ঢাকা ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাউন্ড ৩২-এ ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কে? মিসর-ইরান ম্যাচের দায়িত্বে মারচিনিয়াক নরওয়েকে এক হালি গোল দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ইরাকের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে সেনেগাল নকআউটের আগে মেসিকে বিশ্রাম দিতে পারেন স্কালোনি দেম্বেলের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ৩-১ গোলে এগিয়ে ফ্রান্স ঝড় নয়, কলম্বিয়াই পর্তুগালের আসল পরীক্ষা ৩২ মিনিটেই দেম্বেলের হ্যাটট্রিক রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করবেন হাকিমি সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ইসমাইল আর নেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন, রক্ষা হলো না নিজের জীবন ভারতকে টি-টোয়েন্টি শেখাল আয়ারল্যান্ড নরওয়ের শুরুর একাদশে নেই হালান্ডসহ ১০ জন, ফ্রান্সের একাদশেও পরিবর্তন কেপ ভার্দে-সৌদি আরব ম্যাচে বাঁশি বাজাবেন ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়ে এক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় মা ও তিন মেয়ে, অশ্রুসিক্ত হোমনা বিশ্বকাপের নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে হবে, জানাল এআই মাগুরায় মহররম উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে পানি বিতরণ মেসিদের দেশে ফুটবল একাডেমিতে শিশু নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাবনায় বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিতে বিএনপি কর্মী নিহত পূর্ব শত্রুতার জেরে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা কালীগঞ্জে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন চার বছর পর ফিরেই উইম্বলডনে সেরেনা উইলিয়ামস চাঁদপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু শিমুলিয়ায় নীল-সাদা জোয়ার, বল পায়ে রাষ্ট্রদূত জিতলেই আর্জেন্টিনার হাফ সেঞ্চুরি সোনা লুকালেন কোমরে, সীমান্তেই ধরা অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মাগুরা ফুটবল দলকে সংবর্ধনা বেইজিংয়ের ১০৯ তলা ভবনে বিমান বিধ্বস্ত নরওয়ের বিপক্ষে সালিবাকে ছাড়াই খেলবে ফ্রান্স ভারতে তাজিয়া মিছিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত ৩

২৪ বছর পর কারামুক্ত ছাত্রদল নেতা হেলাল

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৪, ০৪:০০ পিএম
আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৪, ০৮:৪১ পিএম
২৪ বছর পর কারামুক্ত ছাত্রদল নেতা হেলাল
ইমামুল হাসান হেলাল

সাড়ে ২৪ বছর পর কারামুক্ত হয়েছেন ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক ইমামুল হাসান হেলাল। 

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার-৪ থেকে জামিনে মুক্ত হন তিনি। 

কোনো মামলায় সাজা ছাড়াই দীর্ঘসময় তাকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল দাবি পরিবারের।

হেলালের বড় ভাই ওয়াহিদুল হাসান দিপু খবরের কাগজকে বলেন, ‘সব ষড়যন্ত্র ভেদ করে আমার ভাইকে বুকে পেয়েছি। আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া।’

তিনি জানান, তার ভাই ইমামুল হাসান হেলাল ছিলেন ছাত্রদলের মোহাম্মদপুর থানার সাধারণ সম্পাদক, মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক। বিএনপি ঘোষিত সব কর্মসূচি হেলালের নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর এলাকায় সম্পন্ন হতো। তোফায়েল আহমেদ জোসেফসহ আওয়ামী লীগের অনেকেই তা সহ্য করতে পারেনি। কোনোভাবে আটকাতে না পেরে ২০০০ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নির্দেশে হেলালকে মিথ্যা-ভিত্তিহীন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। 

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া হেলাল যখন কারাগারে, ওই অবস্থায় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ঘোষণা করে পুলিশ। ২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বরের সেই তালিকায় হেলালের নামও ছিল। 

বড় ভাই দিপু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পর চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এলে বিএনপিরই কিছু নেতার ষড়যন্ত্রে হেলালের কারামুক্তি আটকে যায় এবং সন্ত্রাসী তালিকায় তার নাম উঠায়। ধারাবাহিকভাবে ওয়ান ইলেভেন এবং আওয়ামী লীগ কৌশল করে ক্ষমতা দখল করে। এর মধ্যে হেলালের বিরুদ্ধে যত মামলা হয়েছে, সবগুলো মামলায় আদালত তাকে খালাস দেন। পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকা এবং জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে দুই-তিনটি মামলায় জামিন না চেয়ে হেলাল কারাগারকেই নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা ছিল, সেসব মামলায় জামিন হয়। শুধু আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসা এবং কিছু মানুষের ষড়যন্ত্রে আমার ভাইয়ের নামের আগে সন্ত্রাসী লাগানো হয়েছে। এই করে আমার ভাইকে ২৪টি বছর আমাদের থেকে দূরে রাখা হয়েছে।’

খাজা/ইসরাত চৈতী/সালমান/

সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র গ্রেপ্তার সাবেক এমপি আশিকা রিমান্ডে

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
গ্রেপ্তার সাবেক এমপি আশিকা রিমান্ডে
নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানা/ ছবি: সংগৃহীত

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানাকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মিরপুর মডেল থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। 

সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আল মামুন হোসাইন।

আবেদনে বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগে জড়িতদের নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও ভেঙে দিতে এবং জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

সাবেক এ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলায় করা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেন তার আইনজীবী মোকসেদুল হাসান। রিমান্ড আবেদন বাতিল করে আসামির জামিন চান তিনি।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আজিজুল হক দিদার জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে শুনানি করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ১৯ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে একটি সাদা রঙের পিভিসি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গৌরব ও ঐতিহ্যের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ঢাকা মহানগর উত্তর’।

আশিকা সুলতানা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করাসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তার নেতৃত্বে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে  বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে জনমনে ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর সাড়ে ১১ এর একটি বাসা থেকে আশিকা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এম এ জলিল/ এএফ

অন্তর্বর্তী সরকার একাত্তরের শহিদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: বাসদ

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকার একাত্তরের শহিদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: বাসদ
ছবি: খবরের কাগজ

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে খালাস দিয়ে শহিদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে 'বিশ্বাসঘাতকতা করেছে' বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।

তিনি বলেছেন, "নির্বাচিত সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব পাস করা এবং চিহ্নিত আলবদর কমান্ডার ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এ টিএম আজহারকে অন্তর্বর্তী সরকার বেকসুর খালাস দিয়েছে— যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী।"

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে শহিদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শুক্রবার সকাল ৮টায় বজলুর রশীদ ফিরোজের নেতৃত্বে বাসদের একটি প্রতিনিধি দল শহীদ জননীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য মাঈন উদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা নগর কমিটির নেতা নাসির উদ্দীন প্রিন্স, রুখশানা আফরোজ আশা, আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার— উভয়েরই তীব্র সমালোচনা করেন।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে ফিরোজ বলেন, "বিগত আওয়ামী সরকার কতিপয় যুদ্ধাপরাধীর বিচার করলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, বাহিনী গঠনকারী এবং সরাসরি হত্যা-ধর্ষণে জড়িত সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার করেনি। তারা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ বা তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজেয়াপ্ত করেনি। বরং বুর্জোয়া দলগুলো প্রতিযোগিতা করে রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করেছে এবং স্বাধীনতাবিরোধী দলকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি বানিয়েছে।"

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাসদ নেতা বলেন, "গত বছর জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। কিন্তু গত ১৮ মাসে তথাকথিত তৌহিদী জনতার নামে নারীদের পোশাক নিয়ে মোরাল পুলিশিং এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন বেড়েছে। কথিত ধর্ম অবমাননার নামে শিক্ষকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। মব সন্ত্রাসের আতঙ্ক নির্বাচনের পরেও এখনও দেশজুড়ে চলমান রয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, শাসকশ্রেণীর দুর্নীতিগ্রস্ত ও আদর্শহীন বুর্জোয়া রাজনীতির কারণে দেশ আজ চরম অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দুর্গতির মুখোমুখি।

সমাবেশ থেকে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ এবং স্বাধীনতাবিরোধী গণহত্যাকারী দলসহ সব যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় বৈষম্যহীন 'সমতার বাংলাদেশ' প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানান বাসদ নেতারা।

জয়ন্ত সাহা/এএফ

রংপুরের মসজিদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক, ক্ষোভ প্রকাশ মুসল্লিদের

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
রংপুরের মসজিদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক, ক্ষোভ প্রকাশ মুসল্লিদের
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সভা করায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন ওই এলাকার মুসল্লিরা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত ওই সভার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২৩ জুন মাগরিবের নামাজের পর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের চকপাড়া জামে মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল পেতে দলীয় সভা করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। সভায় উপজেলা জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান শিমুল হাত উঁচিয়ে মনোহর বাদশাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম, নায়েবে আমির আব্দুল বাছেত হারুনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

মিঠাপুকুর উপজেলার হুলাশুগঞ্জ জামিয়া কুরআনিয়া দারুল উলুম মাদরাসার পরিচালক মুফতি মাসুদুর রহমান কাসেমী বলেন, ‘আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে প্রায়ই অন্য দলের সমালোচনা করা হয়, যা গিবতের পর্যায়ে পড়ে। মসজিদের ভেতরে গিবতের সুযোগ নেই। এছাড়া চেয়ার-টেবিল বসিয়ে দলীয় কর্মসূচি করলে যদি মসজিদের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হয়, তবে তা মসজিদের আদবের লঙ্ঘন।’

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করার জন্য মাঠ, খোলা জায়গা, উঠান বা বাড়ি রয়েছে। মসজিদে কেন আলোচনা হবে? মসজিদে তো সব দলের মানুষই নামাজ পড়তে আসেন। আমরা এটি মেনে নিতে পারি না।’

চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোহর বাদশা বলেন, ‘আমরা কুরআন-সুন্নাহর আলোচনা করি। ইসলামী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রাজনীতি করি। এখানে চেয়ার-টেবিল আনা হয়েছিল। যদি বিষয়টি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে খারাপ দেখায়, তাহলে ভবিষ্যতে আর এমন ভুল হবে না।’

মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান শিমুল বলেন, ‘মসজিদটি গ্রামের মধ্যে, বাড়ির পাশে। ওই সময় সেখানে তেমন কোনো লোকজন ছিল না, তাই ব্যবহার করেছি। ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদ হচ্ছে সংসদ। তবে মানুষ বিষয়টি ভালোভাবে নেয় না। এটি নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ এটিকে ভালোভাবে গ্রহণ করছে না। ভবিষ্যতে আমরা বিষয়টি খেয়াল রাখব।’

সেলিম সরকার/রিফাত/

দাউদকান্দিতে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১১:৫০ এএম
দাউদকান্দিতে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পুটিয়া এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের একটি বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সারওয়ার হোসেন বাবু তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পোস্ট করেন।

ভিডিওতে দেখা মহাসড়কের দৃশ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলটি উপজেলার পুটিয়া ইউ-টার্ন এলাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বাদল/রিফাত/

সংসদে জামায়াতের এমপি মাসুদ 'হামে ৩০০ শিশুর মৃত্যুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেন পদত্যাগ করলেন না?'

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
'হামে ৩০০ শিশুর মৃত্যুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেন পদত্যাগ করলেন না?'
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ/ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে হামে ৩০০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, “৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় একটি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো, অথচ হামে ৩০০ শিশুর মৃত্যুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেন পদত্যাগ করলেন না?”

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

ড. মাসুদ বলেন, বাজেটের সফলতা সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও মুখের হাসিতেই এর প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে আলোচনায় দেশের সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে বলে মনে হলেও বাস্তবে বাজারে গিয়ে মানুষ তার প্রতিফলন পায় না।

স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি মানবিক হাসপাতালে ৭০০ শয্যার মধ্যে ১৮০টি বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হতো, প্রতিদিন ২৩টি স্বাভাবিক প্রসব করানো হতো এবং রোগী-স্বজনদের বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হতো। সেখানে ৬ শিশুর মৃত্যুর অজুহাতে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। অথচ হামে ৩০০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের কোনো জবাবদিহি দেখা যায়নি।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালটিতে অধ্যয়নরত ২৪৭ জন বিদেশি শিক্ষার্থী বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

শিক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, ঘোষিত অগ্রাধিকারের তুলনায় বরাদ্দ কমানো হয়েছে এবং এমপিওভুক্ত প্রায় দুই লাখ শিক্ষক এখনো মে মাসের বেতন পাননি।

এ ছাড়া মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ড. মাসুদ বলেন, “মেগা প্রকল্প যেন মেগা দুর্নীতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক অবকাঠামোর দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন।

এলিস/আমান