বরিশালে মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় আসামি আলমগীর সিকদারের মৃত্যুদণ্ড। ছবি: খবেরর কাগজ
বরিশালে মাদরাসাপড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আলমগীর সিকদার (৫২) নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে ভুক্তভোগী মা ও তার গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুর ভরণপোষণের দায়িত্ব জেলা প্রশাসন তথা রাষ্ট্রকে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আশরাফ উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
এ সময়ে অভিযুক্ত আলমগীর সিকদার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উজিরপুর উপজেলার পূর্ব কেশবকাঠি গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ সিকদারের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী ও অভিযুক্ত ব্যক্তি একই এলাকার বাসিন্দা। কাজের সুবাদে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর বাবা অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। এই সুযোগে অভিযুক্ত আলমগীর বিভিন্ন সময়ে ও বাড়িতে গিয়ে মাদরাসাপড়ুয়া ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করতেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিসযটি তার বাবা-মাকে জানানোর পারে ২০২৩ সালের ২১ মে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে উজিরপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ মে আলমগীর সিকদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে আলমগীর সিকাদারকে একমাত্র আসামি ও ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানির পর আদালত এ রায় দেন। বর্তমানে ভুক্তভোগীর সন্তানের বয়স তিন বছর।
রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ কে এম শামসুল হক বলেন, 'আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী মা ও তার গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুর ভরণপোষণের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।'
মামলার পর পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছিল। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হলো।
মইনুল ইসলাম/আজহার/