মৃতের সম্পদ আল্লাহর আইন অনুযায়ী ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। মৃতের সম্পদ বণ্টনে আল্লাহর আইন অমান্য করা, ওয়ারিশ ঠকানো মারাত্মক গুনাহ। এরকম করলে শুধু তওবা যথেষ্ট হবে না। তওবার আগে ওয়ারিশদের হক ফিরিয়ে দিতে হবে। আর ওয়ারিশদের হক ফিরিয়ে তাদের খুশি করার আগ পর্যন্ত ফরজ-নফল কোনো ইবাদত কবুল হবে না। নামাজ-রোজা-তারাবি-হজ কোনো ইবাদত কবুল হবে না। জাকাত-ফেতরা-সদকা-দান-খয়রাত কোনো অনুদান কবুল হবে না।
কোনো মুসলমান মারা গেলে তাকে কবরস্থ করার পর তার আত্মীয়দের প্রথম কর্তব্য হলো, তার সম্পদের বিষয়ে পারিবারিক পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। এক্ষেত্রে মৃতের পরিবারের যিনি অভিভাবক মূলত প্রধান দায়টা তার ওপর বর্তায়।
কোনো কোনো পিতা আছেন সন্তানের জন্য সম্পদের অসিয়ত করেন বা পিতা-মাতা-স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায়ও সন্তানদের জন্য সম্পত্তির অসিয়ত করেন কিন্তু ইসলামে ওয়ারিশদের জন্য অসিয়ত কার্যকর হয় না; যদি না অন্য ওয়ারিশরা তাতে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দেন।
অন্য ওয়ারিশরা সমর্থন না দিলে অসিয়তের টাকা মিরাসের সম্পদ হয়ে যাবে। এর মালিক সব ওয়ারিশ হবে। ওয়ারিশদের মধ্যে যার যার নির্ধারিত হিস্যা অনুযায়ী বণ্টন করে দিতে হবে। অবশ্য যদি অন্যদের সমর্থন থাকে, তাহলে অসিয়ত কার্যকর করতে কোনো অসুবিধে নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ওয়ারিশদের জন্য অসিয়ত কার্যকর নয়। তবে অন্য ওয়ারিশরা যদি অনুমতি দেয় তবে তা বৈধ হবে।’ (দারাকুতনি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৯৭; বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৪৩৪; আদ্দুররুল মুখতার, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৬৫৫)
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক