ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কৌতুকপ্রিয়তা আর সমাজ-নিরীক্ষণ প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করবে সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী গ্রামে আমাদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল পদ্মার নৌকাভ্রমণ খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া দেশে বন্যা হতে পারে জুলাই-আগস্টে: এফএফডব্লিউসি ‘আত্মতুষ্টি আপনাকে শেষ করে দিতে পারে’, অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার পর স্পেন কোচ রস্তায় ফেলে যাওয়া বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু বাজেটের প্রভাবে স্থিতিশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রংপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, দুই জনের মৃত্যু ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, আশায় দীপ্যমান শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে? হাতিয়ায় নারীসহ যুবদল নেতা আটক, পদ থেকে বহিষ্কার ৮৮ বছরের খরা কাটিয়ে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র একদিনের ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস বিশ্বকাপের মঞ্চেই বিদায় বলবেন রোনালদো! ছুটির দিনে ঢাকার বাতাস ‘সহনীয়’ এইচএসসিতে ঝরে পড়া বাড়ার দায় কার? লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর: দুই দলেরই ইতিহাস গড়ার হাতছানি নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন নির্ধারিত ৬০ পণ্যে বাজেটের সুবিধা পাচ্ছেন না ক্রেতারা বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি রূপকথা নাকি রাজত্ব লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মাগুরার শিশুটির বোনের ভিডিও অপসারণ চেয়ে আইনি নোটিশ

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৫, ০৮:৪৩ পিএম
মাগুরার শিশুটির বোনের ভিডিও অপসারণ চেয়ে আইনি নোটিশ
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

মাগুরায় ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাওয়া শিশুটির বোন ও পরিবারের সদস্যদের জবাবদিহিমূলক সাক্ষাতের সব ভিডিও অপসারণ চেয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ‘আমরাও মানুষ’ নামক ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে এসব ভিডিও অপসারণ চেয়ে এ নোটিশ পাঠানো হয়। এতে দেশের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।  

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান এ নোটিশ পাঠিয়েছেন। 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে ই-মেইলে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, বিগত ৯ মার্চ এ বিষয়ে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বেশ কিছু আদেশ দেন। সেসব আদেশে শিশুটির ছবি, ভিডিও ও পরিচয় শনাক্তকরণ সব বিষয়াদি দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেন। এ ছাড়াও ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৪ ধারা মোতাবেক সংবাদ মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর পরিচয় প্রকাশের ব্যাপারে বাধানিষেধ সত্ত্বেও তা (১৪ ধারা) ভঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তিন কার্যদিবসের মধ্যে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন। 

আদালত এ সময় মন্তব্য করেন, ‘শিশুটির বোনও একজন শিশু। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ১৪ ধারা অমান্যে যে শাস্তি হতে পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করতে হবে। তাই আদালত তার অপর আদেশে ভুক্তভোগী শিশু ও তার ১৪ বছর বয়সী বড় বোনের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এ জন্য ঢাকা ও মাগুরা জেলা সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিতে আদেশ দেওয়া হয়।’

‘অথচ আইনের বিধিনিষেধ এবং হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও যশোরের এক নারী বাইকার কর্তৃক পরিচালিত ‘আমরাও মানুষ’ নামক ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে শিশুটির বড় বোনের কাছে ঘটনার বর্ণনা জানতে চাওয়া ও ঘটনার সত্য-মিথ্যা বিষয়ে জবাবদিহিমূলক ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর একই ঘটনায় একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন, যা মুহূর্তে ভাইরাল হয় এবং তা দেখে উৎসুক জনতাও ভিডিও ধারণে উৎসাহী হয়ে পড়ে। যার মাধ্যমে ভিকটিম পরিবারটিকে নতুন করে ভিকটিমাইজ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।’

তাই ওই নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেসব ভিডিওসহ শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়- এমন সব ভিডিও-পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে অপসারণের অনুরোধ করা হয়। একই সঙ্গে ‘আমরাও মানুষ’ পেইজ-চ্যানেল থেকে প্রচারিত কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার ও শিশুটির পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াবার জন্য দেশে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে অনুরোধ করা হয়। অন্যথায় এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে নোটিশদাতা উপযুক্ত আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ছয় টুকরো করে লাশ গুমের অভিযোগে ফাতেমা বেগম শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় দেন।

হত্যার দায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লাশ গুমের দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাকে তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বিচার চলাকালে ২৬ জনের মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম ফাতেমার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের আমতলী এলাকায় একটা নীল রঙের ড্রামের মধ্যে বনানী থানা-পুলিশ এক ব্যক্তির মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করে। একই দিন রাত ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের কাছে একটা ব্যাগের মধ্যে উরু থেকে খণ্ডিত দুইটি পা এবং কাঁধ থেকে খণ্ডিত দুইটি হাতের অংশ উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা-পুলিশ। দুই দিনে আলাদা আলাদা স্থান থেকে লাশের ছয় টুকরো উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তৎপরতায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হয় ফাতেমা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশকে জানায়, পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সা বণ্টন ও একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে পরিকল্পনা করে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করে। জবাইয়ের পর দেহকে ছয়টি টুকরো করে।

লাল রঙের একটি কাপড়ের ব্যাগে মাথা, শরীরের মূল অংশ নীল রঙের পানির ড্রামে এবং খণ্ডিত দুই পা ও দুই হাতকে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে। এরপর ১ হাজার ৩০০  টাকায় রিকশা ভাড়া করে প্রথমে আমতলী এলাকায় শরীরের মূল অংশ ফেলে দেয়, পরে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত, দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে বাসায় আসে। সেখান থেকে খণ্ডিত মস্তকের ব্যাগটি বনানী ১১ নম্বর ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে গুলশান লেকে ফেলে দেয়।

পরে আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় ফাতেমা।

নিহত ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ১ জুন মামলা করেন।

এম এ জলিল উজ্জ্বলে/এএফ

ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও দুই আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক মো. শামছউদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহের আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, রায়ে এনামুল হক ও নাজমুল হককে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে এনামুল হক পলাতক। এ ছাড়া জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিনকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশের সঙ্গে একই এলাকার জিয়াউল হকের মেয়ে জেসমিন আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে জিয়াউল হক সম্পর্কটি মেনে নিতে না পেরে পরিকল্পিতভাবে আকাশকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন।

২০২১ সালের ১৯ মে রাতে জেসমিন আক্তার মোবাইল ফোনে আকাশকে তাদের বাড়িতে দেখা করতে ডাকেন। আকাশ বন্ধু রাশিদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দুই দিন পর স্থানীয় লোকজন জেসমিনদের বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড়ে টয়লেটের সামনে আবর্জনা ফেলার গর্তে মাটির সঙ্গে রক্তের চিহ্ন দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে পচাগলা ও গলাকাটা অবস্থায় একটি মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আকাশের বাবা আকরাম হোসেন মরদেহটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।

ঘটনার পরদিন ২২ মে আকাশের বাবা আকরাম হোসেন কোতোয়ালী মডেল থানায় জিয়াউল হক, জুলহাস উদ্দিন, এনামুল হক, নাজমুল হক, নেজামুল হক, রুমান, হযরত আলী, আনিছ, আব্দুল লতিফ, অজুফা, রুজিনা, নার্গিস, রাহাতুল জান্নাত ও জেসমিন আক্তারসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রমাণ উপস্থাপন এবং বিচারিক পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

কামরুজ্জামান মিন্টু/আজহার/

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা কাটল

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:১৪ এএম
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা কাটল

দেশের ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর কোনো আইনি বাধা রইল না। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলার বিষয়ে আপিল বিভাগ এই রায় দিয়েছেন।

এর আগে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সংকট দূর করতে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আটকে রয়েছে। এই জটিলতা নিরসনে সরকার কাজ করছে।

অমিয়/

সিলেটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: ১৪ বছর পর দুজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ এএম
সিলেটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: ১৪ বছর পর দুজনের মৃত্যুদণ্ড
সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালত

সিলেটে নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার প্রায় ১৪ বছর পর মামলার রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্তদের ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার সিলেট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম রুবাইয়া ইয়াসমিন এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন সিলেটের বিশ্বনাথের শাহবাজপুর গ্রামের মো. জয়নাল ও কাদিরগাঁও গ্রামের মো. নাজিমুদ্দিন। এর মধ্যে জয়নাল ধর্ষিত স্কুলছাত্রীর মামাতো ভাই।

সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি নুর আহমদ জানিয়েছেন, রায় প্রদানের সময় আদালত কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আদালতের এ রায় সময়োপযোগী। বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হলেও প্রত্যাশিত রায় হয়েছে। এ ধরনের রায় সমাজে অপরাধপ্রবণ ও দুষ্কৃতকারীদের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিশ্বনাথের ওই সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী নানাবাড়ি গিয়েছিল। সেখানে জয়নাল ও নাজিমুদ্দিন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে একটি কক্ষে রেখে অন্য কক্ষে গেলে জয়নালের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে পরিবারে খবর দেয় স্কুলছাত্রী। খবর পেয়ে স্কুলছাত্রীর মা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

ঘটনার পরদিনই স্কুলছাত্রীকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরে এ ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় দুজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন স্কুলছাত্রীর বাবা। 

পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের ৪ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে গতকাল আদালতে এ রায় দেন। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ছয়জন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ছয়জন
সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদে। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পলাতক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ পঞ্চম আদালতে বিচারাধীন এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিলো।

সংশ্লিষ্ট বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আগামি ১৬ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো.আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুর হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগা মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলা চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম, বাড্ডার সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম।

দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, চার্জশিটভুক্ত ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে সাক্ষিদের জেরা করার আইনগত সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

গত ১৩ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ৩ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

বেনজীরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত এগারো কোটি টাকার সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।

চার্জশিটে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন।

তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।

বেনজীর আহমেদ এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এ মামলাটি দায়ের করে দুদক।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দায়ের করা বেশ কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের প্রেক্ষিতে গত ১২ জুন ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশ সরকারকে ইমেইল করে বেনজীরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।‌

কুটনৈতিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দ্রুতই তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

বেনজির ও তার স্ত্রী-কন্যাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াসহ নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে থাকা সমস্ত স্থাবর অস্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়। জব্দ করা হয়েছে তাদের আয়কর নথিও।

গত বছরের ৪ মে সপরিবার দেশ ছাড়া বেনজীরের দুবাইয়ে আবাসন ও সোনার ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়।

এম এ জলিল উজ্জ্বল/এএফ