ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩১, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

পায়ে পায়ে পৃথিবীর পথে

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:২৬ পিএম
আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:২৬ পিএম
পায়ে পায়ে পৃথিবীর পথে

পায়ে পায়ে পৃথিবীর পথে নামলেন সাইফুল ইসলাম শান্ত। ২০২৪ সালের ২২ মার্চ সকালে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা থেকে হেঁটে বিশ্ব ভ্রমণে বের হন তিনি। জাতিসংঘ ঘোষিত ১৯৩টি দেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা আছে তার। ঢাকা থেকে হাঁটা শুরু করে যশোর-বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে যাবেন কলকাতা। এরপর ভারতের ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তর প্রদেশ হয়ে পৌঁছাবেন দিল্লি। তারপর উজবেকিস্তান। সেখান থেকে মধ্য এশিয়ার তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান ঘুরে যাবেন মঙ্গোলিয়া। সেখান থেকে রাশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এশিয়ার বাকি দেশগেুলো ঘুরবেন। এশিয়া ঘোরা শেষ করে যাবেন আফ্রিকা। তারপর ইউরোপ। ইউরোপের পর উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া ভ্রমনের পর যাবেন অ্যান্টার্কটিকায়। সেখানেই তাঁর বিশ্ব ভ্রমণের ইতি টানবেন। এবং এ পর্যন্ত তাঁর পরিকল্পনা।

শান্তকে সহায়তা করছে বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন। কেন এই পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ? জবাবে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরেক বিখ্যাত পর্যটক যিনি সত্তরটিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন, তিনি জানান, ‘ভ্রমণের সময় যখন নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তখন সব কিছু অনেক বেশি উপভোগ করা যায়। শেখা যায়, জানা যায় অনেক বেশি। হেঁটে ভ্রমণ সব সময়ই আনন্দের। আমাদের দেশে অ্যাডভেঞ্চার ট্রাভেল তুলনামূলক কম হয়। তাই বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন দেশের যে কোনো অ্যাডভেঞ্চার ট্রাভেলের পাশে থেকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাতে চায়। আমরা এটাও চাই, কেউ অ্যাডভেঞ্চার ট্রাভেলে আরও আগ্রহী হোক এবং তাঁর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখুক। এতে সবাই জানতে পারবে এবং ভ্রমণে অনুপ্রাণিত হবে।’

বিশ্বভ্রমণের চিন্তা কিন্তু অনেক আগে থেকেই ছিল শান্তর। সে কারণে নিজেকে তৈরিও করছিলেন কয়েকবছর ধরে। ২০২২ সালে ৭৫ দিনে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার তিন হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করেন পায়ে হেঁটে। এ সময় তিনি প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪২ কিলোমিটার হেঁটেছিলেন। হাঁটতে হাঁটতেই সচেতনতা তৈরির জন্য তিনি কিছু বিষয়ের উপর জোর দিয়েছিলেন। এগুলোর মধ্যে জীবন বাঁচাতে রক্তদান, প্লাস্টিক ব্যবহারে সতর্কতা এবং বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। ওই সময় স্কুলকলেজে গিয়ে এসব নিয়ে কথা বলার ইচ্ছাও ছিল। কিন্তু করোনার কারণে তখন স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল। সে কারণে সচেতনতার কাজটি করতে পারেননি ঠিক মতো। তবে ভ্রমণের সময় প্রতিটি জেলার মাটি সংগ্রহ করেছেন। সেই থেকে তিনি ‘হাঁটাবাবা’ হিসেবে পরিচিতি পান।

এ ছাড়া ওই বছরেই তিনি ৬৪ দিনে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার হেঁটে বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ভারতের সান্দাকফু ও দার্জিলিং ভ্রমণ করেন। তাঁর হাঁটাহাটির শুরু ২০১৬ সাল থেকে। ২০১৮ সালে বান্দরবানের আলীকদম হয়ে বাড়ি ফেরেন ১০০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে।  কিন্তু এই বিশ্বভ্রমণের বিশাল খরচ কিভাবে মেটানো হবে, সেটার কথাও জানিয়েছেন শান্ত। হেঁটে বিশ্বভ্রমণ হলেও থাকা-খাওয়ার জন্য খরচ তো আছে। সেই খরচের টাকা তিনি স্পন্সরের মাধ্যমে জোটাবেন। এবং এর মধ্যেই হাজার খানেক ডলারও পেয়েছেন।

এ ভ্রমণ শেষ করতে তাঁর বারো বছরের বেশি সময় লাগবে। অর্থাৎ তিনি ২২ বছরের তরুণ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন। আর যখন বিশ্বভ্রমণ শেষ হবে তখন তিনি ৩৪ বছরের যুবক হয়ে যাবেন।

শান্তর প্রয়োজনীয় জিনিস থাকবে তার পিঠে থাকা প্রায় ২৫ কেজি ওজনের ব্যাগের মধ্যে। তবে একটা উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই বিশ্বভ্রমণে যাচ্ছেন শান্ত। সেই উদ্দেশ্য সম্পর্কে শান্ত বলেন, ‘আমার এই বিশ্বভ্রমণের স্লোগান হচ্ছে “গাছ বাঁচান, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমিয়ে আনুন”। আমাদের দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং সমগোত্রীয় দেশগুলোর ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আমি এটিকে আমার বিশ্বভ্রমণের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্বাচন করেছি। আর তাই ভ্রমণের সময় বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন কমিউনিটি ও স্কুল-কলেজে পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানো এবং গাছ সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে চাই।’

