গাজার সর্বকনিষ্ঠ সাংবাদিক । খবরের কাগজ
ঢাকা ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

গাজার সর্বকনিষ্ঠ সাংবাদিক

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৪, ১২:১২ পিএম
গাজার সর্বকনিষ্ঠ সাংবাদিক
সুমাইয়া ইউশাহ ও শিরিন আবু আকলেহ

ওর বয়স মাত্র এগার বছর। ফিলিস্তিনি শিশু। নাম সুমাইয়া ইউশাহ। খবর সংগ্রহ করার জন্য হাতে বুম নিয়ে ছোটাছুটি করছে যুদ্ধবিদ্ধস্ত এলাকায়। ভাবা যায়!

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রতিদিন নিহত হচ্ছেন অসংখ্য ফিলিস্তিনি। ইসরায়েলের একতরফা এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের বেশিরভাগ রাষ্ট্র। তবু ইসরায়েলি হামলায় প্রতিদিনই নিহত হচ্ছেন ফিলিস্তিনি শিশু থেকে শুরু করে নানান বয়সী মানুষ। আর যারা জীবিত আছেন, তারাও ইসরায়েলের অমানবিক আচরণের শিকার। খাবার, পানি, চিকিৎসাসহ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো পর্যন্ত হরণ করেছে ইসরায়েল। জাতিসংঘ থেকে পাঠানো ত্রানবহরেও বর্বর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি বর্বরতার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে মৃত্যুমুখে পড়েছেন ১২০ জনেরও বেশি সাংবাদিক। তেমনি এক সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ। যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ফিলিস্তিনের জেনিনে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন। এই শিরিনকে দেখেই সাংবাদিকতার অনুপ্রেরণা পায় সুমাইয়া। প্রতিদিন গাজার মানুষের দুর্দশার খবর জানাচ্ছে সুমাইয়া। গাজার সর্বকনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর নজর কেড়েছে সুমাইয়া। সম্প্রতি আল জাজিরা তার একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে। ওই সাক্ষাৎকারে সুমাইয়া জানায়, ‘যুদ্ধের আগেও আমি সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। বিশ্বের সামনে নিজেকে প্রমাণ করতে চাইতাম। সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ আমার রোল মডেল। আমি নিজেকে তার মতো করে বিশ্বের সামনে প্রমাণ করতে চাই।’

কিন্তু ইসরায়েলি বোমা হামলায় তো সুমাইয়ার ভয় পাওয়ার কথা। সে বিষয়ে সুমাইয়া জানায়, ‘আমি বাইরে গেলে মা-বাবাকে বলে যাই। আমি সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রাখি। আমি জানি যে আসা-যাওয়া বা রিপোর্টিংয়ের সময়েও ইসরায়েলি হামলার শিকার হতে পারি।’ তবে সুমাইয়া এই যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে। পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় শিশুদের জন্য আরো বেশি মানবিক সহায়তা দেওয়ারও দাবি জানায় সে।
ইসরায়েল যতই হামলা চালাক, তবু দমে যেতে রাজি নয় সুমাইয়া। চরম হামলা ও গণহত্যার মধ্যেও সে বিশ্ববাসীকে ইসরায়েলের বর্ববরতার  খবর জানাতে দৃঢ় সংকল্প। আর এই সংকল্পের কারণে শান্তিকামী বিশ্ববাসীর মনে জায়গা করে নিয়েছে সে।

জাহ্নবী

কোনান ডয়েলের বিচিত্র জীবন

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ০৩:২১ পিএম
কোনান ডয়েলের বিচিত্র জীবন
ছবি: সংগৃহীত


আর্থার কোনান ডয়েল। পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র শার্লক হোমসের স্রষ্টা। জন্ম ১৮৫৯ সালের ২২ মে, স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে। পুরো নাম আর্থার ইগনেসিয়াস কোনান ডয়েল। তার পরিচয়ের পাল্লাও বেশ ভারি। তিনি একাধারে ছিলেন আত্মিকবাদী, ইতিহাসবিদ, তিমি শিকারি, ক্রীড়াবিদ, যুদ্ধ-সাংবাদিক, ডাক্তার, কবি, ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার।

তার বাবা চার্লস আল্টামন্ট ডয়েল, মা মেরি।  পাঁচ বছর বয়সে তাদের পারিবারিক বন্ধন নড়বড়ে হয়ে যায়। যে কারণে এক বন্ধুর চাচি মেরি বার্টনের বাড়িতে বাস করতে শুরু করেন। পড়াশোনা করেন নিউইংটন অ্যাকাডেমিতে। তিন বছর পর পারিবারিক ঝামেলা মিটে গেলে আবার সবাই একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। নয় বছর বয়সে এক ধনী চাচার সহায়তায় ইংল্যান্ডে গিয়ে লেখাপড়া শুরু করেন ডয়েল। প্রিপারেটরি স্কুল শেষ করে স্টোনিহার্সট কলেজে ভর্তি হন।

তিনি চিকিৎসা বিষয়ে লেখাপড়া শুরু করেন এডিনবার্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। একই সময়ে এডিনবার্গের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনে ব্যবহারিক উদ্ভিদবিদ্যা বিষয়েও পড়াশোনা করেন। এই পড়াশোনার সময়ই ডয়েল ছোটগল্প লিখতে শুরু করেন। ব্ল্যাকউডস ম্যাগাজিনে গল্প পাঠালেও তা প্রকাশিত হয়নি। তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৮৭৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চেম্বার্স এডিনবার্গ জার্নালে। দক্ষিণ আফ্রিকার পটভূমিতে লেখা সে গল্পের নাম ‘সাসা উপত্যকার রহস্য’। ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় লেখা। ১৮৮০ সালে ‘হোপ অব পিটারহেড’ নামে গ্রিনল্যান্ডেরই এক জাহাজের চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ডয়েল। ১৮৮১ সালে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিসিনের ব্যাচেলর ডিগ্রি এবং সার্জারিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এসএস মিয়াম্বা নামের জাহাজের সার্জন হিসেবে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল ভ্রমণ করেন ডয়েল। ১৮৮৫ সালে তিনি ডক্টর অব মেডিসিন ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তবে ডাক্তার হিসেবে চরম ব্যর্থ ছিলেন ডয়েল।

এই ব্যর্থতা তাকে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করতে সহায়তা করে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৮৮৬ সালে লিখলেন ‘আ স্টাডি ইন স্কারলেট’। এটা ছিল শার্লক হোমস ও ওয়াটসনকে নিয়ে লেখা তার প্রথম কাহিনি। কিন্তু এই কাহিনি প্রকাশ করার মতো প্রকাশক পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল তাকে। শেষ পর্যন্ত ওয়ার্ড লক অ্যান্ড কো. নামের প্রতিষ্ঠান ১৮৮৬ সালের ২০ নভেম্বর মাত্র পঁচিশ পাউন্ডের বিনিময়ে পাণ্ডুলিপির সব স্বত্ব কিনে নেয়।