ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পরিজা’র আত্মপ্রকাশ

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৮ পিএম
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পরিজা’র আত্মপ্রকাশ
সভাপতি (বামে), সাধারণ সম্পাদক। ছবি : সংগৃহীত

প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং টেকসই উন্নয়নে আত্মপ্রকাশ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা)’। 

পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহানকে সভাপতি ও পরিবেশবাদী পত্রিকা পরিবেশ বার্তার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পরিজা'র সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সমাজের বিভিন্ন পেশার বিশেষ করে পরিবেশ আন্দোলন কর্মী, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং সংস্কৃতি কর্মীদের অংশগ্রহণে আলোচনার মধ্য দিয়ে পহেলা ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দে যাত্রা শুরু করে ‘পরিজা’।

‘পরিজা’র উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমিত আয়তনের জনবহুল এদেশে প্রাকৃতিক সম্পদের  উপর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গৃহীত কার্যক্রম পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান-সাগর, নদী, খাল, বিল, ভূগর্ভস্থ পানি, কৃষি ভূমি, পাহাড়, বনাঞ্চল, বায়ুকে দূষিত করে চলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দূষণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের গতি প্রকৃতি বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণিত করে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ফলশ্রুতিতে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্থ দেশ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব আজ হুকির সম্মুখীন। পরিজা এসকল পরিস্থিতিকে ধারণ করে একটি কার্যকর পরিবেশ আন্দোলন গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। আগামী দিনে এদেশের সকল সচেতন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি কার্যকর পরিবেশ আন্দোলন গড়ে তোলাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

কুরচি তোমার লাগি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪০ পিএম
কুরচি তোমার লাগি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে ফুটেছে কুরচি ফুল। ছবি: লেখক

সংস্কৃত ভাষায় রচিত কবি কালিদাসের বিখ্যাত ‘মেঘদূত’ কাব্য আমার পক্ষে পড়া ও তার অর্থ বোঝা সম্ভব না। স্কুলে দু-বছর সংস্কৃত পড়লেও আমার দৌড় ওই সংস্কৃত অক্ষর আর কয়েকটা পাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। মেঘদূতের সংস্কৃত লাইনগুলোকে একটা বইয়ে দেখলাম বাংলা অক্ষর দিয়েও লেখা হয়েছে। তাও দুর্বোধ্য আমার কাছে। হঠাৎ হাতে পেলাম কবি বুদ্ধদেব বসু অনূদিত বাংলা মেঘদূত। বুদ্ধদেব বসুর বাংলা অনুবাদকৃত ‘মেঘদূত’ বইটিতে পেলাম মেঘদূত কাব্যের এক অসাধারণ কাব্যক্রীড়া। পড়তে পড়তে দেখলাম পূর্বমেঘের চতুর্থ স্তবকে রয়েছে-

‘কেমনে প্রিয়তমা রাখবে প্রাণ তার অদূরে উদ্যত শ্রাবণে
যদি-না জলধরে বাহন ক’রে আমি পাঠাই মঙ্গল-বার্তা?
যক্ষ অতএব কুরচি ফুল দিয়ে সাজিয়ে প্রণয়ের অর্ঘ্য
স্বাগত-সম্ভাষ জানালে মেঘবরে মোহন, প্রীতিময় বচনে।’

অর্থাৎ বিরহী যক্ষ প্রিয়ার কাছে বার্তা পৌঁছানোর জন্য যে ফুলে মেঘকে অর্চনা করেছিল, সেটা আমাদের দেশীয় ফুল কুরচি। এ দেশের পাহাড়ে জঙ্গলে অঢেল আছে কুরচিগাছ। সিলেট, বান্দরবান, গাজীপুরের শালবনে কুরচিগাছ দেখেছি অনেক। এ জন্যই কি এর আর এক নাম গিরিমল্লিকা? কবি নজরুলের কাছে কুরচি হয়েছে গিরিমল্লিকা, রবীন্দ্রনাথের কাছে কুরচি আর কালিদাসের কাছে কুড়চি/কুরচি ও কূটজ। মেঘদূত কাব্যে সেই কূটজের দেখা পাই-

‘যদিও জানি তুমি আমার প্রিয় কাজে অচির যাত্রায় উৎসুক
দেখেছি তবু সব, কূটজ সৌরভে মোদিত পর্বতে কাটাবে কাল।’ 

কুরচির (Holarrhena pubescens) সাদা সুগন্ধময় পাঁচ পাপড়ির থোকাধরা ফুল প্রবলভাবে আকৃষ্ট করেছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। রবীন্দ্রনাথের ‘বনবাণী’ কবিতায় কুরচির সে সৌন্দর্য ও আকর্ষণকে তিনি অকৃপণ হাতে লিখে রেখেছেন-

‘সূর্যের আলোর ভাষা আমি কবি কিছু কিছু চিনি
কুরচি পড়েছ ধরা, তুমি রবির আদরিণী।’

শিলাইদহ থেকে কবি এক দিন ট্রেনে চেপে কলকাতা যাচ্ছিলেন। কুষ্টিয়া স্টেশনের পেছনের দেয়ালঘেঁষে একটি কুরচিগাছ হাটবাজারের কোলাহল, রেললাইন, গরুর গাড়ির ভিড় ও বাতাসের নিবিড় ধুলোকে অগ্রাহ্য করেও পরিপূর্ণভাবে ফুটে বসন্তকে স্বাগত জানিয়েছিল। সেই কুরচির রূপ কবিগুরুর মনকে নাড়া দিয়েছিল, তাগিদ দিয়েছিল কুরচির মতো কবিতা লিখতে ও কুরচিকে মনে রাখতে। বনবাণী কাব্যের ‘কুরচি’ কবিতার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি-

‘কুরচি, তোমার লাগি পদ্মেরে ভুলেছে অন্যমনা
যে ভ্রমর, শুনি নাকি তারে কবি করেছে ভর্ৎসনা।
আমি সেই ভ্রমরের দলে। তুমি আভিজাত্যহীনা,
নামের গৌরবহারা; শ্বেতভুজা ভারতীয় বীণা
তোমারে করেনি অভ্যর্থনা অলংকার ঝংকারিত
কাব্যের মন্দিরে। তবু সেথা তব স্থান অবারিত,
বিশ্বলক্ষ্মী করেছেন আমন্ত্রণ যে প্রাঙ্গণতলে
প্রসাদচিহ্নিত তার নিত্যকার অতিথি দলে।’

কবি রবীন্দ্রনাথের ভালো লাগা কুরচি ফুলকে নিসর্গী দ্বিজেন শর্মাকে করেছিল আন্দোলিত। তিনি তো ‘কুরচি তোমার লাগি’ নামে একটা বই-ই লিখে ফেলেছিলেন। 

একইভাবে কবি নজরুলও লিখে গেছেন-
‘কি হবে কেয়া, দেয়া নাই গগনে;
আনো সন্ধ্যামালতী গোধূলি-লগনে।
গিরিমল্লিকা কই চামেলি পেয়েছে সই
চাঁপা এনে দাও, নয় বাঁধব না চুল॥’ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলেও লাগানো হয়েছে দুটি কুরচিগাছ। চৈত্রশেষে এক ভোরবেলায় গিয়ে সে গাছ দুটো দেখে তো আমি থ! কে বলে চেরি ফুল দেখতে জাপানে যেতে হবে? ফুলে ফুলে সাদা হয়ে গাছের সব ডালপালা ভরে রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের কুরচিগাছগুলোরও একই অবস্থা। কেবল ফুল আর ফুল। বসন্ত এলেই এ দেশের বনে-জঙ্গলে উদ্যানে কুরচি গাছেরা ফুলে ফুলে ভরে যায়, ফুলের ভিড়ে পাতারা লুকিয়ে পড়ে। এদেশের পাহাড়ি বনে ও শালবনে কুরচি গাছের দেখা পাওয়া যায়। এমনকি জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর ফুটপাতের কোলেও লাগানো হয়েছে কুরচিগাছ। তরুণ সেসব গাছগুলোতে ফুল ফুটেছে। আর একটি ছোট কুরচিগাছ আছে খামারবাড়ির পাশে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের সামনে।

যে গাছের গুণ যত বেশি, তার নামও হয় তত বেশি। ঢাকায় কুরচিগাছের সংবাদ দিতে গিয়ে নিসর্গী দ্বিজেন শর্মা ২০০৬ সালে লেখা তার ‘কুরচি তোমার লাগি’ নিবন্ধে বলেছেন: ‘ঢাকায় ষাটের দশকের শুরুতে ইস্কাটন, মগবাজারের পোড়োজমিতে যেসব কুরচি ছিল বহুতল ভবনের তলায় কবেই তারা চাপা পড়েছে। ... হেয়ার ও মিন্টো রোডের মন্ত্রীপাড়ায়, পরিবাগে (ডা. বাসেত সাহেবের বাড়ির প্রাচীরলগ্ন) এবং কার্জন হলের পুব সীমানায় কুরচিগাছে এখন ফুল ফুটছে। রমনা পার্ক বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কোনো কুরচি দেখি না। ... ঢাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে আমার এক বন্ধু-গৃহের চাতালে একাধিক বয়স্ক কুরচিগাছ আছে। অনুমান, কেউ ওগুলো লাগাননি।’ 

এসব সূত্র ধরেই ওসব জায়গায় গিয়েছি কুরচি গাছের খোঁজে। সেখানে না পেলেও অন্যখানে পেয়েছি। কুরচি পাহাড়ি বনের সীমানা ছেড়ে এখন ঢাকা শহরে বেশ ছড়িয়ে পড়েছে, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যেও কুরচিগাছ আছে। রমনা পার্কে, ঐতিহাসিক রমনার বটমূল প্রাঙ্গণের কিনারায় কয়েকটা কুরচিগাছ বসন্তের শেষে নিষ্পত্র ডালে ডালে ঢেলে দিয়েছে পুষ্পরসের অমৃতধারা, শুভ্রসাদা মদিরগন্ধে স্বর্গীয় সে দৃশ্য! একটি বয়স্ক কুরচি গাছের দেখা পেলাম রমনা উদ্যানের ভেতরে, নার্সারির একেবারে শেষ প্রান্তে। চৈত্রের প্রথম দিকে সে গাছে ছিল শুধু ফুল আর ফুল, এখন সেই গাছে ফুলের সঙ্গে সঙ্গে ভরে উঠেছে নতুন কচি পাতাও। যদি কোথাও কোনো রাস্তার পাশে বা মাঠজুড়ে অনেকগুলো কুরচিগাছ লাগানো যায়, তবে সেখানে আমরা জাপানের মতো হয়তো এক দিন কুরচি উৎসব করতে পারব, গাইতে পারব কুরচিকে নিয়ে লেখা রবীন্দ্রনাথের গান।

চট্টগ্রামে ১৩৮ কচ্ছপ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১:১৪ এএম
চট্টগ্রামে ১৩৮ কচ্ছপ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে ১৩৮টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বিকালে নগরের কোতোয়ালি থানার স্টেশন রোড এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। 

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে স্টেশন রোড এলাকায় অভিযান চালায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। এ সময় বিসমিল্লাহ ফিশ অ্যান্ড বার্ডস সেন্টারে ১১০টি ও রেশমা অ্যাকুয়ারিয়াম অ্যান্ড বার্ডস সেন্টারে ২৮টি কড়ি কাইট্টা জাতের (ইন্ডিয়ান রুফড টার্টেল) কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দ্বীপান্বিতা ভট্টাচার্য্য খবরের কাগজকে বলেন, ‘কড়ি কাইট্টা জাতের কচ্ছপগুলো অবৈধভাবে সংগ্রহ ও রক্ষণের দায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’ 

ইফতেখারুল/ইসরাত চৈতী/ 

বন কর্মকর্তার উদাসীনতা, হরিণের পা পচনের শঙ্কা

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৪, ১২:৪৩ পিএম
বন কর্মকর্তার উদাসীনতা, হরিণের পা পচনের শঙ্কা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সমুদ্র উপকূলে শিকারিদের ফাঁদে আটকা পড়া দুটি চিত্রা হরিণ উদ্ধার করে উপকূলীয় বন বিভাগ। এ দুটির মধ্যে একটি মারা গেলেও অন্যটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। জখম গুরুতর হওয়ায় আহত হরিণটিকে জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

কিন্তু বন কর্মকর্তার উদাসীনতায় আহত হরিণটির পা নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (মঙ্গলবার সন্ধ্যা) আহত হরিণটি বন বিভাগের সীতাকুণ্ড রেঞ্জেই পড়ে ছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, বন বিভাগের একটি আবদ্ধ ঘরে আহত হরিণটিকে আটকে রাখা হয়েছে। ওই হরিণের বয়স আনুমানিক ছয় বছর। ওজন ৫০ কেজি। পেছনের বাম পায়ের হাঁটু সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। হরিণটি নড়াচড়া করতে পারছে না। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাহমিনা আরজু বলেন, ‘হরিণটির পেছনের একটি পা সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে; যার চিকিৎসা এখানে সম্ভব নয়। হরিণটি উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম জেলা ভেটেরিনারি ক্লিনিকে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু বন কর্মকর্তা বিষয়টির তোয়াক্কা করেননি। হরিণটি জখম হওয়া পায়ে পচন ধরলে এটিকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।’ 

উপকূলীয় বন বিভাগের সীতাকুণ্ড রেঞ্জ কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসার কোনো প্রয়োজন নেই। হরিণটির আহত পা কেটে ফেললেই হবে। এক পা ছাড়া মানুষ যেমন চলতে পারে, হরিণও চলতে পারবে।’

সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নের বগাচতর সমুদ্র উপকূলে শিকারিদের ফাঁদে আটকা পড়া দুটি চিত্রা হরিণ উদ্ধার করে উপকূলীয় বন বিভাগ। উদ্ধার করা হরিণ দুটির একটি মারা গেলেও অন্যটিকে আহতাবস্থায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দুষ্প্রাপ্য হলুদ শিমুল এল নার্সারিতে

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৬:১৩ পিএম
দুষ্প্রাপ্য হলুদ শিমুল এল নার্সারিতে
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের একটি নার্সারিতে হলুদ শিমুল। ছবি : খবরের কাগজ

বসন্তের আগমনে স্বমহিমায় নিজেকে উজাড় করে তুলে ধরে প্রকৃতি। সবুজের পটভূমিতে লাল রঙের দ্যুতি ছড়িয়ে ফাল্গুনের শুরুতে শোভা ছড়ায় শিমুল ফুল। বসন্তে যতগুলো উজ্জ্বল ফুল ফোটে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিমুল ফুল। দেশে সাধারণত যে শিমুল গাছ দেখা যায়, তাতে ফুল ধরে লাল। ফলে শিমুল মানেই এদেশের মানুষের চোখে সহজেই জেগে ওঠে লাল শিমুলের ছবি। তবে হলুদ শিমুল বলেও কোন ফুল আছে এ খবর জানা নেই এদেশের সাধারণ মানুষের। দেশে বিরল হলুদ শিমুল গাছ রয়েছে দু'য়েকটি জায়গায়। দেশে এই হলুদ শিমুলের পরিচিতি বাড়াতে ও জনপ্রিয় করতে উদ্যোগি হয়েছেন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ফয়সাল নার্সারির উদ্যক্তা ফয়সাল আহমেদ। এই নাসার্রিতে পাওয়া যাচ্ছে হলুদ শিমুল।  

হলুদ শিমুল সাধারণ শিমুলেরই আলাদা রকমফের। ভিন্ন কোন প্রজাতি নয়। গাছের গড়ন, ফোটার সময় এবং ফুলের বিন্যাস একই রকম। ব্যতিক্রমী হলো রঙ। এর আগে নাটোরের একটি বাড়িতে সন্ধান পাওয়া যায় এই হলুদ শিমুলের। এছাড়াও জানা যায় মানিকগঞ্জে দু'টো আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দু'টো বড় হলুদ শিমুল গাছ রয়েছে। এর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগরের একটি গাছ মারা গেছে। সুতরাং চোখ জুড়ানো এই হলুদ শিমুল বাংলাদেশে আছে মাত্র হাতে গুনে দুই-তিনটা।  

নার্সারির মালিক ফয়সাল আহমেদ বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে দালানকোঠা, বাড়ি-ঘর। ফলে দিন দিন বনাঞ্চল হ্রাস পাচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু গাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে দেশে। যে কয়েকটি দুষ্প্রাপ্য গাছ এখনও দেশে আছে, সময়ের সঙ্গে এগুলো যেন হারিয়ে না যায় তার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আমরা এরই মধ্যে হলুদ শিমুলসহ  আরও কিছু দুষ্প্রাপ্য গাছের কলম করে সংরক্ষণ করছি। আমরা চাই মানুষ যেন এই গাছগুলো নিজেদের সংরক্ষণে রাখতে পারে ও গাছগুলো ছড়িয়ে যায় পুরো দেশে। আমদের কলমের গাছ ছাঁদ বাগানে বেড়ে উঠার জন্য উপযুক্ত। আমাদের দেশে অনেক গাছই বিলুপ্তির পথে, এদের মধ্যে বৃক্ষ জাতীয় গাছগুলো বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছে। আমরা চাই বৃক্ষজাতীয় গাছগুলো সংরক্ষণ করে পুরো দেশে বাড়িতে বাড়িতে ছড়িয়ে দিতে। জীব বৈচিত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে আমরা সর্বদা সচেতন।     

হলুদ শিমুল বাংলাদেশে দূর্লভ হলেও মালয়, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ চীন, হংকং এবং তাইওয়ানে ব্যাপকভাবে এ গাছের চাষ হয়। চীনের ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ থেকে জানা যায় যে, ন্যাম ইউয়েতের রাজা চিউ তো খ্রীষ্ট-পূর্ব দ্বিতীয় শতকে হ্যান শাসনামলে সম্রাটকে প্রদান করেছিলেন। এ  ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম হল ‘ককোসপারমাম রিলিজিওসাম’। এরা মালভেসি পরিবারের সদস্য। বাহিরের দেশে এই গাছকে বটারকাপ বা ইয়্যালো সিল্ক-কটন গাছ বলে ডাকা হয়। 

নীলপুষ্পী চিয়াগাছ

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৪, ০১:০৩ পিএম
নীলপুষ্পী চিয়াগাছ
মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টারে ফেব্রুয়ারিতে ফোটা চিয়া ফুল ও গাছ। ছবি: লেখক

এ দেশে শীতকালে টুকটুকে লাল একধরনের মৌসুমি ফুল ফোটে, তার উজ্জ্বলতা শীতের হিম সকালে উষ্ণতা নিয়ে আসে। নাম তার স্যালভিয়া। এ ফুলের নামের সঙ্গে মিল রয়েছে স্যালভিয়া হিসপ্যানিকা ওরফে চিয়ার। তবে চিয়ার ফুল লাল না, নীল। 

নীলপুষ্পী সেই চিয়া সম্প্রতি বিদেশ থেকে এসেছে বাংলাদেশে। চার বছর আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সাবেক উপপরিচালক শামীম আশরাফ আমাকে সে খবর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন ব্লকের কৃষক নুরুল আমিন ২০২০ সালে ৪৫ শতক জমিতে নতুন বিদেশি ফসল চিয়ার চাষ করেছিলেন। শামীম আশরাফ সে বছর জানুয়ারিতে তার চিয়া খেত পরিদর্শনের পর জানিয়েছিলেন, নুরুল আমিন দ্বিতীয়বারের মতো চিয়ার চাষ করেছিলেন। 

তার জানামতে, বাংলাদেশে চাষাবাদ শুরু করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান। কানাডা থেকে তিনি বীজ এনেছিলেন। জানা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ থেকে মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, কলম্বিয়া প্রভৃতি দেশে খাদ্য ফসল হিসেবে বীজের জন্য চিয়ার চাষ হয়ে আসছে। প্রবাদ রয়েছে যে চিয়া বীজ নিয়মিত খাওয়ার কারণে সেসব দেশের যোদ্ধাদের সহজে কেউ যুদ্ধে হারাতে পারত না। 

চিয়া শব্দের অর্থ শক্তি। কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণ করে হৃৎপিণ্ডকে সবল রেখে মানুষকে শক্তি দেয় চিয়া বীজ। তাই স্বাস্থ্যসচেতন অনেকেই এখন চিয়া বীজ অভিজাত দোকান থেকে কিনে পানিতে ভিজিয়ে রোজ খাচ্ছেন। এসব বীজ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। সেই চিয়া বীজ বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে! নতুন সে খবরে চিয়াকে দেখার জন্য মনটা অস্থির হয়ে উঠেছিল। কিন্তু যাই-যাব করতে করতে একসময় সে ফসলটি কাটা হয়ে গেলে আর তা দেখার সৌভাগ্য হয়নি। অবশেষে গত বছর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোটেকনোলজি বিভাগের গবেষণা মাঠে ছোট্ট একটি প্লটে দেখা পেয়েছিলাম চিয়াগাছের। এ বছর মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টারে শীতকালে চাষ করা আরেকটি চিয়া খেতের দেখা পেলাম। সেন্টারের উপপরিচালক আশুতোষ কুমার বিশ্বাস জানালেন, স্থানীয় মোস্তফাপুর বাজারে চিয়া বীজ বিক্রি হয় ৬০০ টাকা কেজি দরে। সেখান থেকে বীজ কিনেই তিনি চিয়ার চাষ করেছেন। নভেম্বরের ৬ তারিখে বীজ বুনেছিলেন। ফসল কাটতে সময় লাগল প্রায় ১১০ দিন। 

বেশ কয়েক প্রজাতির চিয়াগাছ সারা বিশ্বে রয়েছে। চিয়ার উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Salvia hispanica হলেও আসলে স্যালভিয়া ফুলগাছ আর চিয়া ঔষধি গাছ দুটি দুই পরিবারের। চিয়া তুলসী-পুদিনা গোত্রের একটি গাছ, গোত্র ল্যামিয়েসি। মেক্সিকান শব্দ চিয়ান থেকে এর নাম হয়েছে চিয়া, যার অর্থ তৈলসমৃদ্ধ বা তেলা। এর বীজে তেল আছে। এই তেলে রয়েছে হার্ট ভালো রাখার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। পানিতে ভিজিয়ে তোকমার মতো এই বীজ খাওয়া যায়। পুডিং বা সালাদের সঙ্গেও চিয়া বীজ খাওয়া যায়।

এতে আছে সহজপাচ্য খাদ্য আঁশ ও প্রোটিন। স্বাস্থ্যসচেতন অনেকেই এখন নিয়মিত চিয়া বীজ খাওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই জনপ্রিয়তার সুযোগে দেশে এখন চিয়া বীজ আমদানি করা হচ্ছে। অথচ এ দেশের মাটি ও আবহাওয়ায় খুব সহজেই চিয়া বীজ ফলানো যায়। সম্প্রতি দেশের কিছু স্থানে শীতকালে চিয়া বীজ চাষ করে সাফল্য পাওয়া গেছে। 

চিয়াগাছ বর্ষজীবী মৌসুমি বিরুৎ, গাছ প্রায় দেড় মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। কাণ্ড ও ডালে পাতাগুলো বিপরীতমুখীভাবে সাজানো থাকে। পাতা ছোট, ৪-৮ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৩-৫ সেন্টিমিটার চওড়া। একটি ডাঁটির মতো পুষ্পমঞ্জরিতে অসংখ্য ছোট নীল বা নীল-বেগুনি ফুল ফোটে। শিষে ফল শুকিয়ে বাদামি হয়ে গেলে তার ভেতরে প্রচুর বীজ পাওয়া যায়। বীজ খুব ক্ষুদ্র, কালচে বা গাঢ় চকলেটের মতো রং, চকচকে। বীজ থেকে সহজে চারা হয়। শীতকাল চাষের মৌসুম। পরীক্ষামূলকভাবে চাষে সফলতা পাওয়ায় এখন চিয়াকে নিয়ে গবেষণা ও বিদেশে রপ্তানিযোগ্য ফসল হিসেবে চাষ করে কৃষকরা অধিক লাভবান হতে পারেন।