সাইফুল ইসলামের জন্ম ১৯৯৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর। তার বাবার নাম সিরাজুল ইসলাম এবং মায়ের নাম করুণা বেগম। তাদের তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে সাইফুল মেজো সন্তান। তিনি ঢাকার দনিয়া কলেজ থেকে ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ করেন মো. ওসমান গনি। পশ্চিম পাকিস্তান হয়ে ইরান তারপর দীর্ঘ ৭ বছরে একের পর এক ২২টি দেশ ও ২১ হাজার মাইল পথ পায়ে হেটে সফর করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্ববাসিকে।

 

আর্থার ব্লেসিত

আর্থার ব্লেসিত ছিলেন ধর্মপ্রচারক। পৃথিবীর প্রত্যেক দেশ ও মানুষ বসবাসকারী প্রত্যেক দ্বীপে পা রাখার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৬৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করেন তিনি। ২০০৮ সালের ১৩ জুন তিনি তার লক্ষ্যে পৌঁছান। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখান ‘দীর্ঘ তীর্থ যাত্রী’ হিসেবে। তিনি পিা রাখেন ৩২১টা রাষ্ট্রে, যার মধ্যে দ্বীপ, অঞ্চল এবং এমন দেশও ছিল যেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং প্রায় ৫৪টা এলাকায় যদ্ধ চলছিল। সবমিলিয়ে তিনি ৩৮ বছর, পাঁচ মাস ২০ দিন হেঁটে অতিক্রম করেন ৬৫ হাজার ৩১৯ কিলোমিটার বা ৪০ হাজার ৫৮৭ মাইল পথ।


জাঁ বিলিভিউ

টানা এগার বছর ১ মাস ২৯ দিন হেঁটে ৭৫ হাজার কিলোমিটার বা ৪৭ হাজার মাইল পথ পাড়ি দেন জাঁ বিলিভিউ। ২০০০ সালের ১৮ আগস্ট কানাডার মন্ট্রিয়ল থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তাঁর এই হাঁটার লক্ষ্য ছিল শিশুদের জন্য শান্তিপূর্ণ বিশ্ব। উত্তর আমেরিকা থেকে দক্ষিণ আমেরিকা হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড হয়ে শেষে কানাডায় ফেরেন জাঁ।

টম টুরকিচ

পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণকারী টম টুরকিচ। ২০১৫ সালের ২ এপ্রিল নিউ জার্সির হ্যাডন টাউনশিপের নিজের বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করে ২০২২ সালের ২১ মে যাত্রা শেষ করেন টুরকিচ। সাত বছর ১ মাস ২০ দিনে তিনি ৪৫ হাজার ৬১ কিলোমিটার বা ২৮ হাজার মাইল পথ হেঁটে বাড়ি ফেরেন। একমাত্র অস্ট্রেলিয়া বাদে তিনি সবগুলো মহাদেশে পা রাখেন। ২০১৫ সালের আগস্টে টেক্সাসের অস্টিন থেকে একটি অস্ট্রেলিয়ান শেফার্ড কুকুর তার সঙ্গী হয়। তিনি কুকুরটা নাম রাখেন সাভানাহ। এরপর থেকে টুরকিচের ভ্রমণের পুরো সময়টা সাভানাহ ছিল তার ভ্রমণসঙ্গী। এর মাধ্যমে প্রথম কুকুর হিসেবে বিশ্বভ্রমণের গৌরব অর্জন করে সাভানাহ।


ফিয়োনা ক্যাম্পবেল


পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণকারীর মধ্যে তৃতীয় এবং মেয়েদের মধ্যে প্রথম ফিয়োনা ক্যাম্পবেল। ১৯৮৫ সালের ১৭ আগস্ট নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত হেঁটে যান। এরপর অসুস্থতার কারণে তিনি যানবাহন ব্যবহার করতে বাধ্য হন। এরপর আবার হাঁটা শুরু করেন। ১৯৮৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে পার্থ পর্যন্ত হেঁটে যান। এরপর তিনি আফ্রিকার এ মাথা থেকে ও মাথা অতিক্রম করার জন্য পাড়ি দেন দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন থেকে মরক্কোর ট্যাঙ্গিয়ারস পর্যন্ত। ১৯৯৪ সালের ১৪ অক্টোবর তিনি হাঁটা শেষ করেন। ৯ বছর ১ মাস ২৮ দিন হেঁটে তিনি পাড়ি দেন ৩২ হাজার ১৮৬ কিলোমিটার বা প্রায় ২০ হাজার মাইল পথ।

জাহ্নবী

 

বিলিয়নিয়ার  লিভিয়া

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৩০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৩০ পিএম
বিলিয়নিয়ার  লিভিয়া

খুব অল্প বয়সে বিলিয়নিয়ার হওয়া কি চাট্টিখানি কথা! কজন পারে? এটা কিন্তু বিশাল বড় এক অর্জন। এই অর্জন এমনি এমনি আসে না। এর সঙ্গে রয়েছে নানান কিছু। যেমন কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা, সুযোগের সঠিক ব্যবহার, দূরদর্শী চিন্তাভাবনা, পারিবারিক কাঠামো। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি নিজেকে সেই অবস্থানে উন্নীত করার স্বপ্ন, মানসিকতা ও যোগ্যতাও থাকতে হয়। আর এত কিছুর সমন্বয় ঘটিয়েই তবেই টিনএজ বয়সে বিলিয়নিয়ার হওয়া যায়। যেমনটা ঘটেছে ব্রাজিলের লিভিয়ার ক্ষেত্রে।

২০২৪ সালে ফোবর্স বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় পৃথিবীর সবচেয়ে কমবয়সী বিলিয়নিয়ার হিসেবে যার নাম এসেছে, তার বয়স মাত্র উনিশ বছর। নাম তার লিভিয়া ভয়েট। লিভিয়ার জন্ম ২০০৪ সালের ১০ জুলাই ব্রাজিলে।

প্রতিবছর পৃথিবীর সেরা পঁচিশ ধনী তরুণের তালিকা জানায় ফোবর্স, যাদের বয়স ৩৩ বছরের কম। ২০২৪ সালের এরকম সেরা ২৫ ধনীর মোট সম্পদের পরিমান ১১০ বিলিয়ন ডলার। আর সবচেয়ে কমবয়সী বিলিয়নিয়ার হিসেবে লিভিয়ার সম্পদের পরিমাণ ১.১ বিলিয়ন ডলার। ধনী হিসেবে বিশ্বে তার অবস্থান ২৬৪৮তম। লিভিয়া এখন বাস করে ব্রাজিলের ফ্লোরিয়োনোপোলিসে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক মোটর নির্মাতাদের একজন উত্তরাধিকারী। ডব্লিউইজি বা ওয়েগ ইলেকট্রিক কোম্পানির সবচেয়ে বেশি শেয়ার হোল্ডার লিভিয়া। তার দাদা ওয়ার্নার রিকার্ডো ভয়েট ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের একজন সহ-উদ্যোক্তা। বাকি দুই উদ্যোক্তা ছিলেন ইগোন জোয়াও ডা সিলভা এবং জেরাল্ডো ওয়ার্নিংহাস। দশটি দেশে কারখানাসহ এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির রেভিনিউ ছিল ৬ বিলিয়ন ডলার।

যেহেতু লিভিয়া এখনও ব্রাজিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কাজেই সবচেয়ে বেশি শেয়ার থাকার পরেও এখনও ওই প্রতিষ্ঠানের বোর্ড মেম্বার হওয়ার আসন দখল করতে পারেনি। তবে কোম্পানির সবচেয়ে বড় শেয়ার হোল্ডার হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের তার অবস্থান সুরক্ষিত।

ওদিকে লিভিয়ার বড় বোন ডোরা ভয়েটের নামও উঠে এসেছে তরুণ বিলিয়নিয়ারের তালিকায়। ২০২৪ সালের নতুন সাত বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে ডোরাও একজন। ডোরার বয়স ২৬ বছর। ডোরা অবশ্য ২০২০ সালেই আর্কিটেকচারের ওপর ডিগ্রি অর্জন করেছে।

কলি

 

শ্যামল করি শিক্ষালয়

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:২৭ পিএম
শ্যামল করি শিক্ষালয়
সন্দ্বীপে তরুণদের বৃক্ষরোপণ

ঢাকা শহরে কাঁটাবনের মোড় থেকে নীলক্ষেতের দিকে যেতে রাস্তার ধারে পড়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. আমিন উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। খুব স্বল্প জায়গার ওপর ২০১৪ সালে গড়ে তোলা হয়েছে বিদ্যালয় ভবনটি। সে বিদ্যালয়ের সামনে এক চিলতে ফাঁকা জায়গা। কিন্তু সীমানা ধরে লাগানো হয়েছে বহেড়া, আমলকী, আম, কদম, কৃষ্ণচূড়া, আতা, কাঁঠাল, বিলিম্বি, নিম, পেয়ারা, জারুল, নারিকেল, সুপারি, চালতা, কাঠগোলাপ, কামিনি নানা গাছ। গাছগুলো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে করে তুলেছে ছায়াময়-মায়াময়।

 স্কুলের শিশুরা গরমের মধ্যেও সেসব গাছের ছায়ার শীতলতায় প্রাণ জুড়াচ্ছে, খেলছে, ছোটাছুটি করছে। গ্রীষ্মের দিনে কৃষ্ণচূড়া ও জারুল গাছগুলো ফুলের শোভা দিচ্ছে। এসব দৃশ্য দেখতে দেখতে ছোটবেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। ঢাকা শহরের মধ্যে যেখানে জায়গার অভাব, সেখানে যদি স্কুলপ্রাঙ্গণে এভাবে গাছ লাগিয়ে শ্যামল করা যায়; গ্রামের শিক্ষালয়- যেখানে রয়েছে প্রচুর উন্মুক্ত স্থান, সেখানে কেন গাছের চারা লাগানো হয় না? গ্রামের অনেক স্কুলপ্রাঙ্গণেই রয়েছে ফুটবল খেলার মতো বিশাল মাঠ। সেখানে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা খেলাধুলা করে। সেসব জায়গা ওদের খেলার জন্য রেখে মাঠের চারপাশে সীমানা বরাবর অনেক গাছ লাগিয়ে সবুজে-শ্যামলে ভরে দেওয়া যায়।

এ রকমই এক দৃষ্টান্ত পেলাম সন্দ্বীপের একদল তরুণের কাছ থেকে। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় একদল তরুণ ‘শ্যামল করি শিক্ষালয়’ স্লোগান নিয়ে নেমেছে স্কুলপ্রাঙ্গণকে সবুজ-শ্যামল করার ব্রত নিয়ে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ কাউন্সিল ফর নেচার কনজারভেশনের কয়েকজন তরুণ সদস্য নিজেরাই নিজেদের স্কুলগুলোতে এ বছর থেকে গাছের চারা লাগাতে শুরু করেছে। দলের সদস্য মো. নজরুল ইসলাম জানান, আমরা যে যে স্কুলে পড়েছি, সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা দলের সদস্যরা আমাদের সেসব স্কুলে এ বছর গাছের চারা লাগাব। সন্দ্বীপে এক সময় বিশটি ইউনিয়ন ছিল, ভাঙনে সাতটি ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে তেরোটি ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই কিছু না কিছু গাছের চারা লাগানোর সুযোগ আছে। কিন্তু সব শিক্ষালয়ে তো আর আমরা গাছের চারা লাগাতে পারব না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা যে যে স্কুলে পড়েছি, সেটা তো আমাদের স্কুল। সেখানকার প্রাঙ্গণ আর শিক্ষকরা আমাদের অত্যন্ত পরিচিত আপনজন। তাই আমরা এসব স্কুলের আঙিনায় গাছের চারা লাগাব।

সেই তরুণ দলের ভাবনার মধ্যে বেশকিছু আইডিয়া পেলাম। প্রথমে তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে কোন স্কুলে গাছ লাগাবে। সে স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ও গাছের চারা লাগাতে তাদের উদ্বুদ্ধ করে। এরপর সেখানে গিয়ে দেখে, কোথায় কি গাছ আছে আর কোথায় গাছের চারা লাগানোর সুযোগ আছে? কোথায় কি কি গাছ লাগাবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে চারা সংগ্রহ করে। নিজেরাই সেসব চারা সংগ্রহ করে। শিক্ষক এবং সে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা মিলে সেসব চারা লাগায়। চারা লাগানো বড় কথা নয়। সেগুলো টিকিয়ে রাখাই হলো আসল কথা। সে জন্য প্রতিটি চারা লাগানোর পর সেগুলোর পরিচর্যার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের ৩-৪ জনের ছোট ছোট দলকে দায়িত্ব দিয়ে আসে। ছাত্র-ছাত্রীদের দলের সদস্যরা পালাক্রমে সেসব গাছের যত্ন নেয়- তারা চারাগাছে পানি দেয়। এতে সেসব ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে একদিকে যেমন পরিবেশ সংরক্ষণের বোধ জন্মে, তেমনি শৈশব থেকে প্রকৃতি ও গাছপালার প্রতি তাদের মমতাও তৈরি হয়।

এসব গাছ বড় হবে, ওরাও বড় হবে। একদিন স্কুল থেকে সেসব ছাত্র-ছাত্রী চলে যাবে, কিন্তু গাছগুলো বড় হয়ে সেখানেই থাকবে। পরের ছাত্র-ছাত্রীরা সেসব গাছের তলায় দাঁড়িয়ে আরাম পাবে, ফল পাবে। বহু বছর পর যদি তারা কেউ ওই স্কুলে যায়- এসব দৃশ্য দেখে তাদেরও নিশ্চয়ই ভালো লাগবে। 
এ রকম স্বপ্ন নিয়েই নিজেরাই নিজেদের ‘শ্যামল করি শিক্ষালয়’ ব্রত নিয়ে তারা এগিয়ে এসেছে পনেরোজন প্রকৃতিবন্ধু তরুণ। তাদের এ আইডিয়া তো সবার মধ্যেই সঞ্চারিত হতে পারে। সন্দ্বীপের সব শিক্ষালয়ে পড়ুয়া অনেক তরুণ আছে, তারাও নিজেদের উপজেলার সব শিক্ষালয়ের যেখানে যতটুকু সুযোগ আছে, সেখানে গাছ লাগানোর এ মৌসুমে এগিয়ে আসতে পারে।

এই তরুণ দলটি পূর্ব সন্দ্বীপ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পঞ্চাশটি গাছের চারা লাগানোর পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়েছে, চারা লাগানো শুরুও করেছে। এ মৌসুমেই ধাপে ধাপে সেখানে এসব চারা লাগানো হবে। যদি একটি স্কুলে গড়ে ৫০টি করেও গাছের চারা লাগানো যায়, তা হলে সন্দ্বীপের ২৫০ শিক্ষালয়ের প্রাঙ্গণে সাড়ে বারো হাজার গাছের চারা লাগানো যাবে। যেসব স্কুলে সীমানাপ্রাচীর আছে, সেসব স্কুলে সেসব প্রাচীরের কোল ধরে গাছগুলো লাগালে উন্মুক্ত স্থানের খুব বেশি অসুবিধা হবে না। আবার প্রাঙ্গণ প্রাচীরবেষ্টিত থাকায় চারাগুলোও প্রাথমিক সুরক্ষা পাবে।

যেসব স্কুলে প্রাচীর নেই, সেসব স্কুলের চারদিকে সীমানার কাছে সারি করে এক সারিতে বিভিন্ন গাছের চারা লাগানো যেতে পারে। সেক্ষেত্রে চারাগাছগুলো রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই দৃষ্টান্ত যদি দেশের প্রায় ৪২ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুসরণ করা যায়, তা হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষালয়গুলো সবুজে-শ্যামলে ভরে যাবে। এবার সরকারেরও সেরূপ নির্দেশনা রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এ বছরই প্রথম সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং যথাযথভাবে তা বাস্তবায়নের জন্য এক নোটিশ জারি করেছে। আমরা তার প্রতিপালন করতে পারি। তরুণরাই পারে সবকিছু বদলে দিতে। কেননা তারাই দেশের পরিবর্তনের নায়ক ও শক্তি।

 কলি 

আমি আকিব বলছি রফিকুজ্জামান আকিব

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:২৮ পিএম
আমি আকিব বলছি রফিকুজ্জামান আকিব

আমি রফিকুজ্জামান আকিব। সর্বপ্রথম একজন পাঠক, অতঃপর সৃজনশীল লেখক, সূক্ষ্ম পর্যালোচক, খুদে সংগঠক, বই সংগ্রাহক এবং পরিশেষে বাংলা সাহিত্যের বিস্তার লাভের জন্য পাঠক তৈরিতে লেগে থাকা একজন সাধারণ বইপ্রেমী। বই নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক ধরনের কাজ করি। বর্তমানে খুলনা জিলা স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছি। প্রথম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থাতেই আমি বই পড়া শুরু করি। এখনো নিয়মিত পড়ে চলেছি। সাত বছরে এক হাজারের বেশি বই পড়েছি।

আমি প্রিয় লেখকদের বই পর্যালোচনা করতে ভীষণ ভালোবাসি এবং একই সঙ্গে বই পর্যালোচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে ভালোবাসি। আমি বই পর্যালোচনা করি চতুর্থ শ্রেণি থেকে। মজার বিষয় হলো আমি এখন পর্যন্ত যে কয়টি বই পর্যালোচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি প্রত্যেকটায়ই কিছু না কিছু পুরস্কার পেয়েছি। আমি অধিকাংশ বই মনোযোগ দিয়ে পড়ে সেই বইগুলোর লেখাগুলোকে মননে স্থান দিয়ে খুব নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করি। আমি অধিকাংশ সময় লিখিত পর্যালোচনা করে থাকি, মাঝে মাঝে ভিডিও পর্যালোচনাও করি। এ পর্যন্ত আমার মোট বই পর্যালোচনার সংখ্যা এক শ ছাড়িয়েছে।

আমি বইয়ের গল্প অন্যদের বলতে খুব পছন্দ করি। এ গল্প বলা বানোয়াট-মনভোলানো গল্প বলা নয়। এ গল্প বলার প্রধান উদ্দেশ্য নতুন পাঠক তৈরি করা এবং যারা পাঠক তাদের বই পড়ায় আরও উৎসাহিত করা। আমি যখন কোনো বই পড়ে শেষ করি তখন সেই বইয়ের কাহিনির সারাংশ স্কুলের বন্ধুবান্ধব, বড় ভাইবোন কিংবা পাঠকবন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করি। এতে করে তাদের যদি সেই বইটা পড়া না থাকে তাহলে সেই বইটা সম্পর্কে তারা আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং আমার কাছ থেকে বইটি ধার নিয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে পাঠক খুব কম, একবারেই যৎসামান্য, যা শতকরা হিসাবে নিতান্তই নগণ্য। আর এই মোবাইল, ল্যাপটপ, ভিডিও গেমিং, টিভি কিংবা নেশাতে আসক্ত দেশটাকে অনেকের মতো আমিও একটি শিল্পসমৃদ্ধ পড়ুয়া রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন দেখি। আমি জানি এটা একা চাইলে হবে না। কিন্তু আমরা যদি কিছু শৈল্পিক মানুষকে নিয়ে যাত্রা শুরু করতে পারি তবে আমরা পারব। এ দেশের মানুষ শুনতে ভালোবাসে, দেখতে ভালোবাসে কিন্তু অলসতার কারণে পড়তে চায় না। আমাদের খুলনাতে সৃজনশীল শিক্ষার্থী পাঠক খুব কম। আমি একটা জিনিস নিজে লক্ষ করেছি, তা হলো আমার স্কুলের যে বন্ধুরা আমি বই পড়ি তাই ‘বই পড়ে কী হবে?’, ‘জীবনে উন্নতি করতে পারবি না’ এসব বলে কটাক্ষ করত, সেই বন্ধুরাই এখন আমার চেয়েও ভালো পাঠক হয়ে যাচ্ছে। আর তাদের এই বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য আমার মাধ্যমটি ছিল তাদের সামনে গিয়ে বিভিন্ন কাহিনির সারাংশ শোনানো এবং তারা সেটা বেশ উপভোগ করত। তাই মানুষ চাইলেই পারে দেশটাকে, সমাজটাকে কিংবা বিপথগামীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে। বেশ ভালো লাগে এ কথা ভাবলে যে হয়তো অল্প হলেও আমি ইতোমধ্যে পাঠক তৈরি করতে পেরেছি। আর এ দেশকে পড়ুয়াদের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমার প্রথম প্রয়াস হলো আমার সংগঠন।

একটি সুস্থ, সুহৃদ, বাজে আসক্তিমুক্ত পড়ুয়া সমাজ গড়তে আমি কিছু সংগঠনের সঙ্গে করেছি এবং করছি। প্রথমে ‘বই আন্দোলন বাংলাদেশ’ নামক দেড় লাখ সদস্যের একটি অনলাইন গ্রুপ ও মাঠপর্যায়ের সেই সংগঠনের অ্যাডমিন ও গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করে সংগঠন সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছি। পরে নিজেই একটি বই ও সাহিত্যবিষয়ক অনলাইন সংগঠন তৈরি করেছি, যার নাম ‘বইপ্রেমী পাঠকদের সম্মিলন’ এবং এর সদস্য সংখ্যা ১১ হাজার। এই সংগঠনের মাধ্যমে আমি অনেক পাঠক তৈরি করেছি আর তার চেয়ে বড় কথা প্রায় পাঁচ শ-এর বেশি পাঠকের হাতে বই তুলে দিয়েছি। বিশেষ করে টাকার অভাবে বই কিনতে না পারা মানুষকে বেশি বই উপহার দিয়েছি। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমি পাঠকদের কাছে বই পৌঁছে দেই। কারণ, কেউ যদি কোনো কিছু বিনামূল্যে পায় তখন তার কাছে সেই জিনিসের কোনো মূল্য থাকে না। কিন্তু যখন কেউ সেই জিনিসটা অর্জন করে নেয় তখন কিন্তু তার কাছে সেই জিনিসটার মূল্য থাকে অপরিসীম।

আমি লেখালেখি করি শখের বশে। ইতোমধ্যে প্রথম উপন্যাস ‘অন্ধকারের গোলকধাঁধায়’ অন্যপ্রকাশ থেকে বই আকারে প্রকাশ পেয়েছে। এ উপন্যাসটি আমি লিখেছি প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে এবং এটির শব্দ সংখ্যা হয়েছে ৪৫ হাজার। লেখালেখি জিনিসটা যতটা সহজ মনে হয়, আসলে ততটাও সহজ নয়। কারণ কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর যখন আমি লিখেছি সেসময় ১০০টি শব্দ লিখতে গেলেও ১০ ঘণ্টা গবেষণা করতে হয়েছে। এখনো অনেক কিছু শেখার আছে। আমি মনে করি, একজন ভালো লেখক হয়ে উঠতে গেলে আগে একজন ভালো পাঠক হয়ে ওঠা খুব জরুরি। তাই চেষ্টা করছি একজন শৈল্পিক ও সৃজনশীল পাঠক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে।

লেখালিখি, বই পড়া ও বিভিন্ন সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি আমি বই সংগ্রহ করতেও ভালোবাসি। আমি প্রচুর পরিমাণে বই সংগ্রহ করি। আমার অন্য বন্ধুরা হেঁটে হেঁটে স্কুলে গিয়ে টাকা জমায় কিছু কিনে খাওয়ার জন্য কিংবা মোবাইল গেমিংয়ের পেছনে খরচ করার জন্য। আর আমি হেঁটে স্কুল-কোচিংয়ে গিয়ে টাকা জমাই বই কেনার জন্য। কারণ কিছু কিনে খেলে তা হজমই হয়ে যাবে কিন্তু বই কিনলে জ্ঞানার্জন হবে এবং তা দীর্ঘমেয়াদি। আমার সংগ্রহে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ বই রয়েছে।

এ ছাড়া আমি অডিওবুক তৈরি করতে ভালোবাসি। অধিকাংশ পাঠক অলসতায় বই পড়ার চেয়ে শুনতে ভালোবাসে। তাই আমি সুযোগ পেলেই অডিওবুক তৈরি করি। যদিও এখন শুধুমাত্র ছোটখাটো গল্প অডিওবুক আকারে প্রকাশ করে ফেসবুক প্রোফাইলে দিয়ে থাকি। কিন্তু খুব শিগগিরই আমি ও আমার দুই বড় ভাই মিলে একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের কিছু শৈল্পিক গল্প-উপন্যাস দিয়ে অডিওবুকের বড় যাত্রা শুরু করতে চলেছি।

প্রথমদিকে বাড়ি থেকে তেমন অনুপ্রেরণা না পাওয়ায় বিদ্যালয়ে গিয়ে লুকিয়ে বই পড়তাম। বইয়ের অভাবে অনেক বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করে পড়তাম। আর একবার বিদ্যালয় পালিয়ে অনেক খুঁজে পছন্দ তালিকার একটি বই কিনেছিলাম। পরবর্তী সময়ে পরিবার থেকে মোটামুটি সহায়তা পেয়েছি। তবে এ কথা অস্বীকার করব না যে, আমার মায়ের (প্রভাষক, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজ, খালিশপুর খুলনা) কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পেয়েছি। বাড়ির মধ্যে তিনিই সবসময় বই পড়া ও লেখালেখিতে আমাকে সঙ্গ দিয়েছেন এবং উৎসাহ-অনুপ্রেরণা দিয়ে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন।

লেখালিখি করতে গিয়ে অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছি। বয়সে ছোট হওয়ায় এই বিষয়টি নিয়ে প্রচুর কথা শুনতে হয়েছে, হেয় হতে হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ বলেছেন ছোট মানুষের লেখা এত গভীর হওয়া সম্ভব নয়, নির্ঘাত পিতা-মাতা লিখে দেয়। আসলে আমি সবসময় প্রমাণ করতে চেয়েছি বয়স একটি সংখ্যা মাত্র। আর সেজন্য কয়েক বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি সাহিত্যাঙ্গনে। আসলে বয়সের তুলনায় আমি একটু বেশি জ্ঞান লাভ করা এবং সবসময় নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। আর অনেকেই ভাবেন বয়সের তুলনায় বেশি পাকা। আসলে বিষয়টি হলো আমার জানার আগ্রহটা গভীর, বয়স অনুযায়ী বেশি চিন্তা করি এবং বেশি কঠিন করে জীবনকে দেখি।

আমরা অনেকটা মোবাইল এবং অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়েছি। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব বেশি বেশি বই পড়ুন। আমাদের অনেক কিছুই অজানা থাকে। আমরা যখন একটা বই পড়ে আগে থেকে যেকোনো বিষয় সম্পর্কে অবগত হই তাহলে আমাদের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে সেরকম কোনো পরিস্থিতি ঘটলে আমরা শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে পারব এবং সহজভাবে নিতে পারব। উদাহরণস্বরূপ আপনাকে নিয়ে কেউ বিদ্রুপ করছে।

আপনিও উল্টো তাকে বিদ্রুপ করে বসলেন এবং হাতাহাতির পর্যায় চলে গেলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আপনি বইতে পড়লেন কেউ বিদ্রুপ করলে উপেক্ষা করতে হবে, ফিরতি বিদ্রুপ শুধু সহিংসতারই জন্ম দিতে পারে। অর্থাৎ এটি যদি আপনি আগে থেকে জানতেন তাহলে ফিরতি বিদ্রুপ করে ঝগড়ার পরিমাণ বাড়াতেন না, এড়িয়ে যেতেন। 


অষ্টম শ্রেণি, খুলনা জিলা স্কুল, খুলনা
গোয়ালখালী, খালিশপুর, খুলনা

কলি

 

তারুণ্যের সংকেত

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৪, ০১:৩৮ পিএম
আপডেট: ৩১ মে ২০২৪, ০১:৩৮ পিএম
তারুণ্যের সংকেত

