ঢাকা ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

‘রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলা সাহিত্যের নয়, বিশ্ব সাহিত্যেরও সম্পদ’

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:২৩ এএম
‘রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলা সাহিত্যের নয়, বিশ্ব সাহিত্যেরও সম্পদ’
চট্টগ্রামের বইমেলা মঞ্চে অনুষ্ঠিত রবীন্দ্র উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন। ছবি : খবরের কাগজ

রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলা সাহিত্যের নয়, বিশ্ব সাহিত্যেরও সম্পদ বলে মন্তব্য করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন। 

রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের সিআরবি’র শিরীষতলার বইমেলা মঞ্চে অনুষ্ঠিত রবীন্দ্র উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

উপাচার্য বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ সাহিত্য ও কর্মজীবনে আমাদের অসাম্প্রদায়িক হয়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করেছেন। রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলা সাহিত্যের নয়, বিশ্ব সাহিত্যেরও সম্পদ। তাঁর কলমে আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতি নির্মিত হয়েছে। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। সংকীর্ণতার পথ থেকে মানুষকে মুক্তির দিকে আহ্বান করেছেন তিনি। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবিলার জন্য রবীন্দ্রনাথ আজকে আরও প্রাসঙ্গিক। বর্তমান বিশ্বে চলমান যুদ্ধ-সংঘর্ষ মোকাবিলায় রবীন্দ্রনাথ হতে পারে বিশ্ববাসীর অন্যতম সহায়। বিশ্বব্যাপী মৌলবাদীদের উত্থান, জাতীয়তাবাদীদের সংকীর্ণতা, শ্রেণিবৈষম্য, জাতিতে জাতিতে হানাহানি বন্ধে রবীন্দ্রনাথ আজ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতা ও প্রবন্ধে জাতির সংকট মোচনে এক মহামানবের প্রত্যাশা করেছিলেন। বাঙ্গালি জাতির চরম ক্রান্তিলগ্নে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমার বিশ্বাস বঙ্গবন্ধুই কবিগুরুর সেই মহামানব।’ 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ব বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির মধ্যদিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে পৌঁছে দিয়েছেন বিকাশের চূড়ান্ত সোপানে। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্টভাষা করার জন্য বাঙালি জাতি ১৯৫২ সালে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বিশ্বে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের আত্মমর্যাদাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ও সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদ এবং নাগরিক সমাজের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আনোয়ারা আলমের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বইমেলা কমিটির আহ্বায়ক কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর চট্টগ্রাম মঞ্চের সম্পাদক সৈয়দ ওমর ফারুক ও কাউন্সিলর মোহাম্মদ শহীদুল আলম।

আলোচনা সভা শেষে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন অভ্যুদয় সঙ্গীত অঙ্গন, ঘুংঘুর নিত্যকলা একাডেমি, স্কুল অব ওরিয়্যান্টাল ডান্স, শিল্পী রূপসী হোড়, এনড্রিল ভিনসেণ্ট ক্রাউলী ও অনন্দিত মুৎসুদ্দি।

পপি/অমিয়/

বইমেলায় কবিতার বই অনেক, কমছে পাঠক

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০৭ এএম
বইমেলায় কবিতার বই অনেক, কমছে পাঠক

অমর একুশে বইমেলায় চিরায়ত প্রথা অনুযায়ী, এ বছরেও প্রকাশনার শীর্ষস্থানটি দখলে রেখেছে কবিতার বই। বাংলা সাহিত্যের জ্যেষ্ঠ কবিদের সঙ্গে তরুণ কবিদের অনেকে সমকালীন জীবনবোধ ও ভাবনার মিশেলে প্রকাশ করেছেন কাব্যগ্রন্থ। তরুণ কবিদের কেউ আবার নতুন কাব্যরীতি নির্মাণের পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চালিয়েছেন। নিজস্ব কাব্যশৈলীতে তারাও নজর কাড়ছেন পাঠকদের।

তবে দেদার কবিতার বই প্রকাশ হলেও তার সব কটিই যে মানসম্পন্ন, তা বলতে নারাজ প্রকাশকরা। আগামীর কর্ণধার ওসমান গণি বলেন, ‘কবিতার বইয়ের অধিকাংশ ছাপতে হয় অনুরোধের প্রেক্ষিতে। কবিতার বইয়ের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কমছে। তবু দেখুন, কবিতার বই শীর্ষস্থান দখল করে রাখে প্রকাশনায়। এটা নিয়ম হয়ে গেছে। তবে এখন সময় এসেছে কাগজ নষ্ট না করে ভালো মানের বই ছাপানোর।’ 

এ বছর ঐতিহ্য থেকে এসেছে আবুল হাসানের কবিতার সংকলন ‘যে তুমি হরণ করো’। আবুল হাসানের প্রতিবাদী ও দ্রোহী সত্তার পরিচয় মিলবে ‘রাজা আসে রাজা যায়’ শিরোনামের বইটিতে। সত্তরের দশকের বিশিষ্ট কবি হাফিজুর রহমানের কবিতার বই ‘অপরাহ্ণের পাণ্ডুলিপি’ প্রকাশ করেছে তারা। এ ছাড়া জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাতের ‘প্রিয় ৫০ প্রেমের কবিতা’ প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য। এই প্রকাশনী থেকে আসা কবিতার বইগুলোর মধ্যে রয়েছে সুদীপ বসুর ‘অন্ধদের বিউটি পার্লার’, কবি নাসিমা সুলতানার ‘মৃগয়ায় যুদ্ধের ঘোড়া’, নকিব মুকশির ‘পৃথিবী এক সরোগেট মাদার’, শিহানুল ইসলামের ‘প্রেতযোনিপ্রাপ্ত আত্মাদের গোরস্তানে’, সৈকত ঘোষের ‘রাংতায় মোড়া উৎসব’। 

বিশ্বসাহিত্য ভবন এনেছে কবি হাসান হাফিজের ‘জন্মেছিলাম ভুল সময়ে’। কবির ‘অনন্ত ক্ষমার চিতাকাঠ’ এনেছে অন্যপ্রকাশ, অনন্যা এনেছে ‘বিসর্জন আহত নির্জন’। কবি তৌফিক মারুফ ৩৫ বছর পরে তার কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন এবং মানুষ প্রকাশনী থেকে এসেছে তার কাব্যগ্রন্থ ‘মায়াঘুম’। তুরস্কের মরমি কবি ইউনুস এমরের সুফিবাদবিষয়ক কবিতার বঙ্গানুবাদ করেছেন আরশাদ-উজ জামান ও মুহম্মদ নূরুল হুদা। ৫০ খণ্ড কবিতার সঙ্গে তুরস্কের সুফি ঘরানার কাব্য প্রকরণ ও শব্দবন্ধের ব্যবহার রয়েছে এই বইয়ে। বইটি বইমেলায় এনেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস। এ প্রকাশনী থেকে এসেছে কবি মোহাম্মদ রফিকের কাব্যগ্রন্থ ‘মরমে মরমি’। চন্দ্রবিন্দু থেকে এসেছে নাসরীন জাহানের ‘এঁটে দিই জামার বোতাম’। 

এ বছর কবিতায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারজয়ী কবি শামীম আজাদের কাব্যগ্রন্থ ‘শূন্যস্থানে চুম্বন’, ‘কবিতাসমগ্র-১’, ‘কবিতাসমগ্র-২’ এসেছে এই প্রকাশনী থেকে। কবির আরেকটি বই ‘কইন্যা কিচ্ছা’ জাগৃতি থেকে এসেছে। তার কাব্যগ্রন্থ ‘নির্বাচিত কবিতা’ এসেছে স্বরবৃত্ত থেকে। জাগৃতি বইমেলায় এনেছে কবি হায়াত কামালের ‘ত্রিশ বছর পর’ ও ‘নমিতা’ কাব্যগ্রন্থ দুটি প্রকাশিত হয়েছে। অনন্যা থেকে এসেছে কবি নির্মলেন্দু গুণের ‘সেরা তিন’। আগামী প্রকাশনী থেকে এসেছে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার ‘মুজিবমঞ্জুষা’, সুজন বড়ুয়ার ‘অন্ধকারের উৎসমূলে অলৌকিক ভোর’, স্নিগ্ধা বাউলের ‘দ্বিখণ্ডিত পদাবলী’। তরুণ কবি স্নিগ্ধা বাউলের ‘সভ্যতা এক আশ্চর্য খোঁয়ারি হাঁস’ কাব্যগ্রন্থটি এনেছে সময় প্রকাশন। এই প্রকাশনীর কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে গুলতেকিন খানের ‘ছন্দে লেখা মানা’। 

ভাষাচিত্র থেকে এসেছ আবু তাহের সরফরাজ সম্পাদিত কবিতার বই ‘নব্বই দশকের কবিতা: সমকালীন পাঠ’; গৌরাঙ্গ নাথের ‘কি শব্দ খুঁজবে আজ’। বাতিঘর থেকে এসেছে সালেহীন শিপ্রার ‘রণদৌড়ের ঘোড়া’।    

হুমায়ুন আজাদের নামে পদক ও সড়কের নামকরণের দাবি  

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ স্মরণে বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তনের দাবি তুলেছেন কবি, সাহিত্যিকরা। তার মেয়ে মৌলি আজাদ দাবি জানিয়েছেন, বাংলা একাডেমির সামনের সড়কটি তার বাবার নামে নামাঙ্কিত হোক। 

লেখক প্রকাশক পাঠক ফোরামের উদ্যোগে হুমায়ুন আজাদ দিবসের মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে তারা এই দাবি জানান। অনুষ্ঠানে কবি মোহন রায়হান, কবি আসলাম সানী উপস্থিত ছিলেন। আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গণি বলেন, হুমায়ুন আজাদ ছিলেন প্রথাবিরোধী, সাহসী এক ব্যক্তি। রাজনীতি কোন দিকে চলছে তা নিয়ে খুব সচেতন থাকতেন তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, ‘হুমায়ুন আজাদের মতো প্রতিবাদী সত্তা বা তার সমকক্ষ কম দেখেছি আমি। তিনি জানতেন, প্রতিবাদের কারণে তাকে চরম অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে। স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশে তিনি মানুষের মধ্যে বিভেদহীনতায় কী এক নান্দনিকতা আবিষ্কার করেছিলেন। তার লেখনীতে তিনি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের কথা বলেছেন।’

কবি, সাহিত্যিকদের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুধু বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে না, কবি হিসেবেও আমার দাবি ছিল বাংলা একাডেমি থেকে হুমায়ুন আজাদের নামাঙ্কিত কোনো পদক হোক। তার নামে সড়কের নামকরণ করা হোক। তিনি ২০০৪ সালে টিএসসির কাছে যে স্থানে আক্রান্ত হয়েছিলেন, সেখানে একটি স্মারক নিদর্শন করা হোক, সেটিও চেয়েছিলাম। পদকের বিষয়ে বাংলা একাডেমির কিছু নিয়ম আছে। আমি নিয়মমাফিকভাবে তা আমাদের ফোরামে আলোচনা করব। আর সড়কের নামকরণের বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের। তাদের সঙ্গে আমরা কবি, সাহিত্যিক সবাই মিলে আলোচনা করব।’
 
২০০৩ সালে ইত্তেফাক পত্রিকার ঈদসংখ্যায় হুমায়ুন আজাদের ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। ২০০৪-এর একুশে বইমেলাতে উপন্যাসটি বই আকারে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হলে দেশের মৌলবাদী গোষ্ঠী তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত বইমেলা থেকে বেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজের বাসায় যাওয়ার পথে ঘাতকদের আক্রমণের শিকার হন তিনি। হুমায়ুন আজাদ দীর্ঘ চিকিৎসার পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। পরে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে তিনি জার্মানিতে গবেষণার জন্য গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। 

বইমেলায় নীতি-আদর্শের বই দরকার

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৬ এএম
বইমেলায় নীতি-আদর্শের বই দরকার
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

এ বছর আলোঘর প্রকাশনী থেকে আমার একটি বই এসেছে। বইটির নাম ‘উন্নয়ন কল্যাণ অর্থনীতি’। এই বইয়ের নিবন্ধগুলো অর্থনীতিবিষয়ক হলেও মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষের কল্যাণ ও তাদের সার্বিক উন্নতি। প্রত্যেক মানুষ তার জীবনকালে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও সফলতার প্রতি নজর দেবে, এটা যেমন স্বাভাবিক, তেমনই মানুষের জীবনকে অন্যের উপকার ও জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য আনার জন্যও মনোনিবেশ করতে হবে। এটাই মানবতার মূলমন্ত্র। 

সেই সঙ্গে মানুষকে সমাজের কল্যাণের জন্যও কাজ করতে হবে। তদুপরি সমাজে ন্যায়, সুবিচার ও পরার্থপরতা নিশ্চিত করতে হবে। বইয়ে সন্নিবেশিত বিভিন্ন বিষয়ের বিচিত্র নিবন্ধগুলো বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী, সুখী ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পাঠককে উৎসাহিত করবে। এই প্রবন্ধ-নিবন্ধগুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত কিছু লেখার সংকলন।  

আমাদের বইমেলায় এখন অনেক গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ করা হচ্ছে। আবার দেশের বাইরে অনেক প্রকাশনীতেও আমাদের বই প্রকাশিত হচ্ছে। তবে যত গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হোক না কেন, গবেষকদের কথা, বিশেষজ্ঞদের কথা কি আমলে নেওয়া হচ্ছে? নীতিনির্ধারকরা তো এখন সব জানে। তাদের মধ্যে গবেষকদের কথাবার্তা অস্বীকার করার একটা প্রবণতা দেখতে পাই। স্বাধীনভাবে কাজ করা গবেষকরা যা বলছেন, তার সবটা ঠিক না। তাদের কথার সবটা নিতে হবে, এমনো নয়। তবে তাদের কথার নির্যাসটুকু নিয়ে যে কৌশল বা নীতি প্রণয়ন করা হবে, আমি সে জায়গায় অভাব দেখতে পাই।

হ্যাঁ, আমরা ৫২ বছরে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এখন একটা সন্তোষজনক জায়গায় এসেছি। আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এসেছি। এখন মধ্যম আয়ের দেশ। তবে আমাদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা খাতে আমাদের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। তবে এ নিয়ে এত প্রচার না করে এখন আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে সমাজের আয়ের বৈষম্য কীভাবে কমানো যায়। আমরা যেটাকে বলছি কাউন্টার ফ্যাক্টর আর্গুমেন্ট। 

আমার মতে, বাংলাদেশের সম্পদ কিছু মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে কুক্ষিগত না থাকলে মানুষ আরও ভালো থাকতে পারত। বইমেলার প্রসঙ্গে বলব, বইমেলার পরিসর বেড়েছে, বই বিক্রি বেড়েছে। আমার যেটা মনে হয়, বইয়ের মানের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এমন সব বই প্রকাশ করতে হবে, যা আমাদের নীতি-নৈতিকতা বা আদর্শ শিক্ষা দেয়।

বইমেলার সময় বাড়ল আরও ২ দিন

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:২৩ পিএম
বইমেলার সময় বাড়ল আরও ২ দিন
ছবি : খবরের কাগজ

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অমর একুশে গ্রন্থমেলা দুই দিন বাড়ানো হয়েছে। যার ফলে আগামী শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৪’ শেষ হবে।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি নুরুল হুদা মেলার সময় বাড়ানোর বিষয়টি তথ্যকেন্দ্রের মাইকে ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন ক্রমে দুই দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। মেলা চলবে আগামী ২ মার্চ শনিবার পর্যন্ত।’  

উল্লেখ্য, প্রথা অনুযায়ী বইমেলা ফেব্রুয়ারির শেষ দিন অবধি চলে। এবার অধিবর্ষের (লিপ ইয়ার) কারণে  ফেব্রুয়ারি মাস ২৯ দিন। সাধারণত একুশের মাস ফেব্রুয়ারির শেষ দিনই ভাঙার কথা ছিল অমর একুশে বইমেলা। 

সমিতির সহসভাপতি শ্যামল পালের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, অমর একুশে বইমেলা শুরু হওয়ার প্রথম তিন দিন মেলা প্রাঙ্গণের প্রস্তুতি ও বৃষ্টিজনিত সমস্যার কারণে মেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশকরা যথাযথভাবে বিক্রি শুরু করতে পারেনি। সে কারণে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এখানে ১, ২ মার্চ শুক্র ও শনিবার হওয়ায় দুই দিন অমর একুশে বইমেলায় সময় বৃদ্ধির অনুরোধ করছি।

বইমেলায় কবীর আলমগীরের ‘ফ্যাসিবাদ : সাম্প্রতিক বিবেচনা’

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:০৩ পিএম
বইমেলায় কবীর আলমগীরের ‘ফ্যাসিবাদ : সাম্প্রতিক বিবেচনা’
ছবি : সংগৃহীত

এবারের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে কবি ও গবেষক কবীর আলমগীরের বই ‘ফ্যাসিবাদ : সাম্প্রতিক বিবেচনা’। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলানামার ২১৮ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে বইটি। এটির প্রচ্ছদ করেছেন গৌরব চন্দ। বইটির মুদ্রিত দাম ৪০০ টাকা।

বইটিতে রয়েছে ফ্যাসিবাদ কী, ফ্যাসিবাদের বিকাশ, ফ্যাসিবাদের বৈশিষ্ট্য, ফ্যাসিবাদ দমনের উপায়, ফ্যাসিবাদের পরিণতি, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সমস্যা, ফ্যাসিবাদ বিষয়ক সাম্প্রতিক প্রসঙ্গের আলোচনা।

এটি কবীর আলমগীরের বিশ্লেষণাত্মক বই। কবীর আলমগীরের বইয়ের মধ্যে আরও রয়েছে, আহমদ ছফার উপন্যাসে সমাজ ও রাজনীতি, কবিতার বই ‘গহীন বুকে বিষের চারা’ প্রভৃতি।

অঞ্জন/সালমান/

অনুবাদে চাহিদা, প্রশ্ন মানের

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০৩ এএম
অনুবাদে চাহিদা, প্রশ্ন মানের

বিশ্বের নানা প্রান্তের লেখকদের কবিতা, গল্প আর উপন্যাসে সভ্যতার যে ক্রমবিকাশ রচিত হয়েছে কালে-কালে; সময়ের বিবর্তনে তাতে যুক্ত হয়েছে সামাজিক-রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট। বাঙালি পাঠকদের একটি বড় অংশ কালজয়ী সাহিত্য পাঠে উন্মুখ হয়ে থাকেন। গল্প, উপন্যাস কিংবা রহস্য-রোমাঞ্চের চেয়েও এই পাঠকদের কাছে অনুবাদগ্রন্থের প্রবল চাহিদা রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা বাংলা বা ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করছেন, তাদের কাছেও বিশ্বসাহিত্যের অনুবাদগ্রন্থের কদর বাড়ছে।

কালজয়ী সাহিত্যকর্মগুলো সাধারণত ইংরেজি ভাষা থেকে অনুবাদের কারণে পাঠক মূল সাহিত্যের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হন বলে অনুযোগ রয়েছে অনেকের। তাই অনেক অনুবাদক এখন সরাসরি মূল ভাষা থেকে অনুবাদ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তবে এই প্রক্রিয়াতেও থাকছে অনেক প্রশ্ন। অনুবাদক সেই মূল ভাষায় কতটা দক্ষ, তার অনুবাদকর্ম যথাযথ হলো কি না, তা কে কোন মানদণ্ডে নিরীক্ষা করবেন এ নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে সাহিত্য অঙ্গনে।

বরাবরের মতো এ বছরও বেশ কটি প্রকাশনী থেকে অনুবাদগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তবে অনুবাদগ্রন্থ নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব রয়েছে। দেখা গেছে, কোনো একটি কালজয়ী উপন্যাস বাংলায় অনুবাদ করে বইমেলায় প্রকাশিত হলে প্রকাশক আরেকজনকে দিয়ে তার অনুবাদ করিয়ে নেন। কপিরাইট আইনের তোয়াক্কা না করে মূল লেখক বা প্রকাশক কারও অনুমতি নিতে চান না। এ নিয়ে বইমেলার টাস্কফোর্স কমিটি একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করলেও তা নিষ্ফল হয়েছে। প্রকাশকদের চাপে অনুবাদ বইয়ের কপিরাইট নিয়ে কঠোর হওয়া যায় না বলে টাস্কফোর্স কমিটি জানিয়েছে। 

কবি-প্রাবন্ধিক-অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন এ প্রসঙ্গে খবরের কাগজকে বলেন, ‘মূল ভাষা থেকে অনূদিত না হলে পাঠক সেই বইয়ের আসল স্বাদ থেকে বঞ্চিত হন। আবার মূল ভাষা থেকে অনুবাদ হলেও কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা মূলানুগ নাও থাকতে পারে। ইংরেজি ভাষা থেকে অনুবাদের সময় অনুবাদক যদি প্রাজ্ঞ ও সংবেদনশীল হন, তবে সে অনুবাদ মূল বইটি থেকেও কিন্তু আরও বেশি সাহিত্যমানসম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করা হয়।’

এবার পাঠক সমাবেশ থেকে এসেছে রাজু আলাউদ্দিনের অনুবাদগ্রন্থ ‘মার্কেসযাপন ও কলম্বিয়া ভ্রমণ’। নোবেলজয়ী কলম্বিয়ান কথাসাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের বিস্তৃত এক জীবনপঞ্জি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বইটিতে। সীমিত পরিসরেই এই গ্রন্থে বিশ্বখ্যাত গার্সিয়া মার্কেসের লেখার অনুবাদ যেমন সংকলিত হয়েছে, তেমনি আছে এই লেখক নিয়ে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন কয়েকটি আলোচনা। পাশাপাশি রয়েছে সালমান রুশদি, ব্রাউলিও পেরালতা ও মানুয়েল ওসোরিওর মতো লেখক-সাংবাদিকদের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ আলাপচারিতার নানা পর্ব। 

মার্কেসের ‘এল ওতোনো দেল প্যাত্রিয়ার্কা’ উপন্যাসে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে। মূল স্প্যানিশ থেকে ইংরেজি হয় ১৯৭৬ সালে, পরে তা বঙ্গানুবাদ করেছেন অদিতি ফাল্গুনী গায়েন। বাংলায় বইটির নাম ‘গোত্রপিতার হেমন্ত’। এ বইটি এনেছে ঐতিহ্য।

আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রাণপুরুষ কার্ল মার্কসের রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে তার কবিসত্তা। ১৮৩৬-৩৭ সালে মার্কস বেশ কিছু কবিতা রচনা করেন। এর মধ্যে রয়েছে সনেট, শোকগাথা, সরস কবিতা এবং কাব্যনাটক। মার্কসের কবিতা অনুবাদ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ। মার্কসের কবিতাগুলো বাংলায় সংকলিত হয়েছে ‘কার্ল মার্কসের কবিতা’ বইয়ে। বইটির প্রকাশক ঐতিহ্য।

এ ছাড়া ঐতিহ্য থেকে আরও বেশ কজন কালজয়ী কথাসাহিত্যিকের উপন্যাস, ছোটগল্প, দর্শনের প্রবন্ধের অনুবাদগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের কনস্যুলেট ভবনে তালেবানের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে ফারসি ভাষায় আব্দুল হাসান বারাজিদেহর লেখা ‘মাজার শরিফ-এর আর্তনাদ’-এর বঙ্গানুবাদ করেছেন মুমিত আল রশিদ। ‘দ্য টাও অব ফিজিকস’ প্রাচ্যের মরমিবাদ ও আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সম্পর্ক উদঘাটনে ফ্রিটজফ কাপরার এক অসাধারণ প্রয়াস। এই বইয়ে ফ্রিটজফ কাপরা বর্ণনা করেছেন বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিগুলোকে। বইটির বঙ্গানুবাদ করেছেন আসাদ ইকবাল মামুন। টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিসের মধ্যবর্তী অঞ্চলে বিকশিত সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয় ও অ্যাসিরীয় সভ্যতার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক উত্থান-পতনের ইতিহাস যুগপৎভাবে উঠে এসেছে ডোনাল্ড এ ম্যাকেজির ‘মিথস অব ব্যাবিলনিয়া অ্যান্ড অ্যাসিরিয়া’ বইয়ে। বইটির অনুবাদ করেছেন রিফফাত সামাদ।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সোমালিয়ার নারী জীবন নিয়ে আফ্রিকান ঔপন্যাসিক নুরুদ্দিন ফারাহর উপন্যাসের বঙ্গানুবাদ করেছেন লুনা রাহনুমা। ‘বাঁকা পাজরের মেয়ে’ শিরোনামের বইটি বইমেলায় এনেছে বাতিঘর। এই প্রকাশনী থেকে আরও এসেছে পাবলো নেরুদার লেখা সর্বশেষ বই ‘প্রশ্নপুস্তক’। নেরুদা ৩১৬টি প্রশ্নে এই পুথির ৭৪টি কবিতা লিখে গিয়েছেন। নেরুদার কাব্যে আছে জীবনজিজ্ঞাসা আর ব্রহ্মাণ্ডের অতল রহস্য উদ্ভাবনের স্বরলিপি। রায়হান রাইন অনুবাদ করেছেন সেই পুথির।

২০২৩ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী নরওয়ের লেখক ইয়োন ফসসের ‘অ্যালিসের অগ্নিগাথা’ উপন্যাসের বঙ্গানুবাদ করেছেন কবি বিনয় বর্মণ। পারিবারিক বন্ধন, স্মৃতিচারণা, মৃত্যু, বিষাদ ইত্যাদি চিত্রিত হয়েছে উপন্যাসটিতে। মেলায় বইটি পাওয়া যাচ্ছে কথাপ্রকাশের প্যাভিলিয়নে। কথাপ্রকাশ থেকে আরও এসেছে ব্রিটিশ অফিসার থমাস হারবার্ট লুইনের স্মৃতিচারণামূলক বই ‘থাংলিয়ানা’। ১৮৬৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিষিদ্ধ দুর্গম এক অরণ্যে প্রবেশ করে তাউংখা ও লুসাই জনজাতির জীবনধারা প্রত্যক্ষ করেন তিনি। তার ‘থাংলিয়ানা’ বইয়ের অনুবাদ করেছেন হারুন রশীদ।

১৯৪৭-এর দেশভাগের প্রেক্ষাপট নিয়ে উপমহাদেশের কালজয়ী কথাসাহিত্যিকদের বিভিন্ন রচনার বঙ্গানুবাদ এসেছে জার্নিম্যান বুকস থেকে। তামিল, ইংরেজি, পাঞ্জাবি, মারাঠি, কানাড়ি, মালায়লাম, হিন্দি, উর্দু ভাষায় রচিত সেসব গল্পের অনুবাদ করেছেন জাভেদ ইকবাল ও মোস্তফা আজিজ জয়। জার্নিম্যান থেকে এসেছে কবি মিনা কুমারীর ‘শায়েরী’, অনুবাদ করেছেন সায়েরা তাবাসসুম।

দেশভাগের প্রেক্ষাপটে ভারত ও পাকিস্তানের লেখক, কবি, কথাসাহিত্যিকরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতীয় লেখক সাজ্জাদ জহির উপমহাদেশে প্রগতিবাদী সাহিত্য আন্দোলনের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন ‘রোশনাই’ নামের এক বইয়ে। এলহাম হোসেনের অনুবাদে সেই বইটি এনেছে বাঙ্গালা গবেষণা। কাজী জাওয়াদের অনুবাদে সে বইটি রয়েছে এই প্রকাশনার স্টলে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইমিরেটাস অধ্যাপক রিচার্ড সিসন ও অধ্যাপক লিও ইউজিন রোজও একই প্রেক্ষাপটে রচনা করেন ‘যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা’। কাজী জাওয়াদ অনুবাদ করেছেন সেই বইটির। বাঙ্গালা গবেষণায় তার অনুবাদে এসেছে ব্রিটিশ চিত্রনির্মাতা-লেখক রিচার্ড কেরবাজের ‘ফাইভ আইজ’। এই বইয়ে পাঁচটি দেশের আন্তর্জাতিক গুপ্তচক্রের নানা অজানা কাহিনি গ্রন্থিত।

নালন্দা থেকে অনীশ দাস অপুর অনুবাদে এসেছে ক্যারিন স্লটারের ক্রাইম থ্রিলার ‘কিসকাট’। অবসর এনেছে সাতোশি ইয়াগিসাওয়ার ‘মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি’, যার অনুবাদ করেছেন সালমান হক। বইমেলাতেই দুই সংস্করণে ছাপতে হয়েছে বইটি। এশিয়ার নারী সাধকদের জীবন ও কবিতার বই ‘গহিনের স্রোতধারা’ বইটি এনেছে ইউপিএল, এর অনুবাদ করেছেন হাসিবা আলী বর্ণা। আলম খোরশেদের অনুবাদে কাগজ প্রকাশ করেছে অনূদিত সাক্ষাৎকার সংকলন ‘কথা-সরিৎসাগর’। সংবেদ প্রকাশ করেছে মাসুমুল আলমের অনুবাদে ফিলিস্তিনি লেখক ঘাসসান কানাফানির ‘মেন ইন দ্য সান’। নাগিব মাহফুজের নির্বাচিত গল্পের অনুবাদ করেছেন ফজল হাসান, বইটি এনেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস।

কাব্যগ্রন্থ ‘মায়াঘুম’-এর মোড়ক উন্মোচন

গতকাল বইমেলায় এসেছে কবি ও সাংবাদিক তৌফিক মারুফের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘মায়াঘুম’। ‘এবং মানুষ’ প্রকাশনী থেকে এসেছে এই বইটি। গতকাল বিকেলে মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান, খবরের কাগজের ডেপুটি এডিটর এনাম আবেদীন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও কপি এডিটর কবি হাসান হাফিজ, কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, মাছরাঙা টেলিভিশনের হেড অব প্রোগ্রাম আরিফুর রহমান, আবৃত্তি শিল্পী মাসুদুজ্জামানসহ অন্যরা। কবি তৌফিক মারুফ এবং প্রকাশক আনোয়ার কামাল মিন্টুও মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।