবে শেষ, এতদিনে আপনার আসার সময় হলো?
আরিফ সাহেব: না মানে বস, বুঝেনই তো... নতুন বিয়ে। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে প্রথম ঈদ। বউ কী আর অত সহজে আসতে চায়!

বস: তা না হয় বুঝলাম; কিন্তু অফিসটাকে কী আপনার শ্বশুরবাড়ি মনে হয়, যখন খুশি আসবেন?

আরিফ সাহেব: ছিছি বস... একদমই না। আর বস, আমি আমার শ্বশুরকে ঠিক এই কথাটাই বলেছিলাম, অফিসটা কী আমার শ্বশুরবাড়ি যে যখন খুশি তখন যাব? তো তখন তিনি কী বললেন জানেন?

বস: কী বললেন?

আরিফ সাহেব: তোমার বসকে তো বিয়ের সময় দেখলাম। মনে তো হয় না এমন একজন নম্র, ভদ্র, সজ্জন মানুষ বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে দু-এক দিন বেশি কাটালে কোনোভাবেই তোমাকে কিছু বলবে।

বস: হুম, তা তো উনি ঠিকই বলেছেন। শুধু একটা জিনিস উনি বলেননি যে, আপনার বস কোনোরকম তেল পছন্দ করেন না।

আরিফ সাহেব: ঠিক বলেছেন বস। আমি তখন তাকে ঠিক এই কথাটাই বলেছিলাম, আমার বস আর সবার মতো না যে, তার নামে দু-একটা ভালো ভালো কথা বলে তাকে একটু তেল দিলেই সে ফুলেফেঁপে যাবে! আমার বস তেল একদমই পছন্দ করেন না। তার জুনিয়ররা তাকে দিলেও না, সে তার সিনিয়রদের দিতেও না। এমনকি আমার বস খাবার-দাবারও খায় ওয়েল ফ্রি।

বস: হুম... চাপাবাজির উন্নতি তো দিন দিন ভালোই হচ্ছে।

আরিফ সাহেব: ঠিক ধরেছেন বস, আপনি আসলেই বিচক্ষণ। আইটি ডেস্কের হারুন সাহেব সেই দিন আমাকে বলছিল, আমার চাপার ধার নাকি আর আগের মতো নেই। আমি নাকি আর আগের মতো কাউকে ম্যানেজ করতে পারি না। আমি ঠিক তখনই হারুন সাহেবকে বলেছিলাম, আপনার মতো চুনোপুঁটি টাইপ মানুষ কোনো সময় আমার চাপাবাজির ধার ধরতে পারবে না, বস হলে এতক্ষণে ঠিক ধরে ফেলত।

বস: তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন, আপনি আমাকে ম্যানেজ করে ফেলেছেন?

আরিফ সাহেব: কী যে বলেন বস, আপনি হলেন ম্যানেজার, আপনাকে কী আর আমার পক্ষে ম্যানেজ করা পসিবল!

বস: হয়েছে হয়েছে... এই ফাইলটা এখন নিয়ে যান। আর ফাইলটা অবশ্যই লাঞ্চের আগে আমার রেডি চাই।

আরিফ সাহেব: জি বস অবশ্যই। আমার জুনিয়র ইদ্রিস সাহেবকে আসার সময়ই বলে এসেছি, আমি বসের রুম থেকে ফাইল নিয়ে আসছি। সে যেন ডাটা অ্যানালাইসিসের ফাইলগুলো ওপেন করে চেক করতে শুরু করে।

 কলি

উচিত শিক্ষা

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১৯ পিএম
উচিত শিক্ষা

এক বৃদ্ধ ট্রেনে উঠেছেন। সেই বগিতে বৃদ্ধ একাই ছিলেন। হঠাৎ ১২ জন যুবক চলন্ত ট্রেনের ওই বগিতে উঠেই চিৎকার করে গান গাইতে শুরু করল। ছুরি দিয়ে আম কেটে খাচ্ছিল তারা। হঠাৎ একটি যুবক বলে উঠল, চল আমরা ট্রেনের চেইনটা টেনে ট্রেনটাকে থামিয়ে দিই।

দ্বিতীয় যুবক: না দোস্ত, লেখা আছে ৫০০ টাকা জরিমানা অন্যথায় এক মাস জেল।

প্রথম যুবক: আমরা ১০০ টাকা করে চাঁদা তুলি। ১২০০ টাকা হবে। জরিমানা দেওয়ার পর বাকি ৭০০ টাকা দিয়ে লাঞ্চ করব। 
ওকে, তাই হবে বলেই ১২০০ টাকা তুলে প্রথম যুবকের পকেটে রাখল।

তৃতীয় যুবক: আমরা চেইন টেনে ওই বুইড়াটাকে দেখিয়ে দিলে ৫০০ টাকাও বাঁচল আবার মজাও করা হলো। আমরা ১২ জনে সাক্ষী দিলে টিটি মেনে যাবে।

বৃদ্ধ ভয় পেয়ে হাত জোড় করে বললেন: বাবারা, তোমরা আমার ছেলের বয়সী। কেন আমাকে বিপদে ফেলবে?

যুবকগুলো বৃদ্ধের অনুরোধ অবজ্ঞা করে চেইনটা টান দিতেই টিটি চলে এসে জিজ্ঞাসা করল, কে চেইন টেনেছে?

যুবকগুলো বৃদ্ধকে দেখিয়ে বলল, ওই চাচা মিয়া টেনেছে।

টিটি বৃদ্ধকে বলল, অকারণে চেইন টানলে ৫০০ টাকা জরিমানা অথবা এক মাস জেল।

যুবকগুলো চিৎকার করে বলল, স্যার, বুইড়া অকারণেই টেনেছে।

এরপর তারা হো হো হো হো হা হা করে হাসতে লাগল।

বৃদ্ধ একটু দাঁড়িয়ে বলল, টিটি সাহেব, আমি বিপদে পড়েই চেইন টেনেছি।

টিটি বলল: কী বিপদ?

বৃদ্ধ বলল: ওই যুবকগুলো আমার গলায় ছুরি ধরে আমার ১২০০ টাকা ছিনতাই করেছে।

টিটি বলল: সর্বনাশ।

বৃদ্ধ প্রথম যুবকটিকে দেখিয়ে দিয়ে বলল, দেখুন ওই যুবকের পকেটে টাকা আর ওই ব্যাগে ছুরি।

টিটি পুলিশকে কল করল। পুলিশ এসে টাকা এবং ছুরি উদ্ধার করল। তারপর গ্রেপ্তার করল ওদের।

যখন ওদের নিয়ে যাচ্ছিল, তখন বৃদ্ধ তার পাকা চুল দেখিয়ে বললেন, এগুলো বাতাসে পাকেনি।

কলি