আষাঢ় মাস শুরু হলেও চাঁদপুরের প্রধান মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে আশানুরূপ ইলিশের সরবরাহ নেই। স্থানীয়ভাবে ধরা ইলিশই এখন বাজারে উঠছে। তবে সরবরাহ কম থাকায় দামও চড়া। ফলে অনেক ক্রেতাই দরদাম করে ইলিশ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশের সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাজারে চাপ বেড়েছে। অন্যদিকে মৎস্য বিভাগের দাবি, ইলিশের সংখ্যা খুব একটা কমেনি; বরং ধরা পড়া মাছের গড় আকার ছোট হওয়ায় উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণকেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চল থেকে বর্তমানে কোনো ইলিশ আসছে না। পদ্মা ও মেঘনা নদীতে স্থানীয় জেলেদের ধরা ইলিশই আড়তে উঠছে। তবে সেই সরবরাহও চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
সদরের আনন্দবাজার এলাকার জেলে ইসমাইল খবরের কাগজকে বলেন, এখন জালে ইলিশ উঠলেও সংখ্যায় কম। ইলিশের পাশাপাশি অন্য মাছও ধরা পড়ছে।
বহরিয়া এলাকার জেলে জাহাঙ্গীর ঢালী খবরের কাগজকে বলেন, অন্য বছর বর্ষার শুরুতে ইলিশের সরবরাহ বেশি থাকলেও এবার তা কম। বর্তমানে ৬০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশই বেশি ধরা পড়ছে।
হরিণা ফেরিঘাট এলাকার আড়তদার মো. ইব্রাহীম বলেন, চাহিদার তুলনায় ইলিশের সরবরাহ কম। তবে গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। বর্তমানে ইলিশের সঙ্গে পাঙ্গাশ মাছও বেশি ধরা পড়ছে।
একই আড়তের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর সৈয়াল বলেন, দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা দরদাম করেও ইলিশ না কিনে ফিরে যাচ্ছেন। আগে আড়তে মাছ আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি হয়ে যেত, এখন অনেক মাছ শহরের বিভিন্ন বাজারে পাঠাতে হচ্ছে।
ইলিশ কিনতে আসা শাহাবুদ্দিন মিজি খবরের কাগজকে বলেন, ইলিশ কেনার ইচ্ছা থাকলেও বর্তমান দামে তা সম্ভব হচ্ছে না।
নতুন বাজার এলাকার ক্রেতা আব্দুল বারেক বলেন, এক কেজি ইলিশের দামে তিন কেজির বেশি গরুর মাংস কেনা যায়। চাঁদপুরে থেকেও ইলিশ খাওয়া এখন অনেকের জন্য বিলাসিতা হয়ে গেছে।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবে বরাত সরকার বলেন, জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রতিদিন যেখানে ১০০ থেকে ১৫০ মণ ইলিশ আড়তে আসত, সেখানে আষাঢ় মাসে তা কমে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০ মণে নেমে এসেছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়, ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় এবং ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে দামও কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ইলিশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। তবে ধরা পড়া মাছের গড় আকার ছোট হওয়ায় মোট উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের সুফলে গত কয়েক বছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। তবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, ডুবোচর অপসারণ এবং ইলিশের খাদ্যের প্রাপ্যতা বজায় রাখা গেলে উৎপাদন আরও বাড়বে। বর্তমানে নদীতে ডুবোচর, প্রাকৃতিক পরিবর্তন ও খাদ্য সংকটের কারণে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের বিচরণ কিছুটা কমেছে।
ফয়েজ আহমেদ/থিওটোনিয়াস/