তীব্র গরম উপেক্ষা করে সারাদেশের মতো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডেও শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে এই পরীক্ষা শুরু হয়।
প্রথম দিনের পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজারের বেশী পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে বলে বোর্ড সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। নগরী ও জেলার মোট ২১৫টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল থেকে পরীক্ষার্থীদের চোখে-মুখে উত্তেজনার পাশাপাশি কিছুটা উদ্বেগ দেখা গেলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেখা যায়। অনেক কেন্দ্রেই অভিভাবকদের ভিড় সামলাতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের হিমশিম খেতে হয়।
পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব রোধে এবার বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর পারভেজ সাজ্জাত বলেন, ‘সকাল থেকেই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি কেন্দ্রের খবর রাখছি। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রথম দিনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ৭৭টি বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। তীব্র গরমে একটু হিমসিম খেতে হচ্ছে সবাইকে। ’
এবারের পরীক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে চলমান তাপপ্রবাহ। পরীক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবার পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়াতে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যার ফলে অধিকাংশ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন লোডশেডিংয়ের সমস্যা দেখা দেয়নি।
নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষমাণ অভিভাবক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বাচ্চারা অনেকদিন পরিশ্রম করেছে। আবহাওয়াটা একটু প্রতিকূল হলেও কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা দেখে আমরা সন্তুষ্ট। আশা করছি কোনো বিঘ্ন ছাড়াই পুরো পরীক্ষা শেষ হবে।’
উল্লেখ্য, আগামী ২০ মে পর্যন্ত এসএসসি’র লিখিত পরীক্ষা চলবে এবং এরপর শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।
আবদুস সাত্তার/অন্তরা