এইচএসসি পরীক্ষার্থী রাশাতুল জান্নাত সাজগোজ করতে তেমন পছন্দ করেন না। তার মতে ত্বক পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর থাকলে সাদাসিধে অবস্থায়ই প্রত্যেককে সুন্দর দেখায়। কৈশোর থেকেই ত্বক নিয়ে রাশা বিশেষ সচেতন। বছর তিনেক আগে একদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখে কপালের ওপর গোটা গোটা দুটি ব্রণ। কয়েক দিনের ভেতর কপাল, গাল আর পিঠ ছেয়ে যায় অসংখ্য ব্রণে। একদম মনমরা হয়ে পড়েছিল রাশা। এ সময় মা তাকে আশ্বস্ত করেন, কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে বয়ঃসন্ধিকালে হওয়া এই ব্রণ দ্রুতই মিলিয়ে যাবে।
বয়ঃসন্ধিকালে কেন ব্রণ হয়
জগতে এমন মানুষ কমই আছেন যারা জীবনে একবারও ব্রণের সমস্যায় ভোগেননি। তবে কিশোর বয়সে ব্রণ হওয়াটা সবচেয়ে সাধারণ ঘটনা। পৃথিবীর শতকরা ৮০ ভাগ ছেলেমেয়ে বয়ঃসন্ধিকালে ব্রণের সমস্যায় ভোগে। আমাদের দেশে সাধারণত ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সে মেয়েদের এবং ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সে ছেলেদের প্রথম ব্রণ হতে দেখা যায়। কৈশোরের এই অতিথি ব্রণ কি তবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার প্রতীক? এক অর্থে বলা যায় তাই। বয়ঃসন্ধিকালে আমাদের শরীরে হরমোনের তুমুল পরিবর্তন ঘটে। এ সময় শরীরে অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের নিঃসরণ অতিরিক্ত বেড়ে যায়। ফলে ত্বকে থাকা সেবাম কোষগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠে। সেবাম কোষের কাজ হলো ত্বকে তেলজাতীয় পদার্থ উৎপাদন করা এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা। কৈশোরে ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে যাওয়ায় এ সময় মুখে, পিঠে, ঘাড়ে বেশি বেশি ব্রণ হতে দেখা যায়।
তবে শুধু প্রাকৃতিক কারণই ব্রণ হওয়ার পেছনে দায়ী নয়। সময়ের সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনেও এসেছে নানা পরিবর্তন। ফাস্টফুড খেতে পছন্দ করে না এমন টিনএজার হয়তো কমই আছে। কেউ কেউ আবার ঘরোয়া খাবারের বদলে নিয়মিতই ফাস্টফুড খায়। আবার অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের কারণে অনেকের রয়েছে রাত জাগার অভ্যাস। কিশোর-কিশোরীদের অনিয়মিত ঘুম এবং উচ্চ ক্যালরি যুক্ত ফাস্টফুড খাওয়ার অভ্যাস বাড়িয়ে তুলে ব্রণের প্রবণতা। এ ছাড়া এ বয়সে অতিরিক্ত বিষণ্নতা, হতাশা ও দুশ্চিন্তা করলে বারবার ব্রণ হতে পারে।
ব্রণ হলেই মন খারাপ নয়
কিশোর-কিশোরীরা স্বভাবতই চারপাশে নিজেদের ব্যক্তিত্ব ও পরিচয় বিকশিত করতে চায়। নিজেদের বাহ্যিক সৌন্দর্য, উপস্থাপন নিয়েও এ সময় তারা বেশি ভাবে। এমন সময় চেহারায় ব্রণ হলে মনমরা ও অস্থির হয়ে ওঠে। প্রায়শই শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত ব্রণ দেখা দিলে কেউ কেউ নিজেদের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। আবার অনেক সময় না বুঝে বন্ধুরা এমনকি বয়সে বড়রাও ত্বকের ব্রণ নিয়ে বুলি করে ফেলেন। তবে মনে রাখবে, কৈশোরে ব্রণ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কৈশোরের অন্য পরিবর্তনগুলোর মতোই এটিও তাই উপভোগ করো। ব্রণ কেন বেশি হচ্ছে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। কেননা, বয়ঃসন্ধি পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০ বছর বয়স থেকেই এগুলো দূর হয়ে যায়।
ব্রণ দূরে থাকবে যেভাবে
- ব্রণের ওপর বা তার আশপাশের স্থানে বারবার হাত দেওয়া, খোঁচানো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু অন্যমনস্ক হলেই হাত চলে যায় ব্রণে অভিযোগ করেন অনেক
কিশোর-কিশোরী। তবে ত্বকে দাগ বা কালচে ভাব না চাইলে সতর্ক থাকতে হবে এই অভ্যাস নিয়ে। - কিশোর বয়সে ত্বকে অতিরিক্ত তেলজাতীয় তৈরি হবেই। জৈবিক এই প্রক্রিয়া আটকানোর কোনো উপায় নেই। তবে ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমতে দেওয়া যাবে না। এজন্য সাবান কিংবা ফেসওয়াশ দিয়ে বারবার মুখ ধুয়ে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এতে করে তেল জমাট বেঁধে ব্রণ হওয়ার পাবে না।
- মুখের ত্বকের মতোই এ সময় মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমতে পারে। ফলে কপাল ও চুলের আশপাশের ত্বকে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। নিয়মিত শ্যাম্পু করলে এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
- ত্বকে ব্রণ থাকা অবস্থায় বাইরে যাওয়ার সময় নিয়মিত সূর্যের ক্ষতিকর আলোকরশ্মি প্রতিরোধকারী ক্রিম ব্যবহার করতে পার। এ সময় সূর্যের আলোকরশ্মি ব্রণ দীর্ঘস্থায়ী করে এবং দাগ তৈরি করতে পারে।
- পরিচ্ছন্ন ত্বক পেতে চাইলে উচ্চ ক্যালরি যুক্ত ফাস্টফুড এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিতে হবে। এর পরিবর্তে সবুজ শাকসবজি ও বেশি পরিমাণে পানি খাও। এসব খাবার ব্রণ প্রতিরোধে সহায়ক।
- কৈশোর কাল আনন্দ, উচ্ছ্বাসে থাকার বয়স। তবুও হরমোন ও মস্তিষ্কের প্রভাবে এ সময় প্রায়ই হতাশা, বিষণ্নতা কাজ করে। আবার রাতে অপরিমিত ঘুমও বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তুলে। এসব কারণে ব্রণ সহজে দূর হতে চায় না। তাই নেতিবাচক অনুভূতি মনে ঠাঁই না দিয়ে ইতিবাচক অনুভূতির চর্চা
করো। রুটিন মাফিক ঘুম ও জীবনযাপন করার চেষ্টা করো।