ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দেবহাটায় ব্ল্যাকমেইল করে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ, এরপর... ‘কে পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, তা ঠিক করবে কম্পিউটার’ ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি উখিয়ার ট্রে ওভেন প্রকল্প ঘুরে দেখলেন জাইকা প্রেসিডেন্ট আবারও বড় ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যানার্জী The Grocer and the Fruit seller বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৮ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর ম্যাকডোনাল্ডস-বাস টার্মিনাল এখন ক্লিনিক অপহরণ-মানবপাচার রোধে টেকনাফে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাজেটে অনেক পরিকল্পনা রাখা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী খামেনির দাফন, ট্রাম্পের কটাক্ষ আর ‘রফা’ প্রসঙ্গে নতুন বিতর্ক চকবাজারে আশিক টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে শ্যামনগরে ১৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকার মাদক জব্দ স্বাস্থ্যখাতে খারাপ চর্চার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ-সৌদি আরবের সুসম্পর্ক স্থাপনে হজ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ১৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র অপরিচ্ছন্ন টয়লেটে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্ভোগে বেরোবির শিক্ষার্থীরা ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচে বজ্রঝড়ের শঙ্কা কোটচাঁদপুরে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আসামির বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সেমিফাইনাল, আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল ফাইনাল, হবে কি পাগলাটে বিশ্বকাপ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৩৩ ইসলামপুর সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্রসহ কেএনএফ সদস্য আটক মিশ্র এআই ক্রলার ব্লক করবে ক্লাউডফ্লেয়ার ভাঙ্গুড়ায় যুবলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় বিক্ষোভ সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সব হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতায় ৬ নির্দেশনা An Honest Farmer বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ৭ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাইকা প্রেসিডেন্ট সাতক্ষীরায় দাবি না মানলে ৬ জুলাই থেকে ডাকঘর কর্মচারীদের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি খাগড়াছড়িতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, ছাত্রলীগ নেতা আটক

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৪, ০৯:৩১ পিএম
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলা মেগা প্রকল্পের কাজ ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬ রেগুলেটরের ৫টির বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। আশা করি, আসন্ন বর্ষায় সুফল পাবেন নগরবাসী। তবে এ জন্য প্রয়োজন সব সেবা প্রদানকারী সংস্থার সমন্বিত প্রয়াস। গতকাল মঙ্গলবার বর্ষাকালীন প্রাকপ্রস্তুতিমূলক সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল মো. ফেরদৌস আহমেদ এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বলার অবকাশ রাখে না, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা একটি সর্বজনবিদিত সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে যে প্রকল্পের কাজ চলছে, তা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণগুলোর মধ্যে একটি। প্রকল্পের ভৌত অবকাঠমো নির্মাণের কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এই প্রকল্পের আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ৩৬টি খালের পাড়ে রিটেইনিং ওয়াল, রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট ইত্যাদি নির্মাণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সংশোধিত প্রকল্পের নিয়মানুসারে আমাদের ভৌত অবকাঠামোর অগ্রগতি এখন শতকরা ৬৫ ভাগ। প্রকল্প সমাপ্তির মেয়াদকাল ২০২৬ সালের জুন মাস। বিগত বছরগুলোতে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতার পরিসংখ্যান অনুসারে আমরা দেখতে পেয়েছি, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, শমসেরনগর, বাদুরতলা, খাসিয়াপাড়া, বারৈপাড়া, ফুলতলা, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, আগ্রাবাদ, হালিশহরে জলাবদ্ধতার পরিমাণ খুব বেশি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ মাস ধরে সিটি করপোরেশনকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের একটি টিম সরেজমিনে কাজ করেছে। এর মধ্য দিয়ে আমরা বিশ্লেষণ করে বুঝতে পেরেছি, ৩৬ খালের সঙ্গে অন্য যে খালগুলো আছে (বিশেষ করে মির্জা, চশমা, চাক্তাই, বাকলিয়া) সেগুলোর পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে। এরপর তার আশপাশের সংযুক্ত প্রাইমারি, সেকেন্ডারি ড্রেনগুলো পরিষ্কারের আওতায় আনতে পারলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে কিছুটা সুফল পাব। এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা সিটি করপোরেশেনের সঙ্গে গত ৩ মাসে একাধিকবার বসেছি। তারা তাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা আমাদের করেছে। আমরা তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। এ ছাড়া আমাদের প্রকল্পের মোট ৬টি রেগুলেটরের মধ্যে ৫টির কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি এই ৫টি রেগুলেটরই আগামী বর্ষার মধ্যে সম্পূর্ণ কার্যকর হয়ে যাবে।’ 

আগামী ৩১ মার্চের পর খালের কোন ইক্যুইপমেন্ট থাকবে না। এরপর পুরোপুরি খাল পুনর্খননের কাজে চলবে। সেনাবাহিনী, সিটি করপোরশেন, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে এই শহরে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। 

সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিডিএ, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক)। ২০২০ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফা বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। পরে তৃতীয় দফা মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা।

ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নদ-নদী, খাল-বিল ও মুক্ত জলাশয়গুলো থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।

স্থানীয় ও মৎস্য সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় মাছ সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে শতাব্দী প্রিয় সেই বিলুপ্তপ্রায় স্বাদ।

স্থানীয় সূত্র ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে জানা গেছে, মাত্র এক দশক আগেও ধনবাড়ী উপজেলার উল্লেখযোগ্য যমুনার শাখা ঝিনাই নদী, বংশাই নদী-খাল-বিল, পুকুর-ডোবা ও কৃত্রিম জলাশয়ে প্রচুর পরিমাণে দেশি মাছ পাওয়া যেত। তখন অনেক মানুষ মাছ ধরাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চালাতেন। কিন্তু বর্তমানে মুক্ত জলাশয়ে মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সেই পেশাজীবী মানুষেরা বাধ্য হয়েছেন অন্য পেশায় ছুটতে। মৎস্য সংশ্লিষ্টদের প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের মিঠাপানির প্রায় ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে বর্তমানে শতাধিক প্রজাতি অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে টেংরা, পুঁটি, বাইম, বোয়াল, গজার, আইড়, ভেটকি, ভোলা, মাগুর, শৈল, চেলা, টাকি, চাঁদা, বাইশ, কাকিলা, খলিসা ও গুলশা মাছ উল্লেখযোগ্য। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকার বেশিরভাগ মাছই একসময় ধনবাড়ীর জলাশয়ে প্রচুর পাওয়া যেত।

মৎস্য কর্মকর্তারা দেশীয় মাছ কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে-নদী-নালা ও খাল-বিল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়া, চায়না দুয়ারী জালের ব্যাপক ব্যবহার, মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, জলাশয়ে সেচ দিয়ে মাছ ধরা এবং ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ শিকার।মূল কারণ হচ্ছে ধনবাড়ী উপজেলার বিল গুলোকে লিজ দেওয়া। 

যদুনাথপুর ইউনিয়নের ৯৮  বছর বয়সী হোসেন আকন্দ গতানুগতিক সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, ছোটবেলায় দেখতাম, বিলে বিলে মাছ ভরা থাকত। জাল ফেললেই যেন মাছ উঠত। বর্ষায় তো পানির সঙ্গে ঘরেই মাছ ঢুকে যেত। কিন্তু এখন খাল- বিলে মাছের দেখাই মেলে না। পানিটাই যেন মরে গেছে।

বানিয়াজান ইউনিয়নের ইউসুপ মিয়া দীর্ঘদিন মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন। অশ্রুসজল চোখে তিনি জানান, বহু বছর ধরে মাছ ধরে বেচে খেয়েছি। সংসারের সব ব্যয় মিটিয়েছি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। দেশীয় মাছ এখন খুবই দুর্লভ। বাজারে যা আসে, তার দাম এত বেশি যে সাধারণ মানুষ কেনার কথাও ভাবতে পারে না। এক কেজি ছোট টেংরা মাছের দাম এখন ৫০০-৬০০ টাকা! আমলা মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরাও একই সুরে কথা বলেন।

