চট্টগ্রামে ফ্রিল্যান্সারের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা সরানোর প্রমাণ পেয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। এ ঘটনায় গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক রুহুল আমিনসহ সাত পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মার্চ) তাদের প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আব্দুল মান্নান।
ডিবির পরিদর্শক রুহুল আমিন ছাড়া অভিযুক্ত অন্যরা হলেন মহানগর ডিবির (উত্তর) উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বাবুল মিয়া, শাহ পরান জান্নাত ও মো. মাইনুল হোসেন এবং কনস্টেবল মো. জাহেদ ও আব্দুর রহমান।
রুহুল আমিন এ ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছেন বলে তদন্তে ওঠে এসেছে।
অভিযুক্ত সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মহানগর পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়ের কাছে গত ৭ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন কমিটির প্রধান সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এডিসি আসিফ মহিউদ্দিন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী গুলবাগ আবাসিক এলাকার বারাকা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কুলিং কর্নারে চা পান করার সময় অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগ তুলে আবু বক্কর ও ফয়জুল নামে দুজনকে আটক করেন নগর ডিবি পুলিশের (উত্তর বিভাগ) পরিদর্শক রুহুল আমীন। পরে তাদের নগরের মনসুরাবাদ ডিবি হেফাজতে নিয়ে জোরপূর্বক আবু বক্করের মোবাইল ফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেন ডিবি পুলিশের সদস্যরা। পরে তার মোবাইল ফোনের লক খুলিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫ লাখ করে ১০ লাখ টাকা সরিয়ে ফেলেন তারা।
এ সময় কেড়ে নেওয়া হয় তাদের মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা।
পরের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ।
শুনানি শেষে একই দিন দুজনকে জামিনে মুক্তি দেন আদালত।
পরে আদালত থেকে বেরিয়ে আরেকটি মোবাইল ফোন কিনে আবু বকর তার বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখতে পান অ্যাকাউন্টে থাকা ২ লাখ ৮২ হাজার ডলারের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ডলার রয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে বাকি ২ লাখ ৭৭ হাজার ডলার সরিয়ে ফেলা হয়। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে নগর-পুলিশে তোলপাড় শুরু হয়।
ঘটনা তদন্তে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এডিসি আসিফ মহিউদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন নগর পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।
ভুক্তভোগী আবু বকর সিদ্দিক একজন সরকার অনুমোদিত ফ্রিল্যান্সার। নগরের অক্সিজেন এলাকায় তার বাসা।
এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী আবু বক্কর ও আরও দুজনের বিরুদ্ধে অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের অপরাধে একটি মামলা করে পুলিশ।
এদিকে আবু বক্করের স্ত্রী পুলিশ ও পুলিশের সোর্সসহ আটজনের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি, মারধর ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে একটি মামলা করেন।
ইফতেখারুল/পপি/অমিয়/