টিনএজারদের নিজস্ব কিছু ভাষা আছে। এসব ভাষা আবার হাতের ইশারায়, নানান ভঙ্গিতে প্রকাশ পায়। তেমনি কিছু হাতের ভাষা

আলাপ হবে মোবাইলে
এই সংকেতের অর্থ কল দিও, কিংবা মোবাইলে যোগাযোগ করো। যদিও একসময় ল্যান্ডফোনে কল দেওয়ার বেলায় এই সংকেত ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন স্মার্টফোনে কল দেওয়াই বোঝায়।


আমি তোমাকে ভালোবাসি
ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য যদিও হৃদয় সংকেত প্রচলিত ও জনপ্রিয়, তবু এ সংকেতের মাধ্যমেও কারো প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়।


একসাথে দুই আঙুল
দুই আঙ্গুল একসাথে থাকলে সাধারণত লজ্জা বোঝায়। অর্থাৎ কেউ যা ভাবছে তা বলতে লজ্জা পাচ্ছে।

জাহ্নবী

সাইকেল যার ধ্যান-জ্ঞান

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৪, ০১:৩৪ পিএম
আপডেট: ৩১ মে ২০২৪, ০১:৩৪ পিএম
সাইকেল যার ধ্যান-জ্ঞান
তাম্মাত ও তার সাইকেল

তাম্মাত বিল খয়ের। সাইকেল নিয়ে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এর মধ্যেই সাইকেল নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন হাজার হাজার মাইল পথ।

তাম্মাতের জন্ম চট্টগ্রামে। বাবা চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনস মসজিদের ইমাম, মা গৃহিণী। সাত ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট তাম্মাত। বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনসে। পড়াশোনা করছেন ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তাম্মাত প্রথমে সাইকেল চালানো শেখেন ভাইয়ের কাছে। বাবা-মা চাইতেন না তাম্মাত সাইকেল চালানো শিখুক। কারণ পুলিশ লাইনসের পাশেই রয়েছে মেইন রোড। সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবেই তাম্মাতকে সাইকেল কিনে দিতে চাননি বাবা-মা। ছোটবেলায় তাম্মাত বিটিভিতে দেখতে পান একজন লোক সাইকেল চালিয়ে পুরো বাংলাদেশ ঘুরছেন। এটা তাকে দারুণ অনুপ্রাণিত করে। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতেন একদিন বড় হয়ে সাইকেলে বাংলাদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

ছোটবেলা থেকেই গণিতে ভালো ছিলেন। অষ্টম শেণিতে পড়ার সময়ই সহপাঠীদের পড়িয়ে অর্থ উপার্জন করতেন। সেই টাকা দিয়ে কলেজে পড়ার সময় একটি সাইকেল কেনেন। এরপর একদিন সাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। সেটা তার জীবনের অন্যতম খারাপ একটি দিন ছিল। সাইকেল হারানোর কষ্টে সেই রাতে বেশ কান্নাকাটি করেছিলেন তাম্মাত।

তাম্মামের অর্জন

 

কলেজজীবন শেষে আরেকটি সাইকেল কেনেন। ঢাকা থেকে লুকিয়ে সাইকেলটা কিনে আনেন। ২০১৬ সালে কমিউনিটি সাইকেলের সঙ্গে যুক্ত হন। চট্টগ্রামের সাইকিলিং গ্রুপগুলো চট্টগ্রামে রাইড দেয়। তাদের সঙ্গে থেকে নানা বিষয় শেখেন। আর তখন থেকেই বুঝতে পারেন, এমনি সাইকেল চালানো আর সাইকেল নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য সাইকেল চালানো আলাদা বিষয়।

কমিউনিটির সবাই ততদিনে জেনে যায় যে, তাম্মাতের লক্ষ্য সাইকেলে ঘুরবেন সারা বাংলাদেশ। এরপর গ্রুপের নোমান ও বাবুলের সঙ্গে পরিচয় হয় তাম্মাতের। যারা কয়েক বছর আগেই সারা বাংলাদেশ ঘুরেছেন ২৯ দিনে। নোমান ভাইয়ের কাছ থেকে নানা ধরনের পরামর্শ নেন। এরপর এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা পাড়ি দেওয়ার জন্য বের হন। যদিও পরিবারকে জানান যে, সঙ্গে আরও ২০-২৫ জন আছে। মিথ্যা ধরা পড়ার ভয়ে এক রাতে সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। সে রাত তাম্মাতের জীবনের অন্যতম আনন্দ ও আতঙ্কের রাত।

পরিবার ছাড়া চট্টগ্রাম শহরের বাইরে কখনো না যাওয়ার করণে তাম্মাত বেশ ভয় পেতে থাকেন। এরপর চট্টগ্রাম শহর পার হওয়ার পর দুর্ঘটনায় পড়েন। তখনই মত বদলে বাড়ির পথ ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন পূরণের পথেই এগোলেন। সেই রাতকে তাম্মাত তার জীবন পাল্টনো রাত বলেন।

সাইকেলসহ ভারতে

ঝুঁকি এড়াতে তাম্মাত সঙ্গে রাখতেন সাইকেলের সাধারণ সমস্যা ঠিক করার যন্ত্রপাতি এবং দুই সেট কাপড়। শুরু হয়েছিল চট্টগ্রাম দিয়ে। ধীরে ধীরে ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা যান। মাত্র ২৫ দিনে ৬৪ জেলা ঘোরা শেষ করেন।

এই যাত্রা শেষ করার পর সব ভয় কেটে যায় তার। ভ্রমণের বিষয়ে আরও আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ২০১৭ সালের পর সিদ্ধান্ত নেন প্রতি বছর কোনো না কোনো অ্যাডভেঞ্চার করবেন।

এলাকার বড় ভাইদের সঙ্গে বান্দরবান যেতেন সাইকেল নিয়ে। তাঁবু গেড়ে থাকতেন এবং নিজেরাই রান্না করে খেতেন। চার-পাঁচ দিন তাদের সঙ্গে পাহাড়ে হাঁটতেন এবং বিভিন্ন জায়গায় যেতেন। পাহাড় থেকে মজার আম খেয়ে ২০ কেজি ব্যাগে করে নিয়েও আসেন দুই দিন পাহাড়ে ট্র্যাকিং করে। এরপর কমিউনিটির সবাই পাগল বলতে থাকে তাম্মাতকে।

চট্টগ্রামের এক স্থানীয় ম্যারাথনে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম হন। এরপর সিদ্ধান্ত নেন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ১ হাজার কিলোমিটার হাঁটবেন। ২০১৮ সালে হেঁটে পাড়ি দেন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ফোসকা পড়ে যায়। ডাক্তারের বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শও কানে তোলেননি। আবারও শুরু করেন হাঁটা। তাম্মাতের এই গল্প ছড়িয়ে পড়লে তেঁতুলিয়া থেকে বাংলাবান্ধা তার সঙ্গে হাঁটেন অনেক তরুণ; যা তাকে ভীষণভাবে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। পাশাপাশি নানা ম্যারাথনে অংশ নিতেন। বন্ধুদের থেকে টাকা ধার করে নানা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন এবং প্রথম থেকে তৃতীয় হতেন, সেখান থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে ধার শোধ করতেন। একবার তো এক বন্ধুর হানিমুনের টাকা নিয়ে এক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

ভারত, নেপালসহ কয়েকটি দেশের ম্যারাথনেও অংশ নেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আয়োজনে বগা থেকে কেওক্রাডংয়ের ম্যারাথনে অংশ নিয়ে টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হন।

এরপর তাম্মাত ভাবলেন ২৫ দিনে নয়, আরও কম সময়ে বাংলাদেশ সাইকেলে পাড়ি দেওয়া সম্ভব। এরপর ঢাকায় আসেন স্পন্সর খুঁজতে। তবে সাড়া পাননি। ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা তুলতে সক্ষম হন তাম্মাতরা। সে সময় অনেকেই সন্দেহ করেছিল, এই ছেলে বাস-ট্রাকে করেও সাইকেল নিয়ে সারা দেশ ঘুরতে পারে। এরপর তিনি ঠিক করলেন সঙ্গে রাখবেন একজন ক্যামেরাম্যান, যিনি লাইভে সব কার্যক্রম দেখাবেন। বাইকসহ আরও দুজন তাম্মাতের সঙ্গী হন। হিসাব করে দেখলেন টাকা প্রয়োজন ১ লাখ ২০ হাজার কিন্তু টাকা আছে ৩০ হাজার। জমানো ৪০ হাজার টাকা নিয়ে শুরু হয় যাত্রা। সেই যাত্রায় সাহস জোগান নাজিউর ও মণি নামে তাম্মাতের দুই সহযোদ্ধা। মণি ভাই বাকি অর্থ জুগিয়ে সহযোগিতা করেন। এরপর শুরু হয় যাত্রা।

নানা রকম বাধাবিপত্তি পেরিয়ে ১৫ দিনে রাইড শেষ করেন। এটাই এখনো রেকর্ড হয়ে আছে।

তাম্মাতের ভাই তাকে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিতে থাকেন। করোনার আগে অনূর্ধ্ব ২৩ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য তিনি নির্বাচিত হন। কিন্তু করোনার কারণে আর অংশ নেওয়া হয়নি। এরপর বিভিন্ন বাহিনী থেকে আমন্ত্রণ পেতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত দুবার দুটো দলের হয়ে দুটো পদকও অর্জন করেন।

ছোটবেলা থেকেই তাম্মাত আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ভক্ত। বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখার সময় করে বসেন অদ্ভুত এক কাণ্ড। মেসির জীবনের ১০০৩তম মেস থাকায় ঘোষণা দেন, আর্জেন্টিনা ট্রফি জিতলে সাইকেলে ১০০৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবেন। আর সেটা উৎসর্গ করা হবে মেসিকে। বিশ্ব কাপের পর তার এই ১০০৩ কিমি. পাড়ি দেওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।

২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের সময় তাম্মাত শুরু করেন ব্লগিং। সাইকেল চালানোর সঙ্গে ব্লগিংয়ের মাধ্যমে তুলে ধরতে থাকেন চারপাশের পরিবেশ। যেখানেই যান সেখানকার প্রকৃতি ও চারপাশ উঠে আসে তাম্মাতের ভিডিওতে। ভিডিওতে মাঝে মাঝে সচেতনতামূলক অনুরোধ করেন তাম্মাত।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নেপালের ইস্টওয়েস্ট হাইওয়ে ১ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়িও দেন।

নেপাল থেকে ফিরে তাম্মাত সিদ্ধান্ত নেন প্রতিদিন ঘুরবেন একটি করে জেলা অর্থাৎ ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা। ৬৪ জেলা ভ্রমণের উদ্দেশ্য- প্রত্যেক জেলার কমিউনিটির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে আগ্রহী ছেলেমেয়েদের অ্যাডভেঞ্চারের জন্য অনুপ্রেরণা দেন।

এর মধ্যেই ভারতের দীর্ঘতম সড়ক কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত ৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়িও দেন তিনি। তাম্মাত বিশ্বাস করেন, তারুণ্যের শক্তিই পারে দেশকে বদলে দিতে। আর বিশ্বাস নিয়েই তিনি এগিয়ে চলছেন নতুন কিছু করতে।

জাহ্নবী