তারা জানান, এক সময় আমলা বাজারে দেশীয় ছোট মাছের কোনো সংকট ছিল না। গরিব-দুঃখী সবাই স্বল্পমূল্যে এসব মাছ কিনে খেতে পারতেন। বর্তমানে অল্প যা পাওয়া যায়, তার দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে।

ধনবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ছেলেবেলায় গ্রামের মানুষ বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে মাছ ধরত এবং মাছ খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে যেত। এখন সেই ছোট মাছের দেখা পাওয়াই যেন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো চিত্রে দেখে জানবে পুঁটি, টেংরা, মাগুর মাছের অস্তিত্বের কথা!’

ধনবাড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে বলেন, ‘জলাশয় ভরাট, নদ-নদীতে পানির সংকট, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের কারণে দেশীয় মাছ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। এছাড়া সেচ দিয়ে মাছ শিকার ও জলাশয়ে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের প্রভাবেও দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে। এই অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে বলে আমি আশঙ্কা প্রকাশ করছি।’

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে কিছু প্রজাতি এখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন চায়না দুয়ারী জাল বন্ধ, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ, জলাশয় সংরক্ষণ ও পুনঃখনন এবং বর্ষায় মাছের অবাধ চলাচলের জন্য নদী-খালের সংযোগ রক্ষা করা।

গঠনমূলক পরামর্শ হিসেবে মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ‘স্হানীয় প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণ, মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা গেলে দেশীয় মাছ রক্ষা সম্ভব।’

উল্লেখ্য, ধনবাড়ী উপজেলার নদ-নদী ও খাল-বিল একসময় দেশীয় মাছের জন্য বিখ্যাত ছিল। সেই ঐতিহ্য রক্ষায় এখনই সময় ক্ষয় নয় বলে মনে করছেন পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহল।

জুয়েল রানা/রিফাত/

উখিয়ার ট্রে ওভেন প্রকল্প ঘুরে দেখলেন জাইকা প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
উখিয়ার ট্রে ওভেন প্রকল্প ঘুরে দেখলেন জাইকা প্রেসিডেন্ট
উখিয়ার ট্রে ওভেন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ট্রে ওভেন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। 

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে উখিয়ার সোনারপাড়ায় অবস্থি "বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকায় মৎস্যজীবীদের জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প" পরিদর্শন করেন প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলটি জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে এবং মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে জানানো হয়, অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর উপায়ে শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণের পরিবর্তে স্বাস্থ্যসম্মত ট্রে ওভেন প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় ১২০টি পরিবারকে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা নিরাপদ ও মানসম্মত উপায়ে শুঁটকি উৎপাদন করে আয় বৃদ্ধি করতে পারেন।

প্রতিনিধি দল প্রকল্পের উপকারভোগী তিনটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তারা ট্রে ওভেন পদ্ধতিতে শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদনের সুবিধা, আর্থিক লাভজনকতা এবং নারী উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান।

পরিদর্শনকালে প্রকল্প পরিচালক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অফিসার ধিমান গাইন এবং চিফ মনিটরিং অফিসার ইলিয়াস ইবনে কবীর উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে জাইকা প্রতিনিধি দল উখিয়া সোনারপাড়া এলাকা ত্যাগ করে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন।

রিদুয়ানুল হক সোহাগ/এসএন

অপহরণ-মানবপাচার রোধে টেকনাফে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
অপহরণ-মানবপাচার রোধে টেকনাফে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ
টেকনাফে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ সভা। ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রথমবারের মতো জেলার ও উপজেলার সব প্রধান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অপহরণ, মাদক, মানবপাচার, সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অনলাইন জুয়া বন্ধে কঠোর ও সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় অপহরণ, মাদক, মানবপাচার, সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অনলাইন জুয়া বন্ধে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টায় টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার রামু সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান, টেকনাফ ব্যাটালিয়ান ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, কক্সবাজার র‍্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নিয়ানুল হালিম খান, উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম(জি), 

কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোমেল মণ্ডল, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় টেকনাফের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, পাহাড়ে চিরুনি অভিযান পরিচালনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার এবং অনলাইন জুয়া বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি টেকনাফবাসীর নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।

সভায় বিজিবি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাব, কোস্ট গার্ড, এপিবিএন, বন বিভাগ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী টেকনাফে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সীমান্তে প্রশাসন সব সময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজকের বৈঠকে মাদক, অপহরণ, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন হলে সীমান্ত এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জিয়াউর রহমান জিহাদ বলেন, বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে কীভাবে কিছু রোহিঙ্গা গাড়ির মালিক হচ্ছে এবং কীভাবে ভুয়া বা অন্যের নামে খোলা বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অপহরণকারীরা অর্থ লেনদেন করছে। এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

কক্সবাজারের রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সীমান্তের পবিত্রতা ও অখণ্ডতা বজায় রাখতে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বৈঠক এবার টেকনাফে করা হয়েছে। কারণ, টেকনাফে মাদক, অপহরণ, মানবপাচার ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টরা কাজ করবেন।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে অপরাধ দমনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উখিয়া-টেকনাফে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাই বদ্ধপরিকর। রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচলের বিষয়েও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমপি শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে আইনে কিছু সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

মিয়ানমারের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে বাংলাদেশের সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি আরও জোরদারভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাদকবিরোধী অবস্থানের কথা উল্লেখ করে এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমার শরীরে এক বিন্দু মাদকের টাকাও নেই। তাই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আন্তরিকভাবে কাজ করলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব।

মোঃ শাহীন/এসএন

শ্যামনগরে ১৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকার মাদক জব্দ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
শ্যামনগরে ১৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকার মাদক জব্দ
ছবি: খবরের কাগজ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুটি কাভার্ডভ্যান থেকে ১৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা মূল্যের কোডিনযুক্ত সিরাপ, ভারতীয় ওষুধ ও বিড়ি জব্দ করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এ সময় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে গোপন সংবাদে এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. আব্দুল মজিদ শেখ (৩৬)। র‍্যাব জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় মাদক ও চোরাচালানি পণ্য এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন।

র‍্যাবের ভাষ্য, অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ব্যাটারিচালিত ছোট কাভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়। এ সময় ১ হাজার ৮৮৩ বোতল কোডিনযুক্ত সিরাপ ছাড়াও বিভিন্ন ওষুধ এবং ৩২০ ব্যাগ ভারতীয় বিড়ি জব্দ করা হয়।

র‍্যাব-৬ সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ জিয়াদ বলেন, জব্দ করা আলামতসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

জাকির/খাদিজা রুমি/

কোটচাঁদপুরে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আসামির

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
কোটচাঁদপুরে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আসামির
গ্রেপ্তার আসামি ফরিদ (বামে)। ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মায়ের জিনিস চুরি ও মা'কে মারধর করার অভিযোগে ছেলে ফরিদ হোসেনের (২৮) নামে মামলা করেন ভুক্তভোগী মা। মামলায় ফরিদের নামে ওয়ারেন্ট জারি হয় এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যায় আসামি। কিন্তু পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি আসামি ফরিদের।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে উপজেলার সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পালানোর এ ঘটনা ঘটে। তবে পালানোর পর পুলিশের বিশেষ অভিযানে শনিবার (৪ জুলাই) সকালে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে কোটাচাঁদপুর উপজেলার সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল কুদ্দুস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভোমরাডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয় বাজারের পাশের একটি স্কুলের পেছন থেকে ফরিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়। 

গ্রেপ্তার ও পালানোর বিষয়ে জানতে কোটচাঁদপুরের সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল কুদ্দুসের মোবাইলে ১৫ বার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে হ্যান্ডকাপসহ আসামি পালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ’ফরিদ হোসেন নামের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’

মাহফুজুর/খাদিজা রুমি