চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলা মেগা প্রকল্পের কাজ ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬ রেগুলেটরের ৫টির বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। আশা করি, আসন্ন বর্ষায় সুফল পাবেন নগরবাসী। তবে এ জন্য প্রয়োজন সব সেবা প্রদানকারী সংস্থার সমন্বিত প্রয়াস। গতকাল মঙ্গলবার বর্ষাকালীন প্রাকপ্রস্তুতিমূলক সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল মো. ফেরদৌস আহমেদ এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বলার অবকাশ রাখে না, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা একটি সর্বজনবিদিত সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে যে প্রকল্পের কাজ চলছে, তা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণগুলোর মধ্যে একটি। প্রকল্পের ভৌত অবকাঠমো নির্মাণের কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এই প্রকল্পের আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ৩৬টি খালের পাড়ে রিটেইনিং ওয়াল, রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট ইত্যাদি নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সংশোধিত প্রকল্পের নিয়মানুসারে আমাদের ভৌত অবকাঠামোর অগ্রগতি এখন শতকরা ৬৫ ভাগ। প্রকল্প সমাপ্তির মেয়াদকাল ২০২৬ সালের জুন মাস। বিগত বছরগুলোতে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতার পরিসংখ্যান অনুসারে আমরা দেখতে পেয়েছি, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, শমসেরনগর, বাদুরতলা, খাসিয়াপাড়া, বারৈপাড়া, ফুলতলা, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, আগ্রাবাদ, হালিশহরে জলাবদ্ধতার পরিমাণ খুব বেশি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ মাস ধরে সিটি করপোরেশনকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের একটি টিম সরেজমিনে কাজ করেছে। এর মধ্য দিয়ে আমরা বিশ্লেষণ করে বুঝতে পেরেছি, ৩৬ খালের সঙ্গে অন্য যে খালগুলো আছে (বিশেষ করে মির্জা, চশমা, চাক্তাই, বাকলিয়া) সেগুলোর পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে। এরপর তার আশপাশের সংযুক্ত প্রাইমারি, সেকেন্ডারি ড্রেনগুলো পরিষ্কারের আওতায় আনতে পারলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে কিছুটা সুফল পাব। এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা সিটি করপোরেশেনের সঙ্গে গত ৩ মাসে একাধিকবার বসেছি। তারা তাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা আমাদের করেছে। আমরা তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। এ ছাড়া আমাদের প্রকল্পের মোট ৬টি রেগুলেটরের মধ্যে ৫টির কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি এই ৫টি রেগুলেটরই আগামী বর্ষার মধ্যে সম্পূর্ণ কার্যকর হয়ে যাবে।’
আগামী ৩১ মার্চের পর খালের কোন ইক্যুইপমেন্ট থাকবে না। এরপর পুরোপুরি খাল পুনর্খননের কাজে চলবে। সেনাবাহিনী, সিটি করপোরশেন, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে এই শহরে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।
সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিডিএ, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক)। ২০২০ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফা বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। পরে তৃতীয় দফা মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা।