সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একের পর এক ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ফাঁস হচ্ছে। বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে ফাঁস করা হচ্ছে নতুন নতুন ভিডিও। এগুলোর সঙ্গে দেওয়া বিবরণ/ক্যাপশন/কমেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজধানীর একাধিক হোটেলে তার যাতায়াত ছিল।
লক্ষ করলে দেখা যায়, প্রথম ভিডিওগুলো যেসব সূত্র থেকে ফাঁস হয়েছে, নতুন ভিডিও সেসব মাধ্যম থেকে আসেনি। প্রথম একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে আলোচনা শুরুর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে যারা চিনে ফেলেছেন, তারাই নতুন ভিডিওগুলো প্রকাশ করছেন।
নতুন ভিডিওগুলোতে দেখা যাওয়া নারী তার দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে এই সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন লোকের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক মাধ্যমে। দাবি করা হচ্ছে, এসব ব্যক্তি জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন অঞ্চলের নেতা-কর্মী। তবে এগুলো যাচাই করা যায়নি।
এমপি গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি হোটেলে প্রবেশ করছেন। হোটেলের রিসেপশনে দায়িত্বরত ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দনের পর তারা ভেতরে চলে যান।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, হোটেলের লবিতে গাজী নজরুল ইসলাম ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আচরণ করছেন। গত সোমবার রাতেও গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
গাজী নজরুল ইসলাম ওই ঘটনার পর লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেন, হোটেল কক্ষে তার সঙ্গে দেখা যাওয়া নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর মগবাজারের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছেন গাজী নজরুল ইসলাম। ভিডিওতে তার সঙ্গে থাকা নারী মরিয়ম খাতুন কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংসদ থেকে গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে বিক্ষোভ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আরেকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল এলাকাবাসী আবারও বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় নতুন করে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
শ্যামনগরের বিভিন্ন স্থানে পৃথকভাবে মানববন্ধন, ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিগুলো থেকে তার পদত্যাগ এবং সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানানো হয়।
প্রথমে শ্যামনগর প্রেসক্লাব চত্বরে ‘সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা অভিযোগ করেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ইতোমধ্যে জনসমক্ষে এসেছে। সর্বশেষ ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর তা আরও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তারা বলেন, এসব ঘটনার জেরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এখন সংসদ সদস্য পদ থেকেও তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
মানববন্ধনে আলেমদের পক্ষে বক্তব্য দেন মুফতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, মুফতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাফেজ লাবিব হাসান নাহিদ, হাফেজ মনিরুল ইসলামসহ স্থানীয় আলেম-ওলামা।
অন্যদিকে একই দিন শ্যামনগরের কাশীমাড়ী এলাকায় ‘কাশীমাড়ীর সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে প্রতিবাদী ব্যানার, পোস্টার ও ঝাড়ু দেখা যায়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত ও জনজীবনে নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক ঘটনায় এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। তারা আইন ও বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ সময় বক্তব্য দেন ছলেমান কবির, শফিকুল ইসলাম দুলু, আজিজুল হক সরদার, বি এম আব্দুস সালাম, ঢালী আব্দুর রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ অংশ নেন এবং প্রতিবাদী স্লোগানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।