ঢাকা ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাউন্ড ৩২-এ ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কে? মিসর-ইরান ম্যাচের দায়িত্বে মারচিনিয়াক নরওয়েকে এক হালি গোল দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ইরাকের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে সেনেগাল নকআউটের আগে মেসিকে বিশ্রাম দিতে পারেন স্কালোনি দেম্বেলের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ৩-১ গোলে এগিয়ে ফ্রান্স ঝড় নয়, কলম্বিয়াই পর্তুগালের আসল পরীক্ষা ৩২ মিনিটেই দেম্বেলের হ্যাটট্রিক রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করবেন হাকিমি সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ইসমাইল আর নেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন, রক্ষা হলো না নিজের জীবন ভারতকে টি-টোয়েন্টি শেখাল আয়ারল্যান্ড নরওয়ের শুরুর একাদশে নেই হালান্ডসহ ১০ জন, ফ্রান্সের একাদশেও পরিবর্তন কেপ ভার্দে-সৌদি আরব ম্যাচে বাঁশি বাজাবেন ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়ে এক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় মা ও তিন মেয়ে, অশ্রুসিক্ত হোমনা বিশ্বকাপের নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে হবে, জানাল এআই মাগুরায় মহররম উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে পানি বিতরণ মেসিদের দেশে ফুটবল একাডেমিতে শিশু নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাবনায় বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিতে বিএনপি কর্মী নিহত পূর্ব শত্রুতার জেরে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা কালীগঞ্জে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন চার বছর পর ফিরেই উইম্বলডনে সেরেনা উইলিয়ামস চাঁদপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু শিমুলিয়ায় নীল-সাদা জোয়ার, বল পায়ে রাষ্ট্রদূত জিতলেই আর্জেন্টিনার হাফ সেঞ্চুরি সোনা লুকালেন কোমরে, সীমান্তেই ধরা অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মাগুরা ফুটবল দলকে সংবর্ধনা বেইজিংয়ের ১০৯ তলা ভবনে বিমান বিধ্বস্ত নরওয়ের বিপক্ষে সালিবাকে ছাড়াই খেলবে ফ্রান্স ভারতে তাজিয়া মিছিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত ৩

অর্ধ শতাধিক রুট দিয়ে ঢুকছে মাদক

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
অর্ধ শতাধিক রুট দিয়ে ঢুকছে মাদক
ছবি: খবরের কাগজ

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিপরীতে টেকনাফ সীমান্তজুড়ে প্রবাহিত নাফ নদী দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম মাদক প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত। এই সীমান্ত দিয়ে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিয়মিত বাহক ও খুচরা কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও অভিযোগ রয়েছে, পাচার চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক ও প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের বড় একটি অংশ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হলেও থামছে না পাচার; বরং নতুন নতুন রুট ও কৌশলে বিস্তৃত হচ্ছে অবৈধ এই নেটওয়ার্ক। 

স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজার-টেকনাফ সীমান্তে মাদকের কারবার টিকে থাকার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘ ও দুর্গম সীমান্ত, সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট, প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতা, সীমান্তবর্তী জনপদের ভৌগোলিক সুবিধা এবং দ্রুত লাভের প্রলোভন উল্লেখযোগ্য। 

কক্সবাজার-টেকনাফ সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায়ই লাখ লাখ পিস ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক উদ্ধার হচ্ছে, গ্রেপ্তার হচ্ছেন শত শত ব্যক্তি। তবুও থামছে না পাচার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বলছে, দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তজুড়ে অর্ধশতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করে এখনো বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ করছে। নাফ নদী, পাহাড়ি পথ, ছড়া, উপকূলীয় এলাকা, মাছ ধরার ট্রলার এবং দুর্গম সীমান্ত করিডরকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটগুলো মাদকের চালান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিচ্ছে।

গত ২২ জুন রাতে উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের কাটাখাল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ জাকির হোসাইন (৩২) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করে বিজিবি। তিনি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাটাখাল এলাকার বাসিন্দা। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ হলেও সীমান্তজুড়ে সক্রিয় সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের কারণে এই চক্রের অপতৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

অর্ধশতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ করিডর

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ সদর, বাহারছড়া, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের অসংখ্য সীমান্ত পয়েন্ট দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাতের অন্ধকার, প্রতিকূল আবহাওয়া, নদীপথ, মাছ ধরার ট্রলার, পাহাড়ি ছড়া ও দুর্গম জনপদকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকের চালান পৌঁছে দিচ্ছে। বিশেষ করে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, জালিয়াপাড়া ও ঘোলারচর; সাবরাংয়ের খুরেরমুখ, আচারবনিয়া ও নোয়াপাড়া বেড়িবাঁধ; টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কেরনতলী, মহেশখালীয়াপাড়া, তুলাতুলী, রাজরছড়া ও মিঠাপানির ছড়া; বাহারছড়ার নৌয়াখালীপাড়া, বড় ডেইল, মাথাভাঙ্গা, শীলখালী ও মারিশবনিয়া এলাকাকে মাদক প্রবেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া, লেদা, চৌধুরীপাড়া, ফুলের ডেইল, ওয়াব্রাং, আনোয়ার ফিশারিজ প্রকল্প এলাকা ও মৌলভীবাজার এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের হারাংখালী, মিনাবাজার, উলুচামরি, ঝিমংখালী, উংচিপ্রাং, বাজারপাড়া ও নয়াবাজারসহ বেশ কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পাচারকারীদের নজরে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ–সীমান্তজুড়ে একাধিক সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, ডাকাতি ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষক ও শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে অনেক ক্ষেত্রে তারা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। ফলে গ্রেপ্তার হয় মূলত বাহক ও ছোট সদস্যরা, আর সিন্ডিকেটের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা থেকে যায় আড়ালে।

নৌপথ ও মেরিন ড্রাইভে সক্রিয় পাচার চক্র

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী, শাহপরীর দ্বীপের নৌঘাট এবং মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন বিভিন্ন নৌপথ ব্যবহার করে মাছ ধরার আড়ালে নানা কৌশলে মাদকের চালান সাগর ও নদীপথে দেশে প্রবেশ করছে। এ কাজে কিছু রোহিঙ্গা জেলে ও স্থানীয় জেলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় বড় কারবারিরা এসব পয়েন্টকে তুলনামূলক নিরাপদ করিডর হিসেবে ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ মাদক দেশে প্রবেশ করায়। পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে।

পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে স্থানীয়রা জানান, মাদক পরিবহনের ক্ষেত্রে কারবারিরা প্রায়ই বিলাসবহুল প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ব্যবহার করে থাকে। সম্প্রতি কোস্ট গার্ডের একাধিক অভিযানে কয়েকটি যানবাহনসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়।

তারা জানান, প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা সাধারণত আড়ালে থেকে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায় পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঠপর্যায়ের সদস্যরা গ্রেপ্তার হলেও মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট নৌঘাট, উপকূলীয় এলাকা ও মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন রুটগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

জব্দ হচ্ছে লাখ লাখ ইয়াবা, তবুও থামছে না পাচার
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে কক্সবাজার জেলায় মোট ৪৩ লাখ ২১ হাজার ৮৬৪ পিস ইয়াবা, ৫ দশমিক ২৫০ কেজি আইস, ৪০ দশমিক ৩ কেজি গাঁজা এবং ৬৩ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৯৮ জনকে আটক করা হয়। জব্দ মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৪২ কোটি ৬১ লাখ ২১ হাজার ৫০০ টাকা।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বিএন) সাব্বির আলম সুজন বলেন, ‘দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।’

এদিকে এত বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ হওয়ার পরও সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক তালিকায় কক্সবাজার জেলার ১ হাজার ১৫১ জন মাদক কারবারির নাম উঠে এসেছে, যার মধ্যে ৯১২ জনই টেকনাফের বাসিন্দা। তালিকাভুক্ত শীর্ষ ৭৩ ইয়াবা কারবারির মধ্যে ৬৫ জনের অবস্থানও টেকনাফে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তালিকাভুক্তদের বাইরে গত কয়েক বছরে নতুন করে আরও অনেক ব্যক্তি ও সংঘবদ্ধ চক্র মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে, যাদের বড় অংশ এখনো শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে।

আত্মসমর্পণের পরও থামেনি মাদক চক্র 

মাদক নির্মূলে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হলেও সীমান্তকেন্দ্রিক ইয়াবা পাচার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুলিশের তালিকাভুক্ত ১০২ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে স্থানীয়দের দাবি, আত্মসমর্পণকারী ও মাদক মামলার অনেক আসামির একটি অংশ পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে আত্মসমর্পণ কর্মসূচি আলোচনায় এলেও সীমান্তভিত্তিক মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক বিস্তারের পেছনে কয়েকটি কারণ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। তাদের মতে, মিয়ানমারভিত্তিক চক্রগুলো বর্তমানে বাকিতে ইয়াবা ও আইস সরবরাহ করায় সহজেই নতুন কারবারি তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক বিক্রির বিপুল অর্থ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল ও হুন্ডির মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে চলে গেলেও সেই আর্থিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

এ ছাড়া মাদক মামলাগুলোর তদন্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাহক বা ক্ষুদ্র পর্যায়ের কারবারিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও মাদকের উৎস, অর্থদাতা, পৃষ্ঠপোষক ও সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রকদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন কিছু এলাকা মাদক পাচার ও সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে সীমান্তের এক প্রান্তে অভিযান চললেও অন্য প্রান্তে নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠছে পাচারকারীরা, যা মাদকবিরোধী লড়াইকে আরও জটিল করে তুলছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে সহজ শর্তে ও বাকিতে মাদক সংগ্রহের সুযোগ থাকায় নতুন নতুন ব্যক্তি এই অবৈধ কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে উখিয়া, টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক কারবারিদের নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। মাদকের এই বিস্তার রোধে শুধু অভিযান নয়, সরবরাহ চেইন ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কও ভেঙে দিতে হবে।’

কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ ন ম. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে অব্যাহত মাদক প্রবেশ শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। যে ইয়াবা সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকছে, তা আগামীতে একটি পরিবার ধ্বংস করছে। মাদকের কারণে অপরাধ বাড়ছে, শিক্ষার্থীরা বিপথে যাচ্ছে এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। শুধু অভিযান নয়, সিন্ডিকেটের অর্থের উৎস এবং পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।’

দেড় বছরে হাজারের বেশি গ্রেপ্তার
মাত্র দেড় বছরে কক্সবাজার সীমান্ত থেকে প্রায় আড়াই কোটি পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে মাদকসংশ্লিষ্ট ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন এক হাজারের বেশি ব্যক্তি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আসা এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে, সীমান্তজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকলেও ইয়াবা পাচারের প্রবণতা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

বিজিবির কক্সবাজারের রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে ২০২৫ সালে মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ ৯২ হাজার ৯৯৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৩১ কোটি ৭৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯০০ টাকা। এ সময় মাদকসংশ্লিষ্ট ঘটনায় ৭৮৪ জনকে আটক করা হয়। অন্যদিকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসেই উদ্ধার করা হয়েছে আরও ১ কোটি ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫০৩ পিস ইয়াবা, যার আনুমানিক মূল্য ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজার ৯০০ টাকা। একই সময়ে আটক হয়েছেন ৪৩৮ জন। 

কক্সবাজারের শিক্ষাবিদ মুফিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধকে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ছেড়ে দিলে হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমান্তে নজরদারির পাশাপাশি তরুণদের জন্য বিকল্প ইতিবাচক কর্মকাণ্ড বাড়ানো জরুরি।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, ‘প্রতিবার বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ হওয়ার খবর আসে, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এই বিশাল চালানের মূল হোতারা কারা? তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মাদক নির্মূল করা কঠিন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তের অর্ধশতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ রুটে কঠোর নজরদারি, সিন্ডিকেটের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ধ্বংস এবং প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের বিচারের মুখোমুখি করা গেলে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্য অনেকটাই বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল বলেন, ‘কক্সবাজার সীমান্তকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের অপচেষ্টা দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় পাচারের চেষ্টাকালে প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক নারী যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতা, অভিযান এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। মাদকের উৎস, সরবরাহ চেইন এবং এর সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করতে আমরা কাজ করছি।’

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক অধ্যুষিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।’
 

[প্রতিবেদনটি করতে টেকনাফ প্রতিনিধি মো. শাহীন সহযোগিতা করেছেন]

সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ইসমাইল আর নেই

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ এএম
সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ইসমাইল আর নেই
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সহসভাপতির দায়িত্ব পালনকারী এবং সিলেট বিভাগের সংবাদপত্র এজেন্ট ইসমাইল আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

শুক্রবার (২৬ জুন) কানাডার আলবার্টা প্রদেশের এডমন্টনে বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আইয়ুব খান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বকর সিদ্দিক। 

তাদের স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় বলা হয়, ইসমাইল একজন সদালাপী, সৎ, মিতব্যয়ী ও কর্মঠ সংগঠক ছিলেন। সংবাদপত্র এজেন্টদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে তার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে সংবাদপত্র এজেন্ট সমাজ একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠককে হারিয়েছে। 

সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জানানো হয়েছে।

এসজি/

সবাইকে সতর্ক করেছিলেন, রক্ষা হলো না নিজের জীবন

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:২৮ এএম
সবাইকে সতর্ক করেছিলেন, রক্ষা হলো না নিজের জীবন
আবু হেনা রুবেল ছবি: খবরের কাগজ

অতিরিক্ত গতি পরিহার করুন এবং দায়িত্বশীল হোন, নিরাপদে পথ চলুন— চলতি বছরের (২৪ মে) সমাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি পোস্ট দিয়ে অন্যদের সতর্ক করলেও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আবু হেনা রুবেল (৪০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে আমিরাবাদ ইউনিয়নের পুরাতন বিওসি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু হেনা রুবেল একই উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সামমহাজন বাড়ির বাসিন্দা আজিজুল হকের পুত্র।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবুল বলেন, নিহত আবু হেনা রুবেল পদুয়া এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে তার এক নিকটাত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি মহাসড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে আমাদেরকে কেউ অবগত করেনি। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে।

আরিফুল ইসলাম/এসএন

এক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় মা ও তিন মেয়ে, অশ্রুসিক্ত হোমনা

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:০৪ এএম
আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:০৯ এএম
এক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় মা ও তিন মেয়ে, অশ্রুসিক্ত হোমনা
ছবি: খবরের কাগজ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন মেয়ের জানাযা শেষে কুমিল্লার হোমনার নিজ গ্রাম লটিয়ায় দাফন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে দশটায় পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া। 

তিনি জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টায় লটিয়া গ্রামে লক্ষীপুরে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার শাহীনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। হোমনার লটিয়ায় শাহীনুর বেগমের স্বামী প্রয়াত মোঃ কামালের বাড়িতেই তাদের দাফন হয়।

দাফনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা এ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা বলেন, এমন দুঃসহ ঘটনার মুখোমুখি আমরা আর কখনো হইনি। যারা নিহত হয়েছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি এবং হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করি। 

এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টায় নিহত শাহীনুর বেগম, তার মেয়ে সায়মা আক্তার, নাফিসা আক্তার ইরা ও ফাতেমা আক্তার শিফার মরদেহ লটিয়া গ্রামে এসে পৌঁছায়। এ সময় আশেপাশের গ্রাম থেকে আসা নিহতদের স্বজনদের কান্নায় এক শোকাতুর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে জানাজা শেষে তাদেরকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। 

জহির শান্ত/এসএন

মাগুরায় মহররম উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে পানি বিতরণ

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
মাগুরায় মহররম উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে পানি বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

পবিত্র ১০ মহররম (আশুরা) উপলক্ষে মাগুরা শহরে একটি মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজের পর শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে মিছিলটি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভায়না মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র শক্তি, যুব অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে পথচারীদের মধ্যে পানি বিতরণ করা হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মাগুরা জেলা শাখার সদস্য সচিব মোহাম্মদ হোসাইন, ছাত্র শক্তি মাগুরা জেলা শাখার সদস্য সচিব নিহাজ, যুব অধিকার পরিষদের নেতা রাজিব হোসেন, ছাত্রদল নেতা জিহাদ এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

বক্তারা আশুরার তাৎপর্য তুলে ধরে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ন্যায়বিচার ও ইসলামের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।

যুব অধিকার পরিষদের নেতা রাজিব হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, মুসলমানদের মধ্যে বিদ্যমান বিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি রংপুরে একটি মন্দির নির্মাণের বিষয়েও নিজের মতামত তুলে ধরে সরকারের প্রতি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মুসলমানরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবে।

কাসেমুর/এএফ

পাবনায় বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিতে বিএনপি কর্মী নিহত

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬, ১১:২১ পিএম
পাবনায় বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিতে বিএনপি কর্মী নিহত
নিহত মঞ্জু শেখ। ছবি: খবরের কাগজ

পাবনা সদর উপজেলার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মঞ্জু শেখ (৪০) নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন।

 শুক্রবার (২৬ জুন)  দুপুরে উপজেলার ভাঁড়ারা ও চরতারাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়ার কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
 

নিহত মঞ্জু শেখ সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফের ভাতিজা এবং তিনি দলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিহত মঞ্জু শেখ জোতকাকুরিয়া গ্রামের দারোগ আলী শেখের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে পদ্মার মধ্যচরের ওই এলাকায় একটি পক্ষ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এই বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবারও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন চরে বালু উত্তোলনের পরিস্থিতি দেখতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মঞ্জু শেখ। ঘটনার পর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহতের চাচা ও সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ বলেন, 'চরে অবৈধভাবে বালু তোলায় আমার ভাতিজা বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে গুলি করে হত্যা করে। সে আমাদের দলেরও একজন কর্মী ছিল। আমি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।'

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রেজিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বালু কাটাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে মঞ্জু শেখ নামের একজন নিহত হয়েছেন। তার মাথার পেছনের দিকে গুলির আঘাত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

জুয়েল/এসএন