ঈদের ছুটি শেষে আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে চালু হবে খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার। শুরুর দিকে সরবরাহ কম থাকায় বাজারটিতে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অনুমতির (আইপি) মেয়াদ শেষ হয়েছে তিন দিন আগে। বর্তমানে খাতুনগঞ্জের পুরো বাজার নির্ভর করছে দেশি পেঁয়াজের ওপর। ভারত থেকে পেঁয়াজ না এলে দেশি পেঁয়াজে চাপ তৈরি হবে। তখন দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন আমদানিকারকরা।
রোজার মধ্যে খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ আকারভেদে ২০ থেকে ২৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এরই মধ্যে পণ্যটির দাম বাড়তে দেখা গেছে। বর্তমানে খাতুনগঞ্জে যারা দোকান খুলেছেন তারা প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ আকারভেদে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় বিক্রি করছেন। ঈদের ছুটি শেষে আগামী রবিবার থেকে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার চালু হবে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ৯ দিন বন্ধে সরবরাহ কম থাকায় পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি আরও ১ থেকে ২ টাকা বাড়তে পারে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজ দিয়ে আগামী দুই মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। তাই ভারত থেকে এখনই পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন নেই। এতে করে দেশি পেঁয়াজের চাহিদা ও দাম একটু বাড়বে। তখন আমাদের চাষিরা লাভবান হবেন।’
এদিকে ভারতে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি ও শুল্ক আরোপ থাকায় আমদানিকারকরা গত বছরের ডিসেম্বর থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখেন। কিন্তু গত ২২ মার্চ পেঁয়াজ রপ্তানি থেকে শুল্ক তুলে নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে ভারতের রাজস্ব বিভাগ। গত ১ এপ্রিল থেকে ওই শুল্ক তুলে নেয় দেশটি। এতদিন পেঁয়াজ রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক ছিল। এখন থেকে ভারতের রপ্তানিকারকরা বিনা শুল্কে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন। মূলত পেঁয়াজের মজুত বেড়ে যাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় প্রতিবেশী দেশটি। কিন্তু বিনা শুল্কে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ১ এপ্রিলের পর ভারত থেকে বিনা শুল্কে পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ ছিল। অথচ গত ৩১ মার্চ দেশটি থেকে পেঁয়াজ আমদানি অনুমতির (আইপি) মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ঈদ উপলক্ষে ছুটি থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তাই বিনা শুল্কে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে এখনই কিছু বোঝা যাচ্ছে না। আগামী রবিবার সব দপ্তর খুলবে। সরকারের আইপির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ওপর সবকিছু নির্ভর করছে বলে জানান তারা।
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করেন মোবারক হোসেন। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘তিন মাস ধরে আমরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছি না। আর আমাদের দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো রয়েছে। চাহিদাও মেটানো সম্ভব হচ্ছে। তবে ভারত বিনা শুল্কে পেঁয়াজ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আমদানিকারক হিসেবে এটা আমাদের জন্য বড় সুযোগ। গত ৩১ মার্চ দেশটি থেকে পেঁয়াজ আমদানি অনুমতির (আইপি) মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পেঁয়াজ আমদানি না হলে দেশি পেঁয়াজে চাপ তৈরি হবে। তখন দাম বাড়বে। কিন্তু সরকার যদি কৃষকের মুনাফার কথা চিন্তা করে আইপির মেয়াদ না বাড়ায় তাহলে আমরা আরও দুই মাস পণ্যটি আমদানি করতে পারব না।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘প্রতি কেজি খুচরা ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ টাকা আর দেশি পেঁয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখেছি। দুটোরই সরবরাহ ভালো। কাজেই ভারত বিনা শুল্কে পেঁয়াজ রপ্তানির সুযোগ দিয়েছে তাদের পলিসি অনুসারে।
বর্তমানে আমাদের পলিসি হওয়া উচিত- ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহিত করা। এতে আমাদের কৃষকরা লাভবান হবেন। তারা চাষাবাদে উৎসাহিত হবেন। আর দেশি পেঁয়াজে চাপ বাড়লে, দাম অনেক বেড়ে যাবে- এমনটা মনে করছি না। কারণ এখন ভরা মৌসুম চলছে। দেশি পেঁয়াজ শেষ হলে তখন বিকল্প চিন্তা করা যেতে পারে।’