ঢাকা ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, ম্যাচ কবে? ২৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২৭ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল উরুগুয়েকে বিদায় করে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে স্পেন ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের নকআউটে কেপ ভার্দে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব মুসলেরার বড় ভুল, প্রথমার্ধে এগিয়ে স্পেন ২৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে পারবে সৌদি আরব? সমীকরণ মিললেই ইতিহাস, ক্ষীণ আশা নিয়ে অপেক্ষায় স্কটল্যান্ড মার্চ থেকেই কলম্বিয়া ম্যাচের ছক কষেছে পর্তুগাল নকআউটে যে দলকে পেল নরওয়ে ইরাককে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিল সেনেগাল রাউন্ড ৩২-এ ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কে? মিসর-ইরান ম্যাচের দায়িত্বে মারচিনিয়াক নরওয়েকে এক হালি গোল দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ইরাকের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে সেনেগাল নকআউটের আগে মেসিকে বিশ্রাম দিতে পারেন স্কালোনি দেম্বেলের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ৩-১ গোলে এগিয়ে ফ্রান্স ঝড় নয়, কলম্বিয়াই পর্তুগালের আসল পরীক্ষা ৩২ মিনিটেই দেম্বেলের হ্যাটট্রিক রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করবেন হাকিমি সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ইসমাইল আর নেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন, রক্ষা হলো না নিজের জীবন ভারতকে টি-টোয়েন্টি শেখাল আয়ারল্যান্ড নরওয়ের শুরুর একাদশে নেই হালান্ডসহ ১০ জন, ফ্রান্সের একাদশেও পরিবর্তন কেপ ভার্দে-সৌদি আরব ম্যাচে বাঁশি বাজাবেন ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়ে এক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় মা ও তিন মেয়ে, অশ্রুসিক্ত হোমনা বিশ্বকাপের নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে হবে, জানাল এআই মাগুরায় মহররম উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে পানি বিতরণ

সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই বাজার

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৫ এএম
সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই বাজার
ছবি: সংগৃহীত

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সিন্ডিকেট এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে পণ্যের দামের লাগাম টানা যাচ্ছে না। সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে দাম বাড়িয়ে চলেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে আসন্ন রমজানে পণ্যের দাম কোথায় ঠেকবে তা বোঝাই যাচ্ছে। তাই রোজায় বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বাজার বিশ্লেষকরা বলেছেন, সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের দাবির কাছে নতিস্বীকার করে সরকার ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে। অন্যদিকে আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে এখনো বিক্রি শুরু হয়নি। শুধু আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর দাম কিছুটা কমে উচ্চমূল্যেই স্থির হয়ে আছে, যা দাম বাড়ানোর সঙ্গে সিন্ডিকেট জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি সাবেক সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। সরকার পরিবর্তন হলেও সিন্ডিকেটের দাপট কমে না। এরা সমাজের ক্ষমতাবান ব্যক্তি। পণ্য আমদানি, মজুত, পাইকারি বাজার ও খুচরা বাজার– সব জায়গায়ই তাদের নিজের মানুষ আছে। এসব মানুষ দিয়ে কৌশলে পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। সিন্ডিকেট সরকারের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনৈতিক সুবিধা দিয়েও নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণ করে। এসব করে নিজেদের পকেট ভারী করে। সিন্ডিকেটকে ভেঙে দিতে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে সরকারকে চাপ দেন। সরকার রাজি না হওয়ায় তারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা শুরু করেন। সরকার বাধা দিলেও কাজ হয় না। শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে সরকার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়।

একই মন্তব্য করে অর্থনীতির আরেক বিশ্লেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, প্রতিবছর দেখা যায়, রোজার দুই-তিন মাস আগে থেকে সিন্ডিকেটের সদস্যরা তৎপর হন। রোজায় পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে থাকেন। এসব সুবিধার মধ্যে আমদানিতে রাজস্ব ছাড় দেওয়া হয়। এতে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হতে হবে। 

কয়েক মাস ধরেই ভোজ্যতেলের মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করেই মিলমালিকরা এক লাফে বোতলজাত ভোজ্যতেলের দাম প্রতি লিটারে ৯ টাকা এবং খোলা তেল ৬ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করা শুরু করেন। এটা জানাজানি হলে বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দীন ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সরকারের অনুমতি ছাড়া তেলের দাম বাড়িয়েছেন, যা আইনগতভাবে ঠিক নয়।’ এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন। ভোজ্যতেলের মিলমালিক ও বিক্রেতাদের অনেককে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৬ টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ খবরের কাগজকে বলেন, কয়েক দিন আগেই বাজার সিন্ডিকেটের হোতারা সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে না জানিয়েই সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৯ টাকা বাড়িয়ে বাজারে বিক্রি শুরু করেন। সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা গণমাধ্যমে বলেছেন এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। তাহলে প্রশ্ন দেশটা চালায় কারা? সরকার নাকি, মুনাফাখোর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা? 

তিনি বলেন, আমদানিকারক, বাজারজাতকারীদের অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সভা করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৬ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৭ টাকা এবং পামঅয়েলের দাম লিটার প্রতি ১৬ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় মুনাফাখোর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ওপর সরকার অনুমোদনের সীলমোহর মারতে বাধ্য হয়েছে। 

অন্যদিকে পেয়াজের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১৬০ পর্যন্ত হয়। পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত আছে এমন তথ্য জানিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সিন্ডিকেটকে দায়ি করেন। 

গত ৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের সর্বোচ্চ দাম ছিল। প্রতিকেজি পুরোনো দেশি পেঁয়াজ ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় এবং মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হয়। এই দিন রাতে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করে পরের দিন ৭ ডিসেম্বর থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়। এই খবর আসার পর ওই দিনই সকাল থেকে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা কমে যায়। 

ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসতে কমপক্ষে ১৫ দিন লাগবে। এখনো পেঁয়াজ আমদানিই হয়নি। শুধু আমদানির অনুমতি দিয়েছে তাতেই দাম কমে গেল। বিষয়টা হাস্যকর। এখানে ব্যবসায়ীদের কারসাজি প্রমাণিত।

তিনি বলেন, সরকার পেঁয়াজ আমদানি করতে চায়নি। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম কমবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু পেঁয়াজের দাম এত বেড়ে যাচ্ছিল যে আমদানির অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু কী লাভ হলো? সেই সিন্ডিকেট তো এখনো পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। দাম কমছে না। তাহলে কি বাজার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে?

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু খবরের কাগজকে বলেন, আর্ন্তজাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। এ জন্য দেশের বাজারে দাম কিছুটা বাড়বে এটা ঠিক। কিন্তু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দাম যা বাড়ার কথা বিভিন্ন অজুহাতে তার চেয়ে কয়েক গুণ বাড়িয়ে বিক্রি করে। সরকারকে আরও কঠোরভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রোজার আগে সিন্ডিকেটের তৎপরতা আরও বেড়ে যায়। আসন্ন রোজায় দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন থেকে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষভাবে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বসে দাম নিয়ন্ত্রণের কৌশল ঠিক করে বাস্তবায়নে যেতে হবে। 

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। যে বা যারা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসন্ন রোজা সামনে রেখে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন থেকেই কাজ শুরু করেছি।’

৬ কারণে মাদক বন্ধ হচ্ছে না

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
৬ কারণে মাদক বন্ধ হচ্ছে না
ছবি: সংগৃহীত

হাত বাড়ালেই সহজে মিলছে ইয়াবা, হেরোইন, আইস বা ফেনসিডিলের মতো মাদক। গাঁজা সেবন এখন অনেকটা প্রকাশ্যেই চলে, যেন সাধারণ বিড়ি-সিগারেট টানার মতোই। মাঝেমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করছে। কিন্তু তাতেও দমছে না মাদক কারবারিরা। বরং আটক হওয়া মাদকের আর্থিক ক্ষতি পোষাতে আরও পাল্লা দিয়ে বড় বড় চোরাচালান নিয়ে আসছে মাদক চক্র।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গত তিন মাসে (মার্চ থেকে মে) শুধু বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৮০৩ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশের ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত। অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশে তিন মাসে (মার্চ থেকে মে) মাদকসংক্রান্ত মামলায় ১৮ হাজার ২১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এমনই এক ভয়াবহ বাস্তবতার মাঝেই আজ ২৬ জুন দেশে ‘মাদকদ্রব্য অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ পালন করা হচ্ছে। 

মাদকের বিরুদ্ধে রয়েছে জিরো টলারেন্স। বিভিন্ন সময়ে অনেক হাঁকডাক দিয়ে চলে অভিযান। বিভিন্ন বাহিনী-সংস্থার তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। তা সত্ত্বেও মাদকের আগ্রাসন কেন বন্ধ হচ্ছে না, সে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মনেই। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার বন্ধ না হওয়ার নেপথ্যে অন্তত ছয়টি বিশেষ কারণের কথা উল্লেখ করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, মাদকের প্রবল চাহিদা ও সহজলভ্যতা, ভৌগোলিক ট্রানজিট, গডফাদাররা অধরা থাকা, সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদকের বিস্তার ও অপকৌশল, আইনি ফাঁকফোকর এবং পুনর্বাসনের অভাব থেকেই সমাজে মাদকের ব্যাপক বিস্তার অব্যাহত রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে যেসব মাদকদ্রব্যের আগ্রাসন দেখা যাচ্ছে, সেগুলোর অধিকাংশই প্রতিবেশী দুই দেশ (ভারত ও মায়ানমার) থেকে আসা। বাংলাদেশের বেশ কিছু অঞ্চলের সীমান্তে জলপথ বা দুর্গম পাহাড় রয়েছে। ফলে সীমান্তের সেই ভৌগোলিক পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে দেশি-বিদেশি মাদক চক্র। তা ছাড়া আইস বা ইয়াবার মতো কৃত্রিম মাদকের ব্যাপক বিস্তার, নিত্যনতুন অপকৌশল, মাদক সিন্ডিকেটের হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও সদিচ্ছার অভাব, মাদক মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়া এবং মাদকসংশ্লিষ্টদের ভালো কোনো কাজে যুক্ত করা বা যথাযথ পুনর্বাসন করতে না পারায় মাদকের আগ্রাসন তীব্র হচ্ছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যেমন এই বিষয়ে কঠোর হতে হবে, তেমনি পরিবার ও সমাজেরও বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রথম নিয়ন্ত্রণটা পরিবার ও সমাজ থেকেই আসা জরুরি।’ 

