‘Eastern’ শব্দটি ভৌগোলিক অবস্থান নির্দেশ করে। বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতারা এমন একটি নাম বেছে নিয়েছেন, যা পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারে। ‘Eastern University’ নামটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে। গোলার্ধের পূর্ব প্রান্তেও যে বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব, তা সময়ের পথপরিক্রমায় প্রমাণিত হচ্ছে।
ভালো ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা ডিগ্রি নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। এ লক্ষ্যে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি নিচের দিকনির্দেশনায় অগ্রসর হচ্ছে:
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে, যেন তা আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী কোর্সে প্রোগ্রামিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা অ্যানালিটিক্স, ব্লকচেইন, সোশ্যাল ইনোভেশনসহ সমসাময়িক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
গবেষণার পরিমাণ ও গুণগত মান বাড়াতে ‘Centre for Research and Development (CRD)’, ‘Policy & Innovation Lab’-এর মতো রিসার্চ সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। গবেষণায় উৎসাহ দিতে অনুদান, সেমিনার এবং আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে শিক্ষকদের।
সিজিপিএর পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান ও সফট স্কিলের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে- যেমন: ক্রিটিক্যাল থিংকিং, প্রেজেন্টেশন স্কিল, টিমওয়ার্ক ও লিডারশিপ। নিয়মিত ক্যারিয়ার ফেয়ার, ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট, স্কিল-ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কশপ এবং ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষরের মাধ্যমে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, যৌথ গবেষণা ও স্কলারশিপের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ১০ শিক্ষার্থী জাপানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষাব্যবস্থা তিনটি ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল-টিচিং, রিসার্চ ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও সমাজসচেতনতা গড়ে তুলতে বিভিন্ন সোশ্যাল ক্যাম্পেইন, বিতর্ক, স্টার্ট-আপ প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদির আয়োজন করা হয়।
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে আছে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও আন্তর্জাতিকমানের পাঠদান, আপডেটেড ও প্রযুক্তিনির্ভর কারিকুলাম, উন্নত ল্যাব, লাইব্রেরি, ফ্রি ট্রান্সপোর্ট এবং ছেলে-মেয়েদের আলাদা হোস্টেল ব্যবস্থা। আছে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ওয়েভার ও স্কলারশিপ, ২৪টি অ্যাকটিভ স্টুডেন্ট ক্লাব ও কো-ক্যারিকুলার কার্যক্রম।
ওয়েভার ও স্কলারশিপ পলিসি বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসএসসি-এইচএসসিতে ভালো ফলাফল, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, মেয়েদের জন্য বিশেষ ওয়েভারসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ওয়েভার দেওয়া হয়। প্রতি সেমিস্টারে ভালো ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ পান। খেয়াল রাখা হয়, মেধাবী কোনো শিক্ষার্থী যেন আর্থিক কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে ইভটিজিং ও মাদকের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়েন, সে জন্য তাদের নৈতিক শিক্ষায় উজ্জীবিত করা হয়। শিক্ষার্থীদের অনেকেই জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছেন, কেউ কেউ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আন্তর্জাতিক মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন। গত বছর বাংলাদেশ থেকে একমাত্র দল হিসেবে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল মুট কোর্ট কম্পিটিশন ২০২৪-২৫-এর আন্তর্জাতিক রাউন্ডে কোয়ালিফাই করে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্বকাপ মুট’ বলে খ্যাত ফিলিপ সি. জেসাপ ইন্টারন্যাশনাল ল’ মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে বের হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ৭৫-৮০ শতাংশ গ্র্যাজুয়েটের চাকরি হয়ে যায়। পাস করা শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কোম্পানি, ব্যাংক, আইটি ফার্ম ও আন্তর্জাতিক এনজিওতে কর্মরত রয়েছেন। অনেকেই উদ্যোক্তা হয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে ইস্টার্নের শিক্ষার্থীদের চাকরির ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। ক্যারিয়ার ফেয়ার, ইন্টার্নশিপ লিংকেজ এবং ইন্ডাস্ট্রি কানেকশন তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত কাজ করছে।
ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে, যেখান থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েটরা শুধু চাকরিপ্রত্যাশী নন, বরং চাকরিদাতা হয়ে গড়ে উঠছেন।
কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যদি শিক্ষার্থীকে মানসম্পন্ন শিক্ষা দিয়ে, নৈতিকতার মানদণ্ড উন্নত করে দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়, তাহলে সেটিই আসল সাফল্য, সত্যিকার অর্থে খ্যাতনামা হয়ে ওঠা। ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি সেই পথে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে। গবেষণায় উৎকর্ষ, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সম্পর্ক উন্নয়ন, লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, উন্নত ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আগামী এক দশকের মধ্যে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সেরা খ্যাতনামা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হবে।