সাড়ে ২৪ বছর পর কারামুক্ত হয়েছেন ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক ইমামুল হাসান হেলাল।
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার-৪ থেকে জামিনে মুক্ত হন তিনি।
কোনো মামলায় সাজা ছাড়াই দীর্ঘসময় তাকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল দাবি পরিবারের।
হেলালের বড় ভাই ওয়াহিদুল হাসান দিপু খবরের কাগজকে বলেন, ‘সব ষড়যন্ত্র ভেদ করে আমার ভাইকে বুকে পেয়েছি। আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া।’
তিনি জানান, তার ভাই ইমামুল হাসান হেলাল ছিলেন ছাত্রদলের মোহাম্মদপুর থানার সাধারণ সম্পাদক, মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক। বিএনপি ঘোষিত সব কর্মসূচি হেলালের নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর এলাকায় সম্পন্ন হতো। তোফায়েল আহমেদ জোসেফসহ আওয়ামী লীগের অনেকেই তা সহ্য করতে পারেনি। কোনোভাবে আটকাতে না পেরে ২০০০ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নির্দেশে হেলালকে মিথ্যা-ভিত্তিহীন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া হেলাল যখন কারাগারে, ওই অবস্থায় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ঘোষণা করে পুলিশ। ২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বরের সেই তালিকায় হেলালের নামও ছিল।
বড় ভাই দিপু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পর চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এলে বিএনপিরই কিছু নেতার ষড়যন্ত্রে হেলালের কারামুক্তি আটকে যায় এবং সন্ত্রাসী তালিকায় তার নাম উঠায়। ধারাবাহিকভাবে ওয়ান ইলেভেন এবং আওয়ামী লীগ কৌশল করে ক্ষমতা দখল করে। এর মধ্যে হেলালের বিরুদ্ধে যত মামলা হয়েছে, সবগুলো মামলায় আদালত তাকে খালাস দেন। পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকা এবং জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে দুই-তিনটি মামলায় জামিন না চেয়ে হেলাল কারাগারকেই নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা ছিল, সেসব মামলায় জামিন হয়। শুধু আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসা এবং কিছু মানুষের ষড়যন্ত্রে আমার ভাইয়ের নামের আগে সন্ত্রাসী লাগানো হয়েছে। এই করে আমার ভাইকে ২৪টি বছর আমাদের থেকে দূরে রাখা হয়েছে।’
খাজা/ইসরাত চৈতী/সালমান/