শুরুতে একটি স্বস্তির খবর দেওয়া যাক, সাপ সাধারণত মানুষকে খায় না। তবে বিরল হলেও এমন ঘটনা মাঝে মধ্যে ঘটে। আর এ ধরনের ঘটনার জন্য ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে বিশ্বের একটি অন্যতম আলোচিত স্থানে পরিণত হয়েছে। গত এক দশকে দেশটিতে বেশ কয়েকজন মানুষ অজগরের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। সম্প্রতি ৪৫ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ একটি ৫ মিটার বা ১৬ ফুট লম্বা অজগরের পেটের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অজগরের মতো বিষহীন সাপগুলো সাধারণত ওত পেতে শিকার ধরে। এরা শিকারকে কামড়ে ধরে নিজের শক্তিশালী শরীর দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলে। সাপের শরীরের প্রচণ্ড চাপে শিকারের মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শিকারটি দ্রুত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের মধ্যে মারা যায়।
শিকার মারা যাওয়ার পর সাপ তাকে আস্ত গিলে ফেলে। অজগরের মাথার খুলি এমনভাবে তৈরি যে তারা নিজের মাথার চেয়ে অনেক বড় প্রাণীকেও অনায়াসে গিলে নিতে পারে। তাদের নিচের চোয়ালটি দুই ভাগে বিভক্ত থাকে, যা একটি স্থিতিস্থাপক লিগামেন্ট বা তন্তু দিয়ে যুক্ত। ফলে এদের মুখ অনেক বড় হতে পারে। সাপের পরিপাকতন্ত্রের পেশিগুলো খাবারকে পাকস্থলীতে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে শক্তিশালী অ্যাসিড ও এনজাইমের সাহায্যে খাবার হজম হতে কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
একটি সাপ কী খাবে তা নির্ভর করে তার আকারের ওপর। ছোট সাপগুলো পোকামাকড় ও ইঁদুর খেলেও বড় সাপগুলো বানর, শূকর ও হরিণ গিলে ফেলে। মানুষের চওড়া কাঁধ সাপের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শিশু বা ছোটখাটো গড়নের পূর্ণবয়স্ক মানুষ বড় অজগরের শিকারে পরিণত হতে পারে।
একজন মানুষকে পুরোপুরি হজম করতে অজগরের প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি অজগরের অন্ত্রে এক বিশেষ ধরনের কোষের সন্ধান পেয়েছেন, যা হাড়ের ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হজম করতে সাহায্য করে। তবে সাপ মানুষের চুল ও নখের প্রোটিন অর্থাৎ কেরাটিন হজম করতে পারে না। এ ছাড়া মানুষের পরিহিত পোশাকও সাপের পাকস্থলীতে হজম হয় না, যা সাপটির জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।


