নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ অনেক বেড়ে গেছে। তাই সপ্তাহের ব্যবধানে দামও কেজিতে ১০ টাকা কমে খুচরা পর্যায়ে কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একই অবস্থা সবজির মধ্যে আলুর। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমে এটি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসলার মধ্যে জিরার দাম কিছুটা কমলেও এলাচের দাম কেজিতে ২০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। টমেটোসহ অন্যান্য সবজির দামও কিছুটা নিম্নমুখী। তবে ডিমের ডজন আগের মতোই ১২৫-১৩০ টাকা। ভরা মৌসুমেও কমেনি চালের দাম। স্থিতিশীল রয়েছে মাছ-মাংসের দাম। তবে চিনি কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউনহল, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
আগে পেঁয়াজের দাম অনেক বেশি হলেও মৌসুম ঘনিয়ে আসছে। তাই দামও কমছে। গত সপ্তাহে নতুন পেঁয়াজ ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হলেও গতকাল কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। আলুর দামও কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহের ৭০-৮০ টাকার আলু ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা আব্দুল হালিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘পাইকারিতে বেশি দামে কেনা হলে কিছু লাভ রেখে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা কমেছে। তাই কম দামেই পেঁয়াজ ৮০ টাকা ও আলু ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, মানভেদে আদা ও রসুন কেজিতে ২২০-২৪০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। দেশি রসুন না ওঠা পর্যন্ত এ দাম কমবে না বলে বিক্রেতারা জানান। এদিকে টাউনহল বাজারের সবজি বিক্রেতা রকিব ও ইয়াসিন জানান, নতুন পেঁয়াজ ৮০ টাকা ও আলু ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতারা জানান, আগের মতোই বাঁধাকপি ও ফুলকপির দাম ৩৫-৪০ টাকা পিস, বেগুনসহ প্রায় সবজি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। টমেটোর দাম কমে ৬০ টাকা, মরিচ ১০০-১২০, গাজর, পটোল ও করলা ৬০-৮০, শসা ৬০, প্রায় সব শাকের আঁটি ১০-২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
এখনো নেই চিনি: সরকার অনেক আগে চিনির দাম কেজি ১৪৮ টাকা বেঁধে দিয়েছে। তার পরও প্রায় দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক দিন থেকে বাজারে খোলা চিনি নেই বলে বিক্রেতারা জানান। তবে ১৪৮ টাকায় প্যাকেট চিনি মাঝে মাঝে পাওয়া যাচ্ছে। দুই কেজি আটা ১৩০ টাকা, ডাল ১১০-১৪০, পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৮২০ টাকা, দুই লিটার ৩৪০ ও এক লিটার ১৭৩ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আগে বেশি দামে বিক্রি করা হলেও জিরার দাম কমে কেজি ৮৫০-১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এলাচের দাম কেজিতে ২০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ২ হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে কারওয়ান বাজারের ইউসুফ জেনারেল স্টোরের ইউসুফ জানান।
স্থিতিশীল মাংস ও মাছের দাম: গরুর মাংস ৬৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। মোহাম্মদপুর টাউনহলের জহির অ্যান্ড জাহিদ মাংস বিতানের আ. রশিদ বলেন, গরুর মাংস রেট করা। কেজি ৬৫০ টাকা। কারওয়ান বাজারসহ অন্যান্য বাজারের মাংস ব্যবসায়ীরাও জানান একই কথা।
এদিকে খাসির মাংস কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানান। কারওয়ান বাজারের জনপ্রিয় মাংস বিতানের জসিম বলেন, আগের মতোই ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। সামনে পিকনিকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুরু হলে খাসির মাংসের দাম বাড়তে পারে।
মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে বলে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। কারওয়ান বাজারের জননী ব্রয়লার ও ঢাকা ব্রয়লার হাউসের বিক্রেতারা জানান, এ সপ্তাহে কমেনি, বাড়েনি দাম। আগের মতোই পোলট্রির কেজি ১৯০-২০০ টাকায়, পাকিস্তানি মুরগি ৩০০-৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির কেজি ৫০০-৫৩০ টাকা।
ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, ডিমের দাম গত সপ্তাহেরটাই রয়েছে। সাদা ডিমের ডজন ১২৫ ও লাল ডিমের ডজন ১৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে মাছও আগের দামে বিক্রি হচ্ছে বলে মাছ বিক্রেতারা জানান। টাউনহল বাজার ও কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, রুই, কাতল মাছ আকারভেদে ২৬০-৫০০ টাকা কেজি, চিংড়ি মানভেদে ৬০০ থেকে ১ হাজার ৫০, শিং ৫০০-৬৫০, মলা মাছ ৪০০-৫০০, বাইন ৪০০-৬০০, পাঙাশ ২০০-২৫০, তেলাপিয়া ২২০-২৫০, কৈ ২৫০-৪০০, ট্যাংরা ৪৫০-৭০০, মাগুর ৪০০-৬০০ ও ইলিশ মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আগের মতোই চালের দাম
মাঠ থেকে ধান উঠে গেছে ঘরে। নতুন ধান উঠলেও চালের বাজারে তেমন প্রভাব পড়েনি। কারণ এই মৌসুমে শুধু মোটা চাল বাজারে পাওয়া যায়। খুচরা চাল বিক্রেতারা বলেন, নতুন মোটা চাল ৪৮-৫০ টাকা ও আঠাশ চাল ৫০-৫২ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। মিনিকেট আগের মতোই ৬২-৬৫ টাকা কেজি এবং পোলাওয়ের চাল ১৪০-১৫০ কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। তবে প্রাণ, এসিআইসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত মিনিকেট আরও বেশি ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানান।