প্রচণ্ড গরমের কারণে কুমিল্লার হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ।
দাবদাহের কারণে বেশি অসুস্থ হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। শিশুদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড রোগীতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় জায়গা দিতে হচ্ছে হাসপাতালের বারান্দায়।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগীর চাপ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে। ধারণক্ষমতার তিনগুণ বেশি শিশুরোগী চিকিৎসা নিচ্ছে এই ওয়ার্ডে।
সোমবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ওয়ার্ডের সামনে বোর্ডে লেখা সিট সংখ্যা ৪০। শিশু রোগী ভর্তির সংখ্যা ১২১ জন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার চেয়ে ৮১ জন বেশি শিশুরোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। ওয়ার্ডের মেঝে এবং বারান্দায় পাটিতে শুয়ে সেবা নিতে হচ্ছে অতিরিক্ত রোগীদের। প্রতিটি শিশুরোগীর সঙ্গে বাবা-মা ও স্বজনরা গাদাগাদি করে থাকছেন। অতিরিক্ত মানুষের কারণে গরমে সবার কাহিল অবস্থা।
জানা গেছে, প্রচণ্ড গরমে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। তা ছাড়া যারা নানা ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত, তাদের অবস্থা আরও খারাপ। বয়স্করা বেশিরভাগই হিটস্ট্রোক এবং পানিশূন্যতা নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে।
রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুরা ডায়রিয়া এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। হঠাৎ জ্বর এসে আর থামছে না। কোনো কোনো শিশুর পরিবারের সবাই জ্বরে আক্রান্ত। অনেকে আবার চর্মরোগে আক্রান্ত। গরমের কারণেই চর্মরোগ বাড়ছে বলে ধারণা তাদের।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুধু এখানকার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নয়, বাইরের জেলা থেকেও রোগী আসেন। এতে শিশু ওয়ার্ড পূর্ণ হয়ে হাসপাতালের বারান্দায়ও চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে।
কুমিল্লা শহরতলির সাতোরা এলাকা থেকে চার বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন তার মা সুইটি বেগম। তিনি জানান, কয়েক দিন যাবৎ শিশুটি পাতলা পায়খানা করছে। প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় ওষুধ খাওয়ালেও সুস্থ না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। তবে এখানে এসেও সিট পাননি। তাই তাকে বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মুজিবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাইরে তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় শিশুরা জ্বরে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার রোগী ছুটে আসছেন হাসপাতালে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যত রোগীই আসছে তাদের সাধ্যমতো সেবা দেওয়া হচ্ছে।’
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ মো. ফজলে রাব্বি খবরের কাগজকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গরমের কারণে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ডে ৪০ জনের সিট থাকলেও আমরা বর্তমানে ১২১ জনকে চিকিৎসা দিচ্ছি। পুরো হাসপাতালে ৫০০ সিটের বিপরীতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এক হাজার ২৮৭ জন রোগী।’
জহির শান্ত/পপি/অমিয়/