সম্প্রতি বড় কয়েকটি অভিযানের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২২ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জারুলিয়াছড়ি সীমান্তবর্তী কাজুবাদাম বাগানে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৭৯০ পিস ইয়াবা জব্দ করে বিজিবি। তার আগে ৫ জুন রাত সাড়ে ১২টায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক তিনটি অভিযানে ৫ লাখ ৭২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজনকে আটক করে বিজিবি। ওই অভিযানে অন্য চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। এ ছাড়া গত ১১ এপ্রিল কক্সবাজার সীমান্তে রামু ও উখিয়ায় পৃথক অভিযানে ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বিবিজি। এ রকম মাদকদ্রব্যের ছোট-বড় চালান প্রতিনিয়তই ঢুকছে দেশের অভ্যন্তরে।

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘সীমান্ত থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত প্রভাবশালীরা জড়িত এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে, যাদের মধ্যে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণির কর্মকর্তা বা সদস্য, রাজনৈতিক নেতাসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকজন। অথচ বর্তমান সমাজে মাদকের বিস্তার ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এভাবে চলতে থাকলে খুব অল্প দিনের মধ্যেই তরুণ প্রজন্ম বা আগামীর ‘জেনারেশন’ (প্রজন্ম) ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে পুরো জাতি বা বাংলাদেশই মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়বে। ফলে মাদকের ভয়াবহতা রুখতে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে এগোতে হবে সরকারকে।

মাদক মামলার আসামিরা সহজেই আইনি সুযোগ নিয়ে জামিন পাচ্ছে–এ প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, অনেক সময় দেখা গেছে, রাজনৈতিক কারণে অনেকে আটক হলেও বিভিন্ন অসৎ উদ্দেশ্যে পাঁচ-দশ পিস ইয়াবা বা অল্প পরিমাণ গাঁজা-ফেনসিডিলসহ অল্প পরিমাণে নানা মাদকদ্রব্য পাওয়ার তথ্য এজাহারে যুক্ত করে অনেককে ফাঁসানো হয়েছে, যা পরে মিথ্যা অভিযোগ হিসেবে প্রমাণ হয়েছে। এ ধরনের প্রবণতায় মূলত বিচারব্যবস্থার প্রতি সন্দেহের জায়গা তৈরি হয়েছে। প্রকৃত মাদক কারবারিরাও যেমন সুযোগ পাচ্ছে, তেমনি নিরীহ অনেকে ভুক্তভোগী হচ্ছে। তাই মাদক আইনের মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে অনৈতিক চর্চা বন্ধ করা করা খুব জরুরি। 

রাজধানী ঢাকায় মাদকসেবী ও কারবারিদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, পল্লবীর বিহারি ক্যাম্পসহ রাজধানীর চারপাশের এলাকাগুলো এবং নিম্ন আয়ের বসতি বা বস্তি-মহল্লাগুলোতে মাদক তৎপরতা ভয়ানক রূপ নিয়েছে। অবশ্য ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানও পরিচালনা করে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, পুলিশের প্রধান কাজ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি অধিদপ্তর রয়েছে, তাদের কাজ মাদক নিয়ন্ত্রণ করা। তা ছাড়া বাংলাদেশে কোনো মাদকদ্রব্য উৎপাদন বা তৈরি হয় না। যেসব মাদক দেখা যাচ্ছে, সেগুলো সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশ থেকে ঢুকছে। সেখানে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তার পরও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

সীমান্তে মাদক তৎপরতা কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না–এমন প্রশ্নের উত্তরে বিজিবি সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালক (গণমাধ্যম) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত এবং প্রতিবেশী অঞ্চলে সক্রিয় মাদক পাচার চক্রের কারণে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত এক বছরে বিজিবি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের প্রচেষ্টা থাকলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এর স্থায়ী সমাধান শুধু সীমান্তে অভিযান বা আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব নয়, বরং সীমান্তে কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমেই মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।’

মাদক প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণের প্রধান দায়িত্ব ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি)’। মাদক নির্মূলের জন্য সংস্থাটির অভিযানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যরা এখন আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করছেন। কিন্তু মাদকদ্রব্য জব্দ বা জড়িতদের গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য বা বড় কোনো সাফল্য দেখছেন না বিশ্লেষকরা। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির মাদকবিরোধী ভূমিকা নিয়েও সাধারণ মানুষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেও রয়েছে নানা প্রশ্ন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. হাসান মারুফ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযান বজায় রেখেছি। বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ অন্য বাহিনী, র‍্যাব–সবাই চেষ্টা করছে। মাদক নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। আর সবচেয়ে বড় বিষয়–যারা মাদক সেবন করে, সেসব পরিবারের মানুষজনকে সচেতন হতে হবে। অভিভাবকদের, শিক্ষকদের, সমাজের যারা নেতা, তাদের আন্তরিক ভূমিকা প্রয়োজন। অভিযান চলবেই, তবে গণসচেতনতা তৈরি হলে মাদক থেকে মানুষ দূরে থাকবে। 

পরিসংখ্যান যা বলছে

বিজিবি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে (মার্চ থেকে মে) ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৮০৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি। এর মধ্যে মার্চে ১১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৫ পিস, এপ্রিলে ২৩ লাখ ১৩ হাজার ৮৭৬ পিস এবং মে মাসে ১৬ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫২ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। ক্রিস্টাল মেথ বা আইস মার্চে ১ কেজি ৭৯০ গ্রাম এবং মে মাসে ৩ কেজি ৮৮৩ গ্রাম উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে মে মাসে ২৬০ গ্রাম কোকেনও জব্দ করা হয়েছে। হেরোইন উদ্ধার হয়েছে মার্চে ৮৪৫ গ্রাম, এপ্রিলে ৪৪২ গ্রাম এবং মে মাসে ৩৩৭ গ্রাম।

ফেনসিডিল উদ্ধার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে গত তিন মাসে। এতে দেখা গেছে–মার্চে ২ হাজার ৪৫ বোতল, এপ্রিলে ২ হাজার ৪২৩ বোতল এবং মে মাসে ২ হাজার ৮০৭ বোতল। মে মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। মার্চে উদ্ধার ছিল ১ হাজার ১৩৩ কেজি ৪৫০ গ্রাম এবং এপ্রিলে ১ হাজার ১৪৯ কেজি।

ডিএমপির তথ্যমতে, গত মে মাসে রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে ইয়াবা ট্যাবলেট ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৪ পিস, আইস মাদক ৩১ গ্রাম, গাঁজা ৭৪৩ কেজি ৮৩৩ গ্রাম, হেরোইন ৬৭৫ গ্রাম ৪৪ পুরিয়া, ফেনসিডিল ১ হাজার ২৮০ বোতল অন্যতম। মে মাসে মাদকসহ মোট ৪১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে এপ্রিল মাসে রাজধানীতে ইয়াবা ট্যাবলেট ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭৪ পিস, কোকেন ৪৫০ গ্রাম, গাঁজা ৯২৯ কেজি ৪২১ গ্রাম, হেরোইন ৯ কেজি ১৪১ গ্রাম এবং মার্চে ইয়াবা ট্যাবলেট ৯৯ হাজার ৮২৭ পিস, কোকেন ৪৫০ গ্রাম, গাঁজা ৪৩৯ কেজি ৩৩৭ গ্রাম, হেরোইন ৫৬৬ গ্রাম জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৮ হাজার ২১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মার্চে ৫ হাজার ৪০৯ জন, এপ্রিলে ৫ হাজার ৭০৯ জন এবং মে মাসে ৭ হাজার ৯২ জন।

দুদক পুনর্গঠনে আলোচনায় যাদের নাম

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
দুদক পুনর্গঠনে আলোচনায় যাদের নাম
ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগ হবে শিগগিরই। এ জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কমিশনের দায়িত্ব পেতে পারেন এমন অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাছাই কমিটির সুপারিশের পর দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির দেওয়া নিয়োগের মধ্য দিয়েই নিশ্চিত হবে কারা দুদকের সবোর্চ্চ কর্তৃত্বের অধিকারী হচ্ছেন। 

চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গত ৩ মার্চ কমিশনশূন্য হয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাড়ে তিন মাস পর দুদক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের নাম প্রস্তাব করতে ইতোমধ্যে গঠন হয়েছে বাছাই কমিটি। গত সোমবার ৫ সদস্যের বাছাই কমিটির তালিকাসংবলিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বাছাই কমিটির প্রধান আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও সদস্য রয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নুরুল ইসলাম, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এই বাছাই কমিটি দুদকের কমিশনার হিসেবে মনোনয়ন দিতে অনেকের নাম সংগ্রহ করবে। এর মধ্য থেকে বাছাই করে ৬ জনের নামের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। সেই তালিকা থেকে তিনজনকে কমিশনার নিয়োগ করে সেই তিনজনের মধ্যে একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। 

ইতোমধ্যে বাছাই কমিটির মিটিং হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। তবে দুদকের কমিশনার হতে পারেন এমন অনেকের নাম বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যে গত মার্চ মাস থেকেই ঢাকা মহানগর আদালতের সাবেক সিনিয়র স্পেশাল জজ মোতাহার হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর এক রায়ে অর্থ পাচারসংক্রান্ত এক মামলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক ছিলেন। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে তিনি অবসরে যান। 

এ ছাড়া সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. আবুল হোসেন খন্দকার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া, নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী, পুলিশের সাবেক আইজিপি শহুদুল হকের নাম শোনা যাচ্ছে। 

২০০৪ সালে দুদক প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে বেশির ভাগ সময়ে প্রশাসনের অর্থাৎ সাবেক সচিবদের মধ্য থেকেই দুদকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করতে দেখা গেছে। বিচার বিভাগের মধ্য থেকে একজন বিচারপতিকে ২০০৪ সালে অর্থাৎ প্রথম কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছিল। 

সশস্ত্র বাহিনীর লে. জে. (অব.) হাসান মশহুদ চৌধুরীকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছিল ২০০৭ সালে। অন্য সব সময় সাবেক সচিবরাই হয়েছেন দুদকের চেয়ারম্যান। বিগত কমিশনগুলোতে বিচার বিভাগ থেকে একজন কমিশনার (সাবেক জেলা জজ), সশস্ত্র বাহিনী থেকে একজন কমিশনার (অসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার) অথবা এনবিআরের সদস্যকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিতে দেখা গেছে। কমিশন নিয়োগের ক্ষেত্রে একই ধরনের ধারাবাহিকতা থাকতে পারে বলে জানা গেছে। 

মার্চের শুরুতে পুরো কমিশন পদত্যাগ করার সময়েই দুদকের অভিযোগ যাচাই-বাছাই কমিটিতে (যাবাক) কয়েক হাজার অভিযোগের যাচাই চলছিল। সেগুলো যাচাই শেষে অনুসন্ধানের সুপারিশ করা হলেও কমিশন না থাকায় সিদ্ধান্ত হয়নি। এরপরও প্রায় প্রতিদিনই শত শত নতুন অভিযোগ দুদকে জমা হচ্ছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও কয়েকজন উপদেষ্টাসহ তাদের সংশ্লিষ্ট অনেকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ দাখিল হয়েছে। সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিড়ম্বনা, হয়রানি ও ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হয়ে দুদকে অভিযোগ দিয়েছেন অনেকেই।

বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, হাসপাতাল, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ দুর্নীতিপ্রবণ প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান অবৈধ ঘুষ-দুর্নীতি ও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ এসেছে। দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে ফোন করেও প্রতিদিন অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়গুলোতে লিখিত অভিযোগ জমা হচ্ছে। এসব অভিযোগের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাচ্ছে না। নতুন কমিশন নিয়োগ ও যোগদান না করা পর্যন্ত এ অবস্থার কোনো পরিবর্তন হওয়ার সুযোগও নেই। যদিও বিদায়ী কমিশনের অনুমোদিত অভিযোগের অনুসন্ধান ও মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম। 

দুদকের একাধিক কর্মকর্তা খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, যেসব অভিযোগের অনুসন্ধান ও মামলার তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, সেগুলোর মামলা দায়ের ও চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে কমিশনের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তাই মামলা দায়ের ও চার্জশিট দাখিল করতে পরবর্তী কমিশনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে এমন ঘটনাও আছে যে, কমিশন না থাকার সুযোগে দুদকের কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে অনুসন্ধান ও মামলার তদন্তকাজ থামিয়ে রেখেছেন। তারা চাইলে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তা করছেন না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শিথিলতায় বেপরোয়া অপরাধীরা

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শিথিলতায় বেপরোয়া অপরাধীরা
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিক

খুন-জখম, অপহরণ ও ডাকাতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বর্তমানে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু পেশাদার অপরাধী বা আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের মধ্যেই এসব সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক কোন্দল এবং অস্থিরতার কারণেও এই ধরনের নৃশংস ও নির্মম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবেই চলতি বছরের পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) সারা দেশে খুন হয়েছেন ১ হাজার ৪৪৪ জন। এই পাঁচ মাসে বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ২৬৮ জন পুলিশ সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। 

সাম্প্রতিক সময়েও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, অপহরণ, ধর্ষণসহ নানা ধরনের অপরাধ ঘটতে দেখা গেছে উদ্বেগজনক হারে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যে মানসিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল, তার রেশ এখনো রয়ে গেছে। বর্তমান অপরাধের ধরন ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশকে এখন কঠোর ও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়তে থাকবে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা গত মঙ্গলবার খবরের কাগজকে বলেন, ‘সময় ও প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের কারণে বর্তমান সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। পুলিশও বারবার হামলার শিকার হচ্ছে। পুলিশ কেন হামলার শিকার হচ্ছে সেটি অনুধাবন করতে হবে। আগেও পুলিশ হামলার শিকার হয়েছে, কিন্তু বর্তমানে পরিমাণটা খুব বেড়েছে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা ছাড়া আমাদের দেশের সামাজিক বাস্তবতায় এবং অপরাধের ধরন অনুসারে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে এবং পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার ও রাজনীতিকদের আরও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করতে হবে।’ 

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে, প্রায় সব ধরনের অপরাধী এখন অনেকটা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে গেছে। প্রকাশ্যে খুন-জখম করতেও অনেকে দ্বিধা করছে না। গভীর রাত বা নির্জন এলাকা লাগছে না, জনসমাগমপূর্ণ এলাকা ও রাস্তার মোড়েও মোবাইল ফোন, টাকা বা মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। আসামি ধরতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরাও। কে কখন কোথায় কীভাবে এই ধরনের বিপদের সম্মুখীন হবেন, সেই দুশ্চিন্তা তাড়া করছে রাজধানীবাসীসহ বিভিন্ন শহর-নগরাঞ্চলের মানুষদের।

পুলিশের মধ্যে একধরনের শিথিলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করেন সামাজিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক। তিনি গত মঙ্গলবার খবরের কাগজকে বলেন, ‘সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়ার নেপথ্যে সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শিথিলতা বা দুর্বল তৎপরতার বিষয়গুলোই সামনে আসে। যদিও সেখানে রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা প্রেক্ষাপটের দায় থাকে। তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সময়ে এসেও অপরাধীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। আমরা সবাই জানি, পুলিশ একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেড়-দুই বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। সেদিক থেকে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাবও পুলিশকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে বা করছে। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক সরকার রয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতিও আগের তুলনায় স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ফলে পুলিশকে অপরাধ দমনে শক্তভাবেই হাল ধরতে হবে। পেশাদারত্বের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। আইনের মধ্যে থেকে যেখানে যে ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, ঠিক তেমনটাই করতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আইনের মধ্যে থেকে পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে। যেখানেই অপরাধ ঘটছে বা পুলিশ খবর পাচ্ছে, সেখানেই আন্তরিকতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর বেশ কিছু খুন বা ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তদন্ত এবং গ্রেপ্তার করে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। দ্রুততম সময়ে রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের গ্রেপ্তার নানা ক্ষেত্রেই পুলিশ যথেষ্ট সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।’

পাঁচ মাসে ১ হাজার ৪৪৪ জন খুন
পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধের পরিসংখ্যানেও উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে সারা দেশে মোট ১ হাজার ৪৪৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের শুরুতেই জানুয়ারিতে ২৮৭টি এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৫০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে মার্চ মাসে এই সংখ্যা এক লাফে বেড়ে ৩১৭টিতে পৌঁছায়। এরপর এপ্রিলে কিছুটা কমে ২৮০টি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও মে মাসে তা আবার বৃদ্ধি পেয়ে ৩১০টিতে দাঁড়ায়। চলতি জুনের এই কয়েক দিনে সারা দেশের চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেমনটি দেখা গেছে, তাতে হত্যার সংখ্যা গত মাসকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নারী ও শিশু নির্যাতন ৭ হাজার ৯১০টি
গত পাঁচ মাসে সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। মোট ৭ হাজার ৯১০টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার রেকর্ড করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১ হাজার ২৮১টি, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ১৮১টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। মার্চ মাসে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৮৫টিতে। এপ্রিল ও মে মাসে নির্যাতনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ছিল; এপ্রিলে ২ হাজার ১১টি এবং মে মাসে ১ হাজার ৯৫২টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। 

অপহরণের ঘটনা ৪৩৭টি
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, গত পাঁচ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৪৩৭টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ৮৭টি এবং ফেব্রুয়ারিতে বছরের সর্বনিম্ন ৬৪টি অপহরণের ঘটনা ঘটে। মার্চ মাসে ঘটে ১০২টি। পরে এপ্রিলে ৯৪টি এবং মে মাসে ৯০টি অপহরণের ঘটনা পুলিশ সদর দপ্তরের নথিতে নিবন্ধিত হয়েছে। 

প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হচ্ছে পুলিশ
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, এই পাঁচ মাসে কর্তব্যরত অবস্থায় অপরাধী ও দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাঁচ মাসে দেশজুড়ে মোট ২৬৮ জন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৪২টি করে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে পরবর্তী মাসগুলোতে এই প্রবণতা বৃদ্ধি পায়; মার্চে ৬৩টি, এপ্রিলে বছরের সর্বোচ্চ ৬৬টি এবং মে মাসে পুলিশের ওপর হামলার ৫৫টি ঘটনা ঘটে।

এরই মধ্যে গত ১৬ জুন রাজধানীর আদাবরে ‘কবজি কাটা’ নামে পরিচিত একটি ছিনতাইকারী চক্রের আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে ওসি জাহিদুল ইসলাম ও এসআই তরুণ চাপাতির কোপে আহত হন। পরে পুলিশের গুলিতে এক ছিনতাইকারী আহত হন। আটক করা হয় চারজনকে। তার আগে ১১ জুন শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান এলাকায় ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত হন দুই পুলিশ সদস্য। 

পাঁচ মাসে রাজনৈতিক হত্যার শিকার ৫৫ জন
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সারা দেশে রাজনৈতিক হত্যার শিকার হয়েছেন ৫৫ জন, আহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৩৬ জন। অন্যদিকে সে সময়ে ২৩৯ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হন ৬৮ জন ও ধর্ষণের শিকার হন ২৭১ জন। এ ছাড়া ধর্ষণসংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড ঘটে ২৮টি এবং ধর্ষণচেষ্টার শিকার হন ৮৫ জন। 

সাম্প্রতিক খুন-জখমের আলোচিত ঘটনা
গত ২০ জুন তেজগাঁও এলাকায় চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন এইচএসসি পরীক্ষার্থী তোফায়েল ইসলাম (২০)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার পথে তিন ছিনতাইকারী তার আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার আগে ১৯ জুন মোহাম্মদপুরে বিএনপির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূর ইসলাম (৫৫) দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন হামলাকারী তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। গত ১৮ জুন কদমতলীতে রাতে বাসায় ফেরার পথে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুসকে (৫০)। গত ১৭ জুন বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকায় খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৬ জুন কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাপুর ফ্লাইওভারের ওপর ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন তরিকুল ইসলাম পাপন (২৮)। গত ১৩ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে (৪৫)। তার আগে ১২ জুন হাতিরঝিল-রামপুরা এলাকার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্যা পলাশ’কে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার দিনগত রাতে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ বলছে, অপরাধ জগতের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

অন্যদিকে গত ৮ জুন রাজধানীর মৌচাক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল হোসেনকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বরগুনার গৌরীচন্না বাজারের খাল থেকে শামীম নামের এক ব্যক্তির মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার ও পাশের এলাকায় কালু নামের এক স্থানীয় যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের মতে, মাদকের টাকার ভাগাভাগি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে।

কৃষকের অপর্যাপ্ত জ্ঞানে অপচয় হচ্ছে বিপুল সার

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
কৃষকের অপর্যাপ্ত জ্ঞানে অপচয় হচ্ছে বিপুল সার
ছবি: সংগৃহীত

দেশে সারসংকটের চেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে সারের অপচয়। কৃষি বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, দেশের অধিকাংশ কৃষক এখনো বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা অনুযায়ী সার ব্যবহার করেন না। ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ সার নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, কমছে মাটির উর্বরতা। দীর্ঘ মেয়াদে হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য এবং দেশের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা।

গত ১৫ জুন প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘রিপারপোজিং অ্যাগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশস অ্যাগ্রিফুড সিস্টেম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এ চিত্র। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ কৃষক নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সালফার সুষমভাবে ব্যবহার করেন না। মাত্র ৫ শতাংশ কৃষক বৈজ্ঞানিক সুপারিশ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করেন। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বা কম সার ব্যবহার হচ্ছে, যা উৎপাদনশীলতা কমানোর পাশাপাশি মাটির স্বাভাবিক গঠন ও উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কৃষক অতিরিক্ত ফসফরাস ব্যবহার করেন। অন্যদিকে প্রতি ১০ জন কৃষকের ৯ জন প্রয়োজনের তুলনায় কম সালফার এবং ৬ জন কম পটাশিয়াম ব্যবহার করেন। ধান চাষে প্রয়োজনের তুলনায় কম নাইট্রোজেন ব্যবহার হলেও পেঁয়াজ ও সবজি চাষে এর অতিরিক্ত ব্যবহার দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভারসাম্যহীনতার কারণেই সারের একটি বড় অংশ গাছের কাজে না লেগে মাটি, পানি ও বাতাসে হারিয়ে যায়।

কৃষিবিদরা মনে করেন, দেশে ব্যবহৃত মোট রাসায়নিক সারের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকরভাবে কাজে লাগে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষকের পকেটে। সরকার প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে সার সরবরাহ করলেও সেই সারের বড় অংশ অপচয় হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বা ভুল পদ্ধতিতে সার প্রয়োগের কারণে পরিবেশ দূষণ, জলাশয়ের ক্ষতি এবং মাটির জৈব গুণাগুণের অবনতি ঘটছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সারের ব্যবহার বন্ধ করা গেলে দেশের কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বোরো ধানের ফলন ৩৩ শতাংশ, আমন ধানের ফলন ৬৫ শতাংশ এবং আলুর ফলন ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। শুধু তা-ই নয়, জমি, শ্রম ও কৃষি উপকরণ দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহারের মাধ্যমে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

এদিকে মাটির স্বাস্থ্যের অবনতিও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, দেশের মাটির গড় পিএইচ এখন প্রায় ৪ দশমিক ৫, যেখানে উন্নত উৎপাদনের জন্য তা ৬ দশমিক ৫-এর বেশি হওয়া প্রয়োজন। রাসায়নিক উপকরণের অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটির অম্লতা বেড়েছে এবং উর্বরতা কমেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দেশব্যাপী মাটি পরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের মতে, একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল চাষের ফলে মাটির জৈব পদার্থ দ্রুত কমে যাচ্ছে। যেখানে আদর্শভাবে মাটিতে ৫ শতাংশ জৈব পদার্থ থাকা প্রয়োজন, সেখানে দেশের অনেক এলাকায় তা নেমে এসেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৭ শতাংশে। তার মতে, টেকসই কৃষির জন্য অন্তত ২ শতাংশ জৈব পদার্থ নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু সারের ব্যবহার বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন সার ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির বিস্তার। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মঈন উস সালাম বলেন, গবেষণাগারে তৈরি সাধারণ সুপারিশ সব এলাকার জন্য সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। এ জন্য জমিভিত্তিক মাটির পুষ্টি তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে সার ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। 

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে সার ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হলো–বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাটি পরীক্ষার আওতা বাড়ানো, অঞ্চলভিত্তিক সার সুপারিশ হালনাগাদ করা, ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর সার ব্যবস্থাপনা চালু করা, কৃষকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা, জৈব সার ও সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনার ব্যবহার বাড়ানো এবং সরবরাহ চেইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে সারের ব্যবহার ২৩ শতাংশের বেশি কমানো সম্ভব হবে, একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং কৃষকের লাভ বাড়বে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত বিশ্বের অভিজ্ঞতা দেখায় যে মাটি পরীক্ষাভিত্তিক সার প্রয়োগ, ডিজিটাল মনিটরিং, ড্রোন ও সেন্সর প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং জৈব সারের সম্প্রসারণই হতে পারে টেকসই সমাধান। তাদের মতে, বাংলাদেশেও যদি প্রতিটি জমির জন্য প্রয়োজনভিত্তিক সার ব্যবহারের ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় এবং কৃষকদের কাছে সহজ ভাষায় বৈজ্ঞানিক পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে সারের অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, অন্যদিকে দেশের মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা পাবে এবং খাদ্যনিরাপত্তার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

সংসদীয় কমিটি গঠনে বিলম্ব নজরদারি প্রশ্নবিদ্ধ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
সংসদীয় কমিটি গঠনে বিলম্ব নজরদারি প্রশ্নবিদ্ধ
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা, নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি এবং মন্ত্রণালয়গুলোর নিয়মিত তদারকির অন্যতম প্রধান কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সংসদীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণেই এসব কমিটিকে বলা হয় ‘মিনি পার্লামেন্ট’। অথচ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনের প্রায় তিন মাস অতিক্রান্ত হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে গঠন করা হয়নি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো। 

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত ৫০টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মধ্যে এখন পর্যন্ত গঠিত হয়েছে মাত্র ৮টি স্থায়ী কমিটি ও ২টি বিশেষ কমিটি। বাকি কমিটি গঠন এখনো প্রক্রিয়াধীন। এ নিয়ে সংসদের কার্যকারিতা, প্রশাসনিক নজরদারি এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যেই মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সব স্থায়ী কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক। তবে অতীতের যেকোনো সংসদের তুলনায় এবারের সংসদে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া অপেক্ষাকৃত ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ২০২৪ সালে গঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের নজির স্থাপিত হয়েছিল। সেই তুলনায় বর্তমান সংসদের ধীরগতি আরও বেশি দৃশ্যমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ মার্চ। এরপর গত ১৪ জুন পর্যন্ত তিন মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অধিকাংশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন হয়নি। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এখন পর্যন্ত গঠিত কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে সংসদসংক্রান্ত ৫টি কমিটি–বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি, হাউস কমিটি, স্ট্যান্ডিং কমিটি অব প্রিভিলেজেস, প্রাইভেট মেম্বার্স বিলস অ্যান্ড রেজল্যুশনস কমিটি এবং লাইব্রেরি কমিটি। এগুলো গঠন করা হয় গত ১২ মার্চ অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে। পরে গত ১০ জুন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং ১৪ জুন অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়।

এ ছাড়া সংসদে উত্থাপিত বিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং দেশের জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় দুটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল জ্বালানিসংকট মোকাবিলা ও করণীয় নির্ধারণে গঠিত ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় গেজেট প্রকাশের তারিখ থেকে ৩০ দিন। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সংসদে এ প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনে এবার ধীরগতির কারণ জানতে চাইলে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি দৈনিক খবরের কাগজকে বলেন, ‘কমিটি গঠনে কোনো অনীহা বা রাজনৈতিক জটিলতা নেই। এবারের সংসদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। আমরা চাই প্রতিটি কমিটিতে ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে। অনেক ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের পছন্দ, বিশেষজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সময় কিছুটা বেশি লাগছে। তবে সরকার সংসদীয় কমিটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বাকি স্থায়ী কমিটিগুলো দ্রুত গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। সংসদীয় নজরদারি শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য।’

এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদীয় কমিটি গঠন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। শুধু সংখ্যাগত প্রতিনিধিত্ব নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্বতন্ত্র সদস্য, পেশাগত দক্ষতা ও সংসদ সদস্যদের আগ্রহ– সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই কমিটি গঠন করতে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এমন কমিটি গঠন করতে, যা কার্যকরভাবে মন্ত্রণালয়গুলোর ওপর নজরদারি করতে পারে। এ কারণে কিছুটা সময় লাগছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সংসদ সচিবালয় ও সংসদীয় নেতৃত্ব কাজ করছে। আশা করছি, বাকি কমিটিগুলোও পর্যায়ক্রমে গঠন করা হবে।’

সংসদীয় কমিটির গুরুত্ব তুলে ধরে স্পিকার আরও বলেন, একটি সংসদকে কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক করতে স্থায়ী কমিটি গঠনের বিকল্প নেই। কারণ এসব কমিটি না থাকলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের নিয়মিত তদারকি হয় না, বাজেট ব্যয়ের পর্যালোচনা দুর্বল হয়ে পড়ে, সরকারি প্রকল্পের জবাবদিহি কমে যায় এবং সংসদ সদস্যদের নীতিগত পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে সংসদের কার্যকারিতা অনেকাংশেই অধিবেশনকক্ষের বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।

সুজন সম্পাদক এবং নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি জাতীয় সংসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জবাবদিহিমূলক কাঠামোগুলোর একটি। এসব কমিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা, সরকারি ব্যয়ের হিসাব যাচাই এবং নির্বাহী বিভাগের ওপর সংসদের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করে। তবে অতীতে অনেক সংসদীয় কমিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, দলীয় প্রভাব, সীমিত স্বাধীনতা এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের দুর্বল সংস্কৃতির কারণে অনেক কমিটি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল। যদিও কিছু কমিটি গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম উন্মোচন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এ জন্য কমিটিগুলোকে আরও স্বাধীন, সক্রিয় ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সংসদীয় কমিটি ব্যবস্থার কার্যকর বিকাশ শুরু হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ (১৯৯৬-২০০১) থেকে। এরপর থেকে সংসদীয় কমিটিগুলো ধীরে ধীরে সংসদীয় জবাবদিহির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে শুরু করে।