নড়াইল সদর উপজেলার আফরা গ্রামের বরই চাষি কেরামত আলী মোল্যা। গত বছর তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছিলেন। তিন বছর আগে বাড়ির পাশে পতিত জমিতে কাশ্মীরি বরই চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে ৬০০টি বরই গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে ৩০ থেকে ৪০ কেজি বরই ধরেছে। এ বছর তার আশা ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার বরই বিক্রি করবেন।
২০২২ সালে প্রথম তিনি দুই বিঘা জমিতে বরই চাষ শুরু করেন। সে বছর ৩০ হাজার টাকা খরচ করে দেড় লাখ টাকা আয় করেছিলেন। এখন তিন বছর পর তার উৎপাদন অনেক বেড়ে গেছে। তিনি নিজের পরিবার ও আত্মীয়দের চাহিদা পূরণ করার পর এবার বড় আকারে বরই বিক্রির পরিকল্পনা করেছেন।
কেরামত আলী তার বাগানে কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। সবকিছু প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করেন। এ কারণে তার কুলের স্বাদ আলাদা এবং বেশ বড় হয়। এই খেতের মাধ্যমে তিনি আটজন শ্রমিকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছেন। শ্রমিক সেলিম শেখ জানান, তারা আটজন গাছের পরিচর্যা, বরই ছিঁড়ার কাজ এবং ডাল ছাঁটাই করেন। প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা বেতন পান, তা দিয়ে তাদের সংসার ভালোভাবে চলে।
এখানের বরই কিনতে আসা আরিফ হোসেন জানান, এখানকার বরই খুব সুস্বাদু। রাসায়নিক সার ব্যবহার না করার কারণে বরইগুলো বিষমুক্ত এবং এর স্বাদ অনেক ভালো। তিনি ১৩০ টাকা কেজি দরে বরই কিনেছেন। অনুপ দাস জানান, তিনি পরিবার নিয়ে বরই খেত দেখতে এসেছেন। তার মতে, এখানকার বরই মিষ্টি ও খুব ভালো।
যশোর থেকে আসা বরই ব্যবসায়ী গৌতম বিশ্বাস জানান, রাসায়নিক সার ছাড়া বরই চাষ করা হয়েছে, তাই এখানকার কুলের স্বাদ অন্য জায়গার তুলনায় ভালো। তিনি পাইকারি দরে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বরই কিনে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন।
কেরামত আলীর স্ত্রী সেলিনা বেগম জানান, তারা খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বরই খেতের পরিচর্যা করেন। আটজন শ্রমিকের সঙ্গে কাজ করছেন। বরই গাছের উৎপাদন প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মধ্যে বিতরণ করার পাশাপাশি, বাকি বরই বিক্রি করে ভালো লাভ হচ্ছে।
কেরামত আলী মোল্যা জানান, তিনি তিন বছর আগে দুই বিঘা জমিতে কাশ্মীরি বরই চাষ শুরু করেছিলেন। প্রথম বছরে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে দেড় লাখ টাকা লাভ করেছিলেন। এখন তার বাগানে কুলের উৎপাদন অনেক বেড়ে গেছে। তিনি আশা করছেন ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার বরই বিক্রি করবেন। তার বাগানে কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। কেবল জৈব সার ব্যবহার করা হয়। বরই খুবই মিষ্টি এবং তিনি স্থানীয় নসিমন গাড়ি দিয়ে নড়াইল, যশোর, বসুন্দিয়া, লোহাগড়া বাজারে পাইকারি দরে বরই বিক্রি করেন। পাইকারি দাম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি।
কেরামত আলী আরও আশা করেন, যদি কোনো ব্যাংক থেকে সুদবিহীন ঋণ পান, তবে বরই চাষের পাশাপাশি অন্যান্য ফলের চাষ শুরু করে তিনি কমপক্ষে ১০০ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর জেলায় মোট ১৪৮ হেক্টর জমিতে বরই চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৮৩ হেক্টর, লোহাগড়া উপজেলায় ৪০ হেক্টর এবং কালিয়া উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমি রয়েছে। জেলায় বরই উৎপাদনের লক্ষ্য ৭১৫ টন ধরা হয়েছে। সদর উপজেলায় ৩৯০, লোহাগড়া উপজেলায় ১৯৮ ও কালিয়া উপজেলায় ১২৭ টন বরই উৎপাদন করার লক্ষ্য রয়েছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, ‘এ বছর জেলায় বিভিন্ন প্রজাতির বরই চাষ হচ্ছে, যেমন বাউবরই, আপেল বরই, কাশ্মীরি বরই, নারিকেল বরই, বল সুন্দরী প্রজাতি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেরামত আলী মোল্যা তার পতিত জমিতে বরই চাষ শুরু করেছেন। কৃষি অফিস তার সব ধরনের সহযোগিতা করছে। তার উদ্যোগ দেখে গ্রামের অন্যান্য মানুষও বরই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।’