শেষ মুহূর্তের প্রচারে জমে উঠেছে লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসনের উপনির্বাচন। এ নির্বাচনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. গোলাম ফারুক পিংকু (নৌকা), জাতীয় পার্টি মনোনীত জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিব হোসেন রাকিব (লাঙ্গল), জাকের পার্টির মনোনীত জেলা জাকের পার্টির সভাপতি আ ন ম সামছুল করিম খোকন (গোলাপ ফুল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নেতা সেলিম মাহমুদ (আম)।
আগামী ৫ নভেম্বর এ নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা শেষ মুহূর্তে নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে দিন-রাত সভা-সমাবেশ, মাইকিংসহ সব ধরনের প্রচার জেরালোভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।
১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩ হাজার ৭৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯ হাজার ৯৫ জন, নারী ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৪৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গে ভোটার মাত্র ১ জন। নির্বাচনে কেন্দ্র সংখ্যা ১১৫টি। ৭৯৮টি স্থায়ী ও ২৯টি অস্থায়ী ভোটের বুথসহ মোট বুথের সংখ্যা ৮২৭টি।
লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সফিকুর রহমান জানান, নির্বাচনে সব প্রার্থীই তাদের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে তারাও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা স্ট্যাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরই মধ্যে ভোটের জন্য প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও কমিউনিটি পুলিশিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী গোলাম ফারুক পিংকু অন্যদের তুলনায় এগিয়ে আছেন। কারণ টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থীর দখলে ছিল আসনটি।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চল তথা চন্দ্রগঞ্জ থানার বাসিন্দা গোলাম ফারুক। উন্নয়নবঞ্চিত এই থানাবাসী দীর্ঘদিন পর নিজ এলাকার প্রার্থী পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত। এ ছাড়া প্রচারেও পুরো সংসদীয় এলাকায় অন্যদের তুলনায় এগিয়ে আছেন তিনি।
অপর তিন প্রার্থীর মধ্যে এনপিপির সেলিম মাহমুদ এলাকায় অপরিচিত প্রার্থী। প্রচারে তিনি অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে আছেন। অপর দুই প্রার্থীই লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাসিন্দা। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. রাকিব হোসেন রাকিবের বাবা ওই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। অপরদিকে জাকের পার্টির প্রার্থী আ ন ম সামছুল করিম খোকনের বাবা হারিছ চৌধুরী লক্ষ্মীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ও জেলার একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি নিজেও দীর্ঘদিন জেলা মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ছোট ভাইয়েরা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। ভাই সাহাব উদ্দিন সাবু জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, অপর ভাই রেজাউল করিম লিটন জেলা যুবদল সভাপতি। অপর ভাই আজাদ জেলা শ্রমিক দলের নেতা ও লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী রাকিব হোসেন ও জাকের পার্টির প্রার্থী আ ন ম সামছুল করিম খোকন এ নির্বাচনে ভোটের চমক দেখাবেন বলে জানিয়েছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম ফারুক বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে তিনি ও তার কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি হবে।
জেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দল নির্বাচন বর্জন করায় তারা ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
এর আাগে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম শাহজাহান কামাল (৯০) ইন্তেকাল করেন। তিনি বাধক্যসহ অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। পরেরদিন লক্ষ্মীপুর শহরের মডেল হাইস্কুল মাঠে মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মজুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। শাহজাহান কামাল সাবেক বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সদর আসনের তিন তিন বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন।
এমএ